যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে চাকরির বাজারে চাহিদায় এগিয়ে যেসব দক্ষতা, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পেশায় এখনো কর্মীর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খালি ছিল। একই সময়ে ন্যাশভিল, আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে বেকারত্বের হারও তুলনামূলক কম ছিল।
তবে শুধু একটি দক্ষতা থাকলেই ৩০ দিনের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত হবে বা চাকরি নিজে থেকে খুঁজে আসবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ভাষাগত দক্ষতা, অবস্থান এবং নিয়োগকর্তার চাহিদার ওপর।
চাহিদার দিক থেকে নার্সিং ও সেবাযত্নের কাজ এখনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে নিবন্ধিত নার্সদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ৫৫০ ডলার। আগামী ১০ বছর এ পেশায় কর্মসংস্থান আরও ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নার্সিং সহকারীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৪২ হাজার ২৬০ ডলার। আগামী ১০ বছরে বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৩০০টি নার্সিং সহকারী ও রোগীসেবাকর্মীর পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নার্সিং সহকারী হিসেবে কাজ করতে অনেক রাজ্যে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রয়োজন।
ট্রাক চালনাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় কর্মসংস্থানের একটি ক্ষেত্র। ভারী ট্রাক ও ট্রেইলার চালকদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। আগামী ১০ বছরে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের কাজে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল থাকতে হয়।
কারিগরি পেশাগুলোর চাহিদাও কম নয়। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কারিগর এবং ওয়েল্ডারের মতো কাজে দক্ষ কর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন রয়েছে। এসব পেশায় সবসময় চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। তবে প্রশিক্ষণ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রাজ্যভেদে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা, তথ্যনিরাপত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো কাজে চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সালে কম্পিউটার সহায়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৬২ হাজার ৮৯০ ডলার। তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার। আগামী ১০ বছরে তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কর্মসংস্থান ২১ শতাংশ বাড়তে পারে।
শহরভেদেও শ্রমবাজারের চিত্র আলাদা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বড় শহরগুলোর মধ্যে ন্যাশভিলে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ে তা ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং শার্লটে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে র্যালেইয়ে এক বছরে বেসরকারি ও সরকারি মিলিয়ে মোট বেতনভুক্ত চাকরি ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং শার্লটে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
তাই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার সময় শুধু কোন শহরে বেশি চাকরি রয়েছে, সেটি দেখলেই হবে না। নিজের দক্ষতার চাহিদা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ইংরেজি দক্ষতা, বেতন, বাসাভাড়া, কর এবং যাতায়াত খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দক্ষতাই চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং বাস্তব কাজের দক্ষতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিজের চাকরির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে খামারের জমি ও স্থাপনার একরপ্রতি গড় মূল্য সবচেয়ে কম নিউ মেক্সিকোতে। মার্কিন কৃষি বিভাগের ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস সার্ভিসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যটিতে এই মূল্য ৭৩৫ ডলার। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট প্লটের বিক্রয়মূল্য নয়। এই অঙ্ক দেখে নিউ মেক্সিকোতে একই দামে বসতবাড়ি তৈরির উপযোগী এক একর জমি পাওয়া যাবে, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। গত ৩১ জুলাই প্রকাশিত ‘ল্যান্ড ভ্যালুজ ২০২৬ সামারি’ অনুযায়ী, একই শ্রেণিতে ওয়াইওমিংয়ে একরপ্রতি গড় মূল্য ১ হাজার ৩০ ডলার, নেভাডায় ১ হাজার ২৩০ ডলার এবং মন্টানায় ১ হাজার ২৬০ ডলার। এই তুলনা যুক্তরাষ্ট্রের সংলগ্ন ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আলাস্কা ও হাওয়াই এই হিসাবে নেই। ফলে এটিকে সরাসরি ৫০টি রাজ্যের সব ধরনের জমির দামের তালিকা বলা সঠিক নয়। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ‘ফার্ম রিয়েল এস্টেট’ বলতে খামারের জমির পাশাপাশি সেখানে থাকা ভবন ও স্থাপনার মূল্যও বোঝানো হয়েছে। ২০২৫ সালে নিউ মেক্সিকোতে এই গড় ছিল একরপ্রতি ৭২৫ ডলার। ২০২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭৩৫ ডলার। অর্থাৎ আগে প্রচারিত ৭২৫ ডলারের অঙ্কটি আগের বছরের তথ্য, বর্তমান প্রতিবেদনের মূল্য নয়। জমির ব্যবহার ও অবস্থানভেদে মূল্যের বড় পার্থক্য থাকে। ইউএসডিএর ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস বলছে, কৃষিকাজ থেকে সম্ভাব্য আয়, মাটির গুণাগুণ, স্থানীয় অর্থনীতি এবং শহরের কাছাকাছি অবস্থান জমির মূল্যকে প্রভাবিত করে। শুধু আবাদি জমির মূল্য ও পশু চরানোর জমির মূল্যও এক নয়। তাই খামারের সামগ্রিক গড় দিয়ে শহরের আবাসিক প্লট কিংবা সেচসুবিধাযুক্ত জমির দাম বিচার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। একইভাবে, বিক্রির বিজ্ঞাপনে চাওয়া দাম এবং সরকারি হিসাবে নির্ধারিত গড় মূল্য আলাদা বিষয়। কোনো প্লটের বিজ্ঞাপনী মূল্য ওই জমির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যও নয়। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ‘মাত্র ২৭৫ ডলারে এক একর জমি’ ধরনের বিজ্ঞাপন দেখলে সেটিকে ইউএসডিএর তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। সরকারি প্রতিবেদনটি রাজ্যভিত্তিক কৃষি সম্পত্তির গড় মূল্য তুলে ধরে, নির্দিষ্ট দামে জমি বিক্রির কোনো প্রস্তাব দেয় না। নিউ মেক্সিকোতে জমি কেনার ক্ষেত্রে পানি ব্যবহারের অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের অফিস অব দ্য স্টেট ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পানির অধিকার জমির সঙ্গে অথবা আলাদাভাবে কেনাবেচা হতে পারে। কোনো সম্পত্তির সঙ্গে সেই অধিকার রয়েছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জমির মালিকানা পেলেই প্রয়োজনমতো পানি ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে, এমন ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা থাকলে স্থানীয় জোনিং ও নির্মাণের শর্তও আগে জানা প্রয়োজন। নিউ মেক্সিকোর স্যান্ডোভাল কাউন্টির প্ল্যানিং অ্যান্ড জোনিং বিভাগ সম্পত্তির উন্নয়ন বা ভাগ করার পরিকল্পনার আগে তাদের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেয়। কাউন্টির শহরের বাইরের এলাকায় নির্মাণের ক্ষেত্রেও জোনিং ও বন্যাপ্রবণতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই কম দামের জমি বেছে নেওয়ার পাশাপাশি সেটি কাঙ্ক্ষিত কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না, সেই তথ্যও কেনার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১১২ কিমি গতিতে টেসলার ধাক্কায় নি হত বৃদ্ধ, দুর্ঘটনার সময় চালু ছিল সেলফ-ড্রাইভিং মোড
২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে চান ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক প্রেমিকার কাছে গোপন নথি পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪২ বছরের কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মাইকেল সুইনি নামের ১৪ বছর বয়সী এক জিনিয়াস কিশোরের আগাম হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশনের আবেদন বাতিল করেছে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ফুল-টাইম কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও কেবল বয়সের বাধায় স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে বসেছে এই কিশোর। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন থাকলেও, বেথলেহেম সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তার সিনিয়র ইয়ারে (দ্বাদশ শ্রেণি) পদার্পণের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের বাধ্যতামূলক শিক্ষা আইন অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের পূর্ণকালীন নির্দেশনার অধীনে থাকতে হয়, যার ফলে মাইকেলকে গ্র্যাজুয়েশনের জন্য ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মাইকেলের মা নিকোল সুইনি জানান, তার ছেলে ইতোমধ্যে হাইস্কুলের সব ধাপ নিজ যোগ্যতায় পার করে গেছে। গত দুই বছর ধরে সে স্থানীয় কলেজে ক্যালকুলাস থ্রি এবং ফিজিক্স টু-এর মতো অ্যাডভান্সড কোর্স করছে। হোমস্কুল শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাচিভমেন্ট টেস্টে (CAT) মাইকেল ১৩.৫ স্কোর করেছে, যা একজন কলেজ সোফোমোরের (দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী) সমতুল্য। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, মাইকেলের হোমস্কুল পরিকল্পনাটি প্রয়োজনীয় ক্রেডিটের শর্ত পূরণ করেনি, কারণ সে হাইস্কুলের বদলে কেবল কলেজের কোর্সগুলোই করছিল। অথচ অষ্টম গ্রেডে থাকার সময়েই মাইকেল ২৬টি কলেজ ক্রেডিট অর্জনের পাশাপাশি নবম থেকে একাদশ গ্রেডের প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করেছিল। বর্তমানে মাইকেল এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তার ৩০০-লেভেলের কোর্স করা প্রয়োজন, আর তা চালিয়ে যেতে তাকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতেই হবে। এই জটিলতা নিরসনে স্কুল বোর্ড এবং আইনজীবীদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এদিকে, একই রাজ্যে লং আইল্যান্ডের ১৩ বছর বয়সী আরেক বিস্ময়-বালক জো পেত্রারো-হিপোলাইট সম্প্রতি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আইনস্টাইনের সমকক্ষ ১৬৮ আইকিউ সম্পন্ন এই কিশোর ক্যানসার ও টুরেট সিনড্রোম জয় করে আগামী বছর থেকে স্পোর্টস মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করবে।
ভারতের আম্বানির তেল শোধনাগারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে জোড়া খুনের দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্তে সহায়তা করল রোবট কুকুর
বাফেলোর বাংলাদেশি সাহী চৌধুরীর জনসেবার অবদান কংগ্রেশনাল রেকর্ডে তুলে ধরলেন কেনেডি
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডু বাজারে আসার পরপরই এর পর্দায় ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। প্রায় ২ হাজার ডলার দামের এই ফোনের নকশা, মসৃণ ভাঁজ করার ব্যবস্থা এবং পর্দার ভাঁজের দাগ কম দৃশ্যমান হওয়ায় প্রযুক্তি পর্যালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। তবে বিক্রির প্রথম দিনেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এতে ফোনটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এখন পর্যন্ত এসব বিচ্ছিন্ন অভিযোগ থেকে সব ফোনে একই ধরনের সমস্যা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর থেকে আইফোন ডু বিক্রি শুরু হয়েছে। এর আগে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট ফোনটিকে ১০-এর মধ্যে ৮ দশমিক ৮ নম্বর দেয়। দ্য ভার্জ ও ওয়্যার্ড দেয় ৭ নম্বর করে। পর্যালোচকেরা ফোনটির টাইটানিয়াম কাঠামো, মসৃণ হিঞ্জ বা ভাঁজ করার সংযোগব্যবস্থা এবং ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ভেতরের পর্দার প্রশংসা করেছেন। তবে এর ওজন, ক্যামেরার সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন অ্যাপের অসমর্থিত বিন্যাস নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেডিটে এক ব্যবহারকারী ফোনটি হাতে পাওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে পর্দা ফেটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। বন্ধুকে ফোনটি দেখানোর সময় ভেতরের হিঞ্জের কাছে পর্দার নিচে কিছু একটা অনুভব করেন তিনি। এরপর ফোনটি আরও খুলতে গেলে ফাটার শব্দ শোনেন এবং পর্দায় হিঞ্জ বরাবর ফাটল দেখতে পান বলে জানান। তাঁর দাবি, পর্দার ওপরিভাগে বা বাইরের হিঞ্জে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পরে অ্যাপল স্টোরে গেলে তাঁকে নতুন একটি ফোন দেওয়া হয়। আরেক ব্যবহারকারীও ফাটা পর্দার ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছেন, কয়েকটি ফোনে একই জায়গায় ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। অন্য একটি পোস্টে একই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত ফোনের ছবি দিয়ে বলা হয়েছে, একাধিক আইফোন ডুতে নির্দিষ্ট স্থানে ফাটল দেখা গেছে। তবে এসব ছবি ও ব্যবহারকারীর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অ্যাপল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সমস্যাটির কারণ, ব্যাপ্তি এবং এটি উৎপাদনগত ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ভাঁজ খুললে পাওয়া বড় পর্দা। এতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ম্যাট বা আলো প্রতিফলন কমানো পর্দা, আর ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের পর্দার মাপ ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের দাবি, বিশেষ ন্যানোটেক্সচার প্রযুক্তির কারণে আলো প্রতিফলন কমে এবং পর্দার মাঝের ভাঁজের দাগ তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। তবে পর্যালোচকেরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোণ থেকে তাকালে দাগটি এখনো দেখা যায় এবং আঙুল বুলিয়েও অনুভব করা যায়। ফোনটির ওজন ২৫৪ গ্রাম এবং ভাঁজ করা অবস্থায় পুরুত্ব ১১ দশমিক ৩ মিলিমিটার, যা অনেকের কাছে ভারী ও মোটা মনে হয়েছে। সফটওয়্যার ও ক্যামেরা নিয়েও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপগুলো দুই পর্দার সঙ্গে তুলনামূলক ভালোভাবে মানিয়ে নিলেও অনেক তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ এখনো বড় পর্দার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। ফলে কিছু অ্যাপে দুই পাশে কালো অংশ দেখা যায় এবং বড় পর্দার পুরো সুবিধা পাওয়া যায় না। একসঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানো গেলেও পর্দাকে নিজের মতো করে ভাগ করা বা তৃতীয় একটি ভাসমান অ্যাপ খোলার সুযোগ সীমিত। ক্যামেরার ক্ষেত্রেও ফোনটির মূল ও আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা প্রশংসা পেলেও আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কথা বলেছেন পর্যালোচকেরা। ব্যাটারির কর্মক্ষমতা নিয়ে অবশ্য তুলনামূলক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। টমস গাইডের পরীক্ষায় বড় পর্দা ব্যবহার করে একটানা ফাইভ-জি ইন্টারনেট চালানোর সময় ফোনটি ১৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট চলেছে। পরীক্ষায় স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর চেয়ে বেশি সময় টিকলেও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। ফলে ফোনটির নকশা ও বড় পর্দা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হলেও প্রায় ২ হাজার ডলার খরচ করার আগে স্থায়িত্ব, ক্যামেরা ও অ্যাপের সামঞ্জস্য বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। আপাতত কয়েকটি ফোনে ফাটলের অভিযোগ পাওয়া গেলেও আইফোন ডুর সামগ্রিক স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও তথ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সূত্র: দ্য ভার্জ, ওয়্যার্ড ও অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড হেলথ ও হিউমানার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা বন্ধ, প্রভাব পড়বে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের ওপর
নিউ ইয়র্কে ম্যানহোল দিয়ে নর্দমায় নেমে গয়না খুঁজছিলেন তাঁরা, গ্রেপ্তার ৫