সেনাসদস্যের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় নিবন্ধন করতে গিয়ে সেনাঘাঁটিতেই আইসিইর হাতে আটক নববধূ
মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক এবং তার স্ত্রী অ্যানি রামোসের বিয়ের বয়স তখন মাত্র দুই দিন। নববধূর সামরিক আইডি সংগ্রহ ও সেনা পরিবারের সুবিধাগুলো চালুর উদ্দেশ্যে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোল্ক সেনাঘাঁটিতে গিয়েছিলেন তারা। অ্যানি পেশায় একজন শিক্ষিকা, যিনি শিশু বয়স থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
ভিজিটর সেন্টারে ম্যাথিউয়ের সামরিক আইডি, বিয়ের সনদ ও অ্যানির হন্ডুরাসের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর তারা পরবর্তী ধাপের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এর বদলে সেখানে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা হাজির হন। এরপর পরিবারের চোখের সামনেই অ্যানিকে হাতকড়া পরিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা যায়, অ্যানির বয়স যখন মাত্র ২০ মাস, তখন তার পরিবার একটি ইমিগ্রেশন শুনানিতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়। মূলত সেই কারণেই তখন শিশু অ্যানির বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নির্দেশ বা রিমুভাল অর্ডার জারি হয়েছিল। যদিও তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং আইনি বৈধতা পেতে তারা আইনজীবীর মাধ্যমেও চেষ্টা করছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামরিক পরিবারের সদস্যদের প্রতি নমনীয়তা দেখানোর বিশেষ নীতি বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাদের এই বিপদে পড়তে হয়। আটকের পাঁচ দিন পর আইসিই অ্যানিকে মুক্তি দিলেও, তাকে পায়ে একটি জিপিএস মনিটর পরিয়ে পাঠানো হয়েছে। শিশু বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের দেশ ভাবা অ্যানি এখন কেবল একটু মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর (CIA) সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড রাশ সরকারি তহবিল তছরুপের কথা স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে ওয়্যার ফ্রড বা তারবার্তায় জালিয়াতির একটি অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। ভুয়া গোপন প্রজেক্টের নামে সরকারের প্রায় ২০ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়ে ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ সোনার বার কিনেছিলেন তিনি। আদালতের কাছে দোষ স্বীকারের চুক্তি অনুযায়ী, রাশ এখন অন্তত ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার সমমূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২৯৮টি সোনার বার, ফ্লোরিডায় ৪টি বিলাসবহুল বাড়ি, দুটি বিএমডব্লিউ গাড়ি এবং ৩৫টি দামি ঘড়ি। এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, রাশ একটি ভুয়া 'ক্লাসিফায়েড প্রোগ্রাম' বা গোপন প্রকল্পের গল্প সাজিয়েছিলেন। এরপর একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে সরকারি তহবিলের ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার সরিয়ে নেন এবং তা দিয়ে ফ্লোরিডার পাম বিচ ও হোব সাউন্ড এলাকায় চারটি বাড়ি কেনেন, যা তিনি পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। অন্যদিকে, সোনার বারগুলো কেনার জন্য তিনি ঠিকাদারদের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা একটি ভুয়া 'সংবেদনশীল সরকারি কার্যক্রম'-এর কথা বলেছিলেন। গত মে মাসে ডেভিড রাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এফবিআই (FBI) এজেন্টরা ৪০ মিলিয়ন বা চার কোটি ডলারের সোনার বার, ২০ লাখ ডলার নগদ অর্থ এবং বিলাসবহুল ঘড়িগুলো উদ্ধার করে। মূলত সিআইএ-এর অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়টি ধরা পড়ার পর তারা বিষয়টি এফবিআইকে জানায়। শুনানিকালে সরকারি আইনজীবীরা রাশকে একজন 'চরম প্রতারক' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কারণ, তিনি নিজের প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের কাছে পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যাচার করেছিলেন এবং নিজের অভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এই বিশাল জালিয়াতির ছক কষেছিলেন।
ফ্লোরিডায় একই দোকান থেকে ১৮ বার চুরি, শেষবার গিয়ে ধরা পড়লেন নারী
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে এক বছরে নিষিদ্ধ প্রায় ১২ হাজার বই, বাদ পড়েনি বিশ্বখ্যাত ক্ল্যাসিকও
নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির পাহাড়ি গ্রামে, ৬৫ হাজার ডলারের বাড়িতে নতুন জীবন মার্কিন দম্পতির
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে প্রকাশ্য দিবালোকে হোসে মার্সেডিজ নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম করেছে ছিনতাইকারীরা। শুক্রবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে নরউড এলাকার রোচ্যাম্বো অ্যাভিনিউ এবং ইস্ট ২০৮ স্ট্রিটে এই ঘটনা ঘটে। মার্সেডিজ যখন তার গাড়ির ডিকি থেকে জিনিসপত্র বের করছিলেন, তখন ই-বাইকে করে আসা দুই ছিনতাইকারী তার গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তারা ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে সাতবার ছুরিকাঘাত করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ফুটপাতে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই নির্মম হামলার সাথে জড়িত দুই অভিযুক্তই ডোমিনিকান রিপাবলিক থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ২৫ বছর বয়সী ডি'অ্যাঞ্জেলো ক্যারাবালোকে হামলাকারী এবং ২৪ বছর বয়সী স্নাইডার মেজিয়াকে ই-বাইক চালক হিসেবে শনাক্ত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, মেজিয়া ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এবং ক্যারাবালো ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল। বর্ডার পেট্রোল তাদের আটক করলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়। এমনকি অতীতে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং হত্যার হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইসিই (ICE)-এর নির্দেশিকা উপেক্ষা করে তাদের জামিনে মুক্ত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিনক্টে কর্মরত এই কর্মকর্তাকে জ্যাকোবি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। গত সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি উপস্থিত সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে থাম্বস আপ দেখিয়ে তার সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এবং এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ। এদিকে, অপরাধীদের বারবার ছেড়ে দেওয়ার নিয়মে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহত পুলিশ কর্মকর্তার চাচা রিকার্ডো মার্সেডিজ। তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধীদের ধরে ঠিকই, কিন্তু বিচার ব্যবস্থা তাদের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় আচরণ করে পুনরায় রাস্তায় ছেড়ে দিচ্ছে। বিচার ব্যবস্থার এই দুর্বলতার দ্রুত অবসান এবং অপরাধীদের প্রতি আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে হ ত্যার পর গর্ভ থেকে অনাগত সন্তান চুরি, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন
দুই দেশের পাসপোর্ট আছে? যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে যে নিয়ম ভুললেই বিপত্তি
নিউইয়র্কের ফরেস্ট হিলসে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বাড়ি আগামী ২৩ অক্টোবর নিলামে উঠতে যাচ্ছে। বাড়িটির মালিক দুই ভাই এডুয়ার্ড ও আরকাডি ব্যাঙ্গিয়েভ, যারা একসময় ৭ কোটি ডলারের বিশাল আন্তর্জাতিক জাল নোট চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন। আড়াই মিলিয়ন বা প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের এই বাড়িটির নিলাম শুরু হবে ৯ লাখ ডলার বা প্রায় ৯ কোটি টাকা থেকে। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে ভাইরা বাড়িটি যে দামে কিনেছিলেন, এটি তার চেয়ে মাত্র ৫০ হাজার ডলার বেশি। ১৯৩০ সালে নির্মিত ৩,৫৭২ বর্গফুটের এই দোতলা বাড়িটিতে রয়েছে পাঁচটি বেডরুম, সাড়ে চারটি বাথরুম, একটি ঢাকা বারান্দা, সনা এবং দুটি গাড়ি রাখার গ্যারেজ। এছাড়াও এর বেসমেন্টে অতিরিক্ত একটি বেডরুম ও বাথরুম রয়েছে। প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর অবস্থিত এই সম্পত্তিটি ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অধীনে 'যেমন আছে তেমন' বা 'অ্যাজ-ইজ' শর্তে বিক্রি করা হবে। বাড়িটির পেছনে রয়েছে জালিয়াতি ও অপরাধের এক দীর্ঘ ইতিহাস। ২০০৩ সালে ব্যাঙ্গিয়েভ ভাইরা ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বাড়িটি কেনেন। ২০০৪ সাল থেকে তারা জাল নোট তৈরি ও বিতরণের এক বিশাল চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এসব উচ্চমানের জাল নোট যন্ত্রপাতি বহনকারী শিপিং কন্টেইনারে লুকিয়ে পাচার করা হতো। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, তাদের এই চক্র প্রতি তিন মাসে প্রায় ৩০ লাখ ডলারের জাল নোট যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসত এবং বিশ্বব্যাপী ৮ কোটি ডলারেরও বেশি জাল নোট ধরা পড়েছিল বা ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ভাইদের লং আইল্যান্ডে একটি গয়নার দোকান এবং ম্যানহাটনে সোনার ব্যবসা ছিল, যা দিয়ে তারা এই জাল নোট চক্রের অর্থায়ন করতেন। ২০১৫ সালে তারা অপরাধ স্বীকার করেন এবং তাদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তাদের এই অপরাধের সূত্র ধরেই ফরেস্ট হিলসের বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবে বাড়িটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলেছে। এর আগে ১০ লাখ ডলারের একটি আলাদা গয়না জালিয়াতির মামলাতেও বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ভাইদের পাশাপাশি তাদের বোন ইলানা এবং এডুয়ার্ডের স্ত্রী ইরিনাও এই বাড়ির মালিকানার দাবিদার ছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত সরকারের অনুকূলে বাড়ির দুই-তৃতীয়াংশ মালিকানা রায় দেয় এবং অবশেষে এটি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ১১ ও ১৮ অক্টোবর বাড়িটি পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং নিলামে অংশ নিতে হলে দেড় লাখ ডলার আমানত জমা দিতে হবে।
জর্জিয়ায় ‘আমাদ (মামু) মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনাল ১১ অক্টোবর, সবাইকে আমন্ত্রণ
মাত্র ১৬ বছরেই ব্যবসা শুরু করে মাসে ২৫ হাজার ডলার আয় মার্কিন কিশোরের