বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতাই হতে পারে আমেরিকায় ক্যারিয়ারের বড় শক্তি
বাংলাদেশে বছরের পর বছর চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর অনেকেই মনে করেন, আগের কাজের অভিজ্ঞতার আর কোনো মূল্য নেই। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে দেশের চাকরির অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দল পরিচালনা, গ্রাহকসেবা, তথ্য বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতা বিভিন্ন পেশায় কাজে লাগানো সম্ভব।
তবে শুধু রেজুমেতে বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতা উল্লেখ করলেই হবে না। আমেরিকান নিয়োগকর্তারা যেন আপনার কাজের দায়িত্ব, দক্ষতা ও অর্জন সহজে বুঝতে পারেন, সেভাবেই অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরতে হবে।
রেজুমে সাজাতে হবে আমেরিকান ধাঁচে
বাংলাদেশে প্রচলিত দীর্ঘ জীবনবৃত্তান্তের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট পদের জন্য তৈরি রেজুমে বেশি কার্যকর। পেশাগত অভিজ্ঞতা লেখার সময় শুধু কী দায়িত্ব পালন করেছেন তা না লিখে, সেই কাজের মাধ্যমে কী ফলাফল অর্জন করেছেন সেটি তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ হিসেবে, শুধু ‘২০ জনের দল পরিচালনা করেছি’ না লিখে, সেই দলের মাধ্যমে কী অর্জন করেছেন তা উল্লেখ করা বেশি কার্যকর। যেমন, ২০ সদস্যের একটি দল পরিচালনা করে ছয় মাসে বিক্রি ৩০ শতাংশ বাড়ানোর মতো সুনির্দিষ্ট অর্জন থাকলে সেটি রেজুমেতে তুলে ধরা যেতে পারে।
চাকরির পদবি হতে হবে সহজবোধ্য
বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত পদবি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার কাছে সবসময় পরিচিত নাও হতে পারে। তাই দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ও সহজবোধ্য পদবি ব্যবহার করা যেতে পারে।
একইভাবে বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত না হলে রেজুমেতে প্রতিষ্ঠানটির কাজের ধরন ও পরিধি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এতে নিয়োগকর্তা বুঝতে পারবেন, আপনি কী ধরনের প্রতিষ্ঠানে এবং কতটা বড় পরিসরে কাজ করেছেন।
স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা আলাদাভাবে তুলে ধরুন
বাংলাদেশে শিক্ষকতা, ব্যাংকিং, হিসাবরক্ষণ, বিপণন কিংবা প্রশাসনিক কাজে অর্জিত অনেক দক্ষতা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন চাকরিতে কাজে লাগতে পারে।
একজন শিক্ষক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রাহকসেবা ও নিয়মনীতি মেনে কাজ করার দক্ষতা তুলে ধরা যায়। এসব দক্ষতা সংশ্লিষ্ট পেশার পাশাপাশি গ্রাহকসেবা, অফিস প্রশাসন বা কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিতেও কাজে লাগতে পারে।
পেশাভেদে লাইসেন্স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করুন
ডাক্তার, নার্স, প্রকৌশলী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত পেশায় বিদেশি ডিগ্রি বা পেশাগত যোগ্যতা সরাসরি গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।
কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান নির্ধারণের জন্য মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের কাজে বিভিন্ন স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেবা দিয়ে থাকে। তবে কোন মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, তা পেশা ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পেশায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ ও নিয়োগদাতার শর্ত যাচাই করা উচিত।
সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতিভিত্তিক উত্তর দিন
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির সাক্ষাৎকারে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ চাওয়া খুবই সাধারণ। ‘কঠিন পরিস্থিতি কীভাবে সামলেছেন’ বা ‘কোনো সমস্যা কীভাবে সমাধান করেছেন’ এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের কর্মজীবনের বাস্তব ঘটনা ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি, দায়িত্ব, পদক্ষেপ ও ফলাফল এই চার ধাপে উত্তর দেওয়া কার্যকর। প্রথমে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে হবে, এরপর নিজের দায়িত্ব কী ছিল তা বলতে হবে। তারপর সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল হয়েছে তা তুলে ধরতে হবে। এতে বিদেশে অর্জিত কর্মঅভিজ্ঞতাও নিয়োগকর্তার কাছে স্পষ্ট ও প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।
দেশের অভিজ্ঞতা লুকিয়ে রাখবেন না
বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতা রেজুমে থেকে বাদ দেওয়া বা অপ্রয়োজনীয় কর্মজীবন গ্যাপ তৈরি করা অনেক সময় উল্টো প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বরং আগের প্রতিষ্ঠানের নাম, পদবি, কর্মকাল এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জন পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা ভালো।
তবে বাংলাদেশের কোনো পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে একই পেশায় কাজ করার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, আইন, শিক্ষা ও অন্যান্য লাইসেন্সনির্ভর পেশায় স্থানীয় নিয়ম অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করার অর্থ শূন্য থেকে শুরু করা নয়। বাংলাদেশের কর্মজীবনে অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত সাফল্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে সেগুলোই আমেরিকায় নতুন ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি গ্রোসারি স্টোর চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অভিবাসী মালিকানাধীন গ্রোসারি ও বডেগা ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ও ভর্তুকির সুবিধায় পরিচালিত এসব স্টোর স্থানীয় ছোট ব্যবসার সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে পাঁচটি সরকারি গ্রোসারি স্টোর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্টোরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নির্দিষ্ট একটি তালিকা বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া। বিশেষ করে যেসব পরিবার খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে চাপে রয়েছে, তারা এসব স্টোর থেকে কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক সিটি প্রায় ৭ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। প্রথম সরকারি গ্রোসারি স্টোরটি ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্ট এলাকায় ২০২৭ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাঁচ বরোতেই একটি করে স্টোর চালুর লক্ষ্য রয়েছে। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন অভিবাসী ও সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ছোট ব্যবসার প্রতিনিধিরা। মাল্টিকালচারাল বিজনেস কোয়ালিশন-এর অধীনে থাকা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি পাওয়া স্টোরের সঙ্গে সাধারণ ছোট ব্যবসার পক্ষে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে। কারণ বেসরকারি দোকানগুলোকে ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নিজেদের বহন করতে হয়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকারি গ্রোসারি স্টোরগুলো যদি দীর্ঘমেয়াদে কম দামে পণ্য বিক্রি করে, তাহলে আশপাশের ছোট গ্রোসারি ও বডেগাগুলো ক্রেতা হারাতে পারে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী পরিবারগুলোর মালিকানায় পরিচালিত ব্যবসাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। মামলাকারীরা এই উদ্যোগকে বড় খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের যুক্তি, বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ছোট দোকানের প্রতিযোগিতা যেমন কঠিন, তেমনি সরকারি অর্থে পরিচালিত কম দামের স্টোরও স্থানীয় ব্যবসার জন্য একই ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, মামদানির প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি গ্রোসারি স্টোরের উদ্দেশ্য ছোট ব্যবসা ধ্বংস করা নয়; বরং নিউইয়র্কবাসীর জন্য সাশ্রয়ী দামে স্বাস্থ্যকর ও প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করা। পরিকল্পনার আরেকটি দিক হলো, স্টোরগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম সরাসরি সরকারি কর্মীদের দিয়ে পরিচালনার বদলে অভিজ্ঞ বেসরকারি গ্রোসারি অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে মামদানির এই উদ্যোগ এখন একদিকে কম দামে খাদ্যপণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে ছোট ও অভিবাসী মালিকানাধীন ব্যবসা রক্ষার দাবির মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সরকারি গ্রোসারি স্টোরগুলো শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কতটা সফল হবে, আর একই সঙ্গে স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর কী প্রভাব ফেলবে—আদালতের মামলার পাশাপাশি এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
‘ভোট দিয়ে অনুতপ্ত অনেকেই’ মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ ইহুদি নারীর
বাংলাদেশের চাকরির অভিজ্ঞতাই হতে পারে আমেরিকায় ক্যারিয়ারের বড় শক্তি
এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সিরাকিউজে ক্রিস ও পলের ভালোবাসার গল্প আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার। ডাউন সিনড্রোম নিয়ে বিয়ে ও ভালোবাসার মতো সম্পর্কের বিষয়ে নানা প্রশ্ন ও আপত্তির মুখে পড়েও তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন ২৫ বছর। ১৯৮৮ সালে তাঁদের পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পাঁচ বছর প্রেমের পর ১৯৯৩ সালে ক্রিস পলকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পল সম্মতি জানান। একই বছরের ১৩ আগস্ট নিউইয়র্কের সিরাকিউজে তাঁরা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর শুরু হয় একসঙ্গে পথচলার নতুন অধ্যায়। তাঁদের সম্পর্কের শুরু থেকেই নানা ধরনের সন্দেহ ও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। কেউ কেউ মনে করতেন, তাঁরা হয়তো ভালোবাসা বা বিয়ের মতো সম্পর্কের গভীরতা যথেষ্টভাবে বুঝতে পারবেন না। এমনকি তাঁদের বিয়ে করা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ক্রিস ও পল নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে ছিলেন দৃঢ়। অন্যের সন্দেহকে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁরা একসঙ্গে জীবন গড়ে তোলেন। দীর্ঘ ২৫ বছরে তাঁদের সংসারে ছিল পারস্পরিক সঙ্গ, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা। ২০১৯ সালে পল মারা যান। তবে তাঁর সঙ্গে ক্রিসের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের স্মৃতি এখনো রয়ে গেছে। তাঁদের গল্প নতুন করে সামনে এনে অনেকেই বলছেন, ভালোবাসা ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী মানুষদের সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত ধারণা সবসময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ভালোবাসা ও সঙ্গ পাওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। ক্রিসের একটি বক্তব্যও এই গল্পের মূল বার্তাকে তুলে ধরে, “আমাদের মতো মানুষদেরও সুযোগ পাওয়া দরকার।”
জ্বলন্ত স্কুল বাস থেকে ২০ শিশুকে বাঁচিয়ে ফের আগুনের ভেতর ঢুকেছিলেন চালক রেনিটা
সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর মা-মেয়েকে আটক করল আইসিই
নিউইয়র্কের পর এবার টেনেসিতে, ডাকাতির সময় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার মুসকোজি শহরের দুই তরুণ প্রাইস জ্যাকসন ও কিরান ইংলিশ শৈশব থেকে তাদের সহপাঠী ম্যাডিসন মুরের পাশে ছিলেন। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ম্যাডিসনের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল কিন্ডারগার্টেনে। এরপর স্কুলজীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই তারা তাকে একা হতে দেননি। ২০২১ সালে তিনজন একসঙ্গে হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর তাদের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। ম্যাডিসন যখন সাধারণ শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা শুরু করেন, তখন থেকেই প্রাইস ও কিরান নিয়মিত তার খোঁজ রাখতেন। স্কুলের করিডোরে হাঁটার সময় তার সঙ্গে থাকতেন, লাঞ্চে পাশে বসতেন এবং ফিল্ড ট্রিপে তার হাত ধরে বা পাশে থেকে তাকে সঙ্গ দিতেন। তাদের কাছে এসব কোনো দায়িত্ব বা বোঝা ছিল না, ছিল স্বাভাবিক বন্ধুত্বের অংশ। ম্যাডিসনের মা ডেনা ফ্যাবিয়ান-মুরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাইস ও কিরান সবসময় ম্যাডিসনের খোঁজ নিতেন এবং তাকে একা না রাখার চেষ্টা করতেন। তারা তাকে শুধু ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত একজন সহপাঠী হিসেবে দেখেননি, বরং একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই দেখেছেন। এই বন্ধুত্ব ছিল একতরফা নয়। তৃতীয় শ্রেণিতে খারাপ গ্রেড পাওয়ার পর কিরান একবার কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তখন ম্যাডিসনই তাকে সান্ত্বনা দিয়েছিল। কিরানের কাছে ঘটনাটি এখনও তাদের বন্ধুত্বের বিশেষ স্মৃতি। বছরের পর বছর একসঙ্গে পথ চলতে চলতে প্রাইস ও কিরানের কাছে ম্যাডিসন অনেকটা পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠেন। প্রাইস একে বড় ভাইয়ের মতো দায়িত্ব নেওয়া হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ম্যাডিসনের পাশে থাকা তাদের কাছে কোনো বিশেষ কাজ ছিল না, বরং স্বাভাবিকভাবেই বন্ধুত্বের অংশ হয়ে গিয়েছিল। ২০২১ সালে তিনজন একই সঙ্গে হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। সেই সময় ম্যাডিসনের বাবা কেভিন মুর তাদের তিনজনের ক্যাপ-গাউন পরা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, এই দুই তরুণ কিন্ডারগার্টেন থেকে তাঁর মেয়ের পাশে থেকেছেন এবং তার বন্ধু হিসেবে তাকে আগলে রেখেছেন। ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ তাদের বন্ধুত্বের প্রশংসা করেন। ম্যাডিসনের মা বলেন, ছেলেদের এই আচরণ তাদের কাছে কখনোই বড় কোনো বিষয় ছিল না। তারা স্বাভাবিকভাবেই একে অপরকে ভালোবাসত এবং বন্ধুর পাশে দাঁড়াত। ম্যাডিসনের পরিবার ছোটবেলা থেকেই তাকে সাধারণ শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। পরিবারের বিশ্বাস ছিল, ভিন্ন সক্ষমতা ও ভিন্ন অভিজ্ঞতার মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়েই শিশুরা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা শিখতে পারে। একটি গ্র্যাজুয়েশন ছবি তাই শুধু তিন বন্ধুর একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার মুহূর্ত হয়ে থাকেনি। দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্ব দেখিয়েছে, কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সবসময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিনের জীবনে পাশে দাঁড়ানো, একসঙ্গে হাঁটা এবং বন্ধুর প্রয়োজনের সময় তাকে একা না রাখার মধ্য দিয়েও সত্যিকারের সহমর্মিতা প্রকাশ পেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ তালুকদার
ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে একের পর এক বিদায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে কর্মী ছাড়ার চাপ