সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:২৫
গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ
গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাতের পর হত্যার অভিযোগে দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করা এক নারী অবশেষে ১৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ২০১৮ সালে গর্ভের সন্তান হারানোর পর পেশেন্স রুশো নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে নেভাদার হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের সমঝোতা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী পেশেন্স রুশো ২০১৮ সালে নেভাদার উইনেমুকা শহরে বসবাস করতেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। ওই বছরের এপ্রিল মাসে গর্ভের সন্তান হারানোর প্রায় এক মাস পর স্থানীয় শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

 

এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি করা হয়েছিল নেভাদার ১৯১১ সালের একটি পুরোনো আইনের ভিত্তিতে। ওই আইনে গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে ওষুধ বা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার করে গর্ভপাত ঘটানোর ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনার বিধান রয়েছে।

 

ঘটনার শুরু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন দুই সন্তানের মা রুশো জানতে পারেন, তিনি আবারও অন্তঃসত্ত্বা। তবে গর্ভধারণের কত সপ্তাহ পার হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর নিশ্চিত ধারণা ছিল না।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশো ওই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখতে চাননি। এ কারণে তিনি রেনো শহরের একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করানোর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে তাঁর গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হতে পারেননি।

 

পরে ইন্টারনেটে গর্ভপাতের উপায় খুঁজতে শুরু করেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশো ভারী জিনিস তোলা এবং অতিরিক্ত দারুচিনি খাওয়ার মতো কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী সময়ে আদালতে জানান, দারুচিনি খাওয়ার কারণে গর্ভপাত ঘটে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

 

ওই বছরের এপ্রিল মাসে রুশোর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। তিনি একটি মৃত পুত্রসন্তান প্রসব করেন। শিশুটির নাম রেখেছিলেন অ্যাবেল। পরে সন্তানের মরদেহ নিজ বাড়ির পেছনের উঠানে সমাহিত করেন।

 

ঘটনার প্রায় এক মাস পর এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৬ মে কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। তিন দিন পর রুশোকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

তদন্তের সময় শিশুটির দেহাবশেষে মেথামফেটামিন ও মারিজুয়ানার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, রুশো ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবহার করেছিলেন।

 

তবে মামলার শুনানিতে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সেগুলোর কারণে গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই। শিশুটির মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণও নিশ্চিত করা যায়নি।

 

রুশো স্বীকার করেছিলেন, তিনি নিয়মিত মারিজুয়ানা এবং মাঝেমধ্যে মেথামফেটামিন ব্যবহার করতেন। তবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে এসব মাদক গ্রহণ করেছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

 

২০১৯ সালে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত ডিফেন্স আইনজীবীর পরামর্শে রুশো অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

লাস ভেগাসের ফ্লোরেন্স ম্যাকক্লুর উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারে বন্দি অবস্থায় তাঁকে অন্য কয়েদিদের কাছ থেকে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অনেকেই তাঁকে নিজের সন্তান হত্যাকারী হিসেবে দেখতেন।

 

পরবর্তী সময়ে প্রজনন অধিকারবিষয়ক আইনজীবী লরা ফিটজসিমন্স তাঁর মামলার বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেন।

 

নতুন আইনজীবীর যুক্তি ছিল, রুশোর মাদক ব্যবহারের কারণে গর্ভপাত ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। একই সঙ্গে রুশো নিজেই জানতেন না তাঁর গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হয়েছিল কি না।

 

আইনজীবীরা আরও বলেন, আগের ডিফেন্স আইনজীবী তাঁকে যথাযথ আইনি সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই যুক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালে তাঁর দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়।

 

একই বছরের ৮ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান রুশো। তত দিনে দুই বছরের বেশি সময় তাঁকে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছে।

 

দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে বিচারক চার্লস ম্যাকগি মামলাটিকে বিচারব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, দারিদ্র্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন রুশো।

 

মুক্তির পরও রুশোর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। কারাভোগের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে।

 

দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টকে তিনি জানিয়েছেন, কারাগারে থাকার সময় তাঁর দুই সন্তানও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন।

 

এদিকে চলতি বছরের মার্চে রুশোর আইনজীবীরা হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং তিনি গুরুতর মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

 

দীর্ঘ আলোচনার পর আগস্ট মাসে ১৬ লাখ ডলারে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। সম্প্রতি সেই অর্থ পেয়েছেন রুশো।

 

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেভাদা রাজ্য সরকারও তাঁকে এক লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটি হামবোল্ট কাউন্টির সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা থেকে আলাদা।

 

তবে এত অর্থ পাওয়ার পরও হারিয়ে যাওয়া সময় এবং পরিবারের ওপর পড়া ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রুশো।

 

ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে বাড়ির খরচ মেটানো, নতুন ব্যবসা শুরু করা এবং মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

 

এই মামলায় আরও একটি বিতর্কিত অভিযোগ সামনে এসেছে। রুশোর আইনজীবীদের দাবি, তদন্তে যুক্ত একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গর্ভে মারা যাওয়া শিশুটির দেহাবশেষ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। পরে তিনি অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাওয়ার সময়ও তা সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ সমঝোতার অংশ হিসেবে ওই দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ আদালতে আলাদাভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

 

রুশোর মামলা যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতসংক্রান্ত আইন এবং গর্ভের সন্তান হারানোর ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ আনার সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

 

নেভাদার যে আইনের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটি ১৯১১ সালে প্রণীত। প্রজনন অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের মতে, আইনটির প্রয়োগ গর্ভপাত ও স্বাভাবিক গর্ভপাতের মধ্যকার পার্থক্য নির্ধারণে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

 

তবে রুশোর দণ্ডাদেশ বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত নেভাদার সংশ্লিষ্ট আইনটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। তাঁর মামলায় পর্যাপ্ত আইনি প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি দণ্ডাদেশ বাতিলের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল।

 

দীর্ঘ আট বছর পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মাধ্যমে রুশোর আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে কারাভোগের কারণে তাঁর পরিবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা এখনো তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় স্কলারশিপের সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের মাস্টার্স ও পিএইচডিতে ফান্ডিং, বছরে ৩৩ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাইপেন্ড, টিউশন ফি কমানোর সুবিধা এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে আনুমানিক ৩৩ হাজার ৭১৭ ডলার এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭ হাজার ৫১৭ ডলার সমমূল্যের আর্থিক সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে। তবে এটি সরাসরি শিক্ষার্থীর হাতে দেওয়া সম্পূর্ণ অর্থ নয়। মোট হিসাবের মধ্যে স্টাইপেন্ডের পাশাপাশি টিউশন, নির্ধারিত ফি এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের ল্যারামি শহরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও গবেষণামূলক কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।   এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতার কাজে সহায়তা, গবেষণা পরিচালনা, ল্যাবের দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন এবং অন্যান্য একাডেমিক কাজে যুক্ত থাকতে পারেন।   বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সাধারণত সপ্তাহে গড়ে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত স্টাইপেন্ড এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পান।   পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত হিসাবে বছরে আনুমানিক ২১ হাজার ৭৬২ ডলার স্টাইপেন্ড নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে টিউশন, নির্ধারিত ফি এবং স্টুডেন্ট হেলথ ইন্স্যুরেন্স বাবদ আরও প্রায় ১১ হাজার ৯৫৫ ডলার সমমূল্যের সুবিধা যোগ হয়। সব মিলিয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীর বার্ষিক আর্থিক প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৭১৭ ডলার।   অন্যদিকে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে আনুমানিক ১৫ হাজার ৬৪২ ডলার স্টাইপেন্ড নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে টিউশন, নির্ধারিত ফি এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্স বাবদ প্রায় ১১ হাজার ৯৫৫ ডলার সমমূল্যের সুবিধা যুক্ত হয়ে মোট প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৫১৭ ডলার।   বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট করেছে, এসব অঙ্ক একটি অ্যাকাডেমিক বছরের জন্য প্রকাশিত আনুমানিক ন্যূনতম হিসাব। কোনো বিভাগে পর্যাপ্ত ফান্ডিং থাকলে শিক্ষার্থীরা এর চেয়েও বেশি স্টাইপেন্ড পেতে পারেন।   তবে সব শিক্ষার্থী একই পরিমাণ সুবিধা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ধরন, কাজের সময়, বিভাগীয় বাজেট এবং ফান্ডিংয়ের উৎস অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।   বিশেষ করে টিউশন ওয়েভারের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে বোঝা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের অর্থায়নে পরিচালিত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ গ্র্যাজুয়েট ক্রেডিট আওয়ার পর্যন্ত নির্ধারিত টিউশন ও বাধ্যতামূলক ফি কমানোর সুবিধা দেওয়া হয়।   অন্য উৎসের অর্থায়নে পরিচালিত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে এই সীমা ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া কিছু ব্যক্তিগত বা আনুষঙ্গিক স্টুডেন্ট ফি শিক্ষার্থীদের নিজেদের বহন করতে হতে পারে। ফলে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের খরচ সম্পূর্ণ মওকুফ হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।   স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ বহন করে। তবে আংশিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সুবিধার পরিমাণও আনুপাতিকভাবে কমতে পারে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি, একাডেমিক যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে।   বিশেষ করে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ইংলিশ ওরাল প্রফিসিয়েন্সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী যোগ্যতা অনুযায়ী অব্যাহতির বিধান রয়েছে।   এছাড়া যাঁরা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ পাবেন, তাঁদের দায়িত্ব শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যান্ড লার্নিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হতে পারে। প্রশিক্ষণসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করলে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বাতিলের ঝুঁকিও রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, সমাজবিজ্ঞান, স্বাস্থ্যবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে ৯০টির বেশি গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। তবে সব বিভাগে একই সময়ে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের শূন্যপদ থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ থাকার তথ্য রয়েছে।   গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ ধরনের পদে সাধারণত কোনো অধ্যাপকের গবেষণা প্রকল্পে কাজ করতে হয়। গবেষণার বিষয়, শিক্ষার্থীর দক্ষতা এবং প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।   ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বিবেচিত হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।   অন্যদিকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে বিভাগীয় শিক্ষকতা ও একাডেমিক কাজে সহযোগিতার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে কোনো বিভাগে ভর্তি হওয়া মানেই অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ নিশ্চিত হওয়া নয়।   আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের পছন্দের মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগের অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, একাডেমিক ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত যাচাই করতে হবে।   সাধারণত গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের আবেদনে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সিভি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গবেষণার অভিজ্ঞতা বা অন্যান্য ডকুমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব বিভাগের আবেদনপদ্ধতি এক নয়।   জিআরই, আইইএলটিএস কিংবা টোফেলের শর্তও প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই একটি বিভাগের যোগ্যতার শর্ত অন্য বিভাগের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে, এমন ধারণা নিয়ে আবেদন করা উচিত নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ইন্টারেস্ট ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।   তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ফান্ডিংয়ের কাঠামো কোনো নতুন নির্দিষ্টসংখ্যক শূন্যপদ বা সবার জন্য উন্মুক্ত একক স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ কর্মসূচির আর্থিক সুবিধার বিবরণ।   অর্থাৎ ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ঠিক কতটি নতুন অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া যাচ্ছে কিংবা কোন বিভাগের আবেদনের শেষ সময় কবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত সাধারণ ফান্ডিংয়ের তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।   আগ্রহীদের নিজ নিজ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমানে কোনো পদ খালি আছে কি না, আবেদন করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে।   এ বিষয়ে সরাসরি তথ্য জানতে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনে ইমেইল করা যায়। ইমেইল ঠিকানা GradEd@uwyo.edu। এছাড়া অফিসের ফোন নম্বর ৩০৭-৭৬৬-৬৪৭৮।   উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। কারণ এতে একদিকে পড়াশোনার ব্যয় কমানোর সুযোগ থাকে, অন্যদিকে গবেষণা বা শিক্ষকতার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়।   তবে আবেদন করার আগে নিজের একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণার আগ্রহ, সম্ভাব্য অধ্যাপকের কাজ এবং বিভাগীয় ফান্ডিংয়ের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।   বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে গবেষণার বিষয় ও অধ্যাপকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর আগ্রহের মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মাস্টার্স পর্যায়েও বিভাগীয় চাহিদা এবং উপলব্ধ ফান্ডিংয়ের ওপর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত হিসাবে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে প্রায় ৩৩ হাজার ৭১৭ ডলার এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭ হাজার ৫১৭ ডলার সমমূল্যের সুবিধা থাকলেও এর পুরোটাই নগদ অর্থ নয়। শিক্ষার্থীর হাতে পাওয়া স্টাইপেন্ড এবং টিউশন ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   ফলে আবেদনকারীদের উচিত নির্দিষ্ট বিভাগের অফার লেটারে স্টাইপেন্ডের পরিমাণ, কাজের সময়, টিউশন কভারেজ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, ফান্ডিংয়ের মেয়াদ এবং নিজের বহন করতে হবে এমন খরচগুলো ভালোভাবে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া।   ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফান্ডিং কাঠামো কার্যকর রয়েছে। তবে প্রকৃত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া সংশ্লিষ্ট বিভাগে পদের প্রাপ্যতা, ফান্ডিং এবং নিয়োগের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১০:১
বাড়িতে ঢুকে পড়ল যাত্রীবিহীন বাস

নিউ জার্সিতে বাড়িতে ঢুকে পড়ল যাত্রীবিহীন বাস, আহত চালক হাসপাতালে ভর্তি

গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

নিউইয়র্কে বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড পাবেন যেখানে, জেনে নিন যোগাযোগ ও আবেদনের নিয়ম

নিউইয়র্কে বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড পাবেন যেখানে, জেনে নিন যোগাযোগ ও আবেদনের নিয়ম

মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার অপরিচিত মানুষদের সাহায্য করতে গিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক মুসলিম তরুণ। নিহতের নাম হেজাম হুসেইন। তিনি মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরের বাসিন্দা ছিলেন। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) গভীর রাতে সাউথফিল্ড এলাকায় লজ ফ্রিওয়েতে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সাহায্য করার সময় আরেকটি গাড়ির ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার ডিয়ারবর্নে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তরুণের এমন মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস ডেট্রয়েট জানিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে সাউথফিল্ডের নাইন মাইল রোডের কাছে এম-১০ লজ ফ্রিওয়ের দক্ষিণমুখী অংশে দুটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর একটি গাড়ি বিকল হয়ে হাইওয়ের বাঁ পাশের দুটি লেন আটকে দেয়।   ঠিক সেই সময় ওই হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলেন হেজাম হুসেইন। দুর্ঘটনাটি দেখে তিনি নিজের গাড়ি রাস্তার ডান পাশের শোল্ডারে থামান। এরপর গাড়ি থেকে নেমে হাইওয়ে পার হয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মানুষদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান।   পুলিশ জানিয়েছে, হুসেইন প্রথম দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি কেবল বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে গাড়ি থামিয়েছিলেন।   কিন্তু সাহায্য করার সময়ই ঘটে আরেকটি দুর্ঘটনা। হাইওয়ে দিয়ে আসা একটি গাড়ির চালক সামনে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ সামলাতে গিয়ে তাঁর গাড়িটি হুসেইনকে ধাক্কা দেয়।   গুরুতর আহত অবস্থায় হুসেইনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন মিশিগান স্টেট পুলিশ, সাউথফিল্ড পুলিশ এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টের জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাস্থলেই তাঁকে সিপিআরসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, যে চালকের গাড়ির ধাক্কায় হুসেইনের মৃত্যু হয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বরং সেখানে অবস্থান করে তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেছেন।   প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার সঙ্গে অ্যালকোহল কিংবা মাদকের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।   এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) ডিয়ারবর্নে হেজাম হুসেইনের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা তাঁকে শেষবিদায় জানাতে উপস্থিত হন।   তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা। তাঁদের কাছে হুসেইন ছিলেন শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা একজন তরুণ।   সিবিএস ডেট্রয়েটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুসেইনের চাচাতো ভাই আবদুল গালেব জানান, অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করার জন্য গাড়ি থামানোর ঘটনা হুসেইনের স্বভাবের সঙ্গেই মিলে যায়। তিনি সব সময় অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে চাইতেন।   হুসেইনের বন্ধু মোহাম্মদ হাসান ও হাচ আলসায়েদিও তাঁকে একজন দয়ালু ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, হুসেইনের ব্যবহার ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে পরিচিতজনদের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল।   হুসেইনের সাবেক একজন শিক্ষকও তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, হুসেইন ছিলেন শান্ত, বিনয়ী, ভদ্র ও শ্রদ্ধাশীল একজন শিক্ষার্থী। অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতাও তাঁর মধ্যে ছিল।   দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কেনেডি মনক্রিফ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিআইভি লোকাল ফোরকে জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর বান্ধবী একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে প্রথম দুর্ঘটনাটি দেখতে পান। এরপর তাঁরা রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন।   কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটি গাড়ি এসে থামে। সেই গাড়ির চালক ছিলেন হেজাম হুসেইন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে আরেকটি গাড়ি ধাক্কা দেয়।   প্রত্যক্ষদর্শী মনক্রিফ হুসেইনকে একজন নিঃস্বার্থ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অপরিচিত মানুষের বিপদে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে হুসেইন মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।   হুসেইনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া করেছেন।   অনেকে আল্লাহর কাছে হুসেইনকে জান্নাত দান এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেওয়ার প্রার্থনা জানিয়েছেন।   এদিকে দুর্ঘটনার পর হাইওয়েতে অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশের লেফটেন্যান্ট টাই হাওয়ার্ড স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় সাহায্য করতে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। কিন্তু দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা দেখলে নিরাপদ অবস্থান থেকে জরুরি সেবায় ফোন করা উচিত। কারণ পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদে রাস্তা নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম রয়েছে।   মিশিগানের মুভ ওভার আইন অনুযায়ী, জরুরি সেবার গাড়ি নির্ধারিত সতর্কতামূলক আলো জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান করলে অন্য চালকদের পরিস্থিতি অনুযায়ী লেন পরিবর্তন অথবা গতি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।   হেজাম হুসেইনের মৃত্যু তাঁর পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে এসেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর জীবন শেষ হলেও শেষ মুহূর্তে অপরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাটি স্থানীয় কমিউনিটির মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৮:২৩
নিউ ইয়র্কে নতুন সরকারি বেসরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৫১ হাজার ডলার থেকে, সময় সীমিত

নিউ ইয়র্কে নতুন সরকারি বেসরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৫১ হাজার ডলার থেকে, সময় সীমিত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য আইসিইর

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য আইসিইর, নতুন নির্দেশনা

নিউইয়র্কে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ধাপ

নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড, জেনে নিন পারমিট থেকে রোড টেস্টের নিয়ম

ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে যাত্রীদের ব্যস্ততা
ফ্লাইট দেরি, বাতিল আর দীর্ঘ যাত্রাপথে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ যে বিমানবন্দর

যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির জায়গা হিসেবে উঠে এসেছে টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ফ্লাইট দেরি, ফ্লাইট বাতিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেরির হার কতটা বেড়েছে এবং শহরের কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে কতটা সময় লাগে—এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করে করা নতুন এক বিশ্লেষণে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ‘স্ট্রেসফুল’ বিমানবন্দর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   রাইটওয়ে পার্কিংয়ের করা এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫টি বড় বিমানবন্দরকে তুলনা করা হয়েছে। গবেষণায় ২০২৫ সালের ফ্লাইট দেরি ও বাতিলের হার, ২০২১ সালের তুলনায় দেরির হার কতটা পরিবর্তিত হয়েছে এবং শহরের কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরে গাড়িতে যেতে কতটা দূরত্ব ও সময় লাগে—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রতিটি সূচককে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি সম্মিলিত স্কোর তৈরি করা হয়েছে।   তালিকার শীর্ষে থাকা ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে ২০২৫ সালে ২৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ ফ্লাইট দেরিতে ছেড়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতি চারটি ফ্লাইটের একটি নির্ধারিত সময়ের পরে ছেড়েছে। একই সময়ে বিমানবন্দরটির ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।   শুধু সাম্প্রতিক দেরির হারই নয়, গত কয়েক বছরে পরিস্থিতির অবনতিও ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থকে তালিকার শীর্ষে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট দেরির হার ৩৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরটি ডালাস শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২২ মাইল দূরে। গবেষণার হিসাবে গাড়িতে যেতে প্রায় ২৬ মিনিট সময় লাগে।   ফলে যাত্রীরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই বাড়তি সময় ও চাপের মুখে পড়তে পারেন। এরপর ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে সেই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। গবেষণাটির মূল উদ্দেশ্যও ছিল বিমানবন্দরের একটি নির্দিষ্ট সমস্যা নয়, বরং ভ্রমণের পুরো প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের সম্ভাব্য চাপকে একসঙ্গে মূল্যায়ন করা।   ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শিকাগো ও’হেয়ার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। সেখানে ২৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ ফ্লাইট দেরিতে ছাড়ে। ২০২১ সালের তুলনায় ও’হেয়ারে ফ্লাইট দেরির হার বেড়েছে ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শহরের কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময়ও—গবেষণায় এই যাত্রার সময় প্রায় ৫০ মিনিট ধরা হয়েছে।   তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভার্জিনিয়ার রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দর শহরের তুলনামূলক কাছে হলেও ফ্লাইট বাতিলের দিক থেকে পরিস্থিতি বেশি কঠিন। এর বাতিলের হার ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা গবেষণায় শীর্ষ তিন বিমানবন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। একই সময়ে ২০২১ সালের তুলনায় ফ্লাইট দেরির হার বেড়েছে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।   সামগ্রিক তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং পঞ্চম অবস্থানে ফিলাডেলফিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এরপর ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর। লাগার্ডিয়ায় ফ্লাইট বাতিলের হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশের কাছাকাছি।   তবে সব বিমানবন্দরের পরিস্থিতি এতটা চাপের নয়। একই গবেষণায় সবচেয়ে কম ভোগান্তির বিমানবন্দর হিসেবে উঠে এসেছে ইউটাহর সল্ট লেক সিটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এরপর রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং হাওয়াইয়ের ড্যানিয়েল কে. ইনোয়ে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।   এই তিন বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে ফ্লাইট বাতিলের হার ১ শতাংশের নিচে এবং শহরের কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পথও তুলনামূলক সহজ। ফলে ফ্লাইটের সময়সূচি ও যাতায়াত—দুই দিক থেকেই এগুলো তুলনামূলক কম চাপের অভিজ্ঞতা দিতে পারে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কয়েকটি বিমানবন্দরে গত পাঁচ বছরে ফ্লাইট দেরির পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে। শার্লট ডগলাস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ২০২১ সালের তুলনায় দেরির হার বেড়েছে ৭৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। রোনাল্ড রিগ্যান ন্যাশনালে বেড়েছে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে হিউস্টন হবি বিমানবন্দরে একই সময়ে ফ্লাইট দেরির হার ২৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে।   গবেষণাটিতে শহরের কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরের দূরত্বও আলাদা করে দেখা হয়েছে। যেমন ওয়াশিংটন ডালেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৬ মাইল দূরে। অন্যদিকে বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র ২ দশমিক ৭ মাইল দূরে। ওমাহা ও আলবুকার্ক বিমানবন্দরে শহরের কেন্দ্র থেকে গাড়িতে পৌঁছাতে প্রায় আট মিনিট সময় লাগে।   তবে গবেষণার ফলাফলের অর্থ এই নয় যে যাত্রীদের এসব বিমানবন্দর এড়িয়ে চলতে হবে। বরং যেসব বিমানবন্দরে দেরি, বাতিল এবং দীর্ঘ যাতায়াতের ঝুঁকি বেশি, সেসব জায়গায় ভ্রমণের আগে হাতে অতিরিক্ত সময় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। বিমানবন্দরে পৌঁছানো, নিরাপত্তা তল্লাশি এবং সম্ভাব্য ফ্লাইট দেরি—সবকিছুর জন্য বাড়তি সময় রাখলে যাত্রাপথের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৪:৩৪
ট্রাম্প ও আবদুল এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

ব্যঙ্গ করে ‘মোহাম্মদ’ নামে আবদুল এল-সাইয়েদকে সম্বোধন ট্রাম্পের, সঙ্গে দিলেন ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ তকমাও

দারিদ্র্য ও কঠিন পারিবারিক বাস্তবতা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

বাবাহীন শৈশব, মায়ের মাদকাসক্তি, দারিদ্র্য পেরিয়ে যেভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন জেডি ভ্যান্স

নির্বাচনী সমাবেশে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে অদ্ভুত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

স্ত্রী মেলানিয়া তাকে ‘স্যার’ বলে ডাকেন, টেক্সাসের সমাবেশে জানালেন ট্রাম্প

0 Comments