এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা আবেদনে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের বিশেষ ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কর্মী আনার খরচ আগের তুলনায় বড় ধরনের বাড়বে।
প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর ৩০ দিনের গণপরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর প্রশাসন মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত বিধিমালা জারি করতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন কিছু এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থপ্রদানের শর্ত চালু করেছিল। সেই ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন পক্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে। নতুন প্রস্তাবটি সেই নীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বিশেষায়িত দক্ষতার বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর ৬৫ হাজার সাধারণ এইচ-১বি ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসার সীমা রয়েছে।
নতুন প্রস্তাবের ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোম্পানিগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতার খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু কোম্পানি তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক বিশেষায়িত পদে পর্যাপ্ত মার্কিন কর্মী না থাকায় বিদেশি দক্ষ কর্মী ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নিয়োগের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ব্যবস্থায় উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, বাড়তি খরচ ও কঠোর যাচাইয়ের মাধ্যমে কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের দিকে সুযোগ কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত বিধিমালা নিয়ে আইনগত চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও রয়েছে। অতিরিক্ত ফি আরোপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক চলছে। ফলে নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলেও আদালতে এর বৈধতা নিয়ে লড়াই গড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের জন্য এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল বিদেশি পেশাজীবীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কর্মরত ভারতীয়, চীনা ও অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মীরা এই কর্মসূচির বড় অংশ ব্যবহার করেন। ফলে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রেমিক সম্পর্ক শেষ করতে চাওয়ায় তাঁকে কামড়ে ও আঁচড়ে আহত করার অভিযোগে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হায়ালিয়া শহরে নিজ বাসায় প্রেমিকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তার পুলিশ কর্মকর্তার নাম মার্সিয়া স্যাংগ্রোনিস। ৩৮ বছর বয়সী এই নারী নর্থ বে ভিলেজ পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর তাঁকে বেতনসহ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লোকাল টেনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ওই নারীর প্রেমিক রাস্তায় পুলিশ সদস্যদের থামিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তিনি জানান, সম্পর্ক শেষ করার কথা বলার পর স্যাংগ্রোনিস ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখ দিয়ে আঁচড় দেন এবং হাতে একাধিকবার কামড় দেন। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতটি প্রেমিক স্যাংগ্রোনিসের বাড়িতেই কাটিয়েছিলেন। রাতে তাঁদের মধ্যে পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। পরদিন সকালেও একই বিষয় নিয়ে কথা ওঠে। প্রেমিকের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে চাকরি করার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ না থাকা নিয়ে আলোচনা হলেই স্যাংগ্রোনিস রেগে যেতেন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করতেন। মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে স্যাংগ্রোনিসকে জানান, তিনি আর সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান না। অভিযোগ অনুযায়ী, এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নারী পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে প্রেমিকের বের হওয়ার পথ আটকে দেন এবং তাঁকে বাড়ি ছাড়তে নিষেধ করেন। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, প্রেমিক দরজার হাতল ধরার চেষ্টা করলে স্যাংগ্রোনিস তাঁর ওপর শারীরিক আক্রমণ শুরু করেন বলে অভিযোগ। প্রথমে নখ দিয়ে তাঁর হাত, মুখ ও পিঠে আঁচড় দেন। এরপর বাঁ হাতের নিচের অংশে একাধিকবার কামড় দেন। ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে দাবি করেন, কামড়ের কারণে তাঁর চামড়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি সিক্স সাউথ ফ্লোরিডার তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ওই ব্যক্তির শরীর, হাত ও মুখে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। বিশেষ করে বাঁ হাতে কামড়ের ক্ষত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব আঘাতের বিষয়টি তদন্তকারীরা নথিভুক্ত করেন। অভিযোগকারী জানান, একপর্যায়ে তিনি স্যাংগ্রোনিসের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বাড়ি থেকে বের হতে সক্ষম হন। এরপর রাস্তায় পুলিশ সদস্যদের দেখতে পেয়ে তাঁদের কাছে সাহায্য চান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে হায়ালিয়া পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে এবং পরে স্যাংগ্রোনিসকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাছে ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, প্রায় দুই বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সময়ে স্যাংগ্রোনিস একাধিকবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনমূলক আচরণ করেছেন। তবে অতীতের এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। গ্রেপ্তারের পর স্যাংগ্রোনিসও পুলিশের কাছে নিজের বক্তব্য দেন। তবে গ্রেপ্তারসংক্রান্ত নথিতে তাঁর বক্তব্যের অংশটি গোপন রাখা হয়েছে। ফলে বাড়ির ভেতরে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তাঁর নিজের ব্যাখ্যা প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়নি। এ কারণে অভিযোগকারীর বক্তব্যই এখন পর্যন্ত ঘটনার প্রধান বিবরণ হিসেবে সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে স্যাংগ্রোনিসের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক আঘাতের অভিযোগে মামলা করা হয়। এটি ফ্লোরিডার আইনে দ্বিতীয় মাত্রার গুরুতর অপরাধ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে বুধবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর শারীরিক আক্রমণের অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। আদালত স্যাংগ্রোনিসের জন্য এক হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ অবশ্য অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। মায়ামি-ডেড কাউন্টির সংশোধনাগারের নথিতে এখনো প্রাথমিক গুরুতর আঘাতের অভিযোগটি প্রদর্শিত হচ্ছে। সেখানে ঘটনাটিকে পারিবারিক সহিংসতাসংক্রান্ত মামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত বিকল্প অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক ভিত্তি পেয়েছেন এবং এক হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করেছেন বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর স্যাংগ্রোনিসকে টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে রাখা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে জানানো হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্যাংগ্রোনিস ২০২৫ সালে নর্থ বে ভিলেজ পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। গ্রেপ্তারের পর বিভাগটি তাঁকে বেতনসহ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। ফলে মামলার তদন্ত চলাকালে তিনি নিয়মিত পুলিশি দায়িত্ব পালন করবেন না। নর্থ বে ভিলেজ পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, কর্মরত অবস্থায় কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে কর্মকর্তাদের আচরণের জন্য তাঁদের জবাবদিহির আওতায় রাখা হয়। বিভাগটির এই অবস্থানের মধ্যেই স্যাংগ্রোনিসকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে হায়ালিয়া পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। অভিযোগকারী ব্যক্তির শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন, তাঁর বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে স্যাংগ্রোনিসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন ফ্লোরিডায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার মামলায় পরিণত হয়েছে। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি।
৩০ বছরেও মেলেনি গ্রিন কার্ড, নিউইয়র্ক থেকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরছেন আজিজুল হক খোকন
হোয়াইট হাউসের গাভীকে জবাইখানা থেকে উদ্ধার, দুধ চুরি করেছিলেন শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফান্ডিংয়ের মাধ্যম সরাসরি ভর্তির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ির গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠা নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তিবিষয়ক নির্বাহী জোনাথন ম্যাককিনসির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ ম্যাককিনসি একসময় গর্ভধারণ করেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নবজাতকটি মারা যায়। ওই ঘটনার জন্য স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের কথিত নির্যাতনকে দায়ী করেছিলেন তিনি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরে ৪০ বছর বয়সী ম্যাককিনসিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট ও টিএমজেডের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আদালতে জমা দেওয়া একটি নথিতে ম্যাককিনসি তাঁর গর্ভধারণ এবং সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, গর্ভাবস্থায় স্ত্রীর আচরণ ও নির্যাতনের কারণে তাঁকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। আদালতের নথির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক দশক আগে স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের আইভিএফ চিকিৎসার মাধ্যমে তৈরি ভ্রূণ নিজের গর্ভে ধারণ করেছিলেন ম্যাককিনসি। ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ হিসেবে গর্ভধারণের সময় পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁকে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল বলে দাবি করেন তিনি। ম্যাককিনসির অভিযোগ, গর্ভাবস্থায় স্ত্রী তাঁর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতেন। এমনকি একবার একটি কাপ ছুড়ে মারলে সেটি তাঁর পেটে লাগে। তাঁকে শোবার ঘরের বিছানা ছেড়ে বসার ঘরে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও আদালতের নথিতে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে গর্ভাবস্থার ২২ সপ্তাহে। সে সময় তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে থেকে সান হোসেতে বাসা পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ম্যাককিনসির দাবি অনুযায়ী, বাসা পরিবর্তনের জন্য পেশাদার কর্মী নিয়োগ করা হলেও স্ত্রী তাঁকে ভারী বাক্স বহন করতে বাধ্য করেন। এরপর তিনি রক্তপাত অনুভব করেন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে যাওয়ার পথে তীব্র ব্যথার কথা জানালেও স্ত্রী তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই তাঁদের ছেলে রোমিও প্রেস্টন ম্যাককিনসির জন্ম হয়। কিন্তু জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতকটি মারা যায় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাককিনসি বিশ্বাস করতেন, ভারী জিনিস বহন করতে বাধ্য হওয়ার কারণেই তাঁর অকাল প্রসব হয়েছিল এবং সন্তানকে হারাতে হয়েছিল। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিযোগ। ভারী বাক্স বহন বা স্ত্রীর কথিত আচরণই অকাল প্রসব এবং নবজাতকের মৃত্যুর কারণ ছিল, এমন কোনো স্বাধীন চিকিৎসাগত প্রমাণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। সন্তান হারানোর এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিরোধসংক্রান্ত আদালতের নথিতে উঠে আসে। ম্যাককিনসি ও ক্যান্ডিস জ্যাং ২০১১ সালে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও কেকিউইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে রেস্ট্রেইনিং অর্ডারের আবেদন করেন জ্যাং। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে একই বছরের ডিসেম্বরে স্ত্রীর বিরুদ্ধে রেস্ট্রেইনিং অর্ডারের আবেদন করেন ম্যাককিনসি। ওই মাসেই তিনি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। আদালতের নথিতে ম্যাককিনসি অভিযোগ করেন, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে বৈষম্য এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার সময় শ্বশুর তাঁকে বুকে আঘাত করেছিলেন। শাশুড়ির বিরুদ্ধেও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, ক্যান্ডিস জ্যাং অভিযোগ করেন, ম্যাককিনসি তাঁর এবং সন্তানদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত দুটি মাইনর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তবে তিনি উভয় অভিযোগেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তাঁর মৃত্যুর সময়ও ওই মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলছিল। দাম্পত্য বিরোধের পাশাপাশি তাঁদের তিন সন্তানকে নিয়ে কাস্টডি বা অভিভাবকত্বের বিরোধও চলছিল। এর মধ্যেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডসের পার্কিং লটে গুলিবিদ্ধ হন ম্যাককিনসি। পুলিশ জানায়, বিকেল তিনটার কিছু পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে ম্যাককিনসির শ্বশুর শোইয়ং ঝ্যাং এবং শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দুজনেরই বয়স ৭৭ বছর। আলামেডা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অভিযুক্ত দম্পতি পরিকল্পিতভাবে ম্যাককিনসিকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করেছিলেন। পরে পার্কিং লটে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দুজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপেক্ষা করে হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ আনার অর্থ অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এদিকে ম্যাককিনসির মৃত্যুর তদন্তে নতুন অগ্রগতির খবরও সামনে এসেছে। এবিসি সেভেনের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ম্যাককিনসির বিচ্ছিন্ন থাকা স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ডাবলিন পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাড়ি থেকে তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কী ধরনের আলামত উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের এই তল্লাশি বা আলামত সংগ্রহের ঘটনা থেকে ক্যান্ডিস জ্যাং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। ম্যাককিনসি নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। এর আগে একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। জর্জিয়া টেক থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। একদিকে প্রযুক্তি খাতে প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ এবং সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল তাঁর জীবনে। সেই বিরোধের মধ্যেই প্রকাশ্য পার্কিং লটে গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। তদন্তকারীরা এখনো হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ করেননি। দাম্পত্য বিরোধ ও অতীতের নির্যাতনের অভিযোগগুলো আদালতের নথিতে থাকলেও সেগুলোর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এদিকে মৃত্যুর পর সামনে আসা পুরোনো আদালতের নথি ম্যাককিনসির ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায় প্রকাশ করেছে। গর্ভধারণ, অকাল প্রসব এবং নবজাতক সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সেখানে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য নির্ধারণের বিষয়টি এখনো সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
শূন্য থেকে ‘বাফেলোর প্রিন্স’: একসময় চাকরি হারানো বাংলাদেশি তালহা বখতের ১০০ বাড়ি
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে এক ব্যক্তিকে গুলি করল আইসিই, ক্ষুব্ধ মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া প্রথম নারী ক্রিস্টা পাইক, আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লেক নোনায় কাপকেকের ব্যবসা গড়ে তুলে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন সান্দ্রা শর্টার। একসময় তাঁর স্বপ্ন ছিল আইনজীবী কিংবা প্রকৌশলী হওয়ার। পরে শিশুদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ থেকে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। তবে জীবনের পথ তাঁকে নিয়ে যায় ভিন্ন এক জায়গায়। প্রায় ১০ বছর আগে একটি খাবারের ট্রাক দিয়ে শুরু করা তাঁর কাপকেকের ব্যবসা এখন লেক নোনায় বেকারিতে রূপ নিয়েছে। ‘দ্য নেকেড কাপকেক’ নামের এই প্রতিষ্ঠান শুধু মিষ্টান্ন বিক্রির জায়গা নয়, বরং মানুষের জন্য আন্তরিক ও আপন পরিবেশ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবেও গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর এক প্রতিবেদনে সান্দ্রার এই পথচলার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশক আগে নিজের একটি ধারণার ওপর ভরসা করে তিনি খাবারের ট্রাক চালু করেন। নতুন ব্যবসা শুরু করার সেই সময়টি তাঁর কাছে ছিল আবেগ ও অনিশ্চয়তায় ভরা। ট্রাক নিয়ে প্রথমবার আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক আই-৪-এ ওঠার স্মৃতি এখনো মনে আছে তাঁর। সান্দ্রা বলেন, প্রথমবার ট্রাকটি নিয়ে মহাসড়কে ওঠার সময় তাঁর চোখে পানি চলে এসেছিল। নিজের উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ নিতে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, এটি সত্যিই তাঁর নিজের কিছু। সেই ছোট উদ্যোগ ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। খাবারের ট্রাক থেকে ব্যবসাটি একসময় স্থায়ী বেকারিতে পরিণত হয়, যার অবস্থান ফ্লোরিডার লেক নোনা এলাকায়। তবে সান্দ্রার কাছে ব্যবসার সাফল্যের অর্থ কেবল কাপকেক বিক্রি কিংবা আয় বাড়ানো নয়। তিনি চান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে আসা মানুষ যেন স্বস্তি অনুভব করেন এবং নিজেদের আপনজনের ঘরে এসেছেন বলে মনে করেন। গ্রাহকদের জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোর অংশ হতে পারাটাই তাঁর কাছে বড় আনন্দের। সান্দ্রার ভাষায়, তিনি চান ক্রেতারা যেন এমন অনুভূতি পান, যেন তাঁরা কোনো প্রতিবেশীর বাড়িতে প্রবেশ করেছেন। সান্দ্রার এই দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে রয়েছে তাঁর পারিবারিক ইতিহাস। তাঁর বাবা-মা দুজনই কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। নতুন দেশে জীবন গড়তে তাঁদের যে ত্যাগ ও পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা সান্দ্রাকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছে। শৈশব ও পারিবারিক অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া সেই শিক্ষা পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষকতা করার সময় তিনি মূলত স্বল্প আয়ের এবং হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি এমন এলাকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তখন তিনি বিশেষ করে মেয়েদের সামনে এমন একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন, যাতে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় করে ভাবতে পারে। শিক্ষকতা ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পরও সেই ভাবনা তাঁর কাজের সঙ্গে রয়ে গেছে। সান্দ্রা মনে করেন, মানুষকে অনুপ্রাণিত করার জন্য সব সময় বড় কোনো পদে থাকা প্রয়োজন হয় না। নিজের কাজের মধ্য দিয়েও অন্যদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়া যায়। একসময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করতেন তিনি। এখন নিজের ব্যবসার মাধ্যমে সেই একই বার্তা পৌঁছে দিতে চান। তাঁর যাত্রা দেখায়, পরিচিত পেশার বাইরে গিয়েও নতুন উদ্যোগ শুরু করা সম্ভব, যদি নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা বজায় থাকে। ব্যবসা শুরুর ১০ বছর পরও সান্দ্রার কাছে অনেক মুহূর্ত অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। পেছনে ফিরে শুরুর দিনের নিজের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে তিনি তাঁকে এগিয়ে যেতে বলতেন। তাঁর মতে, সফল হওয়ার জন্য নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখা এবং বাধা এলেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তিনি বলেন, অধ্যবসায় ধরে রাখতে হবে এবং বুঝতে হবে, নিজের মধ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে। এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি এক দশক ধরে নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সান্দ্রা কখনো বেকার হওয়ার পরিকল্পনা করেননি। কিন্তু শিক্ষকতা থেকে শুরু হওয়া তাঁর কর্মজীবন তাঁকে এমন একটি ব্যবসার মালিক করেছে, যেখানে তিনি নিজের মতো করে মানুষের জীবনে আনন্দ যোগ করতে পারছেন। কাপকেক তৈরির পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করাই এখন তাঁর উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। লেক নোনায় ‘দ্য নেকেড কাপকেক’-এর মাধ্যমে তাঁর এই যাত্রা শুধু একটি ব্যবসা গড়ে তোলার গল্প নয়, বরং পারিবারিক শিক্ষা, নিজের ওপর বিশ্বাস এবং দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার উদাহরণও। সূত্র: ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো।
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আইটি কর্মীদের গ্রিন কার্ডে বড় ধাক্কা! স্থগিত টিসিএস, ইনফোসিসের পিইআরএম প্রক্রিয়া
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ডলারে