সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

গর্ভবতী মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ আটজনকে গু লি, পেনসিলভানিয়ায় মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৬:৪৮
পেনসিলভানিয়ায় গুলির ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক
পেনসিলভানিয়ায় গুলির ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে এক ভয়াবহ পারিবারিক গুলির ঘটনায় গর্ভবতী মেয়ে, দুই নাতি-নাতনি ও অন্য স্বজনসহ আটজন নি হ ত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও মারা গেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর বিকেলে একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী ছিলেন নিহতদের মধ্যে সাতজনের স্বজন এবং এক নারীর বন্ধু ছিলেন অষ্টম ভুক্তভোগী। সব মিলিয়ে হামলাকারীসহ মৃ ত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে।
 

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন নামে এক তরুণী, যিনি তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর অনাগত সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল কাইরি। এ ছাড়া তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ইসাইয়া এবং এক বছর বয়সী মেয়ে আমারিয়ানাও প্রাণ হারিয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনাগত শিশুটির জন্ম হওয়ার কথা ছিল ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই।


নিহতদের পরিচয় নিয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উদ্যোগে চালু করা অনুদান সংগ্রহের পাতায় কয়েকজনের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লোরা রবার্টস ও টুইলা ট্যানারের নামও রয়েছে। তাঁদের দুজনই শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে গিয়েছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।


ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এরি শহরের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


শুক্রবার বিকেল ৫টার কিছু আগে শহরের পেরি স্ট্রিটের একটি বাড়ির কাছে গুলির শব্দ শনাক্তকারী ব্যবস্থা থেকে সতর্কবার্তা পায় পুলিশ। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কর্মকর্তারা। সেখানে বাড়ির বাইরে দুই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বাড়ির ভেতরেও একাধিক ব্যক্তিকে নি হ ত অবস্থায় পাওয়া যায়।


পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানান, তদন্তকারীরা বাড়ির ভেতর থেকে গুলির শব্দ শোনার প্রমাণ পেয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর দুই নারী বাড়িটির সামনে এসে দরজায় জোরে আঘাত করতে থাকেন। তাঁদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং ভেতরে কী ঘটছে, তা নিয়ে সাহায্য চাইছিলেন। তদন্তকারীদের হাতে থাকা ভিডিও ও অডিও ফুটেজে ঘটনার এই অংশ উঠে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি বাড়ির বাইরে এসে দুই নারীর দিকে গুলি চালান। এরপর তিনি আবার বাড়ির ভেতরে চলে যান। পরে পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করে একাধিক মরদেহ উদ্ধার করে। নিরাপত্তার কারণে কর্মকর্তারা ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব ভুক্তভোগীর মৃ ত্যু হয়েছিল বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


শিশুদের বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন দুই নারী


অনুদান সংগ্রহের পাতায় টুইলা ট্যানারকে স্মরণ করে বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর তিনি এক বন্ধুকে তাঁর পরিবারকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যদের সাহায্যে এগিয়ে যান। তাঁর বয়স ছিল ৫১ বছর।


অন্যদিকে, ৩৭ বছর বয়সী লোরা রবার্টসকেও সাহসী ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন স্বজনেরা। তাঁর স্মরণে তৈরি অনুদান সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, অন্য একজনকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। লোরা পাঁচ সন্তানের মা ছিলেন এবং দীর্ঘদিনের সঙ্গী জেরেমির সঙ্গে তাঁর বাগদান হয়েছিল।


পুলিশের তদন্তে ওই দুই নারীর ঘটনাস্থলে যাওয়ার কারণ এবং বাড়ির ভেতরে কী ঘটছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তাঁদের ফোনসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


স্বজনদের শোক ও তদন্ত


নিহত ছোট্ট আমারিয়ানার বাবা জুলিয়াস উইন্ডহাম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁর মেয়েকে হারানোর শোক ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি মেয়েটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর শিশুগুলোর একজন হিসেবে বর্ণনা করেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


এক স্বজন বলেন, নিহত শিশুরা এমন পরিণতির যোগ্য ছিল না। পরিবারের সদস্যদের যথাযথ মর্যাদায় শেষ বিদায় জানাতে তাঁরা চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা দীর্ঘদিন এরি শহরের মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাবে।


এদিকে, হামলার কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশপ্রধান জানিয়েছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বিষয় এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।


কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় প্রকাশের আগে জীবিত স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাঁদের অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছিল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ সম্পর্কে অনুমান না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।


ঘটনার পর শহরটির বাসিন্দারা বাড়িটির বাইরে ফুল, মোমবাতি ও শিশুদের খেলনা রেখে নিহতদের স্মরণ করেন। স্থানীয় প্রশাসন শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার পূর্ণ বিবরণ, হামলার কারণ এবং ওই পরিবারের মধ্যে আগে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল ও স্থানীয় বিরোধ
অভিবাসী আটক নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিরোধ, আইসিইর ১৬ হাজার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের আটক ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ১৬ হাজার ৭০টি আটক অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এসব অনুরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৫২ হাজার ৫০৩টি অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে বিভাগটি।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অপরাধের মধ্যে রয়েছে খুন, অপহরণ, যৌন অপরাধ, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, হামলা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ। তবে এসব পরিসংখ্যানে অভিযোগ ও দণ্ড—দুই ধরনের তথ্যই রয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আইসিইর আটক অনুরোধ বা ‘ডিটেইনার’ হলো স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো একটি আবেদন। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে স্থানীয় হেফাজতে মুক্তির সময়ের পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে এ ধরনের অনুরোধের আইনি বাধ্যবাধকতা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রত্যাখ্যাত আটক অনুরোধগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৩১টি খুন, ১৩২টি অপহরণ, ১ হাজার ১৭টি যৌন অপরাধ, ১ হাজার ৫৬১টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনা, ১ হাজার ৬৩১টি চুরি এবং ১ হাজার ৭৭৬টি ডাকাতির অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্রসংক্রান্ত ২ হাজার ১৯৮টি অপরাধ, হামলার ৯ হাজার ৫০২টি ঘটনা এবং বিপজ্জনক মাদকসংক্রান্ত ৪ হাজার ৩২৪টি অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার ফলে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা না পেলেও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্য, অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে এমন নীতির কারণে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের দপ্তর অবশ্য এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। গভর্নরের মুখপাত্র আলেক্সিয়া নিজনি বলেছেন, নিউইয়র্ক কখনোই সহিংস অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ছিল না এবং হবে না। তাঁর ভাষ্য, অঙ্গরাজ্যের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন এমন অমার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। গভর্নরের দপ্তর আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য-পরিচালিত বিভিন্ন স্থাপনা থেকে আনুমানিক ২ হাজার ব্যক্তিকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হোকুলের দপ্তরের দাবি, অঙ্গরাজ্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করেনি; বরং কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে সহযোগিতা করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। গত আগস্টে হোকুল ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। আইনটি অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু দেওয়ানি বিষয়ে অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্কের এ ধরনের নীতিকে ‘স্যাংচুয়ারি স্টেট’ বা অভিবাসন প্রয়োগে সীমিত সহযোগিতার অঙ্গরাজ্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই বিরোধের মধ্যে নিউইয়র্কে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ব্রঙ্কসে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, বেলগাল গাড়ি থেকে নামার নির্দেশ মানেননি এবং সরকারি দুটি গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর কর্মকর্তাদের দিকে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। বেলগালের ঘাড়ে গুলি লাগে এবং পরে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মতবিরোধ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অপরাধে অভিযুক্ত অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সহযোগিতা জরুরি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা বলছেন, অঙ্গরাজ্য আইন মেনেই ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং তাদের নীতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:৪৫
পেনসিলভানিয়ায় গুলির ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক

গর্ভবতী মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ আটজনকে গু লি, পেনসিলভানিয়ায় মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডি

অর্থনীতিতে ২০২৬ সালের নোবেলজয়ী রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড

মূল্যস্ফীতি ও মন্দা মোকাবিলার অর্থনৈতিক মডেলে অবদানে নোবেল পেলেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ

যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণের নির্ধারিত সময়সূচি

অক্টোবরের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট শুরু, জন্মতারিখ অনুযায়ী জেনে নিন টাকা পাওয়ার নির্ধারিত দিন

যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বৃদ্ধির অপেক্ষা
অবসরভাতায় ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস, ২০২৭ সালে মাসিক চেক কত ডলার বাড়তে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন সিনিয়র সিটিজেনস লিগ। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে দেশটির অবসরভোগী ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীদের মাসিক অর্থের পরিমাণ বাড়বে। বর্তমানে একজন গড় সুবিধাভোগী মাসে ১ হাজার ৯৪০ ডলার ৮ সেন্ট পান। সম্ভাব্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে এই অর্থ বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৭ ডলার ৯৮ সেন্ট হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ২০২৭ সালের জন্য ভাতা বৃদ্ধির প্রকৃত হার নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন সাধারণত প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পরবর্তী বছরের জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা (সিওএলএ) ঘোষণা করে। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেলে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে এই সমন্বয় করা হয়। অবসরভাতা ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকা অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীরা এই পরিবর্তনের সুবিধা পেতে পারেন। ২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চলতি বছরের মূল্যস্ফীতির তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউ জুলাই মাসে আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশে। সেপ্টেম্বরের তথ্য প্রকাশিত হলে পরবর্তী বছরের ভাতা সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তিন মাসের হিসাব সম্পূর্ণ হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বার্ষিক সমন্বয় নির্ধারণে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হিসাবের পরিবর্তে বিশেষভাবে সিপিআই-ডব্লিউ ব্যবহার করা হয়। চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের এই সূচকের পরিবর্তন বিবেচনা করে পরবর্তী বছরের জন্য সমন্বয়ের হার নির্ধারণ করা হয়। ফলে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ২০২৭ সালের সম্ভাব্য ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। সিনিয়র সিটিজেনস লিগ আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, এই হারে বৃদ্ধি হলে বর্তমানে গড়ে মাসে ১ হাজার ৯৪০ ডলার ৮ সেন্ট পাওয়া একজন সুবিধাভোগীর মাসিক অর্থ বেড়ে ২ হাজার ৭ ডলার ৯৮ সেন্ট হতে পারে। অর্থাৎ, মাসে প্রায় ৬৭ ডলার ৯০ সেন্ট বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ আলাদা হতে পারে। প্রত্যেক সুবিধাভোগীর বর্তমান ভাতার পরিমাণ অনুযায়ী বৃদ্ধির অঙ্কও ভিন্ন হবে। ২০২৬ সালের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ভাতায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই তুলনায় ২০২৭ সালের জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে তা হবে আগের বছরের তুলনায় বেশি। তবে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং সরকারি ঘোষণা প্রকাশের আগে এই হার নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা যুক্তরাষ্ট্রের বহু অবসরপ্রাপ্ত মানুষের নিয়মিত আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে যাঁরা অবসরকালীন জীবনযাপনের জন্য এই অর্থের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের কাছে বার্ষিক বৃদ্ধির হার গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচ বাড়লে মাসিক ভাতার প্রকৃত মূল্য কমে যেতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাই বার্ষিক সমন্বয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে ভাতা বাড়লেই সব সুবিধাভোগীর আর্থিক চাপ একইভাবে কমবে, এমন নয়। কারও চিকিৎসা ব্যয় বেশি হতে পারে, আবার কারও বাসাভাড়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। তাই ঘোষিত বৃদ্ধির হার এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ের পরিবর্তন এক বিষয় নয়। নতুন সমন্বয়ের হার ঘোষণা করা হলে সুবিধাভোগীরা সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের অনলাইন অ্যাকাউন্টে নিজেদের ব্যক্তিগত ভাতা বৃদ্ধির তথ্য দেখতে পারবেন। আগের বছরের ব্যবস্থায় অনলাইনে ব্যক্তিগত নোটিশ দেখার পাশাপাশি ডিসেম্বর মাসে ডাকযোগেও নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত সুবিধার সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন জানতে সরকারি ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট নোটিশের দিকে নজর রাখতে হবে। সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস অবসরভোগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। এই বৃদ্ধি কার্যকর হলে গড় সুবিধাভোগীর মাসিক অর্থ ২ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির হিসাব এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৫:২৪
জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স

নেটফ্লিক্সে চাকরি হারানোর শঙ্কায় ৮০০ কর্মী, বড় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার খবর

আইআইটি কানপুরের সাবেক শিক্ষার্থী গৌতম দেব।

ডালাসে রেন্ট জোগাতে অমানবিক হিমশিম, ভারত ফেরার কথা ভাবছেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদকে অর্থ সহায়তার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন নিউইয়র্কের ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্ন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদকে ৩০ হাজার ডলার সহায়তার অভিযোগে নিউইয়র্কের নারীর বিরুদ্ধে মামলা

২০৫০ সালে আমেরিকার শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী বহুতল ভবনের আধিক্য দেখা যাবে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
২০৫০ সালে বদলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর, রোবটে তৈরি হবে শহর, স্বয়ংক্রিয় হবে বাড়ি

২০৫০ সালের মধ্যে রোবট দিয়ে পুরো একটি সম্প্রদায় বা শহরের কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। ভবিষ্যতে চালকবিহীন গাড়ি এবং রোবটের সাহায্যে তৈরি টেকসই বহুতল ভবনের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠবে শহরের আবাসন ব্যবস্থা। সম্প্রতি বিশ্ব স্থাপত্য দিবস উপলক্ষে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় স্থপতিরা। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বজুড়ে এখনো প্রায় ৩৪০ কোটি মানুষের নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব রয়েছে। তাই আবাসন সংকট মেটাতে ভবিষ্যতের বাড়িঘরগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।   স্থপতিদের মতে, ভবিষ্যতে একক পরিবারের জন্য তৈরি আলাদা বাড়ির ধারণা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ শহরে বসবাস করবে। স্থপতি জেমস সাইসাকর্ন জানান, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার এই চাপ সামলাতে ব্যক্তিগত জমিতে একক পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ মোটেও টেকসই কোনো সমাধান নয়। এর পরিবর্তে বহুতল ভবন এবং মিশ্র ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। জমির সীমাবদ্ধতা, নির্মাণ ব্যয় এবং দক্ষ শ্রমিকের অভাবে একক বাড়ি নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন স্থপতি মাইলস স্মিথ।   এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ছোট শহরতলী বা মিসিং মিডল ঘরানার আবাসন ব্যবস্থা ফিরে আসবে বলে মনে করেন স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গ। বড় ব্যক্তিগত উঠানের পরিবর্তে এই ব্যবস্থায় এমন ছোট ছোট বাড়ি বা টাউনহাউস তৈরি করা হবে, যা দেখতে বাড়ির মতোই মনে হবে তবে সেখানে ঘনত্ব বেশি থাকবে। এর ফলে বাড়তি জায়গাগুলো সবার ব্যবহারের জন্য সবুজ পার্ক বা সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত করা সম্ভব হবে। স্থপতি বেন ওয়ানও মনে করেন যে, সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে মাঝারি আকারের বহুতল ভবন নির্মাণের পথ সুগম হলে তা ভবিষ্যতে প্রাণবন্ত কমিউনিটি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ২০৫০ সালের বাড়িঘরগুলোতেও বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে। স্থপতি ড্যানিয়েল বাউম্যান জানান, ভবিষ্যতের বাড়িগুলোকে তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টিপাত এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করার উপযোগী করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এসব বাড়িতে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক কমিয়ে আনতে হবে। স্থপতি স্কট স্পেক্ট মনে করেন, ভবিষ্যতের বাড়িগুলো নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বেশিরভাগ নিজেরাই উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারবে। তারা বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর কেবল জরুরি ব্যাকআপ হিসেবে নির্ভর করবে।   পরিবেশবান্ধব বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের স্থপতিরা কংক্রিটের চেয়ে কাঠ ও প্রকৃতির ওপর বেশি নির্ভরশীল হবেন। কংক্রিটের তুলনায় কাঠ কম তাপ ধরে রাখে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের চেয়ে ক্রস-ল্যামিনেটেড টিম্বার বা বিশেষ ধরনের কাঠ ভবিষ্যতে প্রধান নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে বলে ধারণা করছেন জেমস সাইসাকর্ন। এই ধরনের কাঠের প্যানেলগুলো অত্যন্ত মজবুত, দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং টেকসই হয়। এছাড়া প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় কৃত্রিম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।   ভবিষ্যতের শহরগুলো গাড়িকেন্দ্রিক না হয়ে মানুষকেন্দ্রিক হবে বলে জানিয়েছেন স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গ। চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে। এর ফলে স্থপতিদের বাড়ির নকশায় বড় গ্যারেজ বা পার্কিংয়ের জন্য বাড়তি জায়গা রাখার প্রয়োজন পড়বে না। সেই খালি জায়গাগুলো রাস্তা, পার্ক এবং মানুষের আড্ডার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ট্রানজিট-ভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে আবাসন প্রকল্পগুলোকে যুক্ত করলে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি হাঁটার উপযোগী সুন্দর শহর গড়ে উঠবে।   ভবিষ্যতের আবাসন ব্যবস্থা শুধু সাশ্রয়ী নয়, বরং উন্নত সামাজিক কাঠামো গড়ার দিকেও নজর দেবে। স্থপতি ম্যাক্স বার্গার এবং ড্যানিয়েল বাউম্যান মনে করেন, বিচ্ছিন্ন আবাসন প্রকল্পের বদলে ভবিষ্যতের পাড়াগুলো সমন্বিত ব্যবস্থায় গড়ে উঠবে। সেখানে ছাদের ওপর বাগান, শরীরচর্চা কেন্দ্র এবং কাজের জায়গাগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মাইলস স্মিথ বিষয়টিকে আধুনিক যুগের কান্ট্রি ক্লাব স্টাইলের জীবনযাপন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যেখানে একই ভবনের বাসিন্দারা আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা একসঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন এবং পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন।   তথ্যসূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ২৩:২১
আইসিই হেফাজতে থাকার মিথ্যা দাবি করে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন সুন্দাস নকভি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

আইসিইর হাতে ২ দিন আটক থাকার দাবি, বাস্তবে হোটেলে স্পা নিচ্ছিলেন নারী, এখন ১০ লাখ ডলারের মামলা

আগামী ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মান সময় অনুযায়ী ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হবে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা পেছাবে এক ঘণ্টা, সময় পরিবর্তন বন্ধের উদ্যোগ অনিশ্চিত

নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অ্যান্টি-বুলিং পলিসি চালু রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের স্কুলে বুলিংয়ের শিকার শিশু, কোথায় অভিযোগ জানাবেন বাংলাদেশি অভিভাবকেরা

0 Comments