ফ্লোরিডায় প্রেমিকাকে খুন করে হোটেলে আশ্রয়, পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর গ্রেপ্তার ঘাতক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর একটি হোটেলে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস গোলাগুলিতে জড়িয়েছেন এক ব্যক্তি। টড ওয়েগরিখ (৫৩) নামের ওই ব্যক্তিকে ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকার 'দ্য বেন হোটেল' থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনেছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ অফিস (পিবিএসও)।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার টড ওয়েগরিখ তার প্রেমিকাকে হত্যার পর বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের ফোন এবং টেক্সট মেসেজ করে খুনের বিষয়টি জানান। তবে তিনি কোথায় পালিয়ে গেছেন, সে বিষয়ে কাউকে কিছু বলেননি। ওই মেসেজ ও ফোন পেয়ে অন্তত চারজন ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করেন।
খবর পেয়ে শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা লক্সাহ্যাচি এলাকার ট্যাঙ্গেলড অরচার্ড ট্রেসের ১৪০০ ব্লকের ওই বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে তারা মূল দরজার ঠিক ভেতরেই একাধিক গুলির আঘাতসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। বাড়িটির আশপাশেও গোলাগুলির আলামত পাওয়া যায়।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে, ঘাতক টড ওয়েস্ট পাম বিচ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দ্য বেন হোটেলে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাকে ফোনে আত্মসমর্পণ করার জন্য দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি রাজি হননি। পরে সোয়াট (SWAT) টিমের সদস্যরা হোটেলের সপ্তম তলায় অবস্থিত তার রুমে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অবশেষে তাকে অক্ষত অবস্থায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই গোলাগুলির ঘটনায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা ওই সন্দেহভাজন আহত হননি। গ্রেপ্তারের পর টড ওয়েগরিখ পুলিশের কাছে নিজের প্রেমিকাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে পাম বিচ কাউন্টির কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়তে আসা মানুষের গল্প শুধু কাজ, অর্থ কিংবা বসবাসের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিজের পরিচয় ধরে রাখা, নতুন সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এবং এমন একটি জায়গা খুঁজে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা, যাকে নিজের ঘর বলা যায়। এই অনুভূতিগুলোই রঙ ও তুলির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন কলম্বিয়ার অভিবাসী শিল্পী লরা বারিওস। ২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের পিটসফিল্ড শহরের ইন্টারমোডাল সেন্টারের রেলপ্ল্যাটফর্মে বারিওসের আঁকা নতুন দেয়ালচিত্র উন্মোচন করা হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অভিবাসীদের নতুন পরিবেশে নিজেদের জায়গা তৈরি করা এবং স্থানীয় সমাজের অংশ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা এই শিল্পকর্মের মূল বিষয়। দেয়ালচিত্রটিতে পরিযায়ী পাখিদের নতুন পরিবেশে আশ্রয় গড়ে নেওয়ার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাখিদের এই যাত্রার মধ্যে দিয়ে শিল্পী মানুষের অভিবাসী জীবনের অভিজ্ঞতাও ফুটিয়ে তুলেছেন। নিজের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাওয়া, নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার বিষয়গুলো এতে প্রতীকীভাবে উঠে এসেছে। বারিওস প্রায় দুই মাস ধরে এই শিল্পকর্ম তৈরিতে কাজ করেছেন। এ কাজে তাঁর পরামর্শদাতা শিল্পী জেসি টোবিন ম্যাককাউলি সহযোগিতা করেন। পিটসফিল্ডের জনপরিসরে শিল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের গল্প তুলে ধরার উদ্যোগ ‘লেট ইট শাইন’-এর তৃতীয় বছরের উদীয়মান শিল্পী কর্মসূচির অংশ এটি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বারিওস জানান, এই দেয়ালচিত্র বার্কশায়ার অঞ্চলে কাজ করে এবং সেখানে নিজেদের ঘর গড়ে তোলা অভিবাসীদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। তিনি নিজেও একজন অভিবাসী হওয়ায় বিষয়টির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জড়িয়ে রয়েছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘কাটুনেমো: আর্ট অ্যান্ড হিলিং’ নামের একটি শিল্পীসমষ্টি। সংগঠনটি স্থানীয় ও অভিবাসী শিল্পীদের কাজের সুযোগ পেতে এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বাধা অতিক্রম করতে সহায়তা করে। নতুন পরিবেশে শিল্পীদের নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করাও তাদের কাজের অংশ। অভিবাসীদের জীবন নিয়ে এমন শিল্পকর্ম যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের কাছেও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষও নতুন দেশে কাজ, শিক্ষা, পরিবার ও সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করেন। ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের পার্থক্য পেরিয়ে নতুন সমাজের অংশ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা অনেক অভিবাসীর জীবনেই পরিচিত। বারিওসের দেয়ালচিত্রটি সেই অভিজ্ঞতাকে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পের ভাষায় তুলে ধরেছে। নতুন শহরে পৌঁছানো মানুষ যেন সেখানে অপরিচিত বলে নিজেকে একা মনে না করেন, বরং নিজের মতো করে জীবন গড়ার সুযোগ পান—শিল্পীর কাজের মধ্যে রয়েছে সেই প্রত্যাশা। পিটসফিল্ডের এই উদ্যোগ দেখায়, অভিবাসীদের অবদান শুধু অর্থনীতি বা শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধ নয়; শিল্প, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় সমাজের পরিচয় গঠনেও তাঁদের ভূমিকা রয়েছে।
আইসিইর হাতে আটক রেস্তোরাঁ মালিকের মুক্তির দাবিতে এক হলো পুরো শহর
ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইওয়ের ডিভাইডারে আটকে ট্রাক, জানালা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচালেন যাত্রী
আমেরিকায় হেলথ ইন্স্যুরেন্স নবায়ন সামনে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রস্তুতিতে জরুরি নির্দেশনা
ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেড়ে ওঠা দুই ভাই হাসান সাদ ইফতি ও হাসান সামি আদনান উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় পাড়ি দিয়েছেন ভিন্ন দুটি পথে। ইফতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাইপারসনিকস বিষয়ে ডক্টরেট শেষ করে এখন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। অন্যদিকে, আদনান অক্সফোর্ডে স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। একজনের কাজের ক্ষেত্র অতি উচ্চগতির উড্ডয়ন প্রযুক্তি, অন্যজনের স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির প্রয়োগ। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি অনুযায়ী, হাসান সাদ ইফতি প্রতিষ্ঠানটির অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি ২০২২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্সে ডিফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর বিশেষায়িত বিষয় ছিল হাইপারসনিকস। এর আগে জার্মানির স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের ফল সেমিস্টারে টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন ইফতি। তাঁর গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে হাইপারসনিকস, বিশেষ ধরনের শীতলীকরণ প্রযুক্তি, ছিদ্রযুক্ত পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবাহ এবং উচ্চগতির বায়ুপ্রবাহের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে হাইপারসনিক যানের সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা একটি গবেষণাগারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকও তিনি। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রকাশিত তাঁর পরিচিতিতে ময়মনসিংহকে তাঁর নিজ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসান সামি আদনানের গবেষণার ক্ষেত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি। অক্সফোর্ডের নাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব প্রাইমারি কেয়ার হেলথ সায়েন্সেসের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে তাঁকে ডিফিল গবেষক ও ডিজিটাল হেলথ ডিজাইনার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি একাধিক রোগে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। রোগী ও চিকিৎসকের প্রয়োজনকে সামনে রেখে এসব প্রযুক্তি কীভাবে তৈরি ও মূল্যায়ন করা যায়, সেটিও তাঁর কাজের অংশ। নিজের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদনান ২০২১ সালের অক্টোবরে অক্সফোর্ডে প্রাইমারি হেলথ কেয়ারে ডিফিল গবেষণা শুরু করেন। তাঁর আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপান্তর, রোগীর তথ্যের গোপনীয়তা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার। অক্সফোর্ডের বিভাগীয় পরিচিতিতে তাঁর গবেষণাপত্রের তালিকাও রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে আইসায়েন্স সাময়িকীতে স্বাস্থ্যসেবায় বৃহৎ পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের কাঠামো নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণা অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে সাগরে ভাসানো বোতলবন্দি চিঠি ৫৩ বছর পর ফিরল বোনের কাছে
নিউ মেক্সিকোতে এক একর জমির দাম মাত্র ৭২৫ ডলার! কিনতে পারবেন বিশের যেকেউই
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১১২ কিমি গতিতে টেসলার ধাক্কায় নি হত বৃদ্ধ, দুর্ঘটনার সময় চালু ছিল সেলফ-ড্রাইভিং মোড
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে আবারও ভোট চুরির ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে লড়ার ‘অধিকার’ আছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর আইওয়ার সু সিটিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে একই বক্তব্যে আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধানের বাধার কথাও স্বীকার করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি তিনবারই নির্বাচনে জিতেছেন, কিন্তু দ্বিতীয়বার তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সেই যুক্তি তুলে আবারও প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার থাকার কথা বলেন তিনি। তাঁর এই অভিযোগ ২০২০ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, যে নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন। ন্যাশনাল আর্কাইভসের সংরক্ষিত আনুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে বাইডেন পান ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট এবং ট্রাম্প পান ২৩২টি। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ওই নির্বাচনের ফল নিয়ে অভিযোগ করে এলেও ফল পাল্টে দেওয়ার মতো ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্বাচন শেষে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচন নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যৌথ বিবৃতিতেও ভোট মুছে ফেলা, হারিয়ে যাওয়া কিংবা পরিবর্তনের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। ফলে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে বলে তাঁর বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়। আনুষ্ঠানিক ফলাফলে ২০২০ সালের নির্বাচনের বিজয়ী বাইডেনই। বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে নিজের জানাশোনার কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিধানের ভাষা দীর্ঘদিন ধরে খতিয়ে দেখেছেন এবং সেটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ খুব বেশি নেই। এরপরও ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে নিজের অভিযোগকে সামনে এনে আবার নির্বাচনে লড়ার অধিকার থাকার দাবি করেন তিনি। সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর সীমা শুধু টানা দুই মেয়াদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এতে কোনো ব্যক্তির মোট দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ট্রাম্প ২০১৬ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ফলে মাঝখানে এক মেয়াদ ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে দুইবার নির্বাচিত হওয়ার সীমা ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়েছে। ২০২০ সালের ফল নিয়ে অভিযোগ এই সাংবিধানিক বিধানে কোনো ব্যতিক্রম তৈরি করে না।
যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক প্রেমিকার কাছে গোপন নথি পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪২ বছরের কর্মী
নিউইয়র্কে ১৪ বছরের জিনিয়াস কিশোরের গ্র্যাজুয়েশন আটকে দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ