ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করল জন্মদাতা বাবা, উদ্ধার নবজাতকের মরদেহ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক পাষণ্ড বাবার বিরুদ্ধে নিজের ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি নির্জন রাস্তা থেকে ওই কিশোরীর নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে অভিযুক্ত ৩৮ বছর বয়সী সার্জিও গালভেস পেরেজ তার কিশোরী মেয়েকে নিয়ে পলাতক রয়েছেন।
মন্টেরে কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, পেরেজ ওই কিশোরী এবং মৃত নবজাতক উভয়েরই জন্মদাতা বাবা। তদন্তকারীরা নিহত ওই নবজাতকের নাম রেখেছেন ‘অ্যাঞ্জেলিতো’।
গত ১ আগস্ট মস ল্যান্ডিংয়ের কাছের একটি নির্জন রাস্তার পাশ থেকে নবজাতকের মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় শিশুটির নাড়ি যুক্ত ছিল এবং শরীরে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে তার সন্তানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে তার জড়িত থাকার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, তখনই পেরেজ তাকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে নিজ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে অজাচার এবং নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মন্টেরে কাউন্টির শেরিফ টিনা নিয়েতো জানান, পলাতক ওই কিশোরী চরম বিপদের মধ্যে থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তিনি বলেন, "সে মাত্র ১৪ বছরের একটি শিশু। যদিও সে এই হত্যা মামলার সন্দেহভাজন, কিন্তু দিনশেষে সে নিজেও একজন ভুক্তভোগী।"
পুলিশ দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার জবানবন্দি শুনতে চায় এবং পাষণ্ড বাবাকে আইনের আওতায় আনতে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে। ফ্লক ক্যামেরার ফুটেজের সাহায্যে পুলিশ পেরেজ ও তার স্ত্রী ওফেলিয়া গার্সিয়া ওর্তেগার নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি শনাক্ত করে, যা এই তদন্তে বড় অগ্রগতি এনে দেয়। ইতোমধ্যে শিশু বিপন্ন করার অভিযোগে ওর্তেগাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সে ২০২২ সালে বিনা প্ররোচনায় এক উন্মত্ত হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (FDNY) ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিসের (EMS) ক্যাপ্টেন অ্যালিসন রুসো। ৬১ বছর বয়সী এই অকুতোভয় ক্যাপ্টেন ছিলেন ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলায় প্রথম সাড়াদানকারীদের (ফার্স্ট রেসপন্ডার) একজন। প্রিয় এই সহকর্মীর প্রতি সম্মান জানাতে এবং তাকে চিরকাল মনে রাখার উদ্দেশ্যে গত শনিবার বিকেলে একটি বিশেষ ম্যুরাল উন্মোচন করা হয়েছে। শনিবার কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার ২০ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ফায়ার স্টেশন ৪৯-এর ঠিক উল্টোদিকে ম্যুরালটি উন্মোচন করা হয়। আবেগঘন এই অনুষ্ঠানে নিহত রুসোর শোকাহত পরিবারের সদস্যসহ ফায়ার সার্ভিস এবং ইএমএসের ৪০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বেনি গুয়েরা এবং ফার্নান্দো গার্সিয়া নামের দুই শিল্পীর নিপুণ তুলিতে ফুটে ওঠা রুসোর এলইডি-আলোকিত ম্যুরালটি উন্মোচনের সময় উপস্থিত সবাই করতালি দিয়ে সম্মান জানান। ম্যুরালের নিচে ব্যানারে লেখা রয়েছে, "নেভার ফরগটেন, ফরেভার আ হিরো" অর্থাৎ 'কখনোই বিস্মৃত হবেন না, চিরকাল একজন বীর'। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের খাবারের বিরতির সময় পিটার জিসোপোলোস নামের এক ব্যক্তির এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান রুসো। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ওই হামলাকারীকে দ্বিতীয় মাত্রার খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ম্যুরাল উন্মোচন শেষে রুসোর ভাই ক্রেগ ফুওকো সংবাদমাধ্যমের কাছে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের এমন সমর্থন সত্যি অসাধারণ। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও তার বোনকে কেউ কখনো ভুলবে না। ম্যুরালটি যে ভবনে আঁকা হয়েছে, তার মালিক উইলিয়াম জ্যাকারির মন্তব্যও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, ঠিক এই ভবনের সামনেই রুসোকে হত্যা করা হয়েছিল এবং ঘাতক জিসোপোলোস এই ভবনেরই ওপরতলায় থাকত। ওই বিভীষিকাময় স্মৃতিকে শ্রদ্ধার প্রতীকে রূপ দিতেই স্থানটিকে একটি স্মৃতিসৌধ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। জ্যাকারির ভাষায়, ম্যুরালটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে এর মুখ ফায়ার স্টেশনের দিকে থাকে। ফলে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ইএমএস কর্মীরা যখন স্টেশনে ঢুকবেন বা বের হবেন, তখন তারা দেখতে পাবেন রুসো তাদের দিকে তাকিয়ে হাসছেন।
নিউইয়র্কের স্কুলশিক্ষিকার মেসিকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট, ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে তোলপাড়
জেসমিনকে আইসিই নিয়ে গেছে বলে দাবি স্বামীর, অবশেষে হত্যা মামলায় তাকেই আটক করল পুলিশ
নিউইয়র্কে সোনার চেইন ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার মাকে ছু রি কা ঘাত
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের শিক্ষা, আর্থিক অবস্থা ও বসবাসের পরিবেশ নিয়ে তৈরি একটি বেসরকারি সূচকে প্রথম হয়েছে টেক্সাসের ফ্রিসকো। দ্বিতীয় স্থানে একই অঙ্গরাজ্যের প্লানো এবং তৃতীয় স্থানে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইন। প্রথম চার শহরের তিনটিই টেক্সাসের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রোকেয়ার থেরাপি গত ৯ সেপ্টেম্বর ‘২০২৬ আমেরিকাস চাইল্ডহুড ওয়েল-বিয়িং ইনডেক্স’ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল ১০০টি শহর নিয়ে তৈরি এই সূচকে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যার হিসাব ও সিটি হেলথ ড্যাশবোর্ডের আর্কাইভ করা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। মূল্যায়নে পাঁচটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতি, শিশুদারিদ্র্য, বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শের ঝুঁকি, পার্কে যাওয়ার সুযোগ এবং তৃতীয় শ্রেণির পড়ার দক্ষতা। প্রতিটি বিষয়ের স্কোর মিলিয়ে শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ফ্রিসকো পেয়েছে ১০০-এর মধ্যে ৮৯ দশমিক ৮। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত হিসাবে শহরটির শিশুদারিদ্র্যের হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অবস্থাসহ একাধিক ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো ফল শহরটিকে এগিয়ে রেখেছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাসের ম্যাককিনি। পঞ্চম থেকে দশম অবস্থানে পর্যায়ক্রমে রয়েছে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলার, আইডাহোর বোইসি, ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে, ভার্জিনিয়ার চেসাপিক, নেভাডার হেন্ডারসন ও ক্যালিফোর্নিয়ার চুলা ভিস্তা। নিউইয়র্ক সিটির অবস্থান ৩৯তম। বস্টন রয়েছে ৮৮তম, শিকাগো ৮৯তম এবং ফিলাডেলফিয়া ৯৪তম স্থানে। বাফেলো ৯৯তম এবং ডেট্রয়েট সর্বশেষ। প্রকাশক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, নিচের অবস্থানে থাকার অর্থ কোনো শহরে শিশুদের ভালোভাবে বেড়ে ওঠা অসম্ভব, এমন নয়। সিটি হেলথ ড্যাশবোর্ডের সংজ্ঞা অনুযায়ী, শিক্ষাবর্ষের অন্তত ১০ শতাংশ দিন স্কুলে না যাওয়াকে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতি ধরা হয়। পার্কে যাওয়ার সুযোগ বলতে বোঝানো হয়েছে বাসা থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য পার্ক থাকা। অন্যদিকে সিসার সংস্পর্শের ঝুঁকি নির্ধারণে বাড়ির বয়স ও দারিদ্র্যের তথ্য ব্যবহার করা হয়। এটি শিশুদের রক্তে সিসা শনাক্ত হওয়ার হিসাব নয়। সূচকটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ২১টি শহরের সম্পূর্ণ তথ্য না পাওয়ায় সেগুলোর ক্ষেত্রে উপলব্ধ শহরগুলোর মধ্যক মান বসানো হয়েছে। এসব শহরকে মূল তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকে বাদ রাখা হয়েছে। ব্যবহৃত প্রতিটি তথ্যের বছরও প্রকাশিত পদ্ধতিবিবরণীতে আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। ফলে এটি নির্বাচিত কয়েকটি বিষয়ের তুলনামূলক চিত্র, শিশুদের জীবনমানের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নয়।
আসন বদল না করতে চাওয়ায় যাত্রীকে নামাল ডেল্টা, নিয়ম ভাঙার দাবি এয়ারলাইনসের
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ায় ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে আইসিই
ফ্লোরিডার টাম্পায় প্রথমবার বাড়ি কিনতে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা, কারা পাবেন এই সুবিধা?
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে পরিত্যক্ত দুটি স্যুটকেস থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৪ সালের জুনে উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা পৌঁছে যান পার্শ্ববর্তী মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে। নিখোঁজ এক নারীর সন্ধান, অনলাইন পরিচয়ের সূত্র এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফল শেষ পর্যন্ত তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা স্টিভেন জেলিচকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই নারীকে হত্যার দায়ে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড পান। ঘটনাটি নিয়ে এবিসি নিউজের ‘২০/২০’ অনুষ্ঠানে নতুন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। উইসকনসিনের ওয়ালওর্থ কাউন্টিতে স্যুটকেস দুটি পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। একটি স্যুটকেস খুলে তাঁরা দড়ি দিয়ে বাঁধা এক নারীর পচনধরা মরদেহ দেখতে পান। দ্বিতীয় স্যুটকেসে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর আরেক নারীর মরদেহ ছিল। তীব্র পচনের কারণে ঘটনাস্থলেই পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তদন্তকারীদের সামনে তখন তিনটি বড় প্রশ্ন ছিল, নিহত নারীরা কারা, কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে এবং এর জন্য কে দায়ী। পরে তদন্তের সূত্র ধরে মিনেসোটায় নিখোঁজ এক নারীর ঘটনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। মিনেসোটার ফার্মিংটন পুলিশ তখন ৩৭ বছর বয়সী লরা সিমনসনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্ত করছিল। ২০১৩ সালের নভেম্বরে তিনি নিজের মায়ের বাড়ির সামনে একটি গাড়ি রেখে নিখোঁজ হন। গাড়ির ভেতরে তাঁর মুঠোফোন, ব্যাগ, ওষুধ এবং গাড়ি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে মায়ের জন্য লেখা একটি নোট পাওয়া যায়। ওই বছরের শুরুতে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছিলেন। তবে শৈশবের বন্ধু ক্রিস্টিন স্কাউটনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের ছয় সন্তানকে ছেড়ে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না লরা। এ কারণে তাঁর নিখোঁজ হওয়াকে ঘিরে পরিবারের উদ্বেগ বাড়ে এবং পুলিশ রাজ্যজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করে। তদন্তে একটি হোটেলের কর্মীর দেওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই কর্মী পুলিশকে জানান, লরা কয়েক সপ্তাহ আগে এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে এসেছিলেন। লোকটিকে দেখে তাঁর অস্বস্তি হয়েছিল বলে জানান তিনি। হোটেলের নিবন্ধনপত্রে লরার স্বাক্ষর পাওয়া গেলেও তাঁদের প্রবেশের সময়কার নজরদারি ভিডিও সংরক্ষিত ছিল না। তবে হোটেল ছাড়ার সময়ের ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে একা চলে যেতে দেখা যায়। পরে লরার এক বন্ধু পুলিশকে জানান, তিনি অনলাইনে একটি বিশেষ ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কভিত্তিক ডেটিং সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘মিস্টারহ্যান্ডকাফস’ নামের একটি পরিচয় ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। অনুসন্ধান চালিয়ে বন্ধুটি ওই পরিচয়ের আড়ালে থাকা ব্যক্তির নাম জানতে পারেন, তিনি স্টিভেন জেলিচ। জেলিচের পরিচয় সামনে আসার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি মিলওয়াকি এলাকার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। ২০০১ সালে ওয়েস্ট অ্যালিস পুলিশ বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। এর আগে নারীদের ভয় দেখানো ও হয়রানি করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে, যদিও তিনি কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছিলেন। পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে লরার বিষয়ে খোঁজ নেয়, কিন্তু তখন নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে এফবিআই ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্য পুলিশ তদন্তে যোগ দেয়। ২০১৪ সালের মার্চে জেলিচের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং তিনি স্বেচ্ছায় ডিএনএ নমুনা দেন। তবে লরার সঙ্গে কখনো দেখা হওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তখন তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের জুনে উইসকনসিনে স্যুটকেস দুটি উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসে। একটি মরদেহের গোড়ালিতে হৃদয় আকৃতির নকশা এবং তাঁর প্রয়াত মেয়ে অ্যালিসার নাম লেখা একটি বিশেষ উল্কি দেখে তদন্তকারীরা লরা সিমনসনের পরিচয় শনাক্ত করেন। অন্য মরদেহের সঙ্গে বাঁধা দড়ি থেকে পাওয়া ডিএনএর নমুনা জেলিচের নমুনার সঙ্গে মিলে যায়। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দুই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। দ্বিতীয় নারী ছিলেন ওরেগনের কটেজ গ্রোভের ১৯ বছর বয়সী জেনি গেমেজ। তদন্তকারীদের কাছে জেলিচ দাবি করেন, অনলাইন ডেটিংয়ের মাধ্যমে গেমেজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাস সীমিত করার এক যৌন আচরণের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁর মৃত্যু হয়। একইভাবে লরার মৃত্যুকেও দুর্ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি। জেলিচের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেমেজের মরদেহ তিনি এক বছরেরও বেশি সময় নিজের ফ্রিজে রেখেছিলেন। পরে মিনেসোটার রচেস্টারে লরার মৃত্যুর পর দুই নারীর মরদেহ গাড়ির ট্রাঙ্কে সরিয়ে নেন। আবহাওয়া উষ্ণ হতে শুরু করলে গাড়ির কাছ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসার কথা এক সহকর্মী উল্লেখ করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি মরদেহ দুটি স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের জানান। দুই নারীকে হত্যার পাশাপাশি মরদেহ গোপন করার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৬ সালে গেমেজের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যার দায় এবং মরদেহ গোপনের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন জেলিচ। এ ঘটনায় তাঁকে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড এবং কারামুক্তির পর ১০ বছরের তত্ত্বাবধানের সাজা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে লরার মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যার দায় স্বীকার করলে তাঁকে আরও ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওয়ালওর্থ কাউন্টিতে মরদেহ গোপনের আরও দুটি অভিযোগে অতিরিক্ত ১০ বছরের সাজাও পান তিনি। আদালতের রায়ে মামলার আইনি নিষ্পত্তি হলেও দুই নারীর পরিবার এখনো তাঁদের হারানোর শোক বহন করছে। জেনি গেমেজের পালক বোন আমান্ডা দুরন বলেন, কাছের কাউকে হারালে জীবন আর আগের মতো থাকে না, সব সময় মনে হয় কোনো একটি অংশ অনুপস্থিত। অন্যদিকে লরার বোন নিকি কার্লসন জানিয়েছেন, প্রতিদিনই তিনি বোনের কথা ভাবেন এবং তাঁকে মিস করেন। তদন্তে অনলাইন পরিচয়, হোটেলের নথি, উল্কির মতো শারীরিক চিহ্ন এবং ডিএনএ প্রমাণ একত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এ ঘটনাটি দেখিয়েছে, একটি নিখোঁজের তদন্ত ও আরেকটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহু অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পারে। সূত্র: এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার চিঠি পেয়েছেন? এরপর কী করবেন, জেনে নিন
শীতের ছুটিতে ভ্রমণের পথে বাধা মূল্যস্ফীতি, দুশ্চিন্তায় ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক