মোবাইলেই ছবি, অনলাইনেই আবেদন, মার্কিন পাসপোর্টে আসছে বড় পরিবর্তন
মার্কিন পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২০২৭ সাল থেকে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট করতে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য অনলাইনে আবেদনের সুযোগ চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এই নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, আবেদনকারীদের ছবি তোলার জন্য আর কোনো দোকান বা ফটো স্টুডিওতে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। নিজের স্মার্টফোনে ছবি তুলেই তা সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে।
বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক কোনো মার্কিন নাগরিক জীবনে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করতে চাইলে তাকে সরাসরি ‘পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্টেন্স ফ্যাসিলিটি’ বা নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ফর্ম, পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র এবং ছবি সশরীরে জমা দিতে হয়। তবে নতুন উদ্যোগে পুরো প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ অনলাইনেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সিস্টেম সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আবেদনকারীরা সরকারি পোর্টাল ‘আমেরিকা.গভ’ (america.gov) ব্যবহার করে ‘লগইন.গভ’ (login.gov)-এর মাধ্যমে সাইন ইন করতে পারবেন। এরপর তারা সরকারের কাছে থাকা নিজেদের তথ্য দেখতে পারবেন, প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করতে পারবেন, অনলাইনে ফি পরিশোধ করতে পারবেন এবং আবেদনের সর্বশেষ অবস্থাও ট্র্যাক করতে পারবেন। তবে ঠিক কী প্রক্রিয়ায় অন্যান্য মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি।
পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ছবির নিয়মেও আসছে বড় পরিবর্তন। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা নিজেদের মোবাইলে সদ্য তোলা ছবি বা আগে থেকে ডিভাইসে থাকা উপযুক্ত ছবি আপলোড করতে পারবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আরও জানান, চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার আগেই আবেদনকারী দেখতে পাবেন পাসপোর্টে তার ছবিটি কেমন দেখাবে।
মনমতো না হলে পুনরায় ছবি তোলার সুযোগও থাকবে। তবে ছবিতে কোনো ধরনের ফিল্টার ব্যবহার, অতিরিক্ত এডিট বা ডিজিটাল পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ছবি অবশ্যই সাম্প্রতিক, রঙিন এবং সাদা বা অফ-হোয়াইট ব্যাকগ্রাউন্ডের হতে হবে।
উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল ছবি দিয়ে অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের (রিনিউ) সুযোগ বর্তমানে চালু রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার ফলে গ্রিন কার্ড থেকে সবেমাত্র মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের জন্যও প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে যাবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অধিকাংশ নাগরিক যেন সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন করতে পারেন। তবে শিশুদের পাসপোর্টের নিয়ম আলাদা হওয়ায়, নবজাতক বা ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই নতুন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা ও নির্দিষ্ট চালুর তারিখ প্রকাশের আগ পর্যন্ত নাগরিকদের বর্তমান নিয়ম মেনেই পাসপোর্টের আবেদন করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসক ডা. আমাতু রাব্বি। আটলান্টায় ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত তিনি বর্তমানে সেন্টার ফর মেডিসিন এলএলসিতে রোগী দেখছেন। এমোরি হেলথকেয়ার ও নর্থসাইড হাসপাতালের চিকিৎসক প্রোফাইল অনুযায়ী, ডা. রাব্বি ১৯৮৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক ডাউনটাউন হাসপাতালে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি সম্পন্ন করেন ১৯৯৪ সালে। এমোরি হেলথকেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তার চিকিৎসা পেশার যাত্রা শুরু হয়। সেই হিসাবে দেশটিতে তার চিকিৎসা পেশার অভিজ্ঞতা তিন দশকেরও বেশি। তিনি আমেরিকান বোর্ড অব ইন্টারনাল মেডিসিনের বোর্ড সার্টিফায়েড চিকিৎসক। আটলান্টাভিত্তিক সেন্টার ফর মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ডা. রাব্বি ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রোফাইলে তার হাসপাতাল অ্যাফিলিয়েশন হিসেবে নর্থসাইড হাসপাতাল ও সেন্ট জোসেফ’স হাসপাতালের নাম উল্লেখ রয়েছে। নর্থসাইড হাসপাতালের নিজস্ব প্রোভাইডার ডিরেক্টরিতেও ডা. রাব্বিকে ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে নর্থসাইড হাসপাতাল আটলান্টা, চেরোকি, ডুলুথ, ফোরসাইথ ও গুইনেটের সঙ্গে তার অ্যাফিলিয়েশন দেখানো হয়েছে। এমোরি হেলথকেয়ারের বর্তমান প্রোভাইডার প্রোফাইলেও ডা. রাব্বি ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে তালিকাভুক্ত। সেখানে তার বর্তমান প্র্যাকটিস লোকেশন হিসেবে আটলান্টার সেন্টার ফর মেডিসিন এবং অ্যাফিলিয়েশন হিসেবে এমোরি হেলথকেয়ার নেটওয়ার্কের উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসক ও হাসপাতালসংক্রান্ত বিভিন্ন পাবলিক ডিরেক্টরিতে ডা. রাব্বির দীর্ঘ কর্মজীবনের তথ্য থাকলেও, তার বর্তমান অফিসিয়াল প্রোফাইলগুলোতে মূল স্পেশালিটি হিসেবে ইন্টারনাল মেডিসিনকেই উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এন্ডোক্রাইনোলজি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিজমে তার কাজের উল্লেখ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ডিরেক্টরিতে থাকলেও বর্তমান স্পেশালিটি বর্ণনায় ইন্টারনাল মেডিসিনকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশিক্ষা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রেসিডেন্সি এবং পরে আটলান্টায় দীর্ঘ চিকিৎসা পেশা - ডা. আমাতু রাব্বির কর্মজীবন এখন তিন দশকের বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে তিনি আটলান্টায় ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পৃথিবীতে রেখে মহাকাশে পাড়ি, সন্তানের জন্মের মুহূর্তে কাছে থাকবেন না বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় চরম অবহেলায় ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ের মৃ ত্যু, মায়ের বিরুদ্ধে হ ত্যা মামলা
মোবাইলেই ছবি, অনলাইনেই আবেদন, মার্কিন পাসপোর্টে আসছে বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দেশে টাকা পাঠানোর পদ্ধতি এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। আগে অনেকেই গাড়ি বা ট্যাক্সি নিয়ে মানি ট্রান্সফার দোকান কিংবা এজেন্টের কাছে গিয়ে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বা অন্যান্য সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন। এখন ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও রিয়া মানি ট্রান্সফারের মতো মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট খুলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়। ট্যাপট্যাপের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বেশিরভাগ ট্রান্সফার কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। ট্যাপট্যাপ সেন্ডে বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ, নগদ, রকেট এবং বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাশ পিকআপের সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে বিকাশসহ মোবাইল ওয়ালেটে পাঠানো অর্থ সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছানোর কথা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিকাশ ও নগদে পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে ৯৯ সেন্ট এবং ব্যাংক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৪৯ ডলার ফি প্রযোজ্য হতে পারে। লেনদেন নিশ্চিত করার আগে অ্যাপেই ফি ও বিনিময় হার দেখানো হয়। রিয়া মানি ট্রান্সফারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ঘরে বসে টাকা পাঠানোর একটি জনপ্রিয় বিকল্প। রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য বর্তমানে প্রথম ৫০ ডলার বা তার বেশি লেনদেনে ১০ ডলার পর্যন্ত ক্রেডিট বা ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সুবিধা পেতে প্রথম ট্রান্সফারের আগে রেফারেল বা প্রমো কোড ব্যবহার করতে হয়। আমেরিকা বাংলার প্রচারমূলক রেফারেল কোড ব্যবহার করেও এই সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ট্যাপট্যাপ সেন্ডে আমাদের প্রমো কোড NURULLAH1 ব্যবহার করে নতুন ব্যবহারকারীরা প্রযোজ্য প্রচারণার শর্ত পূরণ করলে প্রথম ট্রান্সফারে ৫ ডলার বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাবেন। রিয়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রমো কোড RT8H-DXJY নতুন রিয়া ব্যবহারকারী প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের আগে এই কোড ব্যবহার করলে ৫০ ডলার বা তার বেশি যোগ্য লেনদেনে ১০ ডলার পর্যন্ত ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী কোডটি প্রথম ট্রান্সফার সম্পন্ন করার আগেই দিতে হবে। ট্যাপট্যাপ বা রিয়ার মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু ট্রান্সফার ফি নয়, একই সময়ে প্রাপক শেষ পর্যন্ত কত টাকা পাচ্ছেন সেটিও দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিনিময় হার ও ফি পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে পাঠানো যোগ্য রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বর্তমানে ২ দশমিক ৫ শতাংশ সরকারি নগদ প্রণোদনা রয়েছে। ট্যাপট্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক ট্রান্সফার ও বিকাশের মতো মোবাইল ট্রান্সফারেও এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে যারা এখনো শুধু মানি ট্রান্সফার দোকানে গিয়ে টাকা পাঠান, তাদের জন্য মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সেবা একটি সময়সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট তৈরি, পরিচয় যাচাই এবং অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। তবে টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের নাম ও তথ্য, বিনিময় হার, ফি এবং অ্যাপে দেখানো চূড়ান্ত প্রাপ্য অর্থ ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে অ্যাপ অবশ্যই অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মাধ্যম থেকে ডাউনলোড করা এবং পাসওয়ার্ড ও যাচাইকরণ কোড কারও সঙ্গে শেয়ার না করা জরুরি। ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনে ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও রিয়া মানি ট্রান্সফারের প্রচারমূলক কোড দেওয়া হয়েছে এবং এসব কোড বা সংশ্লিষ্ট লিংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে আমেরিকা বাংলা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রেফারেল বা প্রচারমূলক সুবিধা পেতে পারে। আর্থিক লেনদেনের আগে পাঠককে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ফি, বিনিময় হার, বোনাসের শর্ত, যোগ্যতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজ দায়িত্বে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকা বাংলা কোনো নির্দিষ্ট সেবাকে সব সময়ের জন্য সর্বোচ্চ রেট, সবচেয়ে সস্তা বা সবার জন্য উপযুক্ত বলে নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিখোঁজের চার দিন পর মিলল বাংলাদেশি উবার চালক আলী আহমদের ম রদেহ
নিউ ইয়র্কের ছাদে কেবিন, বাগান আর সবজি ক্ষেত; মালিকানা পেতে লাগবে ১০.৫ মিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ি কিনতে মাসে গুনতে হচ্ছে বাড়তি শত শত ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ১৭ মাস বয়সী শিশু ব্রুকলিন ম্যারিসকে কাঁচা বা অপাস্তুরিত ছাগলের দুধ খাওয়ানো শুরু করেছিল তার পরিবার। কিন্তু এই একটি সিদ্ধান্তই প্রায় কেড়ে নিচ্ছিল শিশুটির প্রাণ। ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক সংক্রমণে কিডনি বিকল হয়ে তিনবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (হার্ট অ্যাটাক) শিকার হয় সে। বর্তমানে শিশুটি প্রাণে বাঁচলেও তাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতা। প্রোপাবলিকা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রুকলিনের জন্ম হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের সাত সপ্তাহ আগে। অপরিণত ফুসফুস ও কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া এই ‘মিরাকল বেবি’কে নিয়ে মা এমিলি ম্যারিসের উদ্বেগের অন্ত ছিল না। স্তনপান করানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি বাজারের ফর্মুলা বা প্যাকেটজাত গরুর দুধের বিকল্প খুঁজছিলেন। ফেসবুকের একটি গ্রুপের মায়েদের পরামর্শে তিনি বাড়ির কাছাকাছি একটি খামার থেকে কাঁচা ছাগলের দুধ এনে খাওয়াতে শুরু করেন। প্রথম ছয় মাস ব্রুকলিনের শারীরিক উন্নতি দেখা গেলেও হঠাৎ একদিন ভয়ানক বিপত্তি ঘটে। গ্রীষ্মের এক দিনে ব্রুকলিন হঠাৎ গাড়ির ভেতর বমি করে দেয়। পরবর্তী দুই দিন ধরে সে প্রথমে হলুদ ও পরে ‘নীলাভ-সবুজ’ রঙের পিত্ত বমি করতে থাকে। তাকে জরুরিভিত্তিতে ৭০ মাইল দূরের একটি শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, সে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার কারণে হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিন্ড্রোমে (এইচইউএস) আক্রান্ত, যা মূলত রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কিডনি বিকল করে দেয়। তাকে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসে রাখা হয়। মৃত্যুর মুখ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে। ব্রুকলিন বেঁচে ফিরলেও আগের মতো আর স্বাভাবিক নেই। সে এখন সামান্য খুঁড়িয়ে হাঁটে এবং রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে আজীবন কিডনির সমস্যায় ভুগতে হতে পারে এবং সে কখনোই অ্যালকোহল পান করতে পারবে না। এদিকে নিজের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের কারণে মা এমিলি এখন তীব্র অনুশোচনায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “আমি যতদিন বাঁচব, এই কাজটি করার জন্য নিজেকে ঘৃণা করব। আমিই তাকে এই দুধ দিয়েছিলাম, আমি কতটা বোকা ছিলাম!” স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ পান করার উপকারিতা নিয়ে যেসব দাবি করা হয়, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উজমা সৈয়দের মতে, পাস্তুরিকরণের আগে কাঁচা দুধ পানের কারণে প্রচুর মানুষ অসুস্থ হতো। পাস্তুরিত দুধের তুলনায় কাঁচা দুধে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি ১০০ গুণ বেশি। সুস্থ প্রাণীর দুধেও ই-কোলাই, সালমোনেলা বা লিস্টেরিয়ার মতো মারাত্মক ক্ষতিকর প্যাথোজেন থাকতে পারে, যা গরুর গোবর বা খামারিদের হাত থেকে ছড়াতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় কেবল লাইসেন্সধারী খামারই মানুষের পানের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি করতে পারে। কিন্তু এমিলি যে খামার থেকে দুধ কিনেছিলেন, সেটি লাইসেন্সবিহীন ছিল। খামার মালিকের দাবি, তারা এই দুধ কেবল ‘পোষা প্রাণীর’ খাবার হিসেবে বিক্রি করেছিলেন। এই ঘটনার পর ব্রুকলিনের পরিবারসহ একই খামারের দুধ খেয়ে অসুস্থ হওয়া আরেক শিশুর পরিবার ওই খামার মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।
১৮ বছর বয়সে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, আজ ১১৪ কোটি ডলারের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে মাহফুজ আহমেদ
স্ত্রীকে না জানিয়ে পাকিস্তানে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তালাক, টেক্সাসে স্বীকৃতি পেল না