ওয়াশিংটনে ৭ বছরের মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা, খুনিকে খুঁজছে পুলিশ
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ওয়াশিংটন হাইটসে ২৭ বছর বয়সী লোভে উইলিয়ামসকে নিজ অ্যাপার্টমেন্টে মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে এনওয়াইপিডি। রোববার দুপুরে ওয়েস্ট ১৫৬তম স্ট্রিটের বাসায় তাকে মুখ ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্নসহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ঘরোয়া সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
সোমবার রাতে ইস্ট হারলেমে উইলিয়ামসের স্মরণে স্বজন ও স্থানীয়রা জড়ো হন। তার সম্মানে আকাশে সবুজ বেলুন উড়ানো হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, উইলিয়ামস ছিলেন তার মেয়ের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল একজন মা। তার মৃত্যুর পর ৭ বছরের মেয়েটি মাকে হারিয়েছে।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে এক স্বজনের অনুরোধে ওই অ্যাপার্টমেন্টে ওয়েলনেস চেক করতে যান কর্মকর্তারা। সেখানে উইলিয়ামসকে অচেতন ও সাড়াহীন অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসাকর্মীরা। তার মুখ ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় তার ৭ বছরের মেয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ছিল এবং পুলিশ পৌঁছালে দরজা খুলে দেয়। কতক্ষণ শিশুটি মায়ের মরদেহের পাশে ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিউইয়র্কের প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করছে।
তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তদন্তে ঘরোয়া সহিংসতার দিকটি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর নেই এবং পুলিশ প্রকাশ্যে কোনো সন্দেহভাজনের নামও জানায়নি।
উইলিয়ামসের পরিবার বলছে, হত্যার সঙ্গে তার পরিচিত এক পুরুষের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
উইলিয়ামসের বাবা নুকোয়ান উইলিয়ামস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার মেয়ে সংগীত ও মানুষের সঙ্গ পছন্দ করতেন এবং সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন তার মেয়েকে। পরিবারের সদস্যরা হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এনওয়াইপিডি এখন ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে। একটি ভবনের নিরাপত্তা ভিডিওতে রোববার সকালে এক ব্যক্তিকে ওই অ্যাপার্টমেন্টে আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তদন্তকারীরা ওই ব্যক্তির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreগর্ভবতী কর্মীদের প্রয়োজনীয় কর্মক্ষেত্রের সুবিধা না দেওয়া এবং বেশি সময় ছুটি নেওয়ার অভিযোগে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মঙ্গলবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রস্তাবিত শ্রেণিভিত্তিক মামলা করেছেন চার সাবেক গুদামকর্মী। মামলায় দাবি করা হয়েছে, অ্যামাজনের নীতির কারণে হাজারো গর্ভবতী কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। মামলাটি করা হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে। শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংগঠন এ বেটার ব্যালান্স এবং একটি নাগরিক অধিকারবিষয়ক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান চার সাবেক কর্মীর পক্ষে মামলা করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গর্ভবতী কর্মীদের বসার জন্য চেয়ার, অতিরিক্ত পানি ও বাথরুম ব্যবহারের বিরতি এবং গর্ভকালীন চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার সময় দেওয়ার মতো মৌলিক সুবিধা পেতে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গর্ভাবস্থাজনিত কারণে প্রয়োজনীয় বিরতি বা ছুটি নেওয়ার পর অনেক কর্মীর ছুটির হিসাব থেকে সময় কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে কেউ কেউ সতর্কবার্তা পাওয়ার পর চাকরি হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন কর্মীর কাছ থেকে সাধারণ গর্ভকালীন সুবিধা পাওয়ার জন্য চিকিৎসকের কাগজপত্রও চাওয়া হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। চার বাদীর একজন উইলামিনা বার্কলে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গর্ভাবস্থাজনিত জরুরি অবস্থায় তাকে অ্যামাজনের রচেস্টার, নিউইয়র্কের গুদাম থেকে হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালে নিতে হয়। পরদিন তাকে চাকরি হারানোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বার্কলের দাবি, ভারী জিনিস তোলার কারণে তার তীব্র পেটব্যথা হচ্ছিল। হাসপাতাল যাওয়ার সময়কে অ্যামাজন তার বেতনবিহীন ছুটির সীমার মধ্যে হিসাব করে এবং পাঁচ দিন পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব আচরণ ফেডারেল প্রেগন্যান্ট ওয়ার্কার্স ফেয়ারনেস অ্যাক্ট এবং নিউইয়র্কের শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে। ২০২৩ সালে কার্যকর হওয়া এই ফেডারেল আইনে গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান বা সংশ্লিষ্ট শারীরিক অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় যুক্তিসংগত কর্মক্ষেত্রের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত বাথরুম বিরতি, পানি পান, বসার ব্যবস্থা এবং গর্ভকালীন চিকিৎসার জন্য ছুটিও রয়েছে। অ্যামাজন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল বলেছেন, অ্যামাজন প্রতি বছর হাজারো কর্মীকে গর্ভাবস্থাজনিত সুবিধা দিয়ে থাকে এবং গত এক বছরে এ ধরনের অনুরোধের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি অনুমোদন করা হয়েছে। চার বাদীর বক্তব্যে ভুল তথ্য রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য বাদ পড়েছে বলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অ্যামাজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে গর্ভবতী কর্মী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগে মামলা করে। নিউইয়র্কেও ২০২২ সালে একই ধরনের অভিযোগে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। নতুন মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বকেয়া বেতন ও সুবিধা, ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অ্যামাজনের কর্মক্ষেত্রের নীতি পরিবর্তনের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। মামলাটি আদালতে প্রস্তাবিত শ্রেণিভিত্তিক মামলা হিসেবে এগোবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত হবে।
ওয়াশিংটনে ৭ বছরের মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা, খুনিকে খুঁজছে পুলিশ
৩০ সেপ্টেম্বর, প্রায় ২০০ বছর পর টেনেসিতে প্রথম নারীকে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে চাকরির বাজারে চাহিদায় এগিয়ে যেসব দক্ষতা, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় বছরে ১০১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। ইহুদি ফেডারেশনগুলোর নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সিনাগগ, ইহুদি স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, সামার ক্যাম্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় এই বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এমন সময় এই ব্যয়ের হিসাব সামনে এসেছে, যখন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে শুরু হচ্ছে ইহুদি ধর্মীয় বর্ষপঞ্জির নতুন বছর রোশ হাশানাহ। একই দিনে ২০০১ সালের ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তিও হবে। ফলে এবারের ধর্মীয় উৎসব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ইহুদি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। ইহুদি ফেডারেশনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইহুদি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ২০২৫ সালে নিরাপত্তায় গড়ে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার করে খরচ হয়েছে। ২০২৪ সালে এই ব্যয়ের হিসাব ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় ২৫ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে। নিরাপত্তা ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, নজরদারি ক্যামেরা, প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খরচ। এই হিসাব মূলত ইহুদি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। ব্যক্তিমালিকানাধীন কোশার রেস্টুরেন্ট, বাজার বা অন্যান্য ব্যবসার নিরাপত্তা ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ইহুদি সম্প্রদায়ের মোট নিরাপত্তা ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা ও হুমকি বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৫ সালের এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘৃণাজনিত অপরাধের ৬০ শতাংশের বেশি ইহুদিদের লক্ষ্য করে হয়েছিল। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশেরও কম ইহুদি। এবারের উচ্চ ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। নিউইয়র্কে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ৭ কোটি ডলারের নিরাপত্তা তহবিল ঘোষণা করেছেন। প্রায় ২৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এই অর্থ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা পাবে। পাশাপাশি ইহুদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে স্টেট পুলিশের উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে। পিটসবার্গেও রোশ হাশানাহ সামনে রেখে স্থানীয় পুলিশ ও এফবিআইয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা জোরদার করেছে ইহুদি ফেডারেশন। প্রায় ৩০টি ইহুদি প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক চাপও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতে, ধর্মীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালাতে এখন অনেক প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে। ফলে এবারের রোশ হাশানাহ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনাস্থলের নিরাপত্তার প্রশ্নটিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
ডিভি লটারি ২০২৬: বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের নাগরিকদের আবেদন নিষিদ্ধ
নিউইয়র্কে ড্রাইভাররা সাবধান! সামান্য ভুলেই বাড়িতে আসতে পারে টিকিট
সন্তানরা বাড়ি ছেড়েছে, কিন্তু ‘মিস করি না’ মিশেল ওবামার মন্তব্যে তুমুল আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছালেই সরকার বিনা শর্তে টাকা, বাড়ি ও চিকিৎসার সব খরচ বহন করে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে ২০২৬ সালে সিনিয়রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, সম্পূরক নিরাপত্তা আয়, মেডিকেড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং কর সুবিধাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা যোগ্যতা, আয়, কাজের ইতিহাস ও অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে। প্রথম বড় সুবিধা হলো সামাজিক নিরাপত্তা অবসর ভাতা। যোগ্য ব্যক্তিরা ৬২ বছর বয়স থেকেই এই সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। তবে ৬২ বছর বয়সে নিলে মাসিক ভাতার পরিমাণ কমে যায়। ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্পূরক নিরাপত্তা আয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় যোগ হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক ভাতা প্রায় ৫৭ ডলার বেড়ে ২ হাজার ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই সুবিধার জন্য সাধারণত কাজ করে পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। ২০২৬ সালে একটি ক্রেডিট পেতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় প্রয়োজন। বেশিরভাগ মানুষের অবসর ভাতার জন্য ৪০টি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়। পূর্ণ অবসরের বয়স জন্মসাল অনুযায়ী ৬৬ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে। তাই ৬৫ বছর হলেই সবাই একই পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাবেন, এমন নয়। দ্বিতীয় বড় সুবিধা হলো মেডিকেয়ার। সাধারণত ৬৫ বছর বয়সে মেডিকেয়ারের জন্য যোগ্য হওয়া যায়। বেশিরভাগ মানুষ কর্মজীবনে যথেষ্ট মেডিকেয়ার কর দেওয়ার কারণে হাসপাতালভিত্তিক পার্ট এ-এর জন্য মাসিক প্রিমিয়াম দেন না। তবে পার্ট বি বিনামূল্যে নয়। ২০২৬ সালে এর স্ট্যান্ডার্ড Part B মাসিক প্রিমিয়াম ২০২ দশমিক ৯০ ডলার এবং বার্ষিক কর্তনযোগ্য অর্থ ২৮৩ ডলার। আয় বেশি হলে পার্ট বি-এর প্রিমিয়াম আরও বাড়তে পারে। মেডিকেয়ারের পার্ট এ মূলত হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট রোগী ভর্তি চিকিৎসা কভার করে। পার্ট বি চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কভার করে এবং পার্ট ডি প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচে সহায়তা করে। কম আয়ের মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কমাতে আলাদা সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। তবে ৬৫ বছর পূর্ণ হলেই সব ধরনের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হয়ে যায় না। তৃতীয় সুবিধা হলো সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, অন্ধ বা প্রতিবন্ধী এবং খুব কম আয় ও সীমিত সম্পদের মানুষ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬ সালে ফেডারেল পর্যায়ে এসএসআই-এর সর্বোচ্চ মাসিক হার একজনের জন্য ৯৯৪ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে আয়, সম্পদ ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম হতে পারে। চতুর্থ সুবিধা হলো মেডিকেড। কম আয়ের সিনিয়রদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। তবে মেডিকেডের যোগ্যতা ও সুবিধা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোথাও দাঁতের চিকিৎসা বা চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা থাকতে পারে, আবার কোথাও নিয়ম ভিন্ন। তাই শুধু ৬৫ বছর বয়স হলেই মেডিকেড পাওয়া যায় না। পঞ্চম সুবিধা হলো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা এসএনএপি, যা অনেকের কাছে ফুড স্ট্যাম্প নামে পরিচিত। যোগ্য নিম্ন আয়ের সিনিয়ররা খাবার কেনার জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে একজনের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ মাসিক এসএনএপি বরাদ্দ ২৯৮ ডলার। তবে প্রকৃত সুবিধার পরিমাণ পরিবারের আয় ও অন্যান্য তথ্যের ওপর নির্ভর করে। ষষ্ঠ সুবিধা হলো আবাসন সহায়তা। সেকশন ৮ বা হাউজিং চয়েস ভাউচার কর্মসূচিতে নিম্ন আয়ের পরিবার, সিনিয়র, সাবেক সেনাসদস্য এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যোগ্য হতে পারেন। তবে সরকার সবার রেন্টের নির্দিষ্ট ৭০ শতাংশ দিয়ে দেয়, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও স্থানীয় নিয়মের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। অনেক এলাকায় আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায়ও থাকতে হয়। সপ্তম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে সিনিয়রদের জন্য অতিরিক্ত ফেডারেল কর ছাড়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য করদাতারা ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের করবর্ষে জনপ্রতি অতিরিক্ত ৬ হাজার ডলার কর ছাড় দাবি করতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই যোগ্য হলে যৌথভাবে এই অতিরিক্ত কর ছাড় ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট আয়ের সীমা অতিক্রম করলে সুবিধাটি ধীরে ধীরে কমে যায়। এ ছাড়া ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য জাতীয় উদ্যানের আজীবন সিনিয়র পাস রয়েছে। ২০২৬ সালে এই পাসের দাম ৮০ ডলার। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফেডারেল বিনোদনমূলক এলাকায় প্রবেশ ফি ও কিছু সুবিধায় ছাড় পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়স সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হলেও এটি কোনোভাবেই ‘সবকিছু ফ্রি’ পাওয়ার বয়স নয়। কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, কত টাকা পাওয়া যাবে বা কতটা খরচ কমবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির কাজের ইতিহাস, আয়, সম্পদ, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর। তাই কোনো কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
ওহাইওতে এক মাসের অভিযানে ৭৯ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করল মার্কিন মার্শালরা
গৃহযুদ্ধের আগে ‘সন্তানের বাহিনী’ গড়তে চেয়েছিলেন ইলন মাস্ক, দাবি প্রাক্তন সঙ্গীর