সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

১৮ বছর বয়সে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, আজ ১১৪ কোটি ডলারের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে মাহফুজ আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৩:৩১
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সফল তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ডেক্সিয়ানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মাহফূজ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সফল তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ডেক্সিয়ানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মাহফূজ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ শিক্ষার্থী ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। কয়েক বছর পর প্রযুক্তি খাতে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯৪ সালে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। সেই ছোট উদ্যোগই কয়েক দশকের ব্যবধানে পরিণত হয়েছে বিশ্বজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১১৪ কোটি ডলারের বার্ষিক আয়ের প্রতিষ্ঠান ডেক্সিয়ানে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই উদ্যোক্তা মাহফুজ আহমেদ বর্তমানে ডেক্সিয়ানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি আজ প্রায় ১২ হাজার কর্মী নিয়ে বিশ্বের ৭০টি কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

১৯৮৯ সালে ১৮ বছর বয়সে ঢাকায় একটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় মাহফুজ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর দাদা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ভার্জিনিয়ার জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে তিনি তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকেও উচ্চতর ব্যবসায় শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে মাহফুজ আহমেদের কোনো কর্ম-অভিজ্ঞতা ছিল না। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর প্রথম কাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে। এরপর প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে করতে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সমস্যা, দক্ষ জনবলের প্রয়োজন এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করে।

 

১৯৯৪ সালে মাহফুজ আহমেদ ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমস, সংক্ষেপে ডিআইএসওয়াইএস, প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির শুরু হয়েছিল একটি ছোট পরিসরের উদ্যোগ হিসেবে। সে সময় মাহফুজ আহমেদ নর্থরপ গ্রুম্যানের পরামর্শক এবং মবিল অয়েলের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছিলেন। চাকরির পাশাপাশি শুরু করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি-সেবা সরবরাহ করা।

 

ব্যবসার বিকাশে তাঁর ভাই মারুফ আহমেদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডিআইএসওয়াইএসের কৌশল, যাত্রা ও উন্নয়নে মারুফ গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৯৯ সালে অংশীদার ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হতে থাকে। প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসাও দ্রুত বাড়ে।

 

পরবর্তী সময়ে ডিআইএসওয়াইএস একের পর এক অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বাড়ায়। ২০২১ সালে ফ্লোরিডাভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিগনেচার কনসালট্যান্টস অধিগ্রহণের পর ২০২৩ সালে ডিআইএসওয়াইএস নতুন ব্র্যান্ড পরিচয় হিসেবে ডেক্সিয়ান নাম গ্রহণ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষ জনবল সরবরাহ ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রযুক্তি সেবা দিয়ে থাকে। ভার্জিনিয়া বিজনেসের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ডেক্সিয়ানের প্রায় ১২ হাজার কর্মী বিশ্বের ৭০টি কার্যালয়ে কাজ করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি ২০০টির বেশি ফরচুন ৫০০ কোম্পানিকে সেবা দিচ্ছে।

 

ব্যবসার আর্থিক আকারও এখন বড় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভার্জিনিয়া বিজনেসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ডেক্সিয়ানের আয় ছিল ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১১৪ কোটি ডলার। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে আরও সম্প্রসারণ করছে। ২০২৬ সালের জন্য মাহফুজ ও মারুফ আহমেদ দুজনই স্টাফিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যানালিস্টসের উত্তর আমেরিকার ১০০ প্রভাবশালী জনবল-সেবা খাতের নেতার তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

 

২০২৩ সালে ডেক্সিয়ানের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করার পর মাহফুজ আহমেদের ভাই মারুফ আহমেদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হন। এরপর মাহফুজ আহমেদ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ডেক্সিয়ানের বর্তমান নেতৃত্বের তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমের তদারকিতে যুক্ত রয়েছেন।

 

ব্যবসার পাশাপাশি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও অবদান রেখেছেন মাহফুজ আহমেদ। ২০২২ সালে জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও কম্পিউটিং কলেজের প্রযুক্তি উদ্ভাবন তহবিলের জন্য তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদান দেন। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি মাহফুজ ও মারুফ আহমেদ দুই ভাইকে তাঁদের ব্যবসায়িক সাফল্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি অবদানের জন্য সম্মানিত করে।

 

উদ্যোক্তা হিসেবে মাহফুজ আহমেদ ২০১৩ সালে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং-এর গ্রেটার ওয়াশিংটন অঞ্চলের বর্ষসেরা উদ্যোক্তা পুরস্কারও পান। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রথম দিকের শিক্ষা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা পরবর্তী ব্যবসায়িক পথ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

ঢাকা থেকে ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সেই শিক্ষার্থীর যাত্রা তাই কয়েক দশকে একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পৌঁছানোর গল্প। ১৯৯৪ সালে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া ডিআইএসওয়াইএস আজ ডেক্সিয়ান নামে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে ১১৪ কোটি ডলারের বার্ষিক আয় এবং প্রায় ১২ হাজার কর্মী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ আহমেদের দীর্ঘ ব্যবসায়িক পথচলা এবং তাঁর ভাই মারুফ আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছাগলের কাঁচা দুধ খেয়ে মৃত্যুর মুখে ১৭ মাসের শিশু, বিকল কিডনি
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছাগলের কাঁচা দুধ খেয়ে মৃত্যুর মুখে ১৭ মাসের শিশু, বিকল কিডনি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ১৭ মাস বয়সী শিশু ব্রুকলিন ম্যারিসকে কাঁচা বা অপাস্তুরিত ছাগলের দুধ খাওয়ানো শুরু করেছিল তার পরিবার। কিন্তু এই একটি সিদ্ধান্তই প্রায় কেড়ে নিচ্ছিল শিশুটির প্রাণ। ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক সংক্রমণে কিডনি বিকল হয়ে তিনবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (হার্ট অ্যাটাক) শিকার হয় সে। বর্তমানে শিশুটি প্রাণে বাঁচলেও তাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতা।   প্রোপাবলিকা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রুকলিনের জন্ম হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের সাত সপ্তাহ আগে। অপরিণত ফুসফুস ও কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া এই ‘মিরাকল বেবি’কে নিয়ে মা এমিলি ম্যারিসের উদ্বেগের অন্ত ছিল না। স্তনপান করানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি বাজারের ফর্মুলা বা প্যাকেটজাত গরুর দুধের বিকল্প খুঁজছিলেন।   ফেসবুকের একটি গ্রুপের মায়েদের পরামর্শে তিনি বাড়ির কাছাকাছি একটি খামার থেকে কাঁচা ছাগলের দুধ এনে খাওয়াতে শুরু করেন। প্রথম ছয় মাস ব্রুকলিনের শারীরিক উন্নতি দেখা গেলেও হঠাৎ একদিন ভয়ানক বিপত্তি ঘটে।   গ্রীষ্মের এক দিনে ব্রুকলিন হঠাৎ গাড়ির ভেতর বমি করে দেয়। পরবর্তী দুই দিন ধরে সে প্রথমে হলুদ ও পরে ‘নীলাভ-সবুজ’ রঙের পিত্ত বমি করতে থাকে। তাকে জরুরিভিত্তিতে ৭০ মাইল দূরের একটি শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, সে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার কারণে হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিন্ড্রোমে (এইচইউএস) আক্রান্ত, যা মূলত রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কিডনি বিকল করে দেয়।   তাকে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসে রাখা হয়। মৃত্যুর মুখ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে।   ব্রুকলিন বেঁচে ফিরলেও আগের মতো আর স্বাভাবিক নেই। সে এখন সামান্য খুঁড়িয়ে হাঁটে এবং রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে আজীবন কিডনির সমস্যায় ভুগতে হতে পারে এবং সে কখনোই অ্যালকোহল পান করতে পারবে না। এদিকে নিজের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের কারণে মা এমিলি এখন তীব্র অনুশোচনায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “আমি যতদিন বাঁচব, এই কাজটি করার জন্য নিজেকে ঘৃণা করব। আমিই তাকে এই দুধ দিয়েছিলাম, আমি কতটা বোকা ছিলাম!”   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ পান করার উপকারিতা নিয়ে যেসব দাবি করা হয়, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উজমা সৈয়দের মতে, পাস্তুরিকরণের আগে কাঁচা দুধ পানের কারণে প্রচুর মানুষ অসুস্থ হতো। পাস্তুরিত দুধের তুলনায় কাঁচা দুধে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি ১০০ গুণ বেশি। সুস্থ প্রাণীর দুধেও ই-কোলাই, সালমোনেলা বা লিস্টেরিয়ার মতো মারাত্মক ক্ষতিকর প্যাথোজেন থাকতে পারে, যা গরুর গোবর বা খামারিদের হাত থেকে ছড়াতে পারে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় কেবল লাইসেন্সধারী খামারই মানুষের পানের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি করতে পারে। কিন্তু এমিলি যে খামার থেকে দুধ কিনেছিলেন, সেটি লাইসেন্সবিহীন ছিল। খামার মালিকের দাবি, তারা এই দুধ কেবল ‘পোষা প্রাণীর’ খাবার হিসেবে বিক্রি করেছিলেন। এই ঘটনার পর ব্রুকলিনের পরিবারসহ একই খামারের দুধ খেয়ে অসুস্থ হওয়া আরেক শিশুর পরিবার ওই খামার মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৩:৪৭
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সফল তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ডেক্সিয়ানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মাহফূজ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

১৮ বছর বয়সে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, আজ ১১৪ কোটি ডলারের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে মাহফুজ আহমেদ

স্ত্রীকে না জানিয়ে পাকিস্তানে নেওয়া একটি তালাকের রায় টেক্সাসে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে না জানিয়ে পাকিস্তানে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তালাক, টেক্সাসে স্বীকৃতি পেল না

যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে ভারতের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দুটি ক্যাটাগরি আবার উন্মুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ভারতের কিছু আবেদনকারীর অগ্রগতি, বাংলাদেশিদের চিত্র ভিন্ন

টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে নতুন অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে এক বছরে অভিবাসী শিক্ষার্থী কমেছে ১৪ হাজারের বেশি

টেক্সাসের সরকারি স্কুলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ২৭৯ জন কমেছে। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩১; পরের বছর তা নেমেছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫২ জনে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য টেক্সাস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনটি কেডব্লিউটিএক্সও প্রকাশ করেছে।    অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদারের সময়েই এই পতন ঘটেছে। অস্টিন ও হিউস্টনের স্কুল কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার বা ফেরত পাঠানো নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া ও ভর্তি থাকার ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে রাজ্যের হিসাব থেকে শিক্ষার্থী কমার একটি নির্দিষ্ট কারণ প্রমাণ করা যায় না।   হিসাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে ‘অভিবাসী’ শব্দটি আইনি মর্যাদা বোঝায় না। শিক্ষা বিভাগের সংজ্ঞায় ৩ থেকে ২১ বছর বয়সী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির স্কুলে তিন পূর্ণ শিক্ষাবর্ষের বেশি পড়েনি - এমন শিক্ষার্থী এই শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলগুলো শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা অভিবাসন মর্যাদা জানতে চায় না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে টেক্সাসে স্কুলে পড়ছে এমন বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুও এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে থাকতে পারে।   বড় শহরগুলোর কয়েকটি স্কুল জেলায় পতন বেশি। টেক্সাস ট্রিবিউনের হিসাবে, হিউস্টন স্কুল জেলায় এক বছরে অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত শিক্ষার্থী কমেছে ২২ শতাংশ। কম ভর্তির কথা জানিয়ে নতুন আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত লাস আমেরিকাস স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে অঙ্গরাজ্যের সব জায়গায় একই চিত্র নয় - সান আন্তোনিওর নর্থসাইড স্কুল জেলায় এই শ্রেণির শিক্ষার্থী বেড়েছে ৯ শতাংশ।   অভিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে কাজ করা সংগঠন ইমস্কুলসের কর্মকর্তা এসমেরালদা আলদে ট্রিবিউনকে বলেছেন, কিছু পরিবার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে; কারও মা-বাবা আটক হওয়ায় বড় সন্তানকে কাজেও নামতে হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য, আইসিই স্কুলকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় না। পরিবারের অভিজ্ঞতা ও সরকারের বক্তব্য দুটিই প্রতিবেদনে এসেছে; রাজ্যজুড়ে শিক্ষার্থী কমার প্রত্যেকটি ঘটনার ব্যাখ্যা কোনো পক্ষই দেয় না।   শিক্ষার্থী কমার প্রভাব শ্রেণিকক্ষের বাইরেও যায়। টেক্সাসে স্কুলের সরকারি অর্থায়নের বড় অংশ শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে উপস্থিতি ও ভর্তি কমলে স্কুল জেলার বরাদ্দে চাপ পড়তে পারে। রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সব শিক্ষার্থী মিলিয়ে টেক্সাসের সরকারি স্কুলে আগের বছরের চেয়ে ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কম ছিল। এই মোট সংখ্যা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটি আলাদা হিসাব।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী বা তার মা-বাবার অভিবাসন মর্যাদা যা-ই হোক, সেই কারণে কোনো শিশুকে সরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি থেকে বাদ দেওয়া যায় না।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:৭
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিজের ব্যক্তিগত বিদেশ সফরের জন্য অনুদান চেয়ে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা স্টেফানি মুলালি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বাড়তি নম্বরের অভিযোগ, এ যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

অনলাইন দুনিয়ায় দক্ষিণ এশীয় নাগরিকদের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী আচরণ ও বিদ্বেষ ক্রমেই বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাজিট’-এর পর ভারতীয় নারীদের নিশানা করে নতুন বর্ণবাদী গালি ‘ল্যাট্রিনাস’

টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা গেইল পাইক। ছবি: সংগৃহীত

টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু না হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত

লস অ্যাঞ্জেলেসের বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন হাইস্কুলে চারতলা ভবন থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের চারতলা থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন হাইস্কুলে চারতলা ভবন থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাইল্যান্ড পার্ক এলাকায় অবস্থিত স্কুলটিতে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই পুরো স্কুল ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ (লকডাউন) করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে ওপর থেকে এক ছাত্রের পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) সংবাদমাধ্যম ‘পিপল’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এবিসি৭-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীটি যেখানে পড়েছিল সেখানে একটি শামিয়ানা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সবুজ সংকেত পাওয়ার আগে প্রায় তিন ঘণ্টা ক্যাম্পাস পুরোপুরি লকডাউন ছিল।   নিহত শিক্ষার্থীর নাম, বয়স বা ঠিক কীভাবে সে নিচে পড়ে গেল—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এলএপিডি জানিয়েছে, ঘটনাটিকে আপাতত ‘মৃত্যুর ঘটনা’ হিসেবে রেকর্ড করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, অন্য এক ছাত্রের সঙ্গে হাতাহাতির পরই ওই কিশোর ওপর থেকে পড়ে যায়। ফক্স ১১-এর হাতে আসা একটি ভিডিওতেও দেখা গেছে, দুই ছাত্রের মধ্যে মারামারি হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে একজনকে করিডর দিয়ে তাড়া করা হলে সে রেলিং টপকে নিচে পড়ে যায়। যদিও এনবিসি৪-এর খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো অপরাধের প্রমাণ পায়নি।   নিহত ওই কিশোর ক্লাসের সবচেয়ে শান্ত স্বভাবের ছিল এবং খুব একটা কথা বলত না বলে জানিয়েছে তার এক সহপাঠী। চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বুধবার বিকেলে স্কুলগেটের বাইরে নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি জায়গা তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে স্কুলটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য সেখানে শোক কাউন্সেলরদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে এই ঘটনার নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১০:১৪
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোর নিট সম্পদের পরিমাণ শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৫ পরিবারের হাতে বিশ্বের পরিচিত সব ব্র্যান্ড, সম্পদের পরিমাণ শুনলে অবাক হবেন

ছুটিতে এসে ভালো লাগায় ফ্রান্সের প্যারিস ছেড়ে ফ্লোরিডায় বসবাস শুরু করেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স থেকে ফ্লোরিডায় এসে ১০ বছরেও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না নারী

দীর্ঘ ১৪ বছর কোমায় থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া টেক্সাসের বাসিন্দা হিদার ব্রাউন ও তাঁর স্বামী শন ব্রাউন। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে কোমায় থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম, ১৪ বছরের লড়াই শেষে মায়ের মৃত্যু

0 Comments