সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

. অপরাধে ভাড়ার ই-বাইক ও স্কুটারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, কঠোর নিয়মের দাবি ওয়াশিংটনে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৫:৫৯
ওয়াশিংটনে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার
ওয়াশিংটনে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকটি অপরাধের ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা এসব যান ব্যবহার করে পালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর ভাড়া দেওয়ার নিয়ম ও ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অপরাধ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।
 

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের জাতীয় মহাফেজখানার কাছে একটি কথিত ছিনতাইয়ের পর কয়েকজন কিশোরকে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটারে পালাতে দেখা গেছে বলে পুলিশ সতর্ক করেছিল। তবে অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী বলা যায় না। তদন্তের ফলাফল ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অপরাধের দায় নির্ধারিত হয়।


ওয়াশিংটনে বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার এখন যাতায়াতের পরিচিত মাধ্যম। অনেকেই কর্মস্থলে যাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কিংবা কাছাকাছি কোথাও যেতে এসব যান ব্যবহার করেন। যানজট এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতেও এগুলো সহায়ক। তাই কয়েকটি অপরাধের অভিযোগের কারণে সব ব্যবহারকারীকে সন্দেহের চোখে দেখা ঠিক হবে না।


২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ওয়াশিংটনে ভাড়ার বৈদ্যুতিক স্কুটারে ৩৮ লাখের বেশি এবং বৈদ্যুতিক সাইকেলে ৩০ লাখের বেশি যাত্রা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব যাত্রার মধ্যে কতটি অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত, তার পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই। ফলে অপরাধে এসব যান কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।


নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ হলো, যান ভাড়া নেওয়ার সময় ব্যবহারকারীর বয়স ও পরিচয় যাচাই কতটা কার্যকর। ওয়াশিংটনের নিয়ম অনুযায়ী, ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার চালাতে হলে বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।


একটি ভাড়ার যান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, বয়স যাচাইয়ের জন্য ব্যবহারকারীর মুখের ছবি অথবা পরিচয়পত্রের ছবি চাওয়া হয়। তবে কিছু কিশোর অন্যের ছবি ব্যবহার করে বা ছবি পরিবর্তন করে যাচাইব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এ ধরনের অপব্যবহারের কারণে এক সপ্তাহে শতাধিক ব্যবহারকারীর হিসাব বন্ধ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


তবে প্রতিষ্ঠানের এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে অপরাধের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। কতজন নিয়ম ভেঙেছেন, তাঁদের মধ্যে কতজন কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং যাচাইব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কতটি অপরাধ ঘটেছে, তা জানতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।


অপরাধের পর কেউ বৈদ্যুতিক সাইকেল বা স্কুটারে পালিয়ে গেলে তাকে শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য কঠিন হতে পারে। তবে ভাড়ার হিসাব, যাত্রার সময় এবং যানটির অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য তদন্তে কাজে আসতে পারে। এসব তথ্যের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে
কোনো যান কোথায় ছিল, তা যাচাই করার সুযোগ থাকে।


প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, আইনগত প্রক্রিয়া মেনে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারে। তবে কোনো যান কোথাও ছিল—এমন তথ্য পাওয়া মানেই সেটি ব্যবহারকারী অপরাধ করেছেন, তা নয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, অন্যান্য আলামত এবং তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে দেখতে হয়।


এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের তথ্য যথেচ্ছ ব্যবহার করা এক বিষয় নয়। তাই তদন্তে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আইন ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিয়ম মেনে হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


ওয়াশিংটনের এই পরিস্থিতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। যান ভাড়া নেওয়ার সময় বয়স যাচাই কীভাবে আরও নির্ভরযোগ্য করা যায়, অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে হিসাব খোলা কীভাবে ঠেকানো যায় এবং অপরাধের অভিযোগ উঠলে ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পুলিশকে সহযোগিতা করবে—এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।


তবে শুধু বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্য যান ব্যবহার করেও অপরাধের পর পালানো সম্ভব। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অপরাধের ধরন, তদন্তের ফলাফল এবং নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান বিবেচনা করা জরুরি।


ব্যবহারকারীদেরও নিজেদের ভাড়ার হিসাব অন্যের হাতে না দেওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখা উচিত। বয়সসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলাও জরুরি। কেউ কোনো অপরাধের ঘটনা দেখলে নিজে সন্দেহভাজনকে ধাওয়া না করে নিরাপদ স্থানে থেকে পুলিশকে জানানো উচিত।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রে প্তারের পর তদন্ত
ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও, ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মী গ্রে প্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের পাঁচটি ভিডিও পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডেনিস কিরান নামের ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাসংক্রান্ত চারটি অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিউ স্মিরনা বিচ হাইস্কুলে কর্মরত কিরানকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয় বুধবার। ওই দিন স্কুলের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা তাঁকে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে দেখেন। এ সময় তাঁর হাতে থাকা ফোনটি উরুর ওপরের অংশের কাছে রাখা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর কিরানের কাছ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তদন্ত চলাকালে তাঁকে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে তাঁর ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ। ওই ফোনে শিক্ষার্থীদের কোনো অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ঘোড়ার সঙ্গে যৌ ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার পাঁচটি ভিডিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ভিডিওগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কিরানের বিরুদ্ধে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। আদালত তাঁকে শিশু ও প্রাণীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের শুরুতে স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তোলার অভিযোগ সামনে এলেও ফোনে শিক্ষার্থীদের অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ফোনে পাওয়া ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পৃথক অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে। অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ফ্লোরিডায় স্কুলের নিরাপত্তা জোরদার করতে চালু করা হয়েছিল স্কুল গার্ডিয়ান কর্মসূচি। ২০১৮ সালে পার্কল্যান্ডের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার পর এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আওতায় স্কুল জেলার নির্দিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্যাম্পাসে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা কর্মীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের মতো কাউকে গ্রে প্তার করার ক্ষমতা পান না। তাঁদের মূল দায়িত্ব স্কুলের নিরাপত্তায় সহায়তা করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা। স্কুলের মতো সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আচরণ নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৭:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিবাসী পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়মে মেডিকেইড হারাচ্ছেন কিছু অভিবাসী, চিকিৎসার খরচ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ভোটার সচেতনতা নিয়ে সভা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হলো নিউইয়র্কে

ওয়াশিংটনে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার

. অপরাধে ভাড়ার ই-বাইক ও স্কুটারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, কঠোর নিয়মের দাবি ওয়াশিংটনে

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়ে ২ জনের মৃ ত্যু, বিদ্যুৎহীন ৮ লাখ গ্রাহক

ক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে ফ্লোরিডা ও আলাবামায় অন্তত দুইজনের মৃ ত্যু হয়েছে এবং প্রায় আট লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে গেলেও ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারিকেনটি ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানে। আঘাতের সময় এটি ক্যাটাগরি–২ হারিকেন ছিল এবং বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৫ মাইল। ফ্লোরিডার পানহ্যান্ডেল অঞ্চল ও আলাবামার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, সড়ক চলাচল ব্যাহত হয় এবং কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পেনসাকোলা ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুতের তার ও গাছ রাস্তায় পড়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। ঝড়ের কারণে জরুরি সেবার কাজও কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন এবং সড়ক পরিষ্কারের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রবল বাতাসে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামোতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বাসাবাড়ির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ফ্রিজ, ইন্টারনেট ও মোবাইল চার্জিংয়ের মতো দৈনন্দিন সেবায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং চিকিৎসার জন্য বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। এ অবস্থায় স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ঝড়টি দুর্বল হয়ে গেলেও এর সঙ্গে আসা আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাসে কিছু অঞ্চলে আরও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকিও থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্যাপ্রবণ সড়ক এড়িয়ে চলা, বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তার থেকে দূরে থাকা এবং জরুরি সতর্কবার্তা অনুসরণ করা জরুরি। ঝড়ের পরেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। এই দুর্যোগের প্রভাব শুধু ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সড়ক বন্ধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং পণ্য সরবরাহের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে আরও সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর উচিত স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর, কাউন্টি প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ধনী প্রবীণরা, তিন বছরে তরুণদের সম্পদ কমেছে ২৩ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ধনী প্রবীণরা, তিন বছরে তরুণদের সম্পদ কমেছে ২৩ শতাংশ

জর্জিয়ায় পাঁচজনের মৃ ত্যুর ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বাড়ি থেকে পাঁচজনের গু লি বিদ্ধ দে হ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

সাবেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে ৬০০ ডলার পাঠিয়ে বিপাকে নিয়োগকর্তা, ফেরত নিয়ে জটিলতা

সাবেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে ৬০০ ডলার পাঠিয়ে বিপাকে নিয়োগকর্তা, ফেরত নিয়ে জটিলতা

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রেকআপ করতে চাওয়ায় প্রেমিককে কামড়, গ্রেপ্তার নারী পুলিশ কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রে ব্রেকআপ করতে চাওয়ায় প্রেমিককে কামড়, গ্রেপ্তার নারী পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সম্পর্কচ্ছেদ বা ব্রেকআপ করতে চাওয়ায় প্রেমিককে ঘরে আটকে রেখে মারধর এবং কামড় দেওয়ার অভিযোগে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্সিয়া স্যাংগ্রোনিস (৩৮) নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুরুতর শারীরিক আঘাত বা ‘অ্যাগ্রাভেটেড ব্যাটারি’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ওই যুবক স্যাংগ্রোনিসের বাড়িতে রাত কাটান। সেখানে ওই যুবকের আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়ে অনীহা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ভুক্তভোগী যুবক জানান, এই বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলেই স্যাংগ্রোনিস ক্ষিপ্ত ও মারমুখী হয়ে ওঠেন।   এরপর সকালে যুবকটি সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে চাইলে স্যাংগ্রোনিস দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তার পথ আটকে দেন। যুবকটি দরজার হাতল ধরে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্যাংগ্রোনিস তাকে জোরপূর্বক জাপটে ধরেন এবং দরজার কাছ থেকে টেনেহিঁচড়ে দূরে সরিয়ে তার হাতে একাধিকবার কামড় দেন।   কোনোমতে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে রাস্তায় টহলরত হিয়ালিয়া পুলিশ বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে থামিয়ে নিজের ওপর হওয়া এই নির্যাতনের কথা জানান ওই যুবক। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগের এক টেকনিশিয়ান ভুক্তভোগীর শরীরের আঘাতের ছবি তোলেন। সেখানে তার বাঁ হাতে অন্তত তিনটি আলাদা কামড়ের দাগ এবং শরীর ও মুখে একাধিক আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া যায়।   এই ঘটনার পর স্যাংগ্রোনিসের নিয়োগকর্তা ‘নর্থ বে ভিলেজ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট’ তাকে নিয়ম অনুযায়ী সবেতনে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে। বর্তমানে এক হাজার ডলারের বন্ডে জামিনে মুক্ত থাকলেও, আদালতের বিচারক তাকে ভুক্তভোগী যুবকের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:৭
শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী হয়রানির শিকার হওয়া কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষককে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী অপমানের বিচার চেয়ে রায়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার পেলেন শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রে ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারে আপত্তি, ৭ গুলি খেয়েও বেঁচে ফেরা সেনার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রে ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারে আপত্তি, ৭ গুলি খেয়েও বেঁচে ফেরা সেনার আহ্বান

টেক্সাসের ওয়াইলি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ক্যাফেটেরিয়ায় হালাল সার্টিফায়েড মুরগির খাবার পরিবেশন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের স্কুলে হালাল মাংস পরিবেশন নিয়ে বিতর্ক, আপত্তি খ্রিস্টান অভিভাবকদের

0 Comments