বিশ্ব পর্যটন মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অর্জন, এশিয়ার দায়িত্বে ডাল্টন জহির
বাংলাদেশের পর্যটন ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সহযোগী সদস্য আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি ডাল্টন জহির নামে পরিচিত, তাকে নিয়োগ দিয়েছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ৭ ও ৮ অক্টোবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন দায়িত্বে ডাল্টন জহির এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ভিডিও নির্মাতা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করবেন। পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্র ও ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার বিষয়টি তার দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় এশিয়ার নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি কাজ করবেন।
এই দায়িত্বের মাধ্যমে এশিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারণার সঙ্গে বাংলাদেশের একজন পেশাজীবীর সরাসরি সম্পৃক্ততা তৈরি হলো। ডাল্টন জহির আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের কার্যক্রম সম্পর্কে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রচার করবেন এবং পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরতে সহযোগিতা করবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির পরিচালক আলেকজান্ডার ভি. কামেল জানিয়েছেন, ডাল্টন জহিরের নিয়োগ এশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করবে। পর্যটন প্রচারণায় মানসম্মত ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডাল্টন জহিরের রয়েছে পর্যটন, আতিথেয়তা, গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশীয় পর্যটন খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে একজন পর্যটন পেশাজীবী, লেখক ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত করা হয়েছে।
তার পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেডের হোটেল ব্যবসায় বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় হোটেল ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানে তিনি নির্বাহী পর্যায়ে কাজ করেছেন। বহুজাতিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
পর্যটনভিত্তিক গণমাধ্যম ও ভ্রমণ প্রচারণার ক্ষেত্রেও ডাল্টন জহির দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ভ্রমণ ও পর্যটনকেন্দ্রিক একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগও বিস্তৃত। পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশিত হয়েছে।বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনকে তুলে ধরার পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের পর্যটন পেশাজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। ডাল্টন জহির লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন বিষয়ে তার পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যটন, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাকে নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটন ও করপোরেট চলচ্চিত্র উৎসবকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে। পর্যটন গন্তব্য, পর্যটন পণ্য ও পর্যটনসেবার প্রচারে মানসম্মত ভিডিও নির্মাণকে উৎসাহ দেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং ভিডিও নির্মাতারা তাদের নির্মিত প্রচারচিত্র জমা দিতে পারেন। বিভিন্ন উৎসবে অর্জিত পুরস্কার ও পয়েন্টের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তালিকা তৈরি হয় এবং বছরের সেরা পর্যটন চলচ্চিত্রগুলোকে বিশ্ব পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বর্তমান সময়ে পর্যটন প্রচারণায় ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। একটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, মানুষের জীবনযাপন এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অল্প সময়ের একটি ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ফলে পর্যটন শিল্পে চলচ্চিত্র ও ভিডিও এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, একটি দেশের পর্যটন পরিচিতি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ডাল্টন জহিরের দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য অঞ্চল, নদী, গ্রামীণ জীবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, লোকসংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের খাবার ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানের দৃশ্যভিত্তিক গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্মাতাদের সঙ্গে নিজেদের কাজের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনভিত্তিক ভিডিও ও চলচ্চিত্রের পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এশিয়ার পর্যটন খাত বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের পর্যটন গন্তব্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও এবং ডিজিটাল গল্প বলার কৌশল ব্যবহার করছে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও আধুনিকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
ডাল্টন জহিরের নতুন দায়িত্ব সেই আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তার মাধ্যমে এশিয়ার পর্যটন প্রতিষ্ঠান, নির্মাতা ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্মগুলোর যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের একজন পর্যটন পেশাজীবীর এশিয়া অঞ্চলের এমন একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পাওয়া দেশের পর্যটন খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর মাধ্যমে শুধু ডাল্টন জহিরের ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক পরিচিতিই বাড়েনি, বাংলাদেশের পর্যটন ও গন্তব্য প্রচারণার জন্যও আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন একটি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশের পর্যটন ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সহযোগী সদস্য আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি ডাল্টন জহির নামে পরিচিত, তাকে নিয়োগ দিয়েছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ৭ ও ৮ অক্টোবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নতুন দায়িত্বে ডাল্টন জহির এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ভিডিও নির্মাতা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করবেন। পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্র ও ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার বিষয়টি তার দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় এশিয়ার নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি কাজ করবেন। এই দায়িত্বের মাধ্যমে এশিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারণার সঙ্গে বাংলাদেশের একজন পেশাজীবীর সরাসরি সম্পৃক্ততা তৈরি হলো। ডাল্টন জহির আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের কার্যক্রম সম্পর্কে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রচার করবেন এবং পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরতে সহযোগিতা করবেন। আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির পরিচালক আলেকজান্ডার ভি. কামেল জানিয়েছেন, ডাল্টন জহিরের নিয়োগ এশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করবে। পর্যটন প্রচারণায় মানসম্মত ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডাল্টন জহিরের রয়েছে পর্যটন, আতিথেয়তা, গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশীয় পর্যটন খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে একজন পর্যটন পেশাজীবী, লেখক ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত করা হয়েছে। তার পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেডের হোটেল ব্যবসায় বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় হোটেল ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানে তিনি নির্বাহী পর্যায়ে কাজ করেছেন। বহুজাতিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পর্যটনভিত্তিক গণমাধ্যম ও ভ্রমণ প্রচারণার ক্ষেত্রেও ডাল্টন জহির দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ভ্রমণ ও পর্যটনকেন্দ্রিক একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগও বিস্তৃত। পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশিত হয়েছে।বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনকে তুলে ধরার পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের পর্যটন পেশাজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। ডাল্টন জহির লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন বিষয়ে তার পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যটন, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাকে নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটন ও করপোরেট চলচ্চিত্র উৎসবকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে। পর্যটন গন্তব্য, পর্যটন পণ্য ও পর্যটনসেবার প্রচারে মানসম্মত ভিডিও নির্মাণকে উৎসাহ দেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং ভিডিও নির্মাতারা তাদের নির্মিত প্রচারচিত্র জমা দিতে পারেন। বিভিন্ন উৎসবে অর্জিত পুরস্কার ও পয়েন্টের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তালিকা তৈরি হয় এবং বছরের সেরা পর্যটন চলচ্চিত্রগুলোকে বিশ্ব পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বর্তমান সময়ে পর্যটন প্রচারণায় ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। একটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, মানুষের জীবনযাপন এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অল্প সময়ের একটি ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ফলে পর্যটন শিল্পে চলচ্চিত্র ও ভিডিও এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, একটি দেশের পর্যটন পরিচিতি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ডাল্টন জহিরের দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য অঞ্চল, নদী, গ্রামীণ জীবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, লোকসংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের খাবার ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানের দৃশ্যভিত্তিক গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্মাতাদের সঙ্গে নিজেদের কাজের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনভিত্তিক ভিডিও ও চলচ্চিত্রের পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এশিয়ার পর্যটন খাত বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের পর্যটন গন্তব্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও এবং ডিজিটাল গল্প বলার কৌশল ব্যবহার করছে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও আধুনিকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। ডাল্টন জহিরের নতুন দায়িত্ব সেই আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তার মাধ্যমে এশিয়ার পর্যটন প্রতিষ্ঠান, নির্মাতা ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্মগুলোর যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের একজন পর্যটন পেশাজীবীর এশিয়া অঞ্চলের এমন একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পাওয়া দেশের পর্যটন খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর মাধ্যমে শুধু ডাল্টন জহিরের ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক পরিচিতিই বাড়েনি, বাংলাদেশের পর্যটন ও গন্তব্য প্রচারণার জন্যও আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন একটি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে টেসলা-মার্সিডিজের চেয়েও বেশি শুল্ক মাল্টায়, চাপ বাড়ছে ক্রেতাদের
ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই, পরে বিধবা জানলেন তার বিয়ে হয়ে গেছে
উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার তিন মাসের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু
নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে এক জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ ব্যাগ চু রির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজন এক যুবকের গতিবিধি শনাক্ত করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগারে এ ঘটনা ঘটে। ব্যাগ উদ্ধারে রাত থেকেই সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ব্যাগ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী জার্মান নাগরিকের নাম কিরিল ল্যান্ডার উইবার। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে তিনি দেশে এসেছেন। নাটোরে আসার পর তাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়া এক যুবক কৌশলে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, বুধবার বগুড়ার বিভিন্ন স্থান ঘুরে সান্তাহার রেলস্টেশনে পৌঁছান ওই পর্যটক। সেখান থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে নাটোরের উদ্দেশে রওনা দেন। নাটোর থেকে অন্য ট্রেনে দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। বিকেলে নাটোর স্টেশনে নেমে পরবর্তী ট্রেনের অপেক্ষায় যাত্রী বিশ্রামাগারে অবস্থান করছিলেন কিরিল। এ সময় হলুদ রঙের কটি পরা এক যুবক তাঁর সঙ্গে আলাপ শুরু করেন। পর্যটকের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিজেকে রেলওয়ের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে পরিচিতি তৈরি হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুবকের কাছে ব্যাগ রেখে টিকিট কাটতে গিয়েছিলেন কিরিল। সেই সুযোগে যুবক ব্যাগটি নিয়ে সরে পড়েন বলে তাঁর অভিযোগ। ব্যাগের মধ্যে একটি ম্যাকবুক ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল। চু রির খবর পাওয়ার পর সান্তাহার রেলওয়ে থানার একাধিক দল রাতেই তদন্ত শুরু করে। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে হলুদ কটি পরা এক যুবককে পর্যটকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ওই যুবক নিজের পরনের কটি খুলে তার ভেতরে ব্যাগটি লুকিয়ে স্টেশন এলাকা থেকে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ব্যাগ উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজনের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁকে আ ট ক এবং চু রি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। ব্যাগ হারিয়ে বিপাকে পড়েন ওই জার্মান পর্যটক। ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম হারিয়ে স্টেশনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় পুলিশের কাছে যান। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত। তবে ভুক্তভোগী বিদেশি নাগরিক হওয়ায় সদর থানা পুলিশও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চু রি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকের ল্যাপটপ শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তবে ডিভাইসটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না কিংবা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আ ট ক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণকালীন সেবা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিক স্থান, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা বাংলাদেশে আসেন। তাঁদের নিরাপদ চলাচল এবং ব্যক্তিগত মালামালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা পর্যটনবান্ধব পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও অন্যান্য যাত্রীসমাগমপূর্ণ স্থানে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত মালামাল অন্যের কাছে রাখার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। পর্যটকেরা অনেক সময় স্থানীয় পরিবহনব্যবস্থা ও ভাষার সঙ্গে পরিচিত না থাকায় অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নাটোরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজনের গতিবিধি শনাক্ত হওয়াকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেও এখনো কোনো তথ্য নেই। চু রি যাওয়া ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি পর্যটকের ব্যাগ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই এখন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে এক ধাপ পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় স্থান দখল করল চীন
তার ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জের প্রযুক্তি নিয়ে দুই বাংলাদেশি নতুন উদ্যোগ
নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি খোকনের মৃ ত্যুর খবর
ফেনীতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, পূজামণ্ডপে মদ্যপ অবস্থায় নাচানাচি, মাতলামি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম সভাপতিত্ব করেন। পুলিশ সুপারের বক্তব্যের অংশ পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তিনি জানান, পূজার সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব রয়েছে। পূজা চলাকালে কেউ মদ্যপান করে নাচানাচি বা মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আসার পাশাপাশি পুলিশের মেডিকেল টিমের মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। পুলিশ সুপার বলেন, পূজামণ্ডপে দু-একজনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ পুরো পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও একই ধরনের আচরণে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাই শুরু থেকেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর থাকবে। তিনি আরও জানান, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় বিবেচনা না করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। প্রতিমা তৈরির সময় থেকেও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে সতর্কতা বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আরও পুলিশ সদস্য চাওয়া হয়েছে বলেও সভায় জানান তিনি। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। একই সঙ্গে গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদেরও কাজে লাগানো হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুতি সভায় ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, ৪ বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারাও সভায় অংশ নেন এবং নিরাপদ পরিবেশে উৎসব আয়োজনের বিষয়ে মতামত দেন। এবার ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট ১৫৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি বেড়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৬৫টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞায় ১৯টি, পরশুরামে ৭টি এবং ছাগলনাইয়ায় পাঁচটি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, গুজব প্রতিরোধ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সূত্র: আজকের পত্রিকা, প্রথম আলো ও ফেনী জেলা প্রশাসনের দুর্গাপূজা প্রস্তুতি সভার তথ্য।
ভিসা শেষ হওয়ার আগেই পরিবার নিতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা
দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি