সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার মধ্যে পোপ বললেন ‘মৃত্যুদণ্ড অগ্রহণযোগ্য’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১১:২০
বিশ্ব মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবসে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ চতুর্দশ লিও। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবসে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ চতুর্দশ লিও। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ফোর্ট হুড হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ চতুর্দশ লিও। শনিবার, ১০ অক্টোবর বিশ্ব মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবসে তিনি বলেছেন, মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাত হওয়ায় এই শাস্তি অগ্রহণযোগ্য। তবে তাঁর বক্তব্যে হাসানের নাম কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সম্প্রচার পরিকল্পনার সরাসরি উল্লেখ ছিল না। 

 

ভ্যাটিকান নিউজ জানিয়েছে, নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া বার্তায় পোপ বলেন, মৃত্যুদণ্ডের আশ্রয় না নিয়েও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কার্যকর কারাব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া যায়। একই সঙ্গে অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের সংশোধন ও নতুনভাবে জীবন গড়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

 

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই পোপের বার্তাটি এসেছে পেন্টাগনের ঘোষণার দুই দিন পর। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর পেন্টাগন জানায়, হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে তাঁর দণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা। তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত সময় পিছিয়ে যেতে পারে বলে ভ্যাটিকান নিউজ উল্লেখ করেছে। 

 

হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক। ২০০৯ সালের নভেম্বরে ফোর্ট হুডে তাঁর গুলিতে ১৩ জন নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হন। ২০১৩ সালে সামরিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পেন্টাগনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নজিরবিহীন সরাসরি সম্প্রচার। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করারও প্রথম ঘটনা হবে এটি। 

 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সম্প্রচার পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি রয়েছে, তা মানুষের বোঝা প্রয়োজন। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিশ্চিত করে বলেছেন, বিস্তারিত পরে জানানো হবে। হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অনুমোদন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন বলেও পেন্টাগন জানিয়েছে। 

 

পোপের শনিবারের বার্তার আগেই এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেন ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রোমে একটি অনুষ্ঠানের পাশে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মৃত্যুকে প্রদর্শনীর বিষয়ে পরিণত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধী যতই দোষী হোন, তাঁকে শাস্তি দেওয়ার অন্য পথ রয়েছে।

 

পারোলিন আরও বলেন, ক্যাথলিক চার্চ মৃত্যুদণ্ডের সম্পূর্ণ বিরোধী। এই শাস্তি মানুষের মর্যাদার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যকর নয় বলে চার্চ মনে করে। সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সময়ে এমন পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী। ভ্যাটিকান নিউজের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত পরিকল্পনার সরাসরি বিরোধিতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ পল এস কোকলিও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, হাসানের অপরাধ কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। তবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে সম্প্রচারের সিদ্ধান্তকে তিনি মৃত্যুর সংস্কৃতির বর্বর প্রসার হিসেবে বর্ণনা করেন। এমন সম্প্রচার দেশের নৈতিক ভিত্তিকে আরও দুর্বল করবে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

 

অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, পেন্টাগনের সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি জানেন না। সম্প্রচার হলে তিনি তা দেখবেন না বলেও জানান। তবে হাসানের অপরাধের গুরুত্ব তুলে ধরে ভ্যান্স বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিষয়টি যেন আড়ালে চলে না যায়।

 

রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে বা বিপক্ষে নিজের অবস্থান জানাননি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ দেওয়া হবে কি না এবং সম্প্রচারের বিস্তারিত ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়েও পেন্টাগন তখন তথ্য প্রকাশ করেনি। 

 

মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে পোপ লিওর বক্তব্য ক্যাথলিক চার্চের বিদ্যমান শিক্ষার ধারাবাহিকতা। ২০১৮ সালে পোপ ফ্রান্সিস চার্চের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সংশোধন করে সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন। শনিবারের বার্তায় লিও সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ফলে পোপের বক্তব্যকে হাসানের নির্দিষ্ট মামলা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য হিসেবে না দেখে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে চার্চের সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে বোঝা প্রয়োজন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী হয়রানির শিকার হওয়া কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষককে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী অপমানের বিচার চেয়ে রায়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার পেলেন শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বারবার বর্ণবাদী অপমানের শিকার হওয়া এক কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষক আদালতের রায়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। রবার্ট বেন্ডার নামের ওই শিক্ষক অভিযোগ করেছিলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরও শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ফেডারেল আদালতের জুরি তাঁর পক্ষে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত দেন। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যার ক্ষেত্রে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য মেরি স্যুর ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি আইওয়ার অটুমওয়া শহরের ইভান্স মিডল স্কুলের। রবার্ট বেন্ডার ২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের পড়ানো। পাশাপাশি তিনি স্কুলের জুনিয়র ভার্সিটি ছেলেদের বাস্কেটবল দলের কোচ হিসেবেও কাজ করতেন।   কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বর্ণবাদী হয়রানির শিকার হতে শুরু করেন বেন্ডার। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এক শিক্ষার্থী অন্য শিক্ষকদের সামনে তাঁকে কৃষ্ণাঙ্গদের উদ্দেশে ব্যবহৃত অত্যন্ত অবমাননাকর একটি বর্ণবাদী শব্দ দিয়ে সম্বোধন করে। কিন্তু উপস্থিত সহকর্মীরা তখন কোনো হস্তক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।   এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর আরেক শিক্ষার্থী একই ধরনের বর্ণবাদী শব্দ বারবার ব্যবহার করে তাঁকে অপমান করে। বেন্ডার বিষয়টি স্কুলের অধ্যক্ষ জেরি মিলার এবং সহকারী অধ্যক্ষ ডানা ওয়ারনেকেকে জানান। ওই শিক্ষার্থীকে অর্ধদিবস অথবা এক দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও হয়রানি বন্ধ হয়নি। বেন্ডারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই শিক্ষার্থীরা তাঁকে বর্ণবাদী ভাষায় অপমান করত। কখনো অন্য শিক্ষক কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সামনেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এমনকি তাঁর কাছে বর্ণবাদী বার্তা লেখা ছোট কাগজও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।   পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বেন্ডার স্কুল ডিস্ট্রিক্টের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক ডেভিড হারপারের কাছে অভিযোগ করেন। হারপার তাঁকে আশ্বস্ত করেন, এ ধরনের আচরণ সহ্য করা হবে না। কিন্তু বেন্ডারের দাবি, যথাযথ শাস্তির অভাবে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হয়ে একই ধরনের আচরণ চালিয়ে যায়।   মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এক শিক্ষার্থী বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করায় তাকে সাময়িকভাবে আলাদা বসিয়ে রাখার শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময় শিক্ষার্থীটির তদারকির দায়িত্বও দেওয়া হয় বেন্ডারকে। অভিযোগ অনুযায়ী, শাস্তি চলাকালেও ওই শিক্ষার্থী তাঁকে বর্ণবাদী ভাষায় অপমান করতে থাকে।   শিক্ষার্থীদের শাস্তিসংক্রান্ত নথি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বেন্ডার। তাঁর অভিযোগ, এক শিক্ষার্থী মারামারি, অশালীন ভাষা ব্যবহার, নির্দেশ অমান্য এবং স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে একাধিকবার শাস্তি পেয়েছিল। অথচ বর্ণবাদী হয়রানির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সেই আচরণের উল্লেখ তার শাস্তির নথিতে ছিল না।   ২০২২ সালের মার্চে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুলবাসের স্টপেজের কাছে বেন্ডারকে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করে অপমান করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন অধ্যক্ষ জেরি মিলারের সামনেও একই আচরণ করে ওই শিক্ষার্থী। অধ্যক্ষ ঘটনাটি শুনেছেন বলে স্বীকার করলেও অতিরিক্ত শাস্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   মিলারের ব্যাখ্যা ছিল, আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতিটি দিন নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ দেওয়া হয়। আগের দিনের আচরণের জন্য পরদিন একইভাবে শাস্তি বহাল রাখা হয় না। তবে এর এক সপ্তাহ পর অধ্যক্ষ ও অন্য কর্মীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করায় আরেক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।   এই দুই ঘটনার মধ্যে শাস্তির পার্থক্য মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। বেন্ডারের অভিযোগ ছিল, স্কুল কর্তৃপক্ষ অন্য নিয়মভঙ্গের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের ক্ষেত্রে একই গুরুত্ব দেয়নি।   এদিকে বেন্ডারকে পরবর্তী সময়ে অন্য ধরনের শিক্ষাদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর বর্ণবাদী হয়রানির অভিযোগের সম্পর্ক রয়েছে। তবে স্কুল ডিস্ট্রিক্ট প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার দক্ষতা উন্নত করতেই তাঁকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।   পরবর্তী সময়ে বেন্ডার অটুমওয়া হাই স্কুলে বদলি হন। এরপর ২০২৩ সালের জুনে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী হয়রানি বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।   স্কুল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে যুক্তি দেয়, আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের সহায়তা ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। সব ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা যথাযথ নয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছিল।   তবে ২০২৬ সালের জুনে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক স্টিফেন এইচ লোচার মামলাটি খারিজ করার জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে জুরি যুক্তিসংগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতিকূল কর্মপরিবেশ তৈরি হতে এবং তা অব্যাহত থাকতে দিয়েছিল।   বিচার শুরুর আগে বেন্ডার বৈষম্য ও প্রতিশোধমূলক আচরণসংক্রান্ত পৃথক দাবিগুলো প্রত্যাহার করেন। ফলে মূল বিচারিক কার্যক্রমে বর্ণবাদী হয়রানির কারণে প্রতিকূল কর্মপরিবেশ তৈরি হওয়ার অভিযোগ গুরুত্ব পায়।   চার দিন ধরে সাক্ষ্য গ্রহণের পর জুরি প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা করেন। এরপর বেন্ডারকে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১০০ ডলার করে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণও নির্ধারণ করা হয়েছিল।   তবে পরবর্তী সময়ে বিচারক লোচার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষ কিংবা বেপরোয়া উদাসীনতার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বেন্ডারের পক্ষে দেওয়া ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারের মূল ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকে।   আইওয়ার এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী আচরণের পাশাপাশি অভিযোগ পাওয়ার পর স্কুল প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আদালতে গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, শাস্তিসংক্রান্ত নথি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ পর্যালোচনার পর জুরি শিক্ষকের পক্ষে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১২:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রে ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারে আপত্তি, ৭ গুলি খেয়েও বেঁচে ফেরা সেনার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রে ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারে আপত্তি, ৭ গুলি খেয়েও বেঁচে ফেরা সেনার আহ্বান

টেক্সাসের ওয়াইলি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ক্যাফেটেরিয়ায় হালাল সার্টিফায়েড মুরগির খাবার পরিবেশন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের স্কুলে হালাল মাংস পরিবেশন নিয়ে বিতর্ক, আপত্তি খ্রিস্টান অভিভাবকদের

লাস ভেগাসে মাত্র ২০ ডলার বকশিশ নিয়ে বিরোধ, হাই-হিল দিয়ে পর্যটককে পিটিয়ে গ্রেপ্তার দুই নারী

লাস ভেগাসে মাত্র ২০ ডলার বকশিশ নিয়ে বিরোধ, হাই-হিল দিয়ে পর্যটককে পিটিয়ে গ্রেপ্তার দুই নারী

বিশ্ব মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবসে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ চতুর্দশ লিও। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার মধ্যে পোপ বললেন ‘মৃত্যুদণ্ড অগ্রহণযোগ্য’

যুক্তরাষ্ট্রে ফোর্ট হুড হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ চতুর্দশ লিও। শনিবার, ১০ অক্টোবর বিশ্ব মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবসে তিনি বলেছেন, মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাত হওয়ায় এই শাস্তি অগ্রহণযোগ্য। তবে তাঁর বক্তব্যে হাসানের নাম কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সম্প্রচার পরিকল্পনার সরাসরি উল্লেখ ছিল না।    ভ্যাটিকান নিউজ জানিয়েছে, নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া বার্তায় পোপ বলেন, মৃত্যুদণ্ডের আশ্রয় না নিয়েও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কার্যকর কারাব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া যায়। একই সঙ্গে অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের সংশোধন ও নতুনভাবে জীবন গড়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।   যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই পোপের বার্তাটি এসেছে পেন্টাগনের ঘোষণার দুই দিন পর। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর পেন্টাগন জানায়, হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে তাঁর দণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা। তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত সময় পিছিয়ে যেতে পারে বলে ভ্যাটিকান নিউজ উল্লেখ করেছে।    হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক। ২০০৯ সালের নভেম্বরে ফোর্ট হুডে তাঁর গুলিতে ১৩ জন নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হন। ২০১৩ সালে সামরিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পেন্টাগনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নজিরবিহীন সরাসরি সম্প্রচার। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করারও প্রথম ঘটনা হবে এটি।    প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সম্প্রচার পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি রয়েছে, তা মানুষের বোঝা প্রয়োজন। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিশ্চিত করে বলেছেন, বিস্তারিত পরে জানানো হবে। হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অনুমোদন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন বলেও পেন্টাগন জানিয়েছে।    পোপের শনিবারের বার্তার আগেই এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেন ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রোমে একটি অনুষ্ঠানের পাশে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মৃত্যুকে প্রদর্শনীর বিষয়ে পরিণত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধী যতই দোষী হোন, তাঁকে শাস্তি দেওয়ার অন্য পথ রয়েছে।   পারোলিন আরও বলেন, ক্যাথলিক চার্চ মৃত্যুদণ্ডের সম্পূর্ণ বিরোধী। এই শাস্তি মানুষের মর্যাদার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যকর নয় বলে চার্চ মনে করে। সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সময়ে এমন পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী। ভ্যাটিকান নিউজের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত পরিকল্পনার সরাসরি বিরোধিতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ পল এস কোকলিও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, হাসানের অপরাধ কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। তবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে সম্প্রচারের সিদ্ধান্তকে তিনি মৃত্যুর সংস্কৃতির বর্বর প্রসার হিসেবে বর্ণনা করেন। এমন সম্প্রচার দেশের নৈতিক ভিত্তিকে আরও দুর্বল করবে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।    অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, পেন্টাগনের সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি জানেন না। সম্প্রচার হলে তিনি তা দেখবেন না বলেও জানান। তবে হাসানের অপরাধের গুরুত্ব তুলে ধরে ভ্যান্স বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিষয়টি যেন আড়ালে চলে না যায়।   রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে বা বিপক্ষে নিজের অবস্থান জানাননি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ দেওয়া হবে কি না এবং সম্প্রচারের বিস্তারিত ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়েও পেন্টাগন তখন তথ্য প্রকাশ করেনি।    মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে পোপ লিওর বক্তব্য ক্যাথলিক চার্চের বিদ্যমান শিক্ষার ধারাবাহিকতা। ২০১৮ সালে পোপ ফ্রান্সিস চার্চের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সংশোধন করে সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন। শনিবারের বার্তায় লিও সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ফলে পোপের বক্তব্যকে হাসানের নির্দিষ্ট মামলা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য হিসেবে না দেখে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে চার্চের সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে বোঝা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১১:২০
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত

নিউইয়র্ক সিটিতে অনুমোদন ছাড়া বেজমেন্ট বা গ্যারেজ ভাড়া দিলে থাকছে জরিমানা ও আইনি ঝুঁকির আশঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে অবৈধ বেজমেন্ট ভাড়ায় বড় জরিমানা, বৈধ করার সুযোগ রয়েছে শর্তসাপেক্ষে

সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন না ভ্যান্স, ঘোর আপত্তি

ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
ন্যাচারালাইজড আমেরিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিল ট্রাম্প প্রশাসন, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। নাগরিকত্ব অর্জনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, মিথ্যা বক্তব্য এবং বেআইনিভাবে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এসব মামলা করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের অর্থ তাঁদের নাগরিকত্ব ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে, এমন নয়।   সোমবার, ৫ অক্টোবর প্রকাশিত ঘোষণায় বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। সংস্থাটি একে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে একটি নির্দিষ্ট সময়পর্বে সর্বাধিক নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়েরের উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।    মামলাগুলোর মধ্যে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করা, হত্যাকাণ্ড, যৌন অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা এবং পরিচয় ও বিয়েসংক্রান্ত ইমিগ্রেশন জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন অথবা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।   বিচার বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা উপস্থাপনার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়।   ঘোষণায় বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় উত্থাপিত দাবিগুলো অভিযোগমাত্র। এসব দাবির বিষয়ে এখনো দায় নির্ধারণ হয়নি। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারের বক্তব্য এবং আদালতে প্রমাণিত সিদ্ধান্তকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।    এবারের উদ্যোগের আগেও একই ধরনের মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে বিচার বিভাগ। গত ২০ জুলাই ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায় সংস্থাটি। এরপর ৩ আগস্ট আরও ২৫টি মামলার ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সময় বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে মোট ১২৩টি দেওয়ানি ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।    সর্বশেষ ঘোষণাটি নির্দিষ্ট ৪০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনসংক্রান্ত। তাঁদের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া বৈধ ছিল কি না এবং সরকারের অভিযোগ প্রমাণিত হয় কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে আদালতে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১০:২১
যুক্তরাষ্ট্রে হার্ট স্ক্যান করতে গিয়ে ক্যানসার শনাক্ত, এক বছরের লড়াই শেষে সুস্থ ৭২ বছরের ভিকি

যুক্তরাষ্ট্রে হার্ট স্ক্যান করতে গিয়ে ক্যানসার শনাক্ত, এক বছরের লড়াই শেষে সুস্থ ৭২ বছরের ভিকি

যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএসপিএসে তথ্য দিলেই সব নথি আপডেট হয় না। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় ঠিকানা বদলালে ইউএসসিআইএসে জানানোর সময়সীমা ১০ দিন, জেনে নিন নিয়ম

ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের গুলিতে আহত আইসিই এজেন্ট ডেভিড গঞ্জালেজ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাবা ও মেয়েকে মারধর আইসিই এজেন্টকে গুলি করলেন ৭২ বছরের বৃদ্ধ

0 Comments