সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি

নিহত দুই শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটি

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৫, ২০২৬ ০:২৯
জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি | ছবি: সংগৃহীত
জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা ব্রিস্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। 

 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এর মধ্যেই থাকবেন নাহিদা ও জামিল, যারা উভয়েই ২৭ বছর বয়সী ডক্টরাল শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

প্রতিটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শুরুতে তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। এছাড়া শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ডক্টরাল ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে তাদের সম্মানে বিশেষভাবে দুটি খালি চেয়ার রাখা হবে, যেখানে একাডেমিক পোশাকও সাজানো থাকবে।

 

ইউএসএফ জানায়, চলতি বছর মোট ৩৫৩ জন শিক্ষার্থী ডক্টরেট ডিগ্রি পাচ্ছেন। এর মধ্যে নাহিদা ব্রিস্টি ও জামিল লিমনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সম্মানসূচকভাবে।

 

গত ১৬ এপ্রিল শেষবারের মতো তাদের জীবিত দেখা যায়। পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে তারা নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে ভারী ব্যাগের ভেতর থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

এর দুই দিন পর একই এলাকার ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের মধ্যে থেকে এক কায়াকার মানবদেহের অবশিষ্টাংশ খুঁজে পান। পরে হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার নিশ্চিত করেন, সেটি নাহিদা ব্রিস্টির মরদেহ।

 

এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়াহর বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে হিলসবোরো কাউন্টি কারাগারে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের
দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের, ছবি ঘিরে বিস্ময়

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রত্যন্ত সাউথ জর্জিয়া দ্বীপে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কিং পেঙ্গুইনের ভিড়ে বিরল একটি হলুদ পেঙ্গুইনের ছবি তুলেছিলেন বেলজিয়ামের বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তোলা ছবিগুলো ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের কালো, সাদা ও ধূসর পালকের পরিবর্তে পাখিটির শরীরে ছিল উজ্জ্বল হলুদ ও ক্রিম রঙের পালক। বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরের রঞ্জক পদার্থের অস্বাভাবিকতার কারণে এমন বিরল রঙের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।   ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামসের নিজস্ব বিবরণ এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দুই মাসের একটি বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁর দল দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের স্যালিসবারি প্লেন এলাকায় পৌঁছায়। দুর্গম এই উপকূলীয় অঞ্চল কিং পেঙ্গুইনের অন্যতম বৃহৎ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।   স্যালিসবারি প্লেনের প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত উপকূলীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক কিং পেঙ্গুইন বসবাস করে। সেখানে পেঙ্গুইনের পাশাপাশি হাজার হাজার ফার সিল ও এলিফ্যান্ট সিলেরও দেখা মেলে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, প্রবল স্রোত এবং বন্যপ্রাণীর ঘন উপস্থিতির কারণে এলাকাটিতে নৌকা ভেড়ানো ও নিরাপদে চলাচল করা বেশ কঠিন।   অ্যাডামস জানিয়েছেন, অভিযানের দিন তাঁরা একটি ছোট নৌকায় করে উপকূলে পৌঁছান। নৌকা থেকে খাবার, তাঁবু ও নিরাপত্তাসামগ্রী নামানোর সময় হঠাৎ পানির মধ্যে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রঙের একটি পেঙ্গুইন দেখতে পান তিনি। প্রথমে বিষয়টি তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না। কাছাকাছি আসার পর বুঝতে পারেন, পাখিটির শরীরে সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের পরিচিত কালো পালক নেই।   বিরল পেঙ্গুইনটিকে দেখতে পেয়েই ক্যামেরা হাতে নেন অ্যাডামস। সৌভাগ্যক্রমে পাখিটি তাঁদের কাছেই তীরে উঠে আসে। কিছুক্ষণ সৈকতে ঘোরাফেরা করার পর অন্য পেঙ্গুইনদের দলে মিশে যায়। এই অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি ছবি তুলতে সক্ষম হন তিনি।   পরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অ্যাডামস জানান, পেঙ্গুইনটির ছবি তোলার জন্য তিনি মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট সময় পেয়েছিলেন। বিরল প্রাণীটি কাছে চলে আসায় কোনো বাধা ছাড়াই ছবি তোলা সম্ভব হয়েছিল। এত বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে অস্বাভাবিক রঙের একটি পাখিকে আলাদাভাবে দেখতে পাওয়ার ঘটনাকে তিনি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।   সাধারণত কিং পেঙ্গুইনের মাথা ও পিঠের বড় অংশ কালো বা ধূসর রঙের হয়। শরীরের সামনের অংশ সাদা এবং মাথা ও ঘাড়ের কাছে উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা রঙের উপস্থিতি থাকে। কিন্তু অ্যাডামসের দেখা পেঙ্গুইনটির কালো অংশগুলো ছিল হলুদাভ কিংবা ক্রিম রঙের। ফলে অন্যান্য পেঙ্গুইনের ভিড়ে সেটি সহজেই চোখে পড়ছিল।   বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীর শরীরে বিভিন্ন রঙ তৈরির পেছনে একাধিক ধরনের রঞ্জক পদার্থ কাজ করে। এর মধ্যে মেলানিন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রাণীর পালক, ত্বক ও লোমের কালো এবং বাদামি রঙ তৈরিতে মেলানিনের ভূমিকা রয়েছে। কোনো জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন বা বণ্টনে সমস্যা হলে প্রাণীর স্বাভাবিক রঙ বদলে যেতে পারে।   বিরল হলুদ পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রেও এমন একটি পরিবর্তন ঘটেছে বলে ধারণা করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক গবেষক এটিকে লিউসিজম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিউসিজম হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রাণীর শরীরের কিছু অংশে বা পুরো শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জকের উপস্থিতি কমে যায়। এর ফলে প্রাণীর গায়ের রঙ অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে, সাদা কিংবা অন্য রঙের দেখা যেতে পারে।   তবে হলুদ পেঙ্গুইনটির রঙের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছু মতভিন্নতা রয়েছে। লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী ডি বোয়েরসমা পাখিটির রঙকে লিউসিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কেভিন ম্যাকগ্রো জানান, পাখিটির পালকে মেলানিনের উপস্থিতি ঠিক কতটা রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।   বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিং পেঙ্গুইনের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই হলুদ রঞ্জক পদার্থ থাকে। বিরল পেঙ্গুইনটির শরীরে কালো রঙের জন্য দায়ী মেলানিনের ঘাটতি হওয়ায় সেই হলুদ রঙ আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে। তবে শুধু ছবি দেখে জিনগত পরিবর্তনের সঠিক ধরন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।   এ ধরনের অস্বাভাবিক রঙ প্রাণীর বেঁচে থাকার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত পেঙ্গুইনের গায়ের কালো ও সাদা রঙ পানির মধ্যে আত্মরক্ষায় সহায়তা করে। ওপর থেকে দেখলে পিঠের গাঢ় রঙ গভীর পানির সঙ্গে মিশে যায়। আবার নিচ থেকে দেখলে সাদা পেট পানির ওপরের আলোর সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে। এতে শিকারি প্রাণীর চোখ এড়ানো তুলনামূলক সহজ হয়।   অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে রঙের পেঙ্গুইন অন্যদের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। ফলে শিকারি প্রাণীর কাছে ধরা পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মনে করেন গবেষকেরা। একই সঙ্গে পাখির স্বাভাবিক রঙ সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অ্যাডামসের তোলা ওই পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রে এসব কারণে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   বিরল রঙের পেঙ্গুইন এর আগেও বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। তবে সম্পূর্ণ হলুদাভ চেহারার কিং পেঙ্গুইনের ছবি অত্যন্ত বিরল। ২০১৯ সালে সাউথ জর্জিয়া দ্বীপেই অন্য একটি অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে রঙের কিং পেঙ্গুইনের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে অ্যাডামসের দেখা পাখিটিই পৃথিবীর প্রথম অস্বাভাবিক রঙের পেঙ্গুইন, এমন দাবি সঠিক নয়।   ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ভেস অ্যাডামস ছবিগুলো প্রকাশ করার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনায় সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন এবং লাইভ সায়েন্স পেঙ্গুইনটির ব্যতিক্রমী রঙের বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   অ্যাডামসের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন একটি পেঙ্গুইন আবার দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তবে তাঁর উল্লেখ করা লাখে বা মিলিয়নে একটি দেখার সম্ভাবনা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক হিসাব নয়, বরং বিরল অভিজ্ঞতাটি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি অনুমান।   ২০১৯ সালে ধারণ করা এবং ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হওয়া হলুদ পেঙ্গুইনটির ছবিগুলো এখনো বন্যপ্রাণীর অস্বাভাবিক রঙের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একই প্রজাতির বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে একটি পাখির এমন ব্যতিক্রমী চেহারা প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং প্রাণীর শরীরে জিনগত পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম পিএইচডি অর্জন করলেন ঢাবির নাদিয়া তাসনিম

যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম পিএইচডি অর্জন করলেন ঢাবির নাদিয়া তাসনিম

টেক্সাসে মেয়রের স্বামীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই, মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদ

টেক্সাসে মেয়রের স্বামীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই, মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদ

নিউইয়র্কে ফেরি ভাড়া বাড়ছে

নিউইয়র্কে ফেরি ভাড়া বাড়ছে ১৯ অক্টোবর, এক যাত্রায় খরচ হবে ৫ ডলার

কুইন্সে পার্কিং টিকিট এড়ানোর উপায়, জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকার ড্রাইভারদের জরুরি গাইড
কুইন্সে পার্কিং টিকিট এড়ানোর উপায়, জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকার ড্রাইভারদের জরুরি গাইড

নিউইয়র্কের কুইন্সে গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে সামান্য ভুলেই গুনতে হতে পারে ৬৫ থেকে ১১৫ ডলার বা তারও বেশি জরিমানা। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, এলমহার্স্ট, উডসাইড ও ফ্লাশিংয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় পার্কিং সাইন, মিটার এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নিয়ম না বুঝে গাড়ি রাখলে টিকিট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এবং গাড়ি টো করার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।   নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এনওয়াইসি ডিওটি), ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, গাড়ি পার্ক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সাইনবোর্ড ভালোভাবে পড়াই সবচেয়ে জরুরি। একই রাস্তায় এক পাশে পার্কিংয়ের অনুমতি থাকলেও অন্য পাশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই জায়গার পার্কিং নিয়মও বদলে যেতে পারে।   কুইন্সে পার্কিং টিকিটের অন্যতম পরিচিত কারণ অল্টারনেট সাইড পার্কিং বা এএসপি। মূলত স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে রাস্তার এক পাশে গাড়ি রাখা নিষিদ্ধ থাকে। অনেক আবাসিক এলাকায় সপ্তাহে একাধিক দিন এই নিয়ম কার্যকর হলেও সব রাস্তার সময়সূচি এক নয়। তাই নিজের এলাকার নিয়ম মনে রাখার পাশাপাশি সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা দিন ও সময় অনুসরণ করতে হবে।   এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের গাড়ি রাস্তা পরিষ্কার করে চলে গেলেও সাইনে উল্লেখ করা নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। অর্থাৎ রাস্তা পরিষ্কার হয়ে গেছে ভেবে আগে গাড়ি পার্ক করলে টিকিট পাওয়া যেতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, অল্টারনেট সাইড পার্কিং লঙ্ঘনের জরিমানা ৬৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   বিশেষ ছুটির দিন, ধর্মীয় উৎসব, তুষারপাত কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে কখনো কখনো অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাময়িক স্থগিত করা হয়। তবে এএসপি সাসপেন্ড হওয়ার অর্থ সব ধরনের পার্কিং ফ্রি হয়ে যাওয়া নয়। ওই দিনেও সাধারণত মিটার পেমেন্ট, ফায়ার হাইড্র্যান্ট, বাস স্টপ, নো পার্কিং এবং নো স্ট্যান্ডিংয়ের নিয়ম কার্যকর থাকে। অবশ্য নির্দিষ্ট বড় সরকারি ছুটির দিনে মিটার পেমেন্টের নিয়মেও ছাড় থাকতে পারে। তাই ছুটির দিনেও গাড়ি রাখার আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।   কুইন্সে আরেকটি ব্যয়বহুল ভুল হলো ফায়ার হাইড্র্যান্টের খুব কাছে গাড়ি রাখা। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফায়ার হাইড্র্যান্টের উভয় পাশে ১৫ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখতে হয়। এই নিয়ম ভাঙলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। তবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটি সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। চালক নিজে ড্রাইভিং সিটে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক গাড়ি সরাতে প্রস্তুত থাকলে যাত্রীবাহী গাড়ি হাইড্র্যান্টের পাশে সাময়িক দাঁড়াতে পারে। গাড়ি রেখে চলে যাওয়ার অনুমতি এই ব্যতিক্রমে নেই।   মিটার পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে ড্রাইভারদের জন্য সুবিধাজনক একটি ব্যবস্থা হলো পার্কএনওয়াইসি অ্যাপ। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোতেই এই অ্যাপের মাধ্যমে রাস্তার মিটার পার্কিংয়ের পেমেন্ট করা যায়। এতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পার্কিং সেশন চালু করা, কত সময় বাকি আছে দেখা এবং সময় শেষ হওয়ার আগে নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ফলে প্রতিবার মিটারের কাছে গিয়ে পেমেন্ট করতে হয় না।   তবে অ্যাপ ব্যবহার করলেই ইচ্ছামতো সময় বাড়ানো যাবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট পার্কিং জোনে সাইনবোর্ডে যতক্ষণ গাড়ি রাখার অনুমতি রয়েছে, সর্বোচ্চ ততক্ষণই পেমেন্ট করা যাবে। শুরুতে কম সময়ের পেমেন্ট করলে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু সর্বোচ্চ সময় শেষ হলে অ্যাপ দিয়ে একই জায়গায় পার্কিং চালিয়ে যাওয়া বৈধ নয়। এমনকি পেমেন্ট করা থাকলেও অন্য কোনো পার্কিং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে টিকিট হতে পারে।   বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটসের রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ, ৭৪ স্ট্রিট, জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ এবং কুইন্সের অন্যান্য বাণিজ্যিক এলাকায় গাড়ি রাখার সময় মিটার ও পার্কিং সাইন ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। আগে কোনো জায়গায় ফ্রি পার্কিং পাওয়া গেলেও এখনো সেখানে একই নিয়ম রয়েছে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রাস্তার মিটার ব্যবস্থা, পার্কিংয়ের সময়সীমা কিংবা নির্দিষ্ট গাড়ির জন্য সংরক্ষিত জায়গার নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে।   অনেক ড্রাইভার নো পার্কিং, নো স্ট্যান্ডিং ও নো স্টপিং সাইনের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। অথচ তিনটির নিয়ম আলাদা। নো পার্কিং এলাকায় সাধারণত যাত্রী ওঠানো বা নামানো এবং মালামাল লোড বা আনলোড করার জন্য সাময়িক দাঁড়ানো যায়। নো স্ট্যান্ডিং এলাকায় শুধু যাত্রী ওঠানো বা নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দাঁড়ানোর অনুমতি রয়েছে। সেখানে মালামাল তোলা বা নামানোর জন্য দাঁড়ানো যায় না। আর নো স্টপিং এলাকায় সাধারণভাবে যাত্রী ওঠানো, নামানো কিংবা মালামাল লোড করার জন্যও গাড়ি থামানো নিষিদ্ধ।   এ ক্ষেত্রে গাড়ির ভেতরে ড্রাইভার বসে আছেন কি না, সেটি সব সময় জরিমানা এড়ানোর ভিত্তি নয়। কোনো জায়গায় নো স্ট্যান্ডিং কার্যকর থাকলে সেখানে যাত্রীর অপেক্ষায় গাড়িতে বসে থাকলেও টিকিট হতে পারে। একইভাবে রাস্তার পাশে হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে রাখলেই অবৈধ পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ নো স্ট্যান্ডিং বিধি লঙ্ঘনের জরিমানা ১১৫ ডলার।   বাস স্টপ, বাস লেন ও বাইক লেনের নিয়মও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত বাস লেনে কিংবা বাইক লেনের ভেতরে গাড়ি পার্ক করলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। ড্রাইভওয়ের সামনে গাড়ি রেখে অন্যের প্রবেশপথ আটকে দিলেও জরিমানা হতে পারে ৯৫ ডলার। রাস্তার মাঝখানে অন্য গাড়ির পাশে ডাবল পার্কিং করাও সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। কয়েক মিনিটের জন্য দোকানে প্রবেশ করা কিংবা কাউকে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা নিরাপদ নয়।   তবে ড্রাইভারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পাঁচ মিনিটের গ্রেস পিরিয়ড। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং মিটার, পার্কএনওয়াইসি সেশন এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর পাঁচ মিনিটের ছাড় রয়েছে। অর্থাৎ এসব নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সময় শেষ হওয়ার পর প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে শুধু ওই সময়সীমা অতিক্রমের কারণে টিকিট দেওয়া যায় না। তবে এই ছাড় ফায়ার হাইড্র্যান্ট, নো স্ট্যান্ডিং কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   কুইন্সের ব্যস্ত এলাকায় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগে পার্কিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে। স্পটহিরো ও পার্কহুইজের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আশপাশের পার্কিং গ্যারেজের অবস্থান, সম্ভাব্য খরচ এবং আগাম বুকিংয়ের সুবিধা দেখা যায়। তবে গ্যারেজের রেট, অতিরিক্ত চার্জ এবং গাড়ি প্রবেশ ও বের করার সময়সূচি আগে যাচাই করা উচিত। অনেক সময় কাছাকাছি অবৈধ জায়গায় গাড়ি রাখার চেয়ে নির্ধারিত গ্যারেজে পার্ক করা কম ঝুঁকিপূর্ণ।   পার্কিং টিকিট পেয়েও ড্রাইভারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। কোনো টিকিট ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের মাধ্যমে সেটি চ্যালেঞ্জ করা যায়। টিকিট ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে হিয়ারিংয়ের আবেদন করলে বিলম্বজনিত অতিরিক্ত জরিমানা এড়ানো সম্ভব। অনলাইনে, অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপে, ডাকযোগে অথবা সরাসরি নির্ধারিত অফিসে গিয়ে আপত্তি জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আবেদন করলেই টিকিট বাতিল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   এ কারণে ভুল টিকিটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে চাইলে ঘটনাস্থলের পার্কিং সাইন, রাস্তার অবস্থান, মিটার পেমেন্টের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা ভালো। বিশেষ করে সাইন অস্পষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা নির্দিষ্ট পার্কিং নিয়ম নিয়ে বিরোধ থাকলে এসব তথ্য কাজে আসতে পারে। একই সঙ্গে টিকিটের তারিখ, সময়, ভায়োলেশন কোড ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।   নিউইয়র্ক সিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পার্কিং টিকিটের জরিমানা পরিশোধ বা আপত্তি না জানালে অতিরিক্ত পেনাল্টি যোগ হতে পারে। বকেয়া জরিমানা দীর্ঘদিন জমে থাকলে গাড়িতে বুট লাগানো কিংবা টো করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। তাই টিকিট পাওয়ার পর সেটি উপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।   জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকা পর্যন্ত কুইন্সের যেকোনো এলাকায় গাড়ি পার্ক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস হলো রাস্তার সাইন ভালোভাবে পড়া, নির্ধারিত মিটার পেমেন্ট করা এবং পার্কিংয়ের সময়সীমা মেনে চলা। অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাসপেনশনের সর্বশেষ তথ্য এনওয়াইসি ৩১১ অথবা সিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে যাচাই করা যায়। পার্কিং নিয়ম এলাকা ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আগের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে প্রতিবার পার্কিংয়ের আগে বর্তমান নিয়ম নিশ্চিত করাই জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৯:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫

যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫

ফ্লোরিডার সুইমিং পুলে সাত বছরের শিশুর মৃ ত্যু

চোখের সামনে শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও উদ্ধার করেননি চিকিৎসক, সাহায্যে পাঠান অন্য শিশুদের

ফ্লোরিডায় মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়াল উদ্ধার

বিড়ালদের ‘অশুভ আত্মা’ ভেবে জীবন্ত পুঁতে রাখার অভিযোগে গ্রে প্তা র এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শিশুদের গ্রিন কার্ডের যোগ্যতা
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে অভিবাসী শিশুদের পূরণ করতে হবে ছয়টি শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ একটি অভিবাসন সুবিধার আওতায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্য হতে অভিবাসী শিশুদের ছয়টি শর্ত পূরণ করতে হবে। এই সুবিধার নাম স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল (এসআইজে) মর্যাদা। এটি এমন কিছু বিদেশি শিশুর জন্য, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে এবং বাবা-মায়ের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ কিংবা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এসআইজে মর্যাদা পেলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ পেতে পারে। তবে এই মর্যাদা পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, আবেদনকারীর বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং রাজ্য আদালতের আদেশসহ কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হয়। পাশাপাশি, আবেদনটি প্রকৃতপক্ষে শিশুকে পারিবারিক দুর্ব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেয় কর্তৃপক্ষ।   গ্রিন কার্ডের বিশেষ সুযোগ পেতে ছয়টি শর্ত   এসআইজে মর্যাদার জন্য আবেদন করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:   1. বয়স ২১ বছরের কম হতে হবে: ইউএসসিআইএসের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স ২১ বছরের নিচে থাকতে হবে। তবে রাজ্যভেদে শিশু বা কিশোরের বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার ১৮ বছর বয়সেই শেষ হয়ে যায়। তাই সময়মতো আদালতের আদেশ সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ।   2. যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে হবে: আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময়—দুই ক্ষেত্রেই আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। বিদেশে অবস্থান করে এই মর্যাদার জন্য সরাসরি আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায় না।   3. অবিবাহিত থাকতে হবে: আবেদন করার সময় এবং আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে অবিবাহিত থাকতে হবে। আগে বিয়ে হয়ে থাকলেও বিয়ে বাতিল, বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামী কিংবা স্ত্রীর মৃত্যুর মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হতে পারে।   4. যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য আদালতের প্রয়োজনীয় আদেশ থাকতে হবে: সংশ্লিষ্ট শিশু বা কিশোরকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপযুক্ত রাজ্য আদালতের আদেশ থাকতে হবে। সেই আদেশে শিশুটি আদালতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে অথবা কোনো ব্যক্তি, সংস্থা কিংবা রাজ্য কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি, বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনরায় বসবাস করা কেন সম্ভব নয় এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়া কেন শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী, তা নির্ধারণ করতে হবে।   5. ইউএসসিআইএসের সম্মতি পেতে হবে: কেবল আদালতের আদেশ থাকলেই এসআইজে মর্যাদা নিশ্চিত হয় না। ইউএসসিআইএসকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে আবেদনটি প্রকৃত এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাবা-মায়ের দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ বা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতি থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া।   6. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের লিখিত সম্মতি লাগবে: যেসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) অধীনে শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তরের (ওআরআর) হেফাজতে রয়েছে বা আগে ছিল, তাদের সবার জন্য এই শর্ত একইভাবে প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ওই দপ্তরের হেফাজতে থাকা অবস্থায় আদালতের আদেশের মাধ্যমে শিশুর হেফাজত বা অবস্থানের ব্যবস্থা পরিবর্তিত হলে, এইচএইচএসের লিখিত সম্মতি জমা দিতে হবে।   আদালতের আদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ   এসআইজে মর্যাদার আবেদনে রাজ্য আদালতের আদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিশুটি আদালতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে কি না, অথবা কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বা সরকারি সংস্থার হেফাজতে আছে কি না, তা স্পষ্ট থাকতে হয়।   একই সঙ্গে আদালতকে নির্ধারণ করতে হয়, বাবা-মায়ের একজন বা উভয়ের সঙ্গে শিশুটির পুনরায় বসবাস করা কেন সম্ভব নয়। এর কারণ হিসেবে দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ কিংবা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতি থাকতে পারে। শিশুটিকে তার নিজ দেশের নাগরিকত্বের দেশ অথবা সর্বশেষ স্থায়ীভাবে বসবাসের দেশে ফেরত পাঠানো তার সর্বোত্তম স্বার্থে হবে না—এ সিদ্ধান্তও আদালতের আদেশে থাকতে হবে।   এসব বিষয় শুধু আদেশে উল্লেখ থাকলেই যথেষ্ট নয়। সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ঘটনার ভিত্তি থাকতে হয়। ইউএসসিআইএস আদালতের আদেশ ও সহায়ক নথি পর্যালোচনা করে দেখে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে কি না।   এসআইজে মর্যাদা পেলেই কি গ্রিন কার্ড মিলবে   এসআইজে মর্যাদার জন্য সাধারণত ফরম আই-৩৬০ জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্মসংস্থানভিত্তিক চতুর্থ অগ্রাধিকার বা ইবি-৪ অভিবাসন শ্রেণির আওতায় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন।   তবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আলাদা আবেদন, ফরম আই-৪৮৫, জমা দিতে হয়। ইবি-৪ শ্রেণিতে অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তার ওপর গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সময় নির্ভর করতে পারে। ফলে এসআইজে আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অতিরিক্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়।   এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এমন শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া, যাদের পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়া নিরাপদ বা উপযুক্ত নয়। তাই শুধু বয়স কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের শর্ত পূরণ করলেই হবে না; আদালতের আদেশ, প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদন করতে আগ্রহী পরিবার, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত এবং নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যভেদে শিশু আদালতের এখতিয়ার ও প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করাই উপযুক্ত।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৭:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিসার আবেদনে নতুন ফি

এইচ-১বি ও এল-১ ভিসায় নতুন নিয়ম, নির্দিষ্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে বায়োমেট্রিক ফি

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণসংকট ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদে ফেলছে, এখনই পদক্ষেপের আহ্বান

লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে এক শিক্ষাবর্ষেই ছয় হাজারের বেশি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলে ৬ হাজারের বেশি মারামারি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় অভিভাবকেরা

0 Comments