সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

এক বছরে ১৩ লাখের বেশি মানুষ পেলেন গ্রিন কার্ড, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হলো নতুন রেকর্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ৭:২
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সংখ্যায় নতুন রেকর্ড
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সংখ্যায় নতুন রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে ১৩ লাখের বেশি মানুষ গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০২৪ অর্থবছরে মোট ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯০ জন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৭২ হাজার ৯১০। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ফ্লোরিডা।
 

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।


রাজ্যভিত্তিক হিসাবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৭০ জন গ্রিন কার্ডধারী নিয়ে তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে ফ্লোরিডা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ায় এই সংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ৪২০। অর্থাৎ দুই রাজ্যের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। তবে আগের বছরের তুলনায় ফ্লোরিডায় গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে টেক্সাস। রাজ্যটিতে ২০২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ জন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। এরপর রয়েছে নিউইয়র্ক, যেখানে এই সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫০। এসব রাজ্যে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বড় উপস্থিতি এবং কর্মসংস্থান ও বসবাসের সুযোগ গ্রিন কার্ডধারীদের সংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে।


ফ্লোরিডায় ২০২৩ অর্থবছরের তুলনায় গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬৩ হাজার ৯৭০। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪১ শতাংশ। টেক্সাসেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। রাজ্যটিতে গ্রিন কার্ডধারীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ হাজার ৪৭০ জন বেড়েছে, যা প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি।


কেন্টাকিতেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৩ অর্থবছরে রাজ্যটিতে ৭ হাজার ৮৩০ জন স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছিলেন। ২০২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ১২০। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


এ ছাড়া নিউ জার্সিতে ৫৮ হাজার ১৮০ জন, ইলিনয়ে ৪৪ হাজার ৬৫০ জন, ভার্জিনিয়ায় ৩৭ হাজার ৮৫০ জন, ম্যাসাচুসেটসে ৩৬ হাজার ১৮০ জন, জর্জিয়ায় ৩৫ হাজার ১০০ জন এবং পেনসিলভানিয়ায় ৩৪ হাজার ৮৫০ জন গ্রিন কার্ড পেয়েছেন।


অন্যদিকে, কয়েকটি রাজ্যে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ওয়াইয়োমিংয়ে ৫১০ জন, ভারমন্টে ৬৩০ জন এবং মন্টানায় ৬৫০ জন স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। আলাস্কায় এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১০০ এবং সাউথ ডাকোটায় ১ হাজার ৭০।


তবে এসব পরিসংখ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। রাজ্যভিত্তিক তথ্য দিয়ে বোঝা যায়, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর কতজন কোন রাজ্যে বসবাস করছেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক ব্যক্তি ওই রাজ্য দিয়েই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। যারা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং পরে দেশটির ভেতর থেকেই স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পেয়েছেন, তারাও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।


অন্যদিকে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের অনুমোদনের হার আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে করা আবেদনের অনুমোদনের হার ৮৬ শতাংশ থেকে কমে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রেও অনুমোদনের হার ৯৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৯৩ শতাংশ হয়েছে।


কিউবার নাগরিকদের আবেদনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই প্রান্তিকে ৫৮৬টি আবেদনের মধ্যে ১৩৯টি অনুমোদিত এবং ৪৪৭টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এতে অনুমোদনের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে আগের প্রান্তিকে হার ছিল ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ।


এ ছাড়া ২০২৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির ভেতরে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন একটি বিবেচনাধীন প্রক্রিয়া। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি না থাকলে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আবেদনকারীদের সাধারণত বিদেশে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।


অক্টোবরের শুরুতে শ্রম বিভাগ মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিকে পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পার্ম কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির নতুন ও চলমান কিছু আবেদনপ্রক্রিয়া থেমে যায়। তবে মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ কর্মী ছাঁটাই এবং বিদেশি কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিরোধিতা করেছে।


অন্যদিকে, ১৪ অক্টোবর একটি ফেডারেল আদালত ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারির নিবন্ধন চালু করার নির্দেশ দেয়। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন হওয়া দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেও ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।


সব মিলিয়ে, ২০২৪ অর্থবছরের পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো দেখাচ্ছে, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ থাকলেও আবেদনকারীদের জন্য অভিবাসনপ্রক্রিয়ার নিয়ম, যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতার শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প প্রশাসন
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প, চাপে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যটির ভোটার তালিকায় থাকা ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যালট গণনা বন্ধের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ফেডারেল সরকার। তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ এই তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বলেছে, যাচাই করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৯ অক্টোবর জানায়, ‘অপারেশন প্রোটেক্ট দ্য ভোট’ নামের একটি উদ্যোগের আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২৮ জনই যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী। তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। স্থায়ী বাসিন্দারা বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করতে পারলেও সাধারণভাবে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার তাঁদের নেই। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ভোটার নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক বলে দাবি করেছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিচার এখনো শেষ হয়নি। ফলে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, গত সাত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে অবৈধ ভোট দেওয়া এবং বেআইনিভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগে মোট ১১৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় অ-মার্কিন নাগরিকের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, নিবন্ধন ফরমে নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং একাধিকবার ভোট দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে অক্টোবরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলার তথ্য প্রকাশ করছে বিচার বিভাগ। ৫ অক্টোবর ১৬ জন অ-মার্কিন নাগরিককে ঘিরে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগের কথা জানানো হয়। ১২ অক্টোবর অবৈধ ভোট ও প্রতারণামূলক নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার তথ্য প্রকাশ করা হয়। ১৬ অক্টোবর নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউইয়র্ক ও আইডাহোর ১৬ জনকে ঘিরে অভিযোগের কথা জানানো হয়। এরপর ১৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার ঘোষণা আসে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে রাজ্যটির বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। বিচার বিভাগের মামলায় বলা হয়েছে, রাজ্যের ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি এমন ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাঁদের সরকার সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক বলে মনে করছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ চায়, এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যালট গণনা বন্ধ রাখা হোক। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা এই দাবি মেনে নেননি। রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার বলেছেন, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য রাজ্যকে দেওয়া হয়নি। রাজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে অযোগ্য ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ঠেকাতে রাজ্যে বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থাও রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর প্রশাসন যেসব ব্যালটকে সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করেছে, সেগুলো গণনা করা হলে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ সতর্ক করেছে, কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তা জেনেশুনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট গ্রহণ বা গণনায় সহায়তা করলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কিংবা ফৌজদারি মামলা হতে পারে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ভোটারকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করাই কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তার অপরাধ প্রমাণ করে না। ফৌজদারি দায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রমাণ করতে হবে, কর্মকর্তা জানতেন যে ভোটারটি ভোট দেওয়ার যোগ্য নন এবং জেনেশুনে তাঁকে বেআইনি ভোট দিতে সহায়তা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসন মামলায় তাঁর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী মাইকেল টি. ভ্যান ডার ভিন বলেন, কোনো ব্যক্তিকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার অর্থ এই নয় যে তাঁর ব্যালট প্রক্রিয়াকরণকারী কর্মকর্তা অপরাধ করেছেন। তাঁর মতে, কর্মকর্তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন, নাকি জেনেশুনে অবৈধ ভোটে সহায়তা করেছেন—সেটিই হবে আইনি বিবেচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্রাবারও বলেন, কোনো কর্মকর্তা ভোটারের অযোগ্যতার বিষয়টি জেনেও ব্যালট গণনা করেছেন, এমন প্রমাণ প্রয়োজন হবে। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড ফ্রুমকিনের মতে, ভোটারের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ বা বিরোধ থাকলেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ও ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে বিরোধকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বিচার বিভাগের অভিযোগ এবং রাজ্য সরকারের আপত্তি—দুটিই এখনো আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ। অভিযুক্তদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হওয়া এবং ভোটার তালিকার বিতর্কিত নামগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই হওয়ার আগে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ব্যাপক ভোট জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ৭:৩২
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সংখ্যায় নতুন রেকর্ড

এক বছরে ১৩ লাখের বেশি মানুষ পেলেন গ্রিন কার্ড, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হলো নতুন রেকর্ড

কৃষকদের জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা ট্রাম্পের

ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা ট্রাম্পের, বরাদ্দ ৮ বিলিয়ন ডলার

ঐতিহাসিক গির্জা থেকে মসজিদ, নতুন পরিচয়ে পুরোনো ভবন

গির্জা থেকে মসজিদ, ইতিহাস বাঁচিয়ে সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউটিকা শহর

যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ইলন মাস্ক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা, কারা পাচ্ছেন এই শেয়ার?

যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের জন্য নিজের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। আগামী বছর থেকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকলেও কোন বয়সের শিশুরা শেয়ার পাবে, কোন জন্মতারিখের শিশুরা যোগ্য হবে এবং অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা এই সুবিধার আওতায় আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের মধ্যেও এ ধরনের উদ্যোগের সম্ভাব্য যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।   মাস্কের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। তবে ‘প্রতিটি শিশু’ বলতে ঠিক কোন বয়সসীমার শিশুদের বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। ১৮ বছরের কম বয়সী সব শিশু এই সুবিধা পাবে কি না, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো তারিখের আগে বা পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য আলাদা নিয়ম থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   শেয়ার পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুদের পাশাপাশি গ্রিন কার্ডধারী পরিবারের সন্তান, অস্থায়ী ভিসায় বসবাসরত পরিবারের শিশু কিংবা অন্য দেশে জন্ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শিশুরা এই পরিকল্পনার আওতায় আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। একইভাবে, বাবা-মাকে আবেদন করতে হবে কি না, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র লাগবে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সঞ্চয়ের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে একটি বিনিয়োগ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্পেসএক্সের শেয়ার বিতরণ করা হবে কি না, কিংবা শেয়ার পাওয়ার জন্য আলাদা কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে কি না, তা নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। তাই অভিভাবকদের জন্য এখনই কোনো নির্দিষ্ট আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।   যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা কয়েক কোটি। প্রতিটি শিশুকে একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক শিশু একটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে শেয়ারের আর্থিক মূল্য নির্ভর করবে শেয়ারের প্রকৃত মূল্যায়ন ও বিতরণের শর্তের ওপর। শেয়ার পাওয়া মানেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিশ্চিত হওয়া নয়, কারণ ভবিষ্যতে এর মূল্য বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।   এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইলন মাস্কের ঘোষণায় শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা থাকলেও যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ও বিতরণপ্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়। কোন বয়সের শিশু এই সুবিধা পাবে, জন্মতারিখের কোনো সীমা থাকবে কি না এবং অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা এর আওতায় আসবে কি না, তা জানতে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ২৩:৩৯
ইরান-সংশ্লিষ্ট মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সর্বশেষ হিসাব প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরান যুদ্ধে ২১ মার্কিন সেনার মৃত্যু ও আহত ৮৬৫, পেন্টাগনের নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ

এআই দিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার কণ্ঠস্বর নকল করে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ব্যাংক থেকে ফোন এলেই সাবধান! এআই দিয়ে কণ্ঠস্বর নকল করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার ডলার

টেক্সাসের লারেডোর অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ডালাসে দীর্ঘদিন বসবাস করা এমিলিয়ানো আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

টেক্সাসের অভিবাসন কেন্দ্রে ডালাসের বাসিন্দার মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের

অভিবাসন নথি ও অতীতের বিয়ে নিয়ে তদন্তের মুখে রয়েছেন মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তে ডিএনএ প্রমাণের দাবি, অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ডিএনএ প্রমাণ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ২০০৯ সালে সাবেক স্বামী আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করার সময় তিনি তাঁর ভাইকে বিয়ে করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে অভিযোগের সমর্থনে এই প্রমাণ কাজে লাগানো হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট। তবে অভিযোগটি এখনো প্রমাণিত নয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কেও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।   প্রতিবেদনটিতে তদন্ত সম্পর্কে অবগত কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই তদন্তে তথ্যদাতা, সরকারি নথি এবং সম্প্রতি পাওয়া ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, ইলহান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা। অভিযোগ অনুযায়ী, এলমিকে বিয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সূত্রগুলোর বক্তব্যের বাইরে ডিএনএ নমুনা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বা পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে, তা স্পষ্ট নয়।   গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তল্লাশিতে কিছু নথি ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাসায় তল্লাশি এবং ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য উপাদান মিলিয়ে অভিবাসন জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্র্যান্ড জুরির সামনে মামলা উপস্থাপনের ভিত্তি তৈরি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগপত্র দাখিল বা অপরাধ প্রমাণের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   তদন্তের আওতায় তাঁর আর্থিক বিবরণীও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো বলেছেন, আদালত সম্ভাব্য কারণের ভিত্তি না পেলে তল্লাশির পরোয়ানা অনুমোদন করতেন না। তবে এ বক্তব্য অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি নেমা রাহমানি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হলে মূল ঘটনার কিছু অংশ তামাদি হওয়ার সময়সীমার বাইরে থাকলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট হিসেবে বিবেচনায় আসতে পারে। তদন্তের চূড়ান্ত আইনি পরিণতি কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।   ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের সময়ও একই ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তখনকার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপরাধের পর্যাপ্ত প্রমাণ পাননি বলে সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। বর্তমান তদন্তে ওমরের জন্মতারিখ ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত নথি এবং তাঁর প্রয়াত বাবা নুর ওমর মোহাম্মদের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ওমরের আইনজীবীরা তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন এবং তল্লাশিতে জব্দ করা সামগ্রী ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে ওমরকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন এবং তল্লাশির সময় আদালতের নির্ধারিত শর্ত মানা হয়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তাদের আইনজীবী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আদালতের আদেশ এবং আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই কাজ করেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল ও আদালতের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।   সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে পরিবারের সঙ্গে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। তিনি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হিসেবে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। তবে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস সদস্যের নাগরিকত্ব বাতিল বা তাঁকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নজিরবিহীন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ২২:৪৯
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চেয়েছে ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের

নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা সমন্বয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পৃথক বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় জোর দিতে ট্রাম্পের নির্দেশ, গঠন হচ্ছে বিশেষ বিভাগ

অপরাধ, সড়ক নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আর্থিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮২টি শহরের মূল্যায়ন করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ ২০ শহরের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে আলাস্কার জুনো

0 Comments