যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, ৬২ জনকে উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ১৫
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন হাইকার ও ব্যাকপ্যাকার নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় হঠাৎ প্রবল বন্যা দেখা দিলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) জানিয়েছে, নিখোঁজদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের মধ্যে কেউ ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোরে হাঁটছিলেন, কেউ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ নর্থ কাইবাব ট্রেইল ধরে ফ্যান্টম র্যাঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
বন্যার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে কলোরাডো নদীতেও পড়ে। এতে নদীপথে চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এনপিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। ৩০ আগস্ট সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র্যাঞ্চ ও নর্থ কাইবাব ট্রেইলের নিচের অংশ থেকে ৬২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজনকে কটনউড ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দক্ষিণ প্রান্তের মাসউইক লজ ক্যাফেটেরিয়ায় নেওয়া হয়, যেখানে আমেরিকান রেড ক্রস তাদের সহায়তা করছে।
প্রথম দিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজের মতো অবস্থায় থাকতে পারেন বলে জানিয়েছিল। পরে যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ জনে নেমে আসে। তাদের মধ্যে কারা রয়েছেন বা তারা কোন এলাকার বাসিন্দা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে।
বিশেষ করে নর্থ কাইবাব ট্রেইলহেড থেকে ফ্যান্টম র্যাঞ্চ পর্যন্ত যাতায়াত করা হাইকার, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং ফ্যান্টম র্যাঞ্চের উত্তরে ‘দ্য বক্স’ নামে পরিচিত এলাকায় থাকা বা চলাচল করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারও পরিচিত ব্যক্তি ওই এলাকায় ছিলেন বলে জানা থাকলে তার নাম, আনুমানিক অবস্থান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, দলের সদস্যসংখ্যা কিংবা পোশাক ও ব্যাগের বর্ণনা দিয়ে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।
বন্যার সময়ের বিভিন্ন ভিডিওতে ক্যানিয়নের ভেতর দিয়ে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসতে দেখা গেছে। বড় বড় পাথর, গাছের অংশ এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পানির সঙ্গে ভেসে যায়। একজন হাইকার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বৃষ্টির পর তারা হঠাৎ করে খালে পানি বেড়ে যেতে, বিভিন্ন জায়গা থেকে জলপ্রপাতের মতো পানি নেমে আসতে এবং পাথর, কাদা ও ভূমিধস দেখতে পান।
প্রবল স্রোতে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের গতিপথও বদলে গেছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, বন্যায় ক্যানিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে সেতু, ট্রেইল, পানি ও অন্যান্য পরিষেবা অবকাঠামো। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে।
বন্যার পর ফ্যান্টম র্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। কলোরাডো নদীর ওপরের ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে ধাতব কাঠামো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকা কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
আবহাওয়ার ঝুঁকিও এখনো কাটেনি। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার আরও বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের স্রোত, পাথর ধস এবং ট্রেইল ও নদীর পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে।
এই বন্যার পেছনে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম ভূপ্রকৃতির পাশাপাশি গত বছরের ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ওই দাবানলে নর্থ রিমের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে যায়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলাধার ও উপত্যকায় ভারী বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খাড়া ভূখণ্ডে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে।
ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কর্মকর্তারা এ ধরনের বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক ছিলেন। ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার আগাম সতর্কতা উন্নত করতে ফ্যান্টম র্যাঞ্চের উজানে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ মাপার যন্ত্র ও অন্যান্য সেন্সর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এবারের বন্যার আকস্মিকতা ও স্রোতের শক্তি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে এমন আকস্মিক বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ক্যানিয়নের গভীর ও খাড়া ভূপ্রকৃতির কারণে ওপরের দিকে বৃষ্টি হলেও নিচের অংশে হঠাৎ করে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই দর্শনার্থীদের আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করতে এবং বৃষ্টি না হলেও ক্যানিয়নের ভেতরের নদী, খাল বা নিচু এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।
এদিকে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা জননিরাপত্তা বিভাগ সমন্বয় করে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আরও বৃষ্টি ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের পরিবার ও স্বজনদের উদ্বেগও বাড়ছে। দুর্গম ক্যানিয়নের ভেতরে বন্যার পর বদলে যাওয়া ভূপ্রকৃতি, ধ্বংস হওয়া সেতু এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পথ উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত সবার নজর নিখোঁজ হাইকারদের সন্ধান এবং নতুন করে কোনো প্রাণহানি ঠেকানোর দিকে।
সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এআই কনফারেন্স অ্যান্ড ওয়ার্কশপ ২০২৬। গত ৩০ আগস্ট, রোববার সন্ধ্যায় জামাইকায় আয়োজিত এই সম্মেলনে শিশু, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রযুক্তিপ্রেমীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এআইকে শিক্ষা, ব্যবসা, সৃজনশীলতা ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করার বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি শিশুদের সরাসরি এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। সম্মেলনে বিশেষভাবে দেখানো হয়, কীভাবে এআইকে শিশুদের শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনে শিশুরাই টিউটরমিগো এআই ব্যবহার করে প্রশ্ন করা, বিষয় বুঝে নেওয়া, কুইজ দেওয়া এবং নিয়মিত অনুশীলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। এতে এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে শেখার একটি ইন্টার্যাকটিভ পদ্ধতিও উপস্থিতদের সামনে আসে। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই নিজেদের একটি এআই ইকোসিস্টেম হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বর্তমানে দুটি প্রধান প্রোডাক্ট রয়েছে, টিউটরমিগো এআই এবং চ্যাটারমেট এআই। সম্মেলনে দুটি প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ভূঁইয়া। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রোথ সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ১৯.৯৯ ডলার। এই সাবস্ক্রিপশনের আওতায় টিউটরমিগো এআই ও চ্যাটারমেট এআই দুটিই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। টিউটরমিগোতে একটি সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে তিনজন শিশুকে এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। টিউটরমিগো এআইকে একটি অ্যাডাপটিভ এআই টিউটর হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। শিক্ষার্থীর শেখার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এতে বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নোত্তর, কুইজ ও অনুশীলনের সুবিধা রয়েছে। অভিভাবকদের জন্যও রয়েছে আলাদা ড্যাশবোর্ড, যেখানে সন্তানের শেখার কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখা যাবে। শুধু শিশুদের জন্য নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও টিউটরমিগো ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়। অভিভাবকরা প্রয়োজনে শিক্ষার্থী মোডে গিয়ে IELTS, TOEFL, GRE ও GMATসহ বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আরও বেশি সুবিধার জন্য প্রো সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ৪৯.৯৯ ডলার। বার্ষিক সাবস্ক্রিপশনের জন্য রয়েছে আলাদা মূল্য কাঠামো ও ডিসকাউন্ট। অন্যদিকে, চ্যাটারমেট এআইকে একটি মাল্টি-মডেল এআই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে ব্যবহারকারীরা একাধিক এআই মডেল ব্যবহার করে তাদের তৈরি উত্তর তুলনা করার সুযোগ পাবেন। সম্মেলনে জানানো হয়, প্ল্যাটফর্মটিতে ওপেনএআই, ক্লড, জেমিনি ও গ্রকসহ বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি ডকুমেন্টভিত্তিক এআই, স্মার্ট মডেল রাউটিং এবং বিভিন্ন প্রোডাক্টিভিটি টুলও এতে যুক্ত রয়েছে। চ্যাটারমেটের মূল ধারণা হলো, একটি এআই মডেলের ওপর নির্ভর না করে কাজের ধরন অনুযায়ী একাধিক মডেল ব্যবহার করা। এই ধারণাকে সামনে রেখে প্ল্যাটফর্মটির বার্তা হিসেবে রাখা হয়েছে, “Don’t choose one AI. Use them all.” ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই জানিয়েছে, টিউটরমিগো ও চ্যাটারমেটের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এআইভিত্তিক প্রোডাক্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ফোর্জ আইডিই নামে একটি নতুন এআইভিত্তিক প্রোডাক্ট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের এআই সক্ষমতাকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত ও ব্যবহারিক এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। সম্মেলনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তারা শুধু দর্শক হিসেবে নয়, নিজেদের হাতে এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শেখার প্রক্রিয়ায় এআই কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তার একটি ব্যবহারিক চিত্র তুলে ধরা হয়। নিউইয়র্কের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের শিক্ষা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই বলছে, ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রোডাক্ট যুক্ত করে এআইকে আরও সহজ ও ব্যবহারিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। সূত্র: আওয়াজ বিডি
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ায় বাধা কাটল বাংলাদেশিদের, বাতিল হলো পুরোনো নিষেধাজ্ঞা
৪০ হাজার ডলারের বিলাসবহুল ঘড়ির বদলে কারাগারে মাদুরোর হাতে এখন ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে মসজিদে হামলার লাইভ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কিশোরীর বিরুদ্ধে ৩ হত্যা মামলা
নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে পুরোনো একটি ম্যাট্রেস নির্ধারিত নিয়ম না মেনে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ঝামেলায় পড়েছেন এক বাংলাদেশি ইয়েলো ক্যাবচালক। সংশ্লিষ্ট চালকের দাবি, কুইন্সের হলিস এলাকায় একটি রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে ম্যাট্রেসটি রেখে আসার পর তাকে মোট ৮ হাজার ডলারের জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ইয়েলো ক্যাবটি বাসা থেকে টো করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কুইন্সের ২০২ স্ট্রিট ও ৯৯ অ্যাভিনিউ এলাকার একটি রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে ঘটে। বাসার পুরোনো একটি ম্যাট্রেস নিজের ইয়েলো ক্যাবে করে রাতে ওই এলাকায় নিয়ে যান ওই চালক। পরে রাস্তার পাশে দেয়ালের কাছে ম্যাট্রেসটি রেখে তিনি সেখান থেকে চলে যান। চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের সময় হওয়ায় বিষয়টি কারও নজরে পড়বে না বলে তিনি মনে করেছিলেন। কিন্তু ওই এলাকায় থাকা নজরদারি ক্যামেরায় ম্যাট্রেস ফেলে যাওয়ার ঘটনাটি ধরা পড়ে বলে তাকে জানানো হয়েছে। পরে ব্যবহৃত ইয়েলো ক্যাবটি শনাক্ত করে ক্যাবের মেডেলিয়ন সংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকের পরিচয় বের করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন। এরপর তার নামে ৪ হাজার ডলার এবং ক্যাবের নামে আরও ৪ হাজার ডলার জরিমানা বা সামনস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। শুধু জরিমানাই নয়, চালকের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ তার ইয়েলো ক্যাবটি বাসা থেকে টো করে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গাড়িটি ফেরত দেওয়া হবে না বলেও তাকে জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করছেন। জরিমানার পরিমাণ কমানো বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্য কোনো সমাধান করা যায় কি না, সে বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে। নিউইয়র্ক সিটিতে যেকোনো ধরনের বর্জ্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে ফেলা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ম্যাট্রেস ও বক্স স্প্রিংয়ের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে এগুলো সরাসরি রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত ট্র্যাশ সংগ্রহের নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। ম্যাট্রেস ও বক্স স্প্রিং স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে পুরোপুরি ঢেকে ভালোভাবে সিল করে নির্ধারিত সংগ্রহের দিনে বাইরে রাখতে হয়। অন্যদিকে, কোনো পাবলিক স্পেস, রাস্তার পাশে, ব্রিজের নিচে বা অন্য কোনো অননুমোদিত স্থানে বর্জ্য ফেলে চলে যাওয়া অবৈধ ডাম্পিং হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গাড়ি ব্যবহার করে এ ধরনের বর্জ্য ফেলার ঘটনা আরও গুরুতর আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ঘটনা নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বাসা পরিবর্তন, নতুন আসবাব কেনা কিংবা পুরোনো জিনিসপত্র ফেলার সময় অনেকেই সিটির নির্দিষ্ট নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নাও থাকতে পারেন। কিন্তু কয়েক মিনিটের ঝামেলা এড়াতে রাস্তার পাশে বা নির্জন কোনো স্থানে ম্যাট্রেস, সোফা কিংবা বড় আকারের বর্জ্য ফেলে আসা বড় ধরনের জরিমানা ও আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে নিজের গাড়ি, ট্যাক্সি বা ইয়েলো ক্যাব ব্যবহার করে বর্জ্য অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে ফেলে আসার আগে সিটির নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। ছোট একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কয়েক হাজার ডলারের জরিমানা, গাড়ি টো করা এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন গাড়ির মালিক বা চালক।
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে বসে অ্যামাজন ব্যবসা, নতুন উদ্যোক্তাদের শুরু করার আগে যা জানা জরুরি
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত
নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের তথ্য যাচাইয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলবে মার্কিন ইমিগ্রেশন, ফিরল ৩৫ বছর আগের নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত সাতজন অভিবাসীকে এক সপ্তাহের মধ্যে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে বেলিজ, নিকারাগুয়া, মেক্সিকো ও কোস্টারিকার নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক পাচার, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় দণ্ডের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিইর তালিকায় থাকা বেলিজের নাগরিক রাইন উশার ডাকাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। নিকারাগুয়ার গনজালো আন্তোনিও গুজমান-গুজমান একটি জাহাজে কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন। মেক্সিকোর নাগরিক হুয়ান উরকিসা আরমান্ডো শিশুর প্রতি অশালীন আচরণ এবং অ্যাগ্রাভেটেড সেক্সুয়াল ব্যাটারির মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। কোস্টারিকার ওয়াইলেন বারান্তেস-হিমেনেজ একটি জাহাজে এক হাজার কেজি বা তার বেশি মারিজুয়ানা বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন। এ ছাড়া মেক্সিকোর নাগরিক তেরেসেও দে হেসুস মারকাদো-ফ্লোরেস ৫০ গ্রাম বা তার বেশি মেথঅ্যামফেটামিন বিতরণের মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। হুয়ান পাবলো সেররাতা আগ্নেয়াস্ত্র রাখার পাশাপাশি পাঁচ কেজির বেশি কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন। তালিকার সপ্তম ব্যক্তি এদিলবার্তো গোমেজ ভিয়ালভা অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন প্রকৃতির অশালীন কর্মকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। আইসিই জানিয়েছে, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডের পর তাঁদের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আইসিই সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধে দণ্ডিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অনুমতি নেই এমন অনাগরিকদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে প্রতিটি ব্যক্তির বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৬ বছরের কিশোর নিখোঁজ, নিউইয়র্ক সিটিতে মিসিং চাইল্ড অ্যালার্ট জারি
প্রেমের ফাঁদে পড়ে খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: রোমান্স স্ক্যাম নিয়ে এফবিআইয়ের সতর্কতা