বিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন জাহাজটি চীনা সরকারের অনুমতি ছাড়াই তাদের দাবিকৃত জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বেইজিং। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে নৌবাহিনী পাঠানোর কথা জানিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী। একই দিনে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর অংশে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপপুঞ্জের কাছেও চীন ও তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের জাহাজ মুখোমুখি অবস্থানে যায়। পরপর দুটি ঘটনা এ অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
চীনের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড মঙ্গলবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস চার্লসটন স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা শোলের কাছের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। চীনের দাবি, ভোরের দিকে জাহাজটি তাদের সরকারের অনুমতি ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করে। বেইজিং এ ঘটনাকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
চীনা সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ চীনের সার্বভৌম অধিকার ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কার্যক্রম আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও ক্ষতিকর। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। জাহাজটির গতিবিধি অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য চীনা নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ওয়াশিংটন সাধারণত এ ধরনের নৌ-অভিযানকে ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন অপারেশনস’ বা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে। আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের অধিকার নিয়ে যেসব সামুদ্রিক দাবির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এমন অভিযানের পরিচিত তথ্য এক বছরেরও বেশি সময় আগের।
ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন জাহাজটি ‘চীনা ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেনি’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় আইনসম্মতভাবে চলাচলের জন্য কোনো দেশের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। এ বক্তব্য চীনের দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তবে সংশ্লিষ্ট জলসীমার আইনগত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো অঞ্চল নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন। তবে ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামেরও এ অঞ্চলের বিভিন্ন অংশ নিয়ে দাবি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধ বিশেষভাবে তীব্র হয়েছে। সাবিনা শোলও দুই দেশের বিরোধপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকাগুলোর একটি।
গত মাসে একই এলাকার কাছে জ্বালানি সংগ্রহের কাজে থাকা ফিলিপাইনের একটি নৌযানের সঙ্গে চীনের কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজের সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছিল ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড। ফিলিপাইনের অভিযোগ ছিল, চীনা জাহাজটি তাদের নৌযানকে ধাক্কা দিয়েছিল। তবে ওই ঘটনার জন্য ফিলিপাইনকেই দায়ী করে চীন। সাবিনা শোল এবং পুরো স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকায় এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কৌশলগত গুরুত্বও বেশি।
এদিকে মঙ্গলবার দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর প্রান্তে প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানায়, চীনের কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপপুঞ্জের কাছে সীমাবদ্ধ জলসীমায় প্রবেশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাইওয়ানের ‘তাইচুং’ নামের একটি জাহাজ সেখানে পাঠানো হয়। জাহাজটি চীনা নৌযানকে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেয়।
তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় দুই পক্ষের জাহাজ থেকে পরস্পরের উদ্দেশে বার্তা প্রচার করা হয়। চীনা জাহাজ থেকে বলা হয়, ‘তথাকথিত রিপাবলিক অব চায়না বলে কিছু নেই।’ রিপাবলিক অব চায়না হলো তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নাম। এর জবাবে তাইওয়ানের জাহাজ থেকে বলা হয়, ‘রিপাবলিক অব চায়না, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ।’ তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত ছিল। এ ঘটনা নিয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ তাইওয়ান ও হংকংয়ের মাঝামাঝি অবস্থিত। দ্বীপগুলোতে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্ব তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের। গত সপ্তাহে ওই এলাকার কাছে চীনের একটি মাছ ধরার নৌযানের বিরুদ্ধে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জলকামান ব্যবহার করার পর বেইজিং সতর্ক করে বলেছিল, এর পরিণতি তাইওয়ানকে ভোগ করতে হবে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজস্ব সরকার ও প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দ্বীপটির আশপাশে, এমনকি পূর্ব উপকূলেও চীনা কোস্ট গার্ডের তৎপরতা বাড়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার তাইপেতে অনুষ্ঠিত এক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস-নিযুক্ত একটি পর্যালোচনা কমিশনের চেয়ারম্যান তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে চীনা কোস্ট গার্ডের টহলকে ‘অত্যন্ত অস্থিতিশীলতাসৃষ্টিকারী’ বলে বর্ণনা করেন। একই অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ বলেন, দ্বীপটির পূর্ব উপকূলের জলসীমার ওপর চীনের কোনো আইনগত দাবি নেই।
দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজকে ঘিরে চীনের নজরদারি এবং প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীন-তাইওয়ানের মুখোমুখি অবস্থান—দুটি ঘটনাই এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সামুদ্রিক বিরোধকে আবার সামনে এনেছে। ভূখণ্ডগত দাবি, সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তির কারণে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তবে এসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব রাজনীতি
View moreভারতের উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌতে দশেরা উৎসবের আগে রাবণের একটি পোস্টার ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পোস্টারটিতে রাবণের দশটি মাথায় বসানো হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কসহ বিভিন্ন দেশের পরিচিত রাজনীতিক ও ব্যক্তিত্বের ছবি। ‘সনাতন ভারতের বিরোধী রাবণ’ নামের এই পোস্টারটি প্রচার করেছে সনাতন রক্ষা সংগঠন। পোস্টারটিতে প্রতীকীভাবে এমন ব্যক্তিদের মুখচ্ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যাঁদের সংগঠনটি সনাতন ভারতের বিরোধী হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। এতে ভারতের রাজনীতিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির ছবিও স্থান পেয়েছে। পোস্টারে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের সাবেক বিধায়ক আতিক আহমেদ ও মুক্তার আনসারি, রাজনীতিক আজম খান, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এ ছাড়া রয়েছে ইলন মাস্ক, বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ভারতীয় আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, জর্জ সরোস ও ইলহান ওমরের ছবি। দশেরা বা ‘রাবণ দহন’ উৎসবকে কেন্দ্র করেই পোস্টারটি প্রচার করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, এ উৎসবে রাবণের প্রতিকৃতি পোড়ানোর মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়কে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। তবে এবার রাবণের দশ মাথায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক পরিচিত মুখের ছবি ব্যবহার করায় উৎসবটি ঘিরে রাজনৈতিক মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। ভারতের একটি গণমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে লক্ষ্ণৌয়ের একটি স্থান থেকে সমাজবাদী পার্টির কর্মীদের এ ধরনের একটি পোস্টার সরিয়ে নিতে দেখা যায়। পোস্টারটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে এতে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নজর কেড়েছে। এ প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির এক সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে অখিলেশ যাদবের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে বিজেপি উদ্বিগ্ন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই পোস্টারে অখিলেশের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি দেখা উচিত। তবে পোস্টারটিতে থাকা সব ব্যক্তির ছবি ব্যবহারের পেছনে সংগঠনটির নির্দিষ্ট যুক্তি কী, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে, পোস্টারটি ঘিরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। দশেরা উৎসবের মতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি যুক্ত হওয়ায় লক্ষ্ণৌয়ের এই পোস্টার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ইলন মাস্কের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের ছবি একই পোস্টারে থাকায় বিষয়টি ভারতের বাইরেও আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
বিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধে জেলেনস্কি একাধিক সুযোগ কাজে লাগাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর দুই নেতার মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। তাঁর মতে, এমন একজন নেতার প্রয়োজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে যু দ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, জেলেনস্কি বহুবার চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করেননি। ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কি চাইলে বহুবার যু দ্ধের সমাধান করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর দাবি, এ যু দ্ধ শুরু হওয়ারই কথা ছিল না। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে যু দ্ধ শুরুর সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে সংঘাতটি ঘটত না। জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়ে ট্রাম্পের এ বক্তব্য ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনার অন্যতম কঠোর উদাহরণ। তবে ইউক্রেনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা পরিকল্পনার কথা তিনি জানাননি। দেশটির নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি ইউক্রেনের নিজস্ব সাংবিধানিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিজেল চুক্তি ঘিরে নতুন বিরোধ শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করবে। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, প্রথম ধাপে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হবে। নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং এরপর আরও ১০ লাখ টন সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার ওপর হা মলা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, খামারির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ভোক্তারাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় ইউক্রেন হা মলা চালাতে পারলেও তেল পরিশোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে তিনি জেলেনস্কিকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা চালিয়েছে। চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হা মলা চালায় বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও চুক্তির শর্তের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে সব তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়। ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির শর্ত মেনে হা মলা বন্ধে সম্মত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই। ইউক্রেনের আপত্তি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। দেশটির অবস্থান, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ বাড়লে দেশটি আরও বেশি অর্থ পাবে, যা চলমান যু দ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে। ইউক্রেনের মতে, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো হলে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউক্রেনের যুক্তি, রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা দেশটির যু দ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করার একটি উপায়। অন্যদিকে, ট্রাম্প মনে করছেন এসব হা মলা ডিজেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়াতে পারে। দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থানই নতুন বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। জ্বালানি অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ মার্গারিটা বালমাসেদার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় রাশিয়াকে বেশি সুবিধা দিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়া কম দামে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে রুশ তেল পরিশোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হা মলা অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার পক্ষে প্রতিশ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হতে পারে। ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কে আগের টানাপোড়েন ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কে এর আগেও প্রকাশ্য বিরোধ দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে জেলেনস্কির তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আচরণের সমালোচনা করেন এবং সতর্ক করে বলেন, তিনি তৃতীয় বিশ্বযু দ্ধের ঝুঁকি নিয়ে খেলছেন। বৈঠকে পরিকল্পিত খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়। পরে দুই নেতার সম্পর্কে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দেখা গেলেও রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধের শর্ত এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা তুলে ধরেছিলেন। একই বছরের ডিসেম্বরে মার-আ-লাগোতে বৈঠকের পর দুই পক্ষই যু দ্ধের সমাধানের দিকে অগ্রগতির কথা বলেছিল। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। ২০১৮ সালে হেলসিঙ্কিতে দুই নেতার বৈঠক এবং ২০২৫ সালে তাঁদের একাধিক যোগাযোগের পরও রাশিয়া-ইউক্রেন যু দ্ধ বন্ধে স্থায়ী সমাধান আসেনি। ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকও যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ হয়। ট্রাম্প এবারও যু দ্ধ অব্যাহত থাকার দায় জেলেনস্কির ওপর চাপিয়েছেন। তবে যু দ্ধ বন্ধের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের চুক্তি সম্ভব, কিংবা নতুন নেতৃত্ব এ ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনতে পারে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন নীতিতে কী পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভবিষ্যতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ কতটা কার্যকর হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হতেই সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট, সৌদি নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ২৩ ক্যারেট সোনায় তৈরি ট্রাম্পের ন গ্ন ভাস্কর্য প্রদর্শিত
এল-সাঈদের পক্ষে প্রচারে নামছেন বারাক ওবামা, ডেট্রয়েটে ২৪ অক্টোবর সমাবেশ
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাবকে এখন বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। ‘লাতিনোবারোমেত্রো ২০২৬’ নামে পরিচালিত এক বৃহৎ জনমত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত জরিপের ফল অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে এই বার্ষিক জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে চীন। জরিপে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকার ৬৫ শতাংশ মানুষ চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ছয় বছর আগে এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক মনে করেন ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা, যা ২০২০ সালে ছিল ৬০ শতাংশ। কোস্টারিকা ও ডোমিনিকান রিপাবলিক ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া বাকি সব দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাব বেশি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। জরিপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক কম সক্রিয় উপস্থিতির পাশাপাশি চীনের সঙ্গে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ার বিষয়টি এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হতে পারে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো অন্যান্য শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। লাতিনোবারোমেত্রোর পরিচালক মার্তা লাগোস বলেন, বিশেষ করে তুলনামূলক কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি করে চীন লাতিন আমেরিকার মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। তার ভাষায়, মানুষের ‘পকেটের শূন্যতা’ পূরণের মাধ্যমে চীন এ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তবে সামগ্রিক আঞ্চলিক প্রভাবের মূল্যায়নে চীন এগিয়ে থাকলেও একক দেশ হিসেবে জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে এখনো যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা এগিয়ে। জরিপে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ। অবশ্য ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মত ছিল ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে দেশটির জনপ্রিয়তার সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাতিন আমেরিকান নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রভাব বিস্তারের ধারণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই শতাব্দী ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকা ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে কেউ কেউ বর্তমান নীতিকে ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। জরিপের প্রতিবেদনে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে জানুয়ারির ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মাদুরোকে আটকের ঘটনাকে সমর্থন করেছেন। তবে মাত্র ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার জন্য ইতিবাচক হয়েছে। চিলিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান লাতিনোবারোমেত্রো এই জরিপ পরিচালনা করেছে। ৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার ১৭টি দেশে প্রায় ১৯ হাজার ২০০ মানুষের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। জরিপের ফলাফল বলছে, লাতিন আমেরিকায় চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে কোন শক্তি দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলে কতটা প্রভাব ধরে রাখতে পারবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতির ওপর।
সন্ত্রা সবাদ থেকে শুল্ক ইস্যুতে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করছে মোদির ভারত
আই এ সের হাত থেকে ৩০ হাজার প্রাচীন নিদর্শন বাঁচাতে জীবন বাজি রাখেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা