‘দেরি করবেন না, চিকিৎসকের কাছে যান’; প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে বাইডেনের আবেগঘন বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রোস্টেট ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে একটি আবেগঘন ও ব্যক্তিগত বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় ৮৩ বছর বয়সী এই নেতা পুরুষদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর গত বছর তিনি নিজের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার খবরটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছিলেন। বাইডেন জানান, যখন তার ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন তা ইতোমধ্যে হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
নিজের সফল চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, গত শরতে নেওয়া রেডিয়েশন থেরাপি প্রত্যাশিতভাবেই কাজ করেছে।
চিকিৎসক দলের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও মমতায় মুগ্ধ বাইডেন জানান, তাদের নিরলস সহযোগিতার কারণেই তিনি আগামী নভেম্বরে নির্বাচনের পর প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা নিজের আত্মজীবনীর কাজ শেষ করতে পারছেন।
গত অক্টোবরে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে সেসময় বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন তার বাবার শারীরিক অবস্থাকে 'অত্যন্ত দুর্বল' বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করতে না পারায় হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন জিল বাইডেন। যদিও সাধারণত বাইডেনের বয়সীদের ক্ষেত্রে এই রোগের পরীক্ষা খুব একটা করা হয় না।
নিজের এই কঠিন অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানোর আশা ব্যক্ত করেছেন জো বাইডেন। তিনি সবাইকে দ্বিধা ঝেড়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার এবং নিজেদের ও প্রিয়জনদের খাতিরে স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে, আগামী শুক্রবার নাইন-ইলেভেন (৯/১১) সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে লোয়ার ম্যানহাটনের গ্রাউন্ড জিরোতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে জো বাইডেনেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের খবর সামনে এসেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ায় বহু আবেদনকারী দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়েছেন। এর ফলে নাগরিকত্বের যোগ্যতা পূরণ করেও আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই বড় ধরনের পতনের কারণে কয়েক লাখ আবেদনকারী অপেক্ষায় রয়েছেন। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য আবেদনকারীরাও নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে পারেন না। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্বের অপেক্ষা রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে যোগ্যতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি ও আবেদনপ্রক্রিয়া আগেই যাচাই করা উচিত। আবেদন জমা দেওয়া থাকলে ইউএসসিআইএসের সরকারি ওয়েবসাইটে নিজের আবেদন নম্বর দিয়ে সর্বশেষ অবস্থা দেখা যায়। দীর্ঘ বিলম্ব বা আইনি জটিলতা দেখা দিলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমে যাওয়ার খবর মানেই সব আবেদনকারীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে—এমন নয়। আবেদন অনুমোদন, আবেদন নিষ্পত্তি এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা আলাদা বিষয়। নিজের আবেদনের অবস্থা জানতে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
বাবা-মা আটক, ভেঙে গেল এক পরিবারের স্বপ্ন! ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব ১৮ বছরের তরুণীর কাঁধে
আইসিই আতঙ্কে স্কুলে সন্তান পাঠাতেও ভয়, যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরে উদ্বেগে অভিবাসী পরিবার
আমেরিকায় নতুন সাশ্রয়ী বাসস্থান, নিউইয়র্কের শত শত পরিবারের জন্য বড় সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহা শহরে ৯৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার প্রায় ৫০ বছরের বাড়ি ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িটি মেরামত করে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে এখন লড়াই করছেন তাঁর স্বজনেরা। কিন্তু বাড়ির বড় ধরনের ক্ষতি, বিপুল মেরামত ব্যয় এবং বন্যার ক্ষতি বিমার আওতায় না থাকায় পরিবারটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। বৃদ্ধার নাম সেলিয়ান লা রোসা। পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা তাঁকে স্নেহ করে ‘আন্ট সিসি’ নামে ডাকেন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ওমাহায় আকস্মিক বন্যার পানি তাঁদের এলমউড গার্ডেনস এলাকার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে বাড়ির নিচতলা ও ভিত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়। পানি নেমে যাওয়ার পরও বাড়িটির কাঠামোগত সমস্যা, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন এবং যন্ত্রপাতি ব্যবস্থার ক্ষতি রয়ে যায়। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে এই বাড়িতেই বসবাস করেছেন লা রোসা। স্বামীকে হারানোর পরও বাড়িটি ছিল তাঁর জীবনের দীর্ঘদিনের স্মৃতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক। কিন্তু বন্যার পানি সেই পরিচিত পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরিবারের পরিকল্পনা ছিল, বাড়িটি বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে লা রোসার জন্য সহায়তাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। বয়সজনিত ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতির কারণে তাঁর জন্য এমন আবাসনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বন্যায় বাড়ির ক্ষতি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বাড়িটি বিক্রি করার আগে বড় অঙ্কের মেরামত করাও জরুরি হয়ে উঠেছে। লা রোসার ভাগনি পলা জাবাওয়া এবং তাঁর স্বামী মাইক জাবাওয়া বাড়িটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। তাঁরা ইতিমধ্যে বাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়েছেন এবং কাঠামোটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে প্রাথমিক কাজ করেছেন। তবে বাড়ির ভিত্তি পুনর্নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাগুলো সচল করতে আরও অর্থ ও পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন। পরিবারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাড়িটি মেরামত করতে ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ হতে পারে। কিন্তু বাড়ির বিমায় বন্যার ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এই ব্যয়ের বড় অংশ নিজেরাই বহন করতে হবে। নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল একজন প্রবীণ মানুষের পক্ষে এত বড় আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন। এ পরিস্থিতিতে পরিবারটি অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি তারা স্বেচ্ছাসেবক, নির্মাণকাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা চাইছে। তাঁদের লক্ষ্য শুধু একটি বাড়ি মেরামত করা নয়; বরং এমন একটি সম্পদ রক্ষা করা, যা লা রোসার ভবিষ্যৎ আবাসনের খরচ মেটানোর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের আবাসন নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আর্থিক ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। অনেক পরিবারের কাছে বাড়ি শুধু বসবাসের জায়গা নয়, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। সেই বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতের খরচের পাশাপাশি চিকিৎসা, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং বিকল্প আবাসনের ব্যয়ও বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও ঘটনাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—বাড়ির সাধারণ বিমা সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কভার করে না। বিশেষ করে বন্যার ঝুঁকি রয়েছে এমন এলাকায় বসবাস করলে বিমার শর্ত, বন্যা-সংক্রান্ত সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প আবাসনের পরিকল্পনা আগে থেকেই বুঝে রাখা জরুরি। তবে কোন সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট পলিসি ও পরিস্থিতির ওপর। লা রোসার পরিবার এখন বাড়িটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি আবার ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে মেরামতের কাজ, অর্থের সংস্থান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ওপর।
নতুন দেশে ঘর খোঁজার গল্প, অভিবাসীদের জীবন তুলে ধরে শিল্পী লরা বারিওসের দেয়ালচিত্র
আইসিইর হাতে আটক রেস্তোরাঁ মালিকের মুক্তির দাবিতে এক হলো পুরো শহর
ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইওয়ের ডিভাইডারে আটকে ট্রাক, জানালা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচালেন যাত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া, নবায়ন ও প্ল্যান পরিবর্তনের মৌসুম সামনে রেখে পরিবারগুলোর আয়, প্রয়োজঅলনীয় কাগজপত্র এবং চিকিৎসার খরচের হিসাব পর্যালোচনার সময় এসেছে। ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেসে ওপেন এনরোলমেন্ট শুরু হবে আগামী ১ নভেম্বর এবং চলবে ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কভারেজ চালু করতে সাধারণভাবে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্ল্যান নির্বাচন করতে হবে। নিজস্ব মার্কেটপ্লেস পরিচালনাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর সময়সূচি আলাদা হতে পারে। হেলথকেয়ারের ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্ল্যান নেওয়া বা পরিবর্তন করা ব্যক্তিদের কভারেজ প্রয়োজনীয় প্রথম প্রিমিয়াম পরিশোধের পর ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্ল্যান নির্বাচন করলে কভারেজ শুরু হবে ১ ফেব্রুয়ারি। ফলে জানুয়ারি থেকেই চিকিৎসার খরচের সুরক্ষা প্রয়োজন এমন পরিবারগুলোর জন্য ডিসেম্বরের সময়সীমাটি গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কের সরকারি মার্কেটপ্লেসও জানিয়েছে, সেখানে ২০২৭ সালের ওপেন এনরোলমেন্ট শুরু হবে ১ নভেম্বর। যাঁদের বর্তমানে মার্কেটপ্লেস ইন্স্যুরেন্স আছে, তাঁদের আগে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও মার্কেটপ্লেস থেকে আসা নবায়নের চিঠি পড়তে হবে। এসব চিঠিতে বর্তমান প্ল্যান পরের বছর থাকবে কি না, খরচ বা আর্থিক সহায়তায় পরিবর্তন আসছে কি না এবং অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন কি না, তা জানানো হয়। অনেকের প্ল্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হতে পারে, কিন্তু সবার ক্ষেত্রে তা হয় না। আবার স্বয়ংক্রিয় নবায়ন হলেও আগের প্রিমিয়াম ও সুবিধা একই থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনের আগে পরিবারের সদস্যদের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, প্রযোজ্য সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ও ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নথি প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি বর্তমান ইন্স্যুরেন্সের তথ্য, আয়সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং চাকরির মাধ্যমে পাওয়া হেলথ ইন্স্যুরেন্সের প্রস্তাব থাকলে তার তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে। পরিবারের কারা ট্যাক্স রিটার্নে ডিপেনডেন্ট হিসেবে থাকবেন, সেটিও আবেদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রস্তুতি নির্দেশিকায় পরিবারের তথ্য আগে থেকে গুছিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে আবেদন পূরণে বিলম্ব কমে। আর্থিক সহায়তার হিসাবের ক্ষেত্রে শুধু আগের বছরের আয় যথেষ্ট নয়। মার্কেটপ্লেসে যে বছরের কভারেজের জন্য আবেদন করা হচ্ছে, সেই বছরের সম্ভাব্য পারিবারিক আয় জানাতে হয়। বাংলাদেশি কমিউনিটির যাঁরা রাইডশেয়ার, ডেলিভারি, ফ্রিল্যান্সিং বা নিজস্ব ব্যবসায় যুক্ত, তাঁদের জন্য এই হিসাব বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। স্বনিয়োজিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবসার প্রযোজ্য খরচ বাদ দেওয়ার পর সম্ভাব্য নিট আয় হিসাব করতে হয়। বছর চলাকালে আয় বা পরিবারের পরিস্থিতি বদলালে আবেদনও হালনাগাদ করা প্রয়োজন। প্ল্যান বাছাইয়ে মাসিক প্রিমিয়ামের পাশাপাশি চিকিৎসা নেওয়ার সময় নিজের পকেট থেকে কত খরচ হতে পারে, সেটিও দেখতে হবে। ডিডাক্টিবল, কোপে ও কোইন্স্যুরেন্স মিলিয়ে কম প্রিমিয়ামের প্ল্যানেও বছরের মোট ব্যয় বেশি হতে পারে। পরিবারের নিয়মিত ডাক্তার, পছন্দের হাসপাতাল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নতুন প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা যাচাই করাও জরুরি। বিশেষ করে নিয়মিত চিকিৎসা লাগে এমন সদস্য থাকলে সম্ভাব্য বার্ষিক খরচ তুলনা করলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য প্রিমিয়াম কমানোর ট্যাক্স ক্রেডিট এবং চিকিৎসার সময় নিজের খরচ কমানোর সহায়তা থাকতে পারে। তবে সহায়তার ধরন ও পরিমাণ নির্ভর করবে পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর। আয়ভিত্তিক কস্ট শেয়ারিং রিডাকশন পাওয়ার যোগ্য হলে সেই সুবিধা নিতে সিলভার প্ল্যান নির্বাচন করতে হয়। আয় বা পরিবারের তথ্য পুরোনো থাকলে সহায়তার হিসাব ভুল হতে পারে এবং প্রাপ্যের বেশি অগ্রিম ট্যাক্স ক্রেডিট ব্যবহার করলে ট্যাক্স রিটার্নের সময় অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও চাকরির মাধ্যমে পাওয়া ইন্স্যুরেন্সের নিয়ম মার্কেটপ্লেসের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। মেডিকেয়ারের বার্ষিক ওপেন এনরোলমেন্ট ইতোমধ্যে ১৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ ও প্রেসক্রিপশন ড্রাগ প্ল্যানের নির্দিষ্ট পরিবর্তন করা যায়, যা সাধারণভাবে পরের বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। অন্যদিকে, মেডিকেইড ও শিশুদের চিপ কর্মসূচিতে যোগ্য ব্যক্তিরা সারা বছর আবেদন করতে পারেন। বিদ্যমান কভারেজ নবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নোটিশ অনুসরণ করতে হবে। আবেদন বুঝতে অসুবিধা হলে প্রশিক্ষিত এনরোলমেন্ট সহায়তাকারীর সাহায্য নেওয়া যায়। ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের কল সেন্টার ১-৮০০-৩১৮-২৫৯৬ নম্বরে যোগাযোগ করে ভাষাগত সহায়তাও চাওয়া যায়। চাকরির মাধ্যমে ইন্স্যুরেন্স পাওয়া পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত সময়সীমা ও বেনিফিটস নোটিশ আগে দেখতে হবে। আর মার্কেটপ্লেসে প্ল্যান নির্বাচনের পর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রথম প্রিমিয়াম পরিশোধ হয়েছে কি না নিশ্চিত করতে হবে, কারণ শুধু আবেদন সম্পন্ন করলেই কভারেজ চালু হয় না।
ময়মনসিংহ থেকে দুই ভাইয়ের পথচলা অক্সফোর্ডের গবেষণা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষকতায়
যুক্তরাষ্ট্রে সাগরে ভাসানো বোতলবন্দি চিঠি ৫৩ বছর পর ফিরল বোনের কাছে