যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এনআইডি করবেন যেভাবে: আবেদন, কাগজপত্র ও কার্ড সংগ্রহের ধাপে ধাপে নির্দেশনা
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকেরা বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। এ জন্য বাংলাদেশে যাওয়া ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে আবেদন ও বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া ঘরে বসে সম্পন্ন করা যায় না। অনলাইনে আবেদন করার পর নির্ধারিত দিনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস, ছবি ও স্বাক্ষর দিতে হয়।
ধাপ ১: আবেদনের যোগ্যতা যাচাই করুন - দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁদের আগে বাংলাদেশের এনআইডি নেই এবং যাঁরা বাংলাদেশে এনআইডির জন্য আবেদন করেননি, তাঁরাই নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হবে। এ জন্য বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা নির্ধারিত ঘোষণাপত্র এবং ১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মধ্যে মিল থাকতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রে দূতাবাসের ওয়েবপেজ ও নির্দেশিকার পিডিএফে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে বয়সের যোগ্যতা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
ধাপ ২: অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করুন - প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ । এরপর নতুন নিবন্ধনের আবেদনপত্র ফরম-২(ক) পূরণ করুন। আবেদনপত্রে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সঠিক তথ্য দিতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের তথ্য এবং বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা লেখার সময় জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। আবেদন করার সময় একটি সচল বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর দিতে হবে, কারণ পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে যোগাযোগ করা হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ফরমটির মুদ্রিত কপি সংরক্ষণ করুন এবং পোর্টালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন - আবেদনের জন্য অনলাইনে পূরণ করা ফরম-২(ক)-এর মুদ্রিত কপি, ১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদের মূল কপি ও ফটোকপি, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের এক কপি ছবি প্রস্তুত রাখুন। পাসপোর্ট না থাকলে দূতাবাসের নির্ধারিত ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে; সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তিনজন বাংলাদেশি এনআইডিধারীর সত্যায়ন প্রয়োজন। এ ছাড়া বাবা-মায়ের এনআইডি, বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, মৃত্যু সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), উত্তরাধিকার সনদ, নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ—প্রযোজ্য নথিগুলোর কপি সঙ্গে রাখতে হবে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার আবেদনকারীদের অতিরিক্ত বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হবে।
ধাপ ৪: নির্ধারিত দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হন - অনলাইনে আবেদন করলেই নিবন্ধন সম্পন্ন হয় না। অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন আবেদনকারীকে নিজে বাংলাদেশ দূতাবাস বা তাঁর এলাকার জন্য প্রযোজ্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিসের তথ্য, ছবি ও স্বাক্ষর নেওয়া হবে। নিবন্ধন শেষে একটি স্লিপ দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে স্মার্ট এনআইডি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই স্লিপটি যত্ন করে সংরক্ষণ করুন। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, সেবার সময় এবং অতিরিক্ত কাগজপত্রের নির্দেশনা যাচাই করে নিন।
ধাপ ৫: বাংলাদেশের নির্বাচন অফিসের যাচাই সম্পন্ন করুন - বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পর আবেদনকারীর তথ্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। এর মধ্যে এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ, জেএসসি বা পিএসসি সনদ, দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ, বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর, বিবাহ বা তালাকের নথি, স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি, জাতীয়তা সনদ এবং বাংলাদেশের ঠিকানাসংবলিত ইউটিলিটি বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ রয়েছে। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সব নথি লাগবে এমন নয়; যাচাইকারী অফিসের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র দিতে হবে।
ধাপ ৬: এনআইডি ডাউনলোড ও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করুন - যাচাই সম্পন্ন হলে সিস্টেমে এনআইডি প্রস্তুত হলে আবেদনকারী তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। এ জন্য আবেদন করার সময় ব্যবহৃত ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা জরুরি। স্মার্ট কার্ড বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ছাপানো হয়ে দূতাবাস বা কনস্যুলেটে পৌঁছালে সংগ্রহ করা যাবে। কার্ড প্রস্তুত হতে কত দিন লাগবে, তা নির্দিষ্ট নয়; বাংলাদেশের যাচাইপ্রক্রিয়া ও কার্ড পাঠানোর সময়ের ওপর এটি নির্ভর করে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এই সেবা মূলত নতুন এনআইডি নিবন্ধনের জন্য। আগে থেকেই এনআইডি থাকলে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যাবে না। আবেদনপত্রে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বয়সের যোগ্যতা, ফি এবং নির্দিষ্ট কাগজপত্র সম্পর্কে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা নিশ্চিত করুন।
সরকারি তথ্যসূত্র
* বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি: https://washington.mofa.gov.bd/pages/static-pages/6952668935ce18e1c05a9de3
* বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশটির পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নেটওয়ার্কগুলো প্রতিযোগিতাবিরোধী আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রয়টার্সের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ তদন্ত করছে, সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্মিলিতভাবে সংবাদ কাভারেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের শেরম্যান আইনের আওতায় অবৈধ গোষ্ঠীগত বর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না। বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৯ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিল করে। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, এসব সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো এ সিদ্ধান্তকে সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে আদালতের শরণাপন্ন হয়। এরপর হোয়াইট হাউসের নিয়মিত টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া পাঁচটি নেটওয়ার্ক প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মিলিতভাবে কাভারেজ স্থগিত করে। এই ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমগুলো পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে এবং ভিডিও ফুটেজ পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে। ফলে একটি নেটওয়ার্কের সংগ্রহ করা দৃশ্য অন্য সংবাদমাধ্যমও ব্যবহার করতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুমতিপত্র ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের বিরোধ অব্যাহত থাকে। বিচার বিভাগের বক্তব্য, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বর্জন কোনো কোনো পরিস্থিতিতে শেরম্যান আইন লঙ্ঘন করতে পারে। তবে তদন্ত শুরু হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো আইন ভঙ্গ করেছে, এমন নয়। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না এবং পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে দুটি পৃথক বিষয়। প্রথমত, প্রতিযোগী সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার আইন লঙ্ঘন করেছে কি না। দ্বিতীয়ত, সরকার সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করার সময় সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করছে কি না। আইনি দৃষ্টিতে বিষয় দুটি সম্পর্কিত হলেও এক নয়।
মার্কিন হু মকির মুখেও দমছে না ইরান, গোপনে ক্ষে পণাস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া
ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে অসন্তোষ, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজনি ওয়ার্ল্ডে টিকিটের দাম বাড়িয়ে ৩০১ ডলার, ক্ষুব্ধ সাধারণ দর্শনার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্যানহ্যান্ডেল এবং দক্ষিণ অ্যালাবামায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইসাইয়াস’-এর প্রভাবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়টি ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে অগ্রসর হলেও রোববার ভোর পর্যন্ত এই দুই অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, ঝড়ের প্রভাবে মধ্য অ্যাপালাচিয়ান এবং মিড-আটলান্টিক অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। মায়ামির ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের সিনিয়র হারিকেন বিশেষজ্ঞ ফিলিপ পাপিন জানিয়েছেন, ঝড়টি উত্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ভারী বৃষ্টিপাতই এখন প্রধান ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার পাশ দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় শহরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্র ও মিড-আটলান্টিক অঞ্চলে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় প্রাণঘাতী ঢেউ ও তীব্র স্রোতের (রিপ কারেন্ট) সতর্কতা জারি করেছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। জর্জিয়া এবং ক্যারোলাইনা অঞ্চলেও ভারী বর্ষণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার ফ্লোরিডার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ডেস্টিনের কাছে ২ মাত্রার (ক্যাটাগরি-২) হারিকেন হিসেবে আঘাত হানে অ্যাটলান্টিক মৌসুমের প্রথম এই ঘূর্ণিঝড়। তীব্র বাতাসে ফ্লোরিডার পেনসাকোলা শহরের একটি হোটেলের ছাদ উড়ে যায় এবং স্থানীয় বিমানবন্দরও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ডেস্টিনে একটি বোটহাউস বিধ্বস্ত হয়েছে এবং পানামা সিটি বিচে একটি বহুতল ভবনের সামনের অংশ ভেঙে পড়েছে। তবে জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা থাকলেও শনিবার ভোরের মধ্যেই উপকূলের প্রধান সড়কগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ফ্লোরিডা ও অ্যালাবামায় প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ফ্লোরিডার এসকাম্বিয়া কাউন্টির শেরিফ চিপ সিমন্স জানান, ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গ্যারেজে চালু রাখা জেনারেটরের কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় এক ব্যক্তি মারা গেছেন; ওই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৪ থেকে ৭২ বছর বয়সী আরও চারজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অ্যালাবামার বার্মিংহামে ঘরের ওপর গাছ পড়ে একজনের এবং বারবার কাউন্টিতে রাস্তায় উপড়ে পড়া গাছের সাথে গাড়ির সংঘর্ষে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডা ও অ্যালাবামার পর জর্জিয়াতেও জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় সহায়তা পাঠানো সহজ হবে। পাশাপাশি, ঝড়ের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে জরুরি ভিত্তিতে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ। এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঘণ্টায় ২৪১ কিলোমিটার (১৫০ মাইল) বেগের বাতাস নিয়ে মেক্সিকো উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ৪ মাত্রার শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘সাইমন’। এর প্রভাবে রোববার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মেক্সিকোতে ভারী বর্ষণ, প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ‘র্যাচেল’ দুর্বল হয়ে পোস্ট-ট্রপিক্যাল সাইক্লোনে পরিণত হলেও এর প্রভাবে উত্তর মেক্সিকো এবং দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জুয়ার টাকা জোগাতে একের পর এক বিয়ে, প্রতারণার দায়ে লাস ভেগাসে নারীর সাজা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এনআইডি করবেন যেভাবে: আবেদন, কাগজপত্র ও কার্ড সংগ্রহের ধাপে ধাপে নির্দেশনা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে বিপজ্জনক ডায়রিয়ার জীবাণু, পাঁচ অ্যান্টিবায়োটিকেও মিলছে না প্রতিকার
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহে ব্যবহৃত যৌথ ‘পুল কাভারেজ’ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বড় টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিচার বিভাগ। এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজের ওই সিদ্ধান্ত ফেডারেল প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিচার বিভাগ তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত মাসে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিলের পর পাঁচ নেটওয়ার্ক যৌথ সংবাদ সংগ্রহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। সিএনএনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তে ফক্স নিউজও অংশ নেয়। পরে আদালতের নির্দেশে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুল কাভারেজ আবার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন পুল হলো পালাক্রমে দায়িত্ব পালনকারী সংবাদকর্মীদের একটি ব্যবস্থা। প্রেসিডেন্টের সফর কিংবা সীমিত জায়গায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সব সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারেন না। তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেটওয়ার্ক অন্যদের জন্যও ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করে। এতে সংবাদ সংগ্রহের খরচ ও ফুটেজ ভাগাভাগি হয়। তদন্তের বিষয় এই যৌথ ব্যবস্থার সাময়িক স্থগিতাদেশ। বিচার বিভাগের মুখপাত্র এমিলি কভিংটন বলেছেন, ব্যবসায়িক প্রতিযোগীদের সম্মিলিত বয়কট শেরম্যান অ্যাক্ট লঙ্ঘন করতে পারে। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিযোগিতা আইন ভেঙেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ তদন্ত করছে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে হোয়াইট হাউস টিভি পুলসংক্রান্ত যোগাযোগের রেকর্ড ও অন্যান্য নথি চেয়েছেন কর্মকর্তারা। বিরোধের সূত্রপাত হয় ১৯ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা হয়। সংবাদমাধ্যমগুলো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করে অভিযোগ জানায়, তাদের সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ নিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত অধিকার লঙ্ঘন করে। ২৪ সেপ্টেম্বর ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলির নির্দেশের পর প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়। তবে সেই আদেশ ছিল সাময়িক; মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএনএনকে ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফরের একটি নির্ধারিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর টিভি পুল কিছু অনুষ্ঠান কাভার করা বন্ধ করেছিল। তদন্তের সমালোচনা করেছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেস। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ব্রুস ডি. ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেছেন, কোন অনুষ্ঠান কীভাবে কাভার করা হবে, সে বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সিদ্ধান্ত সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষা পায়। তাঁর অভিযোগ, প্রতিযোগিতা আইনকে ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। পাঁচ নেটওয়ার্ক রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। বিচার বিভাগও এখন পর্যন্ত কোনো আইন লঙ্ঘনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে নেটওয়ার্কগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও সে বিষয়ে তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ।
যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি তরুণ
পেনসিলভানিয়ায় এক বাড়িতে গুলিতে নিহত ৮, দুই শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন; হত্যার কারণ এখনো অজানা