সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কের পর এবার টেনেসিতে, ডাকাতির সময় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৮:৪৯
নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত রাজু (বামে) ও টেনেসিতে ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত মহসিন রানা (ডানে)
নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত রাজু (বামে) ও টেনেসিতে ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত মহসিন রানা (ডানে)

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি এক রেস্টুরেন্টকর্মী গুলিতে নিহত হওয়ার একদিনের মধ্যেই টেনেসিতে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন আরেক বাংলাদেশি। নিহত ৩৮ বছর বয়সী মহসিন রানা টেনেসির বেলস শহরের একটি গ্যাস স্টেশনের কনভেনিয়েন্স স্টোরে কর্মরত ছিলেন।

 

রোববার, ২৩ আগস্ট ভোররাতে বেলস শহরের ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একজন বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে ডাকাতি করার সময় কর্মচারীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে দোকানে আসা এক ক্রেতা ক্যাশ কাউন্টারের কাছে মহসিনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে ৯১১-এ ফোন করেন।

 

পুলিশ ও জরুরি সেবার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহসিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা টিবিআই তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোররাতের ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি দোকান থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আটক করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটির তদন্তে ক্রকেট কাউন্টি শেরিফের অফিস, বেলস পুলিশ, টিবিআই, এটিএফ, এফবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থা যুক্ত রয়েছে।

 

নিহত মহসিনের এক স্বজনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বন্দুকধারী প্রথমে ক্যাশ কাউন্টারে থাকা টাকা দাবি করে। মহসিন কোনো ধরনের প্রতিরোধ না করে টাকা তুলে দেন। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিগারেট চাইলেও মহসিন তার নির্দেশ অনুযায়ী সিগারেট দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বন্দুকধারী তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় বলে স্বজনরা জানান।

 

প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশের ঢাকার সাভার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মহসিন রানা। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে বাংলাদেশে থাকেন। দুই সন্তানের একজনের বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের ৫ বছর।

 

এদিকে, একই দিনে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টকর্মী ইউসুফ রাজু। ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজায় রোববার ভোরে ওই হামলায় রাজু নিহত হন এবং রাসেল নামে ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি আহত হন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

 

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের গুলিতে হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে টেনেসি ও নিউইয়র্কের দুটি ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে ক্রিস্টা পাইকের করা মামলাটি নতুন করে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া প্রথম নারী ক্রিস্টা পাইক, আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়

বৃহস্পতিবারের আদেশে ন্যাশভিলের ডেভিডসন কাউন্টি চ্যান্সারি কোর্টের বিচারক আইশিয়া মাইলস জানান, মামলাটি শুনানির জন্য এই আদালতই উপযুক্ত। পাইকের আইনজীবীরা আগে থেকেই টেনেসির প্রাণঘাতী ইনজেকশন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের দাবি, অঙ্গরাজ্যের নতুন পদ্ধতিতে এক ধরনের ওষুধ, পেন্টোবারবিটাল, ব্যবহার করা হলেও প্রয়োগের গোপনীয়তা, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কাজে কারা দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তাঁদের মতে, পাইকের শারীরিক অবস্থার কারণে এই পদ্ধতি তাঁর ক্ষেত্রে অসাংবিধানিক হতে পারে।   পাইক গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসির রিভারবেন্ড সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর শরীরে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করা হলেও তিনি মারা যাননি। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়া চলাকালে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন চালু ছিল। পরে তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি বলে বর্ণনা করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।   পাইকের আইনজীবীরা আগে থেকেই তাঁর শিরায় সুচ প্রবেশ করানোর জটিলতা এবং রক্তসংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, ইনজেকশন প্রয়োগের সময় অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করা হয় এবং একটি সুচ বাঁকা হয়ে বেরিয়ে আসে। তাঁদের দাবি, ওষুধ শিরার বাইরে আশপাশের টিস্যুতে প্রবেশ করায় তাঁর দুই হাতে গুরুতর ফোলা ও ক্ষত তৈরি হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে আইনজীবীরা এখন সংশ্লিষ্ট নথি ও চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছেন। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়কার প্রমাণ ইতিমধ্যে সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করা হয়েছে।   আদালতের সাম্প্রতিক আদেশে টেনেসি সংশোধন বিভাগকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ, সিরিঞ্জ, শিরায় ওষুধ দেওয়ার নল, অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী, ছবি, ভিডিও, অডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, ই-মেইল এবং ঘটনার সময় কোনো জটিলতা বা বিলম্বের নথি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। আগে কোনো তথ্য বা সামগ্রী মুছে ফেলা কিংবা নষ্ট করা হয়ে থাকলে, তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করতে হবে। পাইকের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক দাবি সব প্রমাণ হাতে পাওয়া নয়, বরং ভবিষ্যৎ আইনি লড়াইয়ের জন্য সেগুলো অক্ষত রাখা।   পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ১৯৯৫ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। আদালতের নথি অনুযায়ী, টেনেসির নক্সভিলে জব কর্পসের সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় পাইক দোষী সাব্যস্ত হন। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, পাইক ও আরও দুজন কিশোর-কিশোরী স্লেমারকে একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন।   ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর টেনেসির গভর্নর বিল লি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেন। চলতি বছর টেনেসিতে এটি ছিল দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে বসন্তে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় বিকল্প শিরাপথ স্থাপন করা না যাওয়ায় বন্ধ করা হয়েছিল। এসব ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   পাইক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলতে পারছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি এখনো অনিশ্চিত। তাঁর হাতে রক্ত জমাট বাঁধা ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কতটা ফিরবে, তা চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করতে পারেননি। আইনজীবীরা তাঁর চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা গভর্নর লির কাছে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।   আদালতের এই সিদ্ধান্তে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে আইনি প্রশ্নগুলো আবার সামনে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মামলার মূল অভিযোগের শুনানি শেষে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একইভাবে, স্থগিতাদেশের পর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কার্যক্রম কখন আবার শুরু হবে, সে বিষয়েও কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।   সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২৩:৪৪
কলম্বিয়ান অভিবাসী পরিবারের সন্তান স্যান্ড্রা শর্টার আজ তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শিক্ষকতা ছেড়ে কাপকেকের ব্যবসা, ১০ বছরে সফল উদ্যোক্তা সান্দ্রা

যুক্তরাষ্ট্রে টিসিএস, ইনফোসিসসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আইটি কর্মীদের গ্রিন কার্ডে বড় ধাক্কা! স্থগিত টিসিএস, ইনফোসিসের পিইআরএম প্রক্রিয়া

ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ালনাট ক্রিকে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে চার বেডরুমের আধুনিক বাড়ি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ডলারে

নিউইয়র্কের কুইন্সে তিন তলা ভবন থেকে পড়েও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় দুই বছরের এই শিশু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে তিন তলা থেকে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২ বছরের শিশু

নিউইয়র্কের কুইন্সে তিনতলা ভবন থেকে পড়ে আহত হয়েছে দুই বছর বয়সী এক শিশু। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ফরেস্ট হিলস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আঘাত আপাতত সামান্য বলে জানা গেছে এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে হাসপাতালের এক্স-রে পরীক্ষার পর আঘাতের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার কিছু আগে কুইন্স বুলেভার্ডের ১০২-১০ নম্বর ঠিকানায় একটি জরুরি ফোনকল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে ভবন থেকে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে মাটিতে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে দ্রুত কোহেন চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। শিশুটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তার আঘাতের মাত্রা প্রাথমিকভাবে কম বলে মনে হচ্ছে।   পুলিশের একটি সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, শিশুটির আঘাতের বিষয়ে হাসপাতালের এক্স-রে পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কীভাবে শিশুটি ভবনের জানালা থেকে নিচে পড়ে গেল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর কয়েক দিন আগেই ব্রঙ্কসে এক মাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তিনি নিহত হন এবং একটি শিশু আহত হয়। তবে কুইন্সের এই ঘটনার সঙ্গে আগের ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য পুলিশ দেয়নি।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২২:১
উচ্চতা বাড়ানোর জন্য দেড় লাখ ডলার খরচ করে ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাবা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

তিন ইঞ্চি উচ্চতা বাড়াতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অপারেশন, ছেলের পাশে দাঁড়ালেন বাবা

জে-১ ভিসার অপব্যবহার রোধে ৯ শীর্ষ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক তদন্তের ঘোষণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা জেডি ভ্যান্সের

অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করবে পেন্টাগন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফোর্ট হুড হামলাকারীর ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে কেন এত সংকট, মাসের পর মাস আবেদন করেও কাজ পাচ্ছেন না অনেকে

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরি খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। মাসের পর মাস আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না বহু চাকরিপ্রার্থী। বিশেষ করে ব্যাংকিং, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক সেবা ও বিভিন্ন দাপ্তরিক পেশায় নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু অংশে নতুন কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান তৈরি হলেও সব খাতের চাকরিপ্রার্থীরা সমানভাবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগদাতাদের অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার চাকরির বাজারকে জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সময় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে দ্রুত কর্মী নিয়োগ করেছিল, বর্তমানে সেই প্রবণতা আর দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে বেশি কাজ করানো এবং ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। চাকরির বাজারের এই পরিস্থিতি শুধু বেকারত্বের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন কাজ না পেলে বাড়ি কেনা, পরিবার গঠন, ঋণ পরিশোধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের জন্য সমস্যাটি আরও প্রকট। কারণ, অভিজ্ঞ কর্মীদের তুলনায় তাঁদের পেশাগত যোগাযোগের সুযোগ কম এবং কাজের অভিজ্ঞতাও সীমিত। ফলে একই পদের জন্য বহু আবেদনকারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও তাঁরা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিয়োগে সতর্ক প্রতিষ্ঠানগুলো নিউজউইকের প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি অ্যাট মার্টিনের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষক অ্যালেক্স বীনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থেকে শুরু করে কিছু খাতে ভোক্তাদের ব্যয় কমে আসা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় বর্তমান চাকরির বাজারে চাপ তৈরি করছে। তবে নিয়োগদাতাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো আগামী ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার চাহিদা কেমন থাকবে, পরিচালন ব্যয় কতটা বাড়বে এবং নতুন কর্মী নিয়োগ করে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে কি না, তা বিবেচনা করছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সম্ভাব্য শুল্ক এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের মতো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছে, বিশেষ করে যেসব পদে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। বীনের মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোক্তাদের চাহিদা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত নিয়োগের গতি ধীর থাকতে পারে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব কাজ প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব, সেগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর ফলে চাকরির বাজারে সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও নতুন নিয়োগের জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। মানবসম্পদবিষয়ক পরামর্শক ব্রায়ান ড্রিসকলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য চাকরিপ্রার্থীদের এককভাবে দায়ী করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী না নিয়েও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে বাড়িভাড়া, খাবার, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয় সমানতালে না বাড়লে কম বেতন বা অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে চাকরি ছেড়ে দেওয়াও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যানে কর্মসংস্থান বাড়লেও সব খাতে একই চিত্র নয় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানবিষয়ক এডিপি ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৯০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। তবে এই প্রবৃদ্ধি সব খাতে সমান ছিল না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার এবং অবসর ও আতিথেয়তা খাতে ২২ হাজার কর্মসংস্থান বাড়ে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার এবং উৎপাদন খাতে ১৭ হাজার কর্মী যুক্ত হন। বিপরীতে আর্থিক কর্মকাণ্ডে ১৬ হাজার এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবায় ১১ হাজার কর্মসংস্থান কমে যায়। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়লেও অনেক দাপ্তরিক পেশায় চাকরির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। তবে বেসরকারি খাতের এই পরিসংখ্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো শ্রমবাজারের চিত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে কৃষিবহির্ভূত মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগের মাসের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। সরকারি ও বেসরকারি খাতের হিসাবের আওতা ও পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় এডিপি এবং সরকারি প্রতিবেদনের সংখ্যাও এক নয়। তবে দুটি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিক শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সমস্যাটি শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। কোনো দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও নতুন চাকরির সুযোগ যদি নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে অন্য খাতের আবেদনকারীদের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের পাশাপাশি নতুন স্নাতকদেরও একই পদের জন্য আবেদন করতে হলে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের সুযোগ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি চাকরির সুযোগ কমাচ্ছে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তার আরেকটি কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন মূল্যায়ন করছে, প্রযুক্তির সাহায্যে কোন কাজগুলো দ্রুত ও কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব। বিশেষ করে তথ্য বিশ্লেষণ, দাপ্তরিক কাজ, গ্রাহকসেবা এবং কিছু লেখালেখি ও যোগাযোগের দায়িত্বে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যে অধিকাংশ কর্মীকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করেছে। বরং প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে কর্মীদের দায়িত্ব কীভাবে বদলে দিতে পারে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে কিছু নিয়োগদাতা নতুন কর্মী নেওয়ার আগে অপেক্ষা করছে। যেসব কাজ বিদ্যমান কর্মী বা প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে, সেসব পদে নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। কারণ, কর্মজীবনের শুরুতে থাকা অনেকেই এমন পদে আবেদন করেন, যেগুলোতে আগে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো যদি একই দায়িত্ব বর্তমান কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেয় অথবা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায়, তাহলে নতুনদের প্রবেশের সুযোগ কমে যেতে পারে। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কোন খাতে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক বেশি বর্তমান পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু খাতে কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, আবাসিক পরিচর্যা, বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নির্মাণ এবং দক্ষ কারিগরি পেশা উল্লেখযোগ্য। দেশটির বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ও পরিচর্যাসেবার চাহিদাও বাড়ছে। ফলে হাসপাতাল, পরিচর্যাকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রতিষ্ঠানে কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। এডিপির সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। অবসর ও আতিথেয়তা খাতেও ২২ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান কোনো নির্দিষ্ট পেশায় সারা দেশে সমানসংখ্যক শূন্য পদ থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। অঞ্চল, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতার চাহিদা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। নাইনআই ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন থম্পসন নিউজউইককে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ বর্তমানে তথ্যকেন্দ্র ও নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট খাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অবসর ও আতিথেয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক সেবার মতো খাতে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল। অন্যদিকে ব্যাংকিং, আর্থিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, প্রযুক্তি, করপোরেট প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ খাতের কিছু অংশে নিয়োগের গতি কমেছে। এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোথাও নতুন নিয়োগ কমেছে, আবার কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা নতুন পদ তৈরির প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। থম্পসনের পরামর্শ হলো, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চাকরিপ্রার্থীদের প্রয়োজনে পদমর্যাদা, বেতন কিংবা দায়িত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত লক্ষ্য ঠিক রেখে কাছাকাছি ধরনের অন্য পদ বা চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। চাকরি পেতে কী কৌশল নিতে পারেন প্রার্থীরা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ ও ২০২২ সালের তুলনামূলক সক্রিয় নিয়োগের সময়ের মতো শুধু অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষা করার কৌশল এখন অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। বরং কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ চলছে, কী ধরনের দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে এবং নিজের অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত যোগাযোগও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাবেক সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট পেশার পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন নিয়োগের খবর পাওয়া যেতে পারে। কিছু পদে পরিচিত ব্যক্তির সুপারিশ বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিয়োগদাতার নজরে আসার সুযোগ পান। তবে সুপারিশ থাকলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। ড্রিসকল চাকরিপ্রার্থীদের এমন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে নিয়োগের ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ইতিহাস তুলনামূলক কম। পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্তে দায়িত্বের তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে আগের কাজের সুনির্দিষ্ট অর্জন ও ফলাফল তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আবেদন করা পদের প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত সাজাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। তবে সেখানে উল্লেখ করা তথ্য অবশ্যই সত্য ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিকল্প পেশার সুযোগ বিবেচনা করা। নিজের মূল ক্ষেত্রের পাশাপাশি কাছাকাছি দক্ষতা প্রয়োজন এমন অন্য খাতেও আবেদন করা যেতে পারে। সাময়িক বা চুক্তিভিত্তিক কাজ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের একটি ধাপ হতে পারে। তবে বেতন, কাজের শর্ত এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই না করে শুধু চাকরি পাওয়ার তাগিদে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সামনে কী হতে পারে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ধসের চেয়ে ধীরগতির নিয়োগ ও তীব্র প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রাখলেও অন্যরা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে চাকরির বাজারে সামগ্রিক কর্মসংস্থান বাড়লেও নতুন চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য সুযোগ পাওয়া সহজ হচ্ছে না। বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ও এই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। ড্রিসকলের মতে, অনেক কর্মী নিজেদের প্রত্যাশার চেয়ে কম বেতন বা অনুকূল নয় এমন কাজ গ্রহণ করছেন পেশাগত পছন্দের কারণে নয়, বরং নিয়মিত খরচ মেটানোর প্রয়োজন থেকে। চাকরি না থাকার আর্থিক ঝুঁকি বেশি হলে কর্মীদের পক্ষে ভালো সুযোগের অপেক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে বর্তমান চ্যালেঞ্জের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন খাতে অসম কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি, নিয়োগদাতাদের সতর্কতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে নিয়োগের গতি বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অর্থনীতির অবস্থা, ব্যবসায়িক চাহিদা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২০:৩৭
গাড়িচালকদের ‘ধনী’ আখ্যা দিয়ে তোপের মুখে নিউইয়র্কের পরিবহন কমিশনার

গাড়িচালকদের ‘ধনী’ আখ্যা দিয়ে তোপের মুখে নিউইয়র্কের পরিবহন কমিশনার

নিউইয়র্কে প্রেমিকা ও ৮ মাসের শিশুকে ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পরও মুখে হাসি

নিউইয়র্কে প্রেমিকা ও ৮ মাসের শিশুকে ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পরও মুখে হাসি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৬৩ মৃ ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফের কথা ভাবছেন নিউসম

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৬৩ মৃ ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফের কথা ভাবছেন নিউসম

0 Comments