আইআরএসের নতুন প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অভিবাসীরা পাবেন না ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অনিয়মিত অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিদের ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা পাওয়া ঠেকাতে নতুন বিধিমালার প্রস্তাব করেছে। ১৯ আগস্ট মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। প্রস্তাবটি শিশু ট্যাক্স ক্রেডিট, দত্তক গ্রহণ ট্যাক্স ক্রেডিট, অর্জিত আয় ট্যাক্স ক্রেডিট এবং আমেরিকান সুযোগ ট্যাক্স ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় এসব ট্যাক্স ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। কোনো করদাতার পাওনা ফেডারেল ট্যাক্সের চেয়ে ট্যাক্স ক্রেডিটের পরিমাণ বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার যে সুযোগ থাকে, সেটিই ফেরতযোগ্য অংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বলেছে, এই ফেরতযোগ্য অংশকে ফেডারেল জনসুবিধা হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়মের মাধ্যমে ফেডারেল আইনে যেসব অনিয়মিত অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য বিদেশি এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট থেকে বিরত রাখা হবে। ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইনের প্রয়োগ জোরদার করার অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় এবং যোগ্য বিদেশি নাগরিকরা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নির্দিষ্ট চারটি ব্যক্তিগত আয়কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
তবে যেসব করদাতা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য নন, তারা নিজেদের ফেডারেল আয়কর দায় কমাতে ট্যাক্স ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ প্রস্তাবিত নিয়মে নির্দিষ্ট ট্যাক্স ক্রেডিটের পুরো সুবিধা বাতিল করার কথা বলা হয়নি; বরং যোগ্য নন এমন ব্যক্তিদের জন্য ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে প্রায় ২ লাখ থেকে ৭ লাখ করদাতা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন। এর মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন, যারা ফেরত পাওয়া অর্থ করবহির্ভূত দায় পরিশোধে ব্যবহার করতে পারতেন অথবা ফেডারেল করের দায়ের বিপরীতে তা সমন্বয় করতে পারতেন।
সরকারি হিসাবে, প্রস্তাবিত নিয়মের ফলে ৭০ কোটি থেকে ২৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত অযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট বন্ধ হতে পারে। তবে এই নিয়মের মাধ্যমে করদাতাদের অর্থ ঠিক কতটা সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার কাছে নেই।
প্রস্তাবিত বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, এ বিষয়ে ১৪ অক্টোবর জনশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবিত নিয়ম চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর শেষ হওয়া করবর্ষগুলোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করব্যবস্থার আইনগত যোগ্যতার নিয়ম কার্যকর করা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেল অর্থায়নে অনিয়মিত অভিবাসীদের দেওয়া আর্থিক সুবিধা শনাক্ত ও বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।
সূত্র: এনটিডি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ানসহ একাধিক পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এসব চাকরির মধ্যে কয়েকটিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পরিবর্তে নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের আবেদনের শেষ সময় ১৩ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির পোর্টাল স্টেটজবসএনওয়াইতে ৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুকলিনে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ম্যানহাটনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ। দুটি পদই এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির আওতাভুক্ত। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষায় আবেদন গ্রহণ চলছে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ব্রুকলিনে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ নিউইয়র্ক স্টেটের ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্রুকলিনের কিংস কাউন্টিতে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ পদে নিয়োগ দিচ্ছে। এই পদের ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৯০ এবং স্যালারি গ্রেড ৬। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বার্ষিক বেতন ৩৭ হাজার ৮৬২ থেকে ৪৬ হাজার ৮৪৩ ডলার। এটি একটি ফুলটাইম স্থায়ী পদ। সপ্তাহে সাড়ে ৩৭ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং নিয়মিত কর্মদিবস সোমবার থেকে শুক্রবার। পদটিতে নির্বাচিত কর্মীকে অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন ডকুমেন্ট যাচাই, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সহায়তার কাজ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর। আবেদনের শেষ সময় ২২ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন করার সময় ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৯০ ব্যবহার করে সরকারি পোর্টালে পদের বিস্তারিত যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি দেখে নিতে হবে। ম্যানহাটনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সুযোগ নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ অথবা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনি পদে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এই পদের ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৮৫। কর্মস্থল নিউইয়র্ক কাউন্টি, অর্থাৎ ম্যানহাটন। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর এবং আবেদনের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির আওতায় থাকা এই পদে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে ট্রেইনি পর্যায় থেকেও নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে ট্রেইনি হিসেবে আবেদন করতে পারা মানেই কোনো অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই চাকরি পাওয়া যাবে, এমন নয়। আবেদনকারীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে হবে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্টে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনও চলমান রয়েছে। এই পদে কর্মরত ব্যক্তিরা ৯১১ ইমার্জেন্সি কল গ্রহণ, জরুরি সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরীক্ষার নম্বর ৭৩০৭। প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৫১ হাজার ৭৯০ ডলার। আবেদনের শেষ সময় ১৩ অক্টোবর ২০২৬ এবং লিখিত পরীক্ষার কার্যক্রম ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরীক্ষার আবেদন ফি ৬৮ ডলার। তবে বেকার ব্যক্তি, নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত আবেদনকারী এবং যোগ্য অন্য কিছু শ্রেণির প্রার্থীদের ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এই পদে রাতের শিফট, সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে কাজের সময়সূচি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ নিউইয়র্ক স্টেটের এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির অন্যতম সুবিধা হলো, অন্তর্ভুক্ত পদগুলোতে সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পাওয়া যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল সার্ভিস জানিয়েছে, এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা পূরণকারী ব্যক্তিদের স্থায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ইন্টারভিউ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ থাকলেও চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের বার্ষিক বেতন ৪২ হাজার ২০৯ থেকে ৬১ হাজার ৭৬ ডলার। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনি ১ পদে আবেদন করতে অন্তত ছয় মাসের প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ট্রেইনি ২ পদের জন্য এক বছর এবং পূর্ণাঙ্গ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ পদের জন্য দুই বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট বিষয়ে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি বা স্বীকৃত সার্টিফিকেশন থাকলে অভিজ্ঞতার শর্তে বিকল্প যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এই পদের কাজের মধ্যে রয়েছে আইনি নথি ব্যবস্থাপনা, অফিসের প্রশাসনিক সহায়তা, ডেটা এন্ট্রি, রিপোর্ট প্রস্তুত এবং অ্যাটর্নিদের প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কাজে সহযোগিতা করা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা স্পনসর করবে না। বেসরকারি খাতেও চাকরির বিজ্ঞপ্তি সরকারি চাকরির পাশাপাশি নিউইয়র্কের বেসরকারি খাতেও বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। চাকরির প্ল্যাটফর্ম জব টুডের একটি সংকলনে ম্যানহাটনে ১৬১টি ক্যারিয়ার জব এবং নিউইয়র্ক স্টেটে ১৮৯টি চাকরির বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলো ৮ অক্টোবর নতুন প্রকাশিত স্বতন্ত্র শূন্যপদের সংখ্যা হিসেবে নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের এক্সিকিউটিভ শেফ পদে বছরে ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ডলার বেতনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বোনাসের সুযোগের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার বর্তমান বিজ্ঞপ্তি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই পদটি এখনো আবেদন গ্রহণ করছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসে স্টাফ নার্স নিয়োগের তথ্যও রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পদের নির্দিষ্ট আবেদনসীমা, বেতন ও যোগ্যতার শর্ত নিশ্চিত না হওয়ায় আগ্রহীদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টালে বিজ্ঞপ্তি যাচাই করতে হবে। আবেদন করবেন যেভাবে নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের চাকরিতে আবেদন করতে স্টেটজবসএনওয়াইয়ের সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে গিয়ে পদের নাম অথবা ভ্যাকেন্সি নম্বর দিয়ে খুঁজতে হবে। সেখানে কাজের বিবরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদনপদ্ধতি এবং শেষ তারিখ উল্লেখ থাকে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির জন্য সিটির নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টাল এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষায় আগ্রহীদের ১৩ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এই পদে নিয়োগের জন্য শুধু আবেদন করাই যথেষ্ট নয়। নির্ধারিত পরীক্ষা ও পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এদিকে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সময়সীমার পাশাপাশি আবেদনকারীদের কাজের অনুমতি, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির যাঁরা নতুন চাকরি খুঁজছেন কিংবা বেসরকারি চাকরি থেকে সরকারি খাতে যেতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এনওয়াই হেল্পসের পদগুলো বিশেষভাবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে সব পদ এন্ট্রি লেভেল নয় এবং সব চাকরির জন্য একই ধরনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় না। ফলে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে পদ নির্বাচন করাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের আবেদন শেষ হবে ২২ অক্টোবর, ম্যানহাটনের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের ১৮ অক্টোবর এবং পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পরীক্ষার আবেদন শেষ হবে ১৩ অক্টোবর। আবেদনের সময়সীমা কাছাকাছি হওয়ায় আগ্রহীদের নির্ধারিত তারিখের আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য আইসিইর, নতুন নির্দেশনা
নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড, জেনে নিন পারমিট থেকে রোড টেস্টের নিয়ম
ফ্লাইট দেরি, বাতিল আর দীর্ঘ যাত্রাপথে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ যে বিমানবন্দর
মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে নিয়ে নতুন করে তীব্র আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আক্রমণের ভাষার পাশাপাশি এবার ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে প্রার্থীর নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। আবদুল এল-সাইয়েদের বদলে তাকে ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এরপর তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। বুধবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ ডেমোক্র্যাটদের জন্য একজন ‘ভয়ংকর প্রার্থী’। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এল-সাইয়েদ ‘জিহাদের সময়ের’ সঙ্গে যুক্ত এবং তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে ট্রাম্পের পোস্টে ব্যবহৃত ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে মিশিগানের এবারের সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী নেই। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। ফলে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে নামটি বদলে লিখেছেন, নাকি ভুল করে লিখেছেন—তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প তার পোস্টে এল-সাইয়েদের সঙ্গে অনলাইন স্ট্রিমার হাসান পিকারকে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি এল-সাইয়েদকে পিকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে ওই পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি ট্রাম্প। একই পোস্টে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থনও ঘোষণা করেন। তিনি রজার্সকে অত্যন্ত ভালো প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে মিশিগানের ভোটারদের তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ আলোচিত। আবদুল এল-সাইয়েদ আগস্টে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি জিতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন পোস্ট-শার স্কুল জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট, অর্থাৎ ব্যবধানটি পরিসংখ্যানগতভাবে খুব বড় নয়। এল-সাইয়েদকে নিয়ে রিপাবলিকানদের আক্রমণ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে থেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান প্রচারে তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে এল-সাইয়েদ তার প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মতো স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রাখছেন। তার প্রচারণার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। রজার্সও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে ভিন্নমত দেখিয়েছেন। বিশেষ করে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান শুল্ক বিরোধ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মিশিগানের কানাডার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় এই ইস্যুটি তার প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টে রজার্সের প্রতি তার সমর্থন স্পষ্ট। আর আবদুল এল-সাইয়েদের নাম ‘মোহাম্মদ’ লিখে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলার বিষয়টি মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক প্রচারের নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ভোটের আগে দুই দলের প্রচারণা আরও তীব্র হওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের ঘিরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণও বাড়তে পারে।
বাবাহীন শৈশব, মায়ের মাদকাসক্তি, দারিদ্র্য পেরিয়ে যেভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন জেডি ভ্যান্স
স্ত্রী মেলানিয়া তাকে ‘স্যার’ বলে ডাকেন, টেক্সাসের সমাবেশে জানালেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের ৯০ ডলারের মেডিকেয়ার সহায়তা বিতরণ শুরু, বাদ পড়ছেন লাখো সুবিধাভোগী
চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর বাসিন্দা ম্যাডিসন মালমগ্রেন ও তার স্বামী মার্ক। আগের তিন সন্তানই সুস্থভাবে জন্ম নেওয়ায় চতুর্থ সন্তানকে ঘিরেও তাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহে করা আল্ট্রাসাউন্ডে চিকিৎসকেরা এমন কিছু অস্বাভাবিকতা দেখতে পান, যা মুহূর্তেই বদলে দেয় পরিবারের আনন্দ। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, অনাগত সন্তান সানি গল্টজ সিনড্রোম নামের একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। ম্যাডিসন জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি জানতে পারেন আবারও মা হতে চলেছেন। আগের গর্ভধারণের তুলনায় এবার বমিভাব ও অসুস্থতা বেশি থাকলেও শুরুতে বড় কোনো সমস্যা মনে হয়নি। বরং চতুর্থ সন্তানের লিঙ্গ জানার জন্য তিনি আরও বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে চিকিৎসকের কাছ থেকে যখন জানতে পারেন সন্তানটি মেয়ে, তখন তিন মেয়ের পর আরেকটি কন্যাসন্তানকে ঘিরে পুরো পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে। বড় তিন মেয়েও তাদের ছোট বোনকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০ সপ্তাহের নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ডের সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। স্ক্যান করার সময় চিকিৎসাকর্মীর মুখের অভিব্যক্তিতে উদ্বেগ দেখতে পান ম্যাডিসন। তিনি কী হয়েছে জানতে চাইলে তখনই বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরিবারটিকে মাতৃ-ভ্রূণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় আরও ১০ দিন। অনাগত সন্তানের কোনো সমস্যা থাকতে পারে জেনেও সেই সময়টুকু অসহায়ভাবে অপেক্ষা করা ছিল পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পর একের পর এক উদ্বেগের তথ্য সামনে আসে। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, গর্ভের শিশুটি বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ছোট। তার হাত ও পায়ে অতিরিক্ত আঙুল ছিল এবং কিছু আঙুল ও পায়ের আঙুল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরীক্ষায় তার চোখও দেখা যাচ্ছিল না। পাশাপাশি ফুসফুসের বিকাশও যথেষ্ট হয়নি বলে চিকিৎসকেরা জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ম্যাডিসনের অ্যামনিওসেন্টেসিস পরীক্ষা করা হয় এবং ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ। গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকের কাছাকাছি সময়ে সেই পরীক্ষার ফল আসে। শিশুটির নাম তখনই রাখা হয়েছিল সানি। পরীক্ষায় তার গল্টজ সিনড্রোম বা ফোকাল ডার্মাল হাইপোপ্লাসিয়া শনাক্ত হয়। এটি একটি বিরল জিনগত রোগ, যা শরীরের বিভিন্ন অংশের স্বাভাবিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। ত্বক, হাত, পা ও চোখে এর প্রভাব দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চোখ বা অশ্রুনালি অনুপস্থিত থাকা, দাঁতের অস্বাভাবিকতা, ঠোঁটের জন্মগত ত্রুটি, হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির সমস্যা, শ্রবণশক্তির ঘাটতি এবং মস্তিষ্কের বিকাশজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকেরা ম্যাডিসন ও মার্ককে সতর্ক করে জানান, সানির শারীরিক জটিলতা এতটাই গুরুতর যে জন্মের পর সে বেঁচে নাও থাকতে পারে। বেঁচে থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এই খবর ম্যাডিসনের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। তার ভাষায়, যে সন্তানকে তারা এতটা চেয়েছেন এবং যার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাকে হয়তো জন্মের পর ঘরে নিয়ে যেতে পারবেন না, এই সম্ভাবনা মেনে নেওয়া ছিল অসহনীয়। তবে সন্তানকে নিয়ে হাল ছাড়েননি ম্যাডিসন। আইডাহোর স্থানীয় চিকিৎসকেরা আগে গল্টজ সিনড্রোমের রোগীর চিকিৎসা করেননি। তাই আরও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তারা সান ফ্রান্সিসকোর একজন জিন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, সানির জন্ম এমন একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হওয়া উচিত যেখানে তার বিরল রোগ সম্পর্কে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে পুরো পরিবারকে নিয়ে আইডাহোর মেরিডিয়ান থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে চলে যান তারা। প্রায় ৬০০ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে নতুন শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। পরিবারের বাড়ি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অনিশ্চিত সময়ের জন্য অন্য রাজ্যে চলে যেতে হয়েছিল তাদের। এমনকি সানি বেঁচে থাকলে কখন তাকে নিয়ে আইডাহোতে ফিরতে পারবেন, সেটিও তারা জানতেন না। তারপরও মেয়ের চিকিৎসার সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সিদ্ধান্তটি নিতে দ্বিধা করেননি তারা। অবশেষে ২০২৬ সালের ১২ জুন সানির জন্ম হয়। ৩৭ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় অস্ত্রোপচারকক্ষে তাকে জন্ম দিতে হয়, যাতে প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া যায়। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ৪ পাউন্ড ৪ আউন্স, অর্থাৎ প্রায় ১ দশমিক ৯ কেজি। কয়েক মাস ধরে চিকিৎসকেরা যে আশঙ্কার কথা বলে আসছিলেন, সেই কারণে সন্তানকে প্রথমবার দেখার মুহূর্তটিও ছিল ম্যাডিসনের জন্য গভীর উদ্বেগের। জন্মের পর সানিকে সরাসরি নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তবে সেখানে গিয়ে পরিবারটি এমন একটি খবর পায়, যা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ছিল। সানি নিজে থেকেই শ্বাস নিচ্ছিল। চিকিৎসকেরা আগে আশঙ্কা করেছিলেন, তার ফুসফুস জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট বিকশিত নাও হতে পারে। তাই জন্মের পর তাকে নিজে শ্বাস নিতে দেখা পরিবারের কাছে ছিল বড় স্বস্তির মুহূর্ত। যদিও তার চিকিৎসায় নিউরোলজি, চক্ষু, হৃদ্রোগ, ত্বক, প্লাস্টিক সার্জারি ও হরমোন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের যুক্ত হতে হয়। শারীরিকভাবে খুব ছোট হওয়ায় সানির শ্বাসপ্রশ্বাস সচল রাখতে তাকে সিপিএপি যন্ত্রের সহায়তা নিতে হয়। খাবার দেওয়ার জন্য নাক দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো একটি নলও ব্যবহার করা হয়। নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। এই সময়েই ম্যাডিসন ও মার্ক তাদের প্রথম তিন মেয়েকে ছোট বোনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর বোনদের সঙ্গে সানির দেখা হওয়া পরিবারের জন্য স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হয়ে থাকে। প্রায় ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর ২২ জুলাই সানিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার অনুমতি পান ম্যাডিসন ও মার্ক। পরদিন তারা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আইডাহোর উদ্দেশে রওনা হন। গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক মাসে যে পরিবারটি জানত না তারা আদৌ সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে কি না, সেই পরিবারই শেষ পর্যন্ত চার মেয়েকে এক ছাদের নিচে নিয়ে ফিরতে সক্ষম হয়। ম্যাডিসনের কাছে সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বর্তমানে সানির বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সে চোখ ছাড়াই জন্মেছে, বাম কানে শুনতে পায় না এবং তার দুই হাতের কিছু অংশ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। বয়স অনুযায়ী তার শারীরিক আকারও ছোট। মস্তিষ্কের বিকাশও সম্পূর্ণ হয়নি বলে ভবিষ্যতে তার শেখা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে। এসব কারণে তাকে নিয়মিত বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিতে হয়। ম্যাডিসনের হিসাবে, প্রতি সপ্তাহে চার থেকে পাঁচটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকে তাদের। তবু মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ম্যাডিসন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গল্টজ সিনড্রোম সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার মতে, কোনো একটি রোগের নাম দিয়ে একটি শিশুর পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকেরা সম্ভাব্য নানা জটিলতার কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু জন্মের পর সানি একের পর এক সেই আশঙ্কার অনেকটাই অতিক্রম করেছে। ম্যাডিসনের কাছে সানি শুধু একটি চিকিৎসা-নির্ণয় নয়, বরং শুরু থেকেই তাদের পরিবারের একজন সদস্য। গর্ভে থাকার সময় থেকেই তারা তাকে ভালোবেসেছেন, তার জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছেন। বড় তিন বোনও এখন তাকে ঘিরে বড় হচ্ছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর চার মেয়েকে একই বাড়িতে একসঙ্গে দেখতে পাওয়াকেই ম্যাডিসন তার পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদগুলোর একটি বলে মনে করেন। সূত্র: নিউজউইক, ম্যাডিসন মালমগ্রেনের প্রকাশিত তথ্য
'আপনি কাপুরুষ': নিউইয়র্কের ইউনিয়ন স্কয়ারে মেয়র মামদানিকে দুয়োধ্বনি
পাঁচ আয়া থাকলেও সন্তানদের ঘুম পাড়ানো থেকে স্কুলে নেওয়া, সবই করেন কিম কার্দাশিয়ান