আইসিইর হাতে ২ দিন আটক থাকার দাবি, বাস্তবে হোটেলে স্পা নিচ্ছিলেন নারী, এখন ১০ লাখ ডলারের মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে প্রায় ৪৩ ঘণ্টা অবৈধভাবে আটক থাকার দাবি ঘিরে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা সুন্দরস ‘সানি’ নাকভির বিরুদ্ধে এক মিলিয়ন ডলার বা ১০ লাখ ডলারের মানহানির মামলা করেছেন উইসকনসিনের ডজ কাউন্টির শেরিফ ডেল শ্মিট। শেরিফের অভিযোগ, নাকভি আটকের যে বিবরণ প্রকাশ করেছিলেন, তা সত্য নয় এবং ওই বক্তব্য তাঁর ও তাঁর দপ্তরের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন, তাই অভিযোগগুলোকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
২০২৬ সালের মার্চে নাকভি দাবি করেছিলেন, তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তাঁকে ইলিনয়ের ব্রডভিউয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত উইসকনসিনের ডজ কাউন্টি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমর্থকেরা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। ঘটনাটি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং মার্কিন নাগরিকদের আটক করার অভিযোগ ঘিরে আলোচনা তৈরি করে।
তবে ডজ কাউন্টির শেরিফ ডেল শ্মিট এসব দাবি অস্বীকার করেন। ১০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নাকভিকে ডজ কাউন্টি শেরিফের দপ্তর কখনো আটক করেনি এবং কারাগারের নথিতেও তাঁর নাম নেই। শেরিফের দপ্তর জানায়, সংশ্লিষ্ট সময়ের কারাগারের নথি, বার্তা, হোটেলের তথ্য এবং নজরদারি ভিডিও পর্যালোচনা করে তারা নাকভির বর্ণনার সঙ্গে অসংগতি পেয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই শ্মিট দাবি করেন, আটকের ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
শেরিফের দায়ের করা মামলার নথিতে বলা হয়েছে, নাকভি ৫ মার্চ শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইলিনয়ের রোজমন্ট এলাকার হ্যাম্পটন ইন অ্যান্ড সুইটস হোটেলে ওঠেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ মার্চ ভোরে তাঁকে উইসকনসিনের বেভার ড্যাম এলাকার একটি হলিডে ইন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্মিটের দাবি, এসব তথ্য এবং অন্যান্য নথি তাঁর আটকে থাকার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে হোটেলে অবস্থান বা যাতায়াতের তথ্য একাই পুরো ঘটনার সব দিক চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে না। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।
১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা আদালতে দায়ের করা মামলায় শ্মিট অভিযোগ করেন, নাকভি এবং তাঁর বক্তব্য প্রচারে ভূমিকা রাখা কয়েকজন ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। মামলায় কুক কাউন্টির কমিশনার ও সাবেক কংগ্রেস প্রার্থী কেভিন মরিসনের নামও রয়েছে। শেরিফের দাবি, নাকভির আটকের ঘটনা নিয়ে প্রচারিত বক্তব্য তাঁর দপ্তর সম্পর্কে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করেছে। তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক মিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন। পরে মামলার সংশোধিত অভিযোগপত্রে নাকভির বোন সারাহ আফজালকেও বিবাদী হিসেবে যুক্ত করা হয় এবং অভিযোগে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, শ্মিটের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট হোটেল ও মুঠোফোনের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়। ১৩ এপ্রিল আদালত নির্দিষ্ট কিছু তথ্য সংগ্রহের জন্য তৃতীয় পক্ষের কাছে নথি চাওয়ার অনুমতি দেয়। এই আদেশ মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের অনুমতি, নাকভির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় নয়। পরবর্তী সময়ে বিবাদীপক্ষ মামলা খারিজের আবেদন করে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া আদালতের নথিতে এসব আবেদনের বিষয়ে শুনানি ও জবাব দাখিলের সময়সূচি নির্ধারণের তথ্য রয়েছে।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামনে আসে। নাকভির আটকের দাবি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সমর্থকেরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, শেরিফের দপ্তর বলেছে, তাদের কাছে থাকা নথি ও ভিডিওর সঙ্গে ওই দাবির মিল পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক পরিসরে আলোচনা হলেও, কোনো পক্ষের বক্তব্যকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সমতুল্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বর্তমানে মামলার মূল প্রশ্ন হলো, নাকভির আটকের বিষয়ে প্রচারিত বক্তব্য মিথ্যা ছিল কি না এবং তা শেরিফের সুনাম ক্ষুণ্ন করার মতো মানহানিকর ছিল কি না। এ ছাড়া অন্য বিবাদীরা কীভাবে ওই বক্তব্য প্রচারে যুক্ত ছিলেন, সেটিও মামলার অংশ। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ, বিবাদীপক্ষের জবাব এবং বিচারকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে। ফলে ঘটনাটিকে ইতিমধ্যে প্রমাণিত প্রতারণা বা সাজানো ঘটনা হিসেবে বর্ণনা না করে, শেরিফের অভিযোগ ও মামলার বর্তমান অবস্থান আলাদা করে তুলে ধরা জরুরি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreগাজায় থাকলে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই করতেন বলে বার্তা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের এক নারী। তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠনটিকে ৩০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্ন নামের ৩৭ বছর বয়সী ওই নারীকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দোষী বলা যায় না; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ওয়াশবার্ন নিউইয়র্কের রচেস্টার শহরের কাছের আয়রনডেকয়েট এলাকার বাসিন্দা। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ নামে পরিচিত সংগঠনটিকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সংগঠনটিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওয়াশবার্ন গাজায় থাকা এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করতেন, যিনি নিজেকে ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংগঠনটির হামলায় অংশ নেওয়ার দাবি করেছিলেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবাদবিরোধী টাস্কফোর্স তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করে। এ সময় উদ্ধার করা ইলেকট্রনিক বার্তা পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা ওয়াশবার্ন ও ওই ব্যক্তির কথোপকথনের তথ্য পান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ওয়াশবার্ন লিখেছিলেন, তিনি গাজায় থাকলে ‘প্রতিরোধের’ সঙ্গে লড়াই করতেন। একই কথোপকথনে তিনি ওই ব্যক্তির সাহসিকতার প্রশংসা করেছিলেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কথোপকথন শুধু ব্যক্তিগত মতামত বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনের মধ্যে ইসলামিক জিহাদের কথিত হামলা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে আরও কয়েকটি বার্তার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে ওয়াশবার্ন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব বার্তার প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগের আইনি তাৎপর্য আদালতে পর্যালোচনার বিষয়। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক লেনদেনের নথি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, ওয়াশবার্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি হিসাবে অর্থ পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মোট প্রায় ৮০টি লেনদেনে ৩০ হাজার ১১৬ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ইউএসডিসি পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএসডিসি হলো মার্কিন ডলারের সঙ্গে মূল্য ধরে রাখার জন্য তৈরি এক ধরনের ডিজিটাল মুদ্রা। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব লেনদেনের উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া। বিচার বিভাগের অভিযোগে ওয়াশবার্নের সঙ্গে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন মুভমেন্ট ফর প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন’ নামের একটি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার কথাও বলা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর সংগঠনটি গড়ে ওঠে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পরিবর্তে নাশকতা ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের মতো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে। তবে সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে সরকারের এই বর্ণনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগের অংশ, যা সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। মার্কিন বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে অর্থ বা অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁদের দাবি, তদন্তে পাওয়া বার্তা ও আর্থিক নথি ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি তৈরি করেছে। এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবাদবিরোধী টাস্কফোর্সের তদন্তের পর মামলাটি করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশবার্নের পক্ষের বক্তব্য বা আদালতে তাঁর চূড়ান্ত অবস্থান সম্পর্কে বিচার বিভাগের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। মামলাটির গুরুত্ব শুধু অর্থ লেনদেনের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। অনলাইনে যোগাযোগ, ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর এবং বিদেশে সক্রিয় সংগঠনের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ কীভাবে তদন্তের আওতায় আসতে পারে, ঘটনাটি তার একটি উদাহরণ। তবে কোনো রাজনৈতিক মতামত বা বার্তা প্রকাশের বিষয় এবং কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনকে জেনেশুনে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আইনগতভাবে এক নয়। ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও আইনি যুক্তির ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে অভিযোগটি এখনো ফৌজদারি অভিযোগপত্রের পর্যায়ে রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকা মানেই সেই শাস্তি নিশ্চিত নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই তাঁর দায় ও সম্ভাব্য শাস্তি নির্ধারণ করবেন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইউপিআই।
২০৫০ সালে বদলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর, রোবটে তৈরি হবে শহর, স্বয়ংক্রিয় হবে বাড়ি
আইসিইর হাতে ২ দিন আটক থাকার দাবি, বাস্তবে হোটেলে স্পা নিচ্ছিলেন নারী, এখন ১০ লাখ ডলারের মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা পেছাবে এক ঘণ্টা, সময় পরিবর্তন বন্ধের উদ্যোগ অনিশ্চিত
নিউইয়র্কে স্কুলে পড়ুয়া সন্তান সহপাঠীদের হাতে হয়রানি বা বুলিংয়ের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, তা অনেক অভিভাবকেরই জানা নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য স্কুলের নিয়ম, অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। সন্তান হঠাৎ স্কুলে যেতে না চাইলে, টিফিন না খেলে, সহপাঠীদের ভয়ে চুপচাপ থাকলে কিংবা স্কুল থেকে ফেরার পর কান্নাকাটি করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এসব লক্ষণের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে, তবে বুলিংয়ের আশঙ্কা থাকলে সন্তানের সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলে কী ঘটছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। বুলিং বলতে শুধু মারধর বা শারীরিক আক্রমণ বোঝায় না। কাউকে বারবার অপমান করা, নাম ধরে বিদ্রূপ করা, ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা, গুজব ছড়ানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপদস্থ করাও এর মধ্যে পড়তে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের ‘রেসপেক্ট ফর অল’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, ভয় দেখানো, বৈষম্য ও বুলিং প্রতিরোধের নীতিমালা রয়েছে। জাতি, বর্ণ, ধর্ম, জাতীয় পরিচয়, অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিচয়, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতা বা ওজনের ভিত্তিতে কাউকে হেনস্তা করার বিষয়টিও এই নীতিমালার আওতায় আসতে পারে। প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান সন্তান নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হলে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্কুলের অধ্যক্ষ, শ্রেণিশিক্ষক, কাউন্সেলর অথবা ‘রেসপেক্ট ফর অল লিয়াজোঁ’র সঙ্গে যোগাযোগ করুন। স্কুলের নির্ধারিত এই কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও বুলিংয়ের অভিযোগ গ্রহণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপে সহায়তা করেন। সম্ভব হলে শুধু মৌখিকভাবে না জানিয়ে ইমেইল বা লিখিত অভিযোগ দিন। অভিযোগে ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা থাকলে তা এবং কী ধরনের আচরণ করা হয়েছে, সেগুলো উল্লেখ করুন। অভিযোগ জানানোর পর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার তদন্তের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান। একই সঙ্গে অভিযোগের শনাক্তকরণ নম্বর বা ‘অনলাইন অকরেন্স রিপোর্টিং সিস্টেম’ (OORS) নম্বর চাইতে পারেন। এই নম্বর পরবর্তী সময়ে অভিযোগের অগ্রগতি জানতে কাজে লাগবে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের নির্দেশনা অনুযায়ী, বুলিং বা হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সহায়তা বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। স্কুল ব্যবস্থা না নিলে কোথায় অভিযোগ করবেন স্কুলে জানানোর পরও যদি হয়রানি বন্ধ না হয়, অথবা স্কুলের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট না হন, তাহলে নিউইয়র্ক সিটি শিক্ষা বিভাগের (NYCPS) কাছে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। এ জন্য সরকারি অনলাইন পোর্টাল রয়েছে: nycenet.edu/bullyingreporting। সেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বুলিং, ভয় দেখানো, হয়রানি ও বৈষম্যের ঘটনা জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগ করার জন্য অভিভাবক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়; ঘটনাটি সম্পর্কে জানা অন্য ব্যক্তিও রিপোর্ট করতে পারেন। ফোনে অভিযোগ বা সহায়তা পেতে (718) 935-2288 নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। নিউইয়র্ক সিটি শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নম্বরে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়। এ ছাড়া RespectForAll@schools.nyc.gov ঠিকানায় ইমেইল করা যায়। চাইলে পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ জানানো সম্ভব, যদিও যোগাযোগের তথ্য দিলে কর্তৃপক্ষের পক্ষে অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো সহজ হতে পারে। অভিযোগ করার সময় যেসব প্রমাণ রাখবেন বুলিংয়ের ঘটনা ঘটলে যত দ্রুত সম্ভব তারিখ, সময়, স্থান এবং কী ঘটেছিল, তা লিখে রাখুন। সন্তানের কাছে কী বলা হয়েছে বা কীভাবে হয়রানি করা হয়েছে, তা নিজের ভাষায় নথিবদ্ধ করুন। অনলাইনে বার্তা, মন্তব্য বা গুজব ছড়ানো হলে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন। প্রাসঙ্গিক ইমেইল বা স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগের কপিও রেখে দিন। অভিযোগ পাঠানোর সময় নিজের ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানাকে অনুলিপি প্রাপক হিসেবে রাখলে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগের রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। তবে প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে শিশুকে বারবার একই ঘটনা বলতে বাধ্য করবেন না কিংবা অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াবেন না। সন্তানের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে অগ্রাধিকার দিন। স্কুলের কাছে জানতে চান, তদন্ত চলাকালে শিশুটিকে কীভাবে নিরাপদ রাখা হবে এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা অন্য সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না। শিক্ষা বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযোগকারী বা তদন্তে সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ নিষিদ্ধ। এমন কিছু ঘটলে স্কুলের কর্তৃপক্ষকে আবার জানানো উচিত। ৩১১, ৯৮৮ ও ৯১১ নম্বর কখন ব্যবহার করবেন নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বর সাধারণ সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন পরিষেবা সম্পর্কে জানতে কাজে আসে। স্কুলে বুলিংয়ের অভিযোগ জানানোর পথ খুঁজে পেতে ৩১১-এ যোগাযোগ করতে পারেন। তবে সরাসরি বুলিংয়ের অভিযোগ জানানোর জন্য শিক্ষা বিভাগের নির্ধারিত ফোন নম্বর ও অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করাই ভালো। সন্তান বুলিংয়ের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে বা তীব্র মানসিক সংকটে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ৯৮৮ নম্বরে ফোন বা খুদে বার্তা পাঠিয়ে বিনা মূল্যে, গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নেওয়া যায়। এটি জরুরি মানসিক সংকট মোকাবিলার সেবা, সাধারণ স্কুল-সংক্রান্ত অভিযোগের বিকল্প নয়। অন্যদিকে, শিশুর ওপর তাৎক্ষণিক শারীরিক হামলা, গুরুতর হুমকি বা জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ৯১১ নম্বরে ফোন করুন। নিউইয়র্কের আইন ও স্কুলের দায়িত্ব নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষার জন্য ‘ডিগনিটি ফর অল স্টুডেন্টস অ্যাক্ট’ (DASA) নামে আইন রয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষা বিভাগের নিজস্ব নীতিমালা ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি কার্যকর। স্কুলের কর্মীরা বুলিং বা হয়রানির ঘটনা দেখলে কিংবা সে সম্পর্কে জানতে পারলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবেন, এমন নির্দেশনা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মীদের এ ধরনের ঘটনা এক স্কুল দিনের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে একই সময়সীমায় তদন্ত শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অভিভাবকদের মনে রাখা দরকার, নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুল, চার্টার স্কুল ও বেসরকারি স্কুলের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া এক নয়। সরকারি স্কুলের জন্য শিক্ষা বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ও নির্ধারিত নম্বর ব্যবহার করা যায়। চার্টার বা বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়া শিশুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলের নিজস্ব অভিযোগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে। তাই অভিযোগ করার আগে সন্তান কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে, তা নিশ্চিত করুন। বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সন্তানকে দোষারোপ না করে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো। প্রয়োজনে স্কুলের বাংলা ভাষায় সহায়তা পাওয়া যায় কি না, তা জানতে চান। অভিযোগের লিখিত কপি, শনাক্তকরণ নম্বর ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। স্কুলে সন্তান নিরাপদ বোধ করছে কি না, সে বিষয়েও নিয়মিত খোঁজ রাখুন। সমস্যা চলতে থাকলে শিক্ষা বিভাগের কাছে অভিযোগের অগ্রগতি জানতে চান এবং প্রয়োজনে বিষয়টি উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যান। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস, নিউইয়র্ক সিটি ৩১১ এবং নিউইয়র্ক সিটি যুব ও কমিউনিটি উন্নয়ন বিভাগ।
সন্তান জন্মের চার দিন আগে পেনসিলভানিয়ায় গুলিতে নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারী
আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ করার প্রস্তাব ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তার নতুন আয়সীমা কার্যকর, কারা সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন?
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের টনটন শহরের বাসিন্দা ও দুই সন্তানের জননী ডেবরা মেলোর রহস্যময় নিখোঁজের ঘটনায় পেরিয়ে গেছে ২৫টিরও বেশি বছর। ২০০০ সালের ২০ জুন মাত্র ৩০ বছর বয়সে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ আড়াই দশক পরও পুলিশ ও তার পরিবার এই রহস্যের জট খুলতে পারেনি, তবে হাল ছাড়েননি ডেবরার স্বজনরা। ডেবরার ছোট বোন প্যাট্রিসিয়া হোয়াইট জানান, নিখোঁজ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সংগীতশিল্পী টিনা টার্নারের একটি কনসার্টে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেখানে ডেবরাকে বেশ অন্যমনস্ক ও বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। পর্তুগাল থেকে আসা লুইস মেলোর সাথে কৈশোরেই প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ডেবরা এবং ১৯৮৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মায়ের অনুমতি নিয়ে তাকে বিয়ে করেন। তারা দুজনে মিলে স্থানীয় একটি ‘ডানকিন ডোনাটস’-এ কাজ করতেন। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার কয়েক বছর আগে থেকে ডেবরা বেশ চুপচাপ ও বিষণ্ন হয়ে পড়েন। প্যাট্রিসিয়ার দাবি, লুইস অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং ডেবরার ফোনের কথাবার্তায় আড়ি পাততেন। এমনকি সন্তানদের নিয়ে লুইসকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও বোনকে জানিয়েছিলেন ডেবরা। ব্রিস্টল কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের হোমিসাইড ইউনিটের ডেপুটি চিফ জেসন মোহন জানান, ২০০০ সালের ২০ জুন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডানকিন ডোনাটসে কাজ করেন ডেবরা ও লুইস। এরপর বিকেল ৩টায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকায় তারা গাড়িতে করে ঘুরতে বের হন। ডাক্তারের চেম্বার থেকে ৪০০ ডলারের স্কিন ক্রিম কিনে ফেরার পথে ওয়েমাউথের রুট ১৮-তে গাড়ির ভেতর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। লুইসের দাবি অনুযায়ী, ঝগড়ার একপর্যায়ে ডেবরা গাড়ি থেকে নেমে যেতে চাইলে তিনি তাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে চলে যান। কয়েক মিনিট পর লুইস সেখানে ফিরে এসে ডেবরাকে আর খুঁজে পাননি। তবে লুইসের এই দাবির পক্ষে কোনো নিরপেক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরদিন ২১ জুন সকালে ডেবরার মেয়ের ফোন পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন প্যাট্রিসিয়া। ততক্ষণেও লুইস পুলিশে কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করেননি। পরে ওই দিনই পরিবার ও লুইস আলাদাভাবে ওয়েমাউথ পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। ২৩ জুন পুলিশ দম্পতির বাড়ি ও গাড়ি তল্লাশি করে গাড়ির ভেতর থেকে ৪০০ ডলারের স্কিন ক্রিমটি উদ্ধার করে। তবে ডেবরার হাতব্যাগ, স্বর্ণের ব্রেসলেট, গলার চেইন, সবুজ পাথরের আংটি এবং বিয়ের আংটিটি নিখোঁজ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে লুইসের দুইবার পলিগ্রাফ (মিথ্যা ধরার পরীক্ষা) টেস্ট নেওয়া হলে তিনি দুবারই অকৃতকার্য হন। পুলিশ বিমান, ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে বনাঞ্চলসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও ডেবরার কোনো চিহ্ন পায়নি। এমনকি ২০১৭ সালে এক গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টনটনের একটি স্থানে মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হলেও তা নিষ্ফল হয়। ডেপুটি চিফ মোহন জানান, এই ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড (ফাউল প্লে) ঘটেছে বলেই পুলিশের ধারণা এবং স্বামী লুইস মেলোকে এখনো সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। যদিও লুইস শুরু থেকেই স্ত্রীর নিখোঁজের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। ভৌত প্রমাণের অভাব এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তদন্ত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রহস্য উদঘাটনের আশায় ২০২২ সালে ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ এক অভিনব উদ্যোগ নেয়। অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি ও তথ্য দিয়ে তাসের (প্লেয়িং কার্ড) সেট তৈরি করে কারাগারের বন্দিদের মাঝে বিতরণ করা হয়, যাতে কেউ কোনো তথ্য জানলে সামনে আসে। সেই তাসের সেটে ‘কুইন অব ডায়মন্ডস’ কার্ডে স্থান পায় ডেবরার ছবি। ২০২৫ সালে ডেবরা নিখোঁজের ২৫ বছর পূর্তিতে টনটনের মেমোরিয়াল পার্কে এক স্মরণসভার আয়োজন করে তার পরিবার। ডেবরার বোন প্যাট্রিসিয়া এবং সাবেক ভগ্নিপতি স্টিভেন ডিমৌরা জানান, তারা কেবল জানতে চান ডেবরার সাথে আসলে কী ঘটেছিল এবং তিনি কোথায় আছেন। পুলিশও বর্তমানে ২০০০ সালে ডেবরা ও লুইসের সাথে কাজ করা সাবেক সহকর্মীদের খুঁজে বের করে নতুন তথ্যের সন্ধান চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘিরে চাপে ব্যবসা ও পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে আজ ডাকঘর বন্ধ, চিঠি ও পার্সেল পাঠাতে গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হবে