অবসরভাতায় ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস, ২০২৭ সালে মাসিক চেক কত ডলার বাড়তে পারে
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন সিনিয়র সিটিজেনস লিগ। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে দেশটির অবসরভোগী ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীদের মাসিক অর্থের পরিমাণ বাড়বে। বর্তমানে একজন গড় সুবিধাভোগী মাসে ১ হাজার ৯৪০ ডলার ৮ সেন্ট পান। সম্ভাব্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে এই অর্থ বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৭ ডলার ৯৮ সেন্ট হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ২০২৭ সালের জন্য ভাতা বৃদ্ধির প্রকৃত হার নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন সাধারণত প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পরবর্তী বছরের জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা (সিওএলএ) ঘোষণা করে। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেলে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে এই সমন্বয় করা হয়। অবসরভাতা ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকা অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীরা এই পরিবর্তনের সুবিধা পেতে পারেন।
২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চলতি বছরের মূল্যস্ফীতির তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউ জুলাই মাসে আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশে। সেপ্টেম্বরের তথ্য প্রকাশিত হলে পরবর্তী বছরের ভাতা সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তিন মাসের হিসাব সম্পূর্ণ হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বার্ষিক সমন্বয় নির্ধারণে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হিসাবের পরিবর্তে বিশেষভাবে সিপিআই-ডব্লিউ ব্যবহার করা হয়। চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের এই সূচকের পরিবর্তন বিবেচনা করে পরবর্তী বছরের জন্য সমন্বয়ের হার নির্ধারণ করা হয়। ফলে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ২০২৭ সালের সম্ভাব্য ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
সিনিয়র সিটিজেনস লিগ আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, এই হারে বৃদ্ধি হলে বর্তমানে গড়ে মাসে ১ হাজার ৯৪০ ডলার ৮ সেন্ট পাওয়া একজন সুবিধাভোগীর মাসিক অর্থ বেড়ে ২ হাজার ৭ ডলার ৯৮ সেন্ট হতে পারে। অর্থাৎ, মাসে প্রায় ৬৭ ডলার ৯০ সেন্ট বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ আলাদা হতে পারে। প্রত্যেক সুবিধাভোগীর বর্তমান ভাতার পরিমাণ অনুযায়ী বৃদ্ধির অঙ্কও ভিন্ন হবে।
২০২৬ সালের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ভাতায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই তুলনায় ২০২৭ সালের জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে তা হবে আগের বছরের তুলনায় বেশি। তবে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং সরকারি ঘোষণা প্রকাশের আগে এই হার নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা যুক্তরাষ্ট্রের বহু অবসরপ্রাপ্ত মানুষের নিয়মিত আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে যাঁরা অবসরকালীন জীবনযাপনের জন্য এই অর্থের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের কাছে বার্ষিক বৃদ্ধির হার গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচ বাড়লে মাসিক ভাতার প্রকৃত মূল্য কমে যেতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাই বার্ষিক সমন্বয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তবে ভাতা বাড়লেই সব সুবিধাভোগীর আর্থিক চাপ একইভাবে কমবে, এমন নয়। কারও চিকিৎসা ব্যয় বেশি হতে পারে, আবার কারও বাসাভাড়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। তাই ঘোষিত বৃদ্ধির হার এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ের পরিবর্তন এক বিষয় নয়।
নতুন সমন্বয়ের হার ঘোষণা করা হলে সুবিধাভোগীরা সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের অনলাইন অ্যাকাউন্টে নিজেদের ব্যক্তিগত ভাতা বৃদ্ধির তথ্য দেখতে পারবেন। আগের বছরের ব্যবস্থায় অনলাইনে ব্যক্তিগত নোটিশ দেখার পাশাপাশি ডিসেম্বর মাসে ডাকযোগেও নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত সুবিধার সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন জানতে সরকারি ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট নোটিশের দিকে নজর রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস অবসরভোগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। এই বৃদ্ধি কার্যকর হলে গড় সুবিধাভোগীর মাসিক অর্থ ২ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির হিসাব এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন জেনারেশন জেড বা জেন জি প্রজন্মের তরুণেরা। তাঁদের বড় একটি অংশের গন্তব্য টেক্সাস। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের খরচ এবং নতুন জায়গায় বসবাসের সুযোগ নিয়ে বাড়তে থাকা আলোচনার মধ্যে প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে তরুণদের এই স্থানান্তরের চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই বছর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ৫৮ হাজার ১০৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজ্য থেকে এই প্রজন্মের মানুষের অন্যত্র চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। তাঁদের মধ্যে ১৯ হাজার ২৮৭ জন পাড়ি জমিয়েছেন টেক্সাসে। অর্থাৎ, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া তরুণদের জন্য টেক্সাস ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে শুধু ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে যাওয়ার হিসাব দেখলেই পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তরুণদের রাজ্য পরিবর্তনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি নিজ রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে অথবা ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে গেছেন। এই সংখ্যা দেশটির ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী জেন জি জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এই বয়সী প্রায় প্রতি চারজনের একজন ওই বছর রাজ্য বদলেছেন। নিট স্থানান্তরের হিসাবে জেন জিদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় রাজ্য ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা। সেখানে যতজন তরুণ এসেছেন, চলে গেছেন তার চেয়ে অনেক কম। ফলে রাজ্যটিতে এই প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ২২ হাজার ৮৪৩ জন। অন্যদিকে, টেক্সাসে তরুণদের আসা-যাওয়া—দুটিই বেশি হলেও রাজ্যটিতে নিট সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ৭২০ জন। এই হিসাবে টেক্সাসের অবস্থান ছিল সপ্তম। নিউইয়র্কও তরুণদের আকর্ষণ ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে জেন জি প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৬১ জন। বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি ও ইলিনয়েসসহ কয়েকটি রাজ্যে এই বয়সী মানুষের সংখ্যা কমেছে। জেন জিদের রাজ্য বদলের প্রবণতা আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মিলেনিয়ালদের ১৪ শতাংশ অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। জেনারেশন এক্সের ক্ষেত্রে এই হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, রাজ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জেন জির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। টেক্সাসে তরুণদের আগমন অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট একটি স্থানান্তর-তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে টেক্সাসে ৫ হাজার ৮১ জন জেন জি এসেছেন, বিপরীতে রাজ্যটি ছেড়েছেন ৩ হাজার ৫৫৫ জন। ফলে সেখানে নিট আগমন হয়েছে ১ হাজার ৫২৬ জনের। ওই বিশ্লেষণে অস্টিন, হিউস্টন ও ডালাস মহানগর এলাকাকে নতুন তরুণ বাসিন্দাদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে মানুষের স্থানান্তরও দীর্ঘদিনের প্রবণতা। ২০২৩ সালে এক লাখের বেশি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা টেক্সাসে চলে গিয়েছিলেন বলে আগের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছিল। একই সময়ে টেক্সাস থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার তুলনায় উল্টো পথে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে আবাসনের খরচ, গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সিলিকন ভ্যালি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে করা এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৮০১ জন প্রাপ্তবয়স্কের ৪৬ শতাংশ বলেছেন, বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে তাঁরা ওই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার চাপ অনুভব করছেন। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৩ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থা জয়েন্ট ভেঞ্চার সিলিকন ভ্যালির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী রাসেল হ্যানকক বলেছেন, আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ই মানুষকে ওই অঞ্চল ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করছে। তাঁর মতে, মৌলিক আবাসনসমস্যার সমাধান করতে না পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন ব্যয়ের প্রভাব দারিদ্র্যের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজ্যগুলোর মধ্যে আবাসন ব্যয়জনিত দারিদ্র্যের হারে ক্যালিফোর্নিয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। রাজ্যটিতে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার অত্যধিক খরচ সামগ্রিক দারিদ্র্যের ৩৪ শতাংশ এবং শিশুদের দারিদ্র্যের ৪২ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান থেকে বলা যায় না যে কেবল আবাসন ব্যয়ের কারণেই সব তরুণ ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ছেন। পড়াশোনা, চাকরি, ব্যক্তিগত পছন্দ ও অন্যান্য কারণও স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। তা সত্ত্বেও, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক তরুণের চলে যাওয়া এবং টেক্সাসে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশের নতুন ঠিকানা খোঁজা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে।
অবসরপ্রাপ্তদের মাসিক ভাতায় আসতে পারে বাড়তি ৭৫ ডলার, অপেক্ষা সরকারি ঘোষণার
ওহাইওতে ইতিহাস গড়লেন সারাহ শেন্ডি, প্রথম মিসরীয়-আমেরিকান নারী হিসেবে হলেন পুলিশ লেফটেন্যান্ট
জরায়ু অস্ত্রোপচারের পর ভয়াবহ পরিণতি, দুই পা-হাতসহ ঠোঁট ও জিহ্বার অংশ হারালেন ছয় সন্তানের মা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে শিশুদের অটিজম চিকিৎসায় সহায়তা দেওয়া একটি সরকারি কর্মসূচির অর্থায়ন পুরোপুরি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে স্বল্প আয়ের অনেক পরিবার বিনা খরচে বা কম খরচে যে থেরাপি পেয়ে আসছে, তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে উদ্বেগে পড়েছেন অভিভাবক, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী এবং অটিজম নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। টেক্সাসের ৭ বছর বয়সী ইসরায়েল সোলিসের জীবনেই এই কর্মসূচির গুরুত্ব স্পষ্ট। অটিজম নিয়ে জন্ম নেওয়া ইসরায়েল আগে কথা বলে নিজের চাহিদা বোঝাতে পারত না। অন্যরা তার প্রয়োজন বুঝতে না পারলে হতাশায় সে নিজেকে কামড়াত বা আঁচড় দিত। তবে সরকারি সহায়তায় পরিচালিত একটি কর্মসূচির আওতায় থেরাপি নেওয়ার পর তার যোগাযোগের সক্ষমতায় পরিবর্তন এসেছে। হিউস্টনের থেরাপি প্রদানকারীদের কাছ থেকে শেখা ছবি ব্যবহার করে এখন সে নিজের চাহিদা বোঝাতে পারে। ইসরায়েলের মা এলিজাবেথ সোলিসের আরেক ছেলেও একই কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন–ক্লিয়ার লেকের অটিজম ও বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা কেন্দ্রে পরিচালিত এই সেবার জন্য পরিবারটিকে কোনো অর্থ দিতে হয় না। কর্মসূচিটি বন্ধ হয়ে গেলে সন্তানদের চিকিৎসা কীভাবে চালিয়ে যাবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এলিজাবেথ। তাঁর আশঙ্কা, সহায়তা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে সন্তানদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশন ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে ‘চিলড্রেনস অটিজম প্রোগ্রাম’ বা শিশুদের অটিজম কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। অর্থাৎ, কর্মসূচিটি বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে এটি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে যায়নি। ২০০৮ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় টেক্সাসজুড়ে ১৬টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অটিজম থাকা শিশুদের বিশেষায়িত আচরণগত থেরাপি দেওয়া হয়। পরিবারের আয় ও বিমা-সুবিধা বিবেচনা করে সেবার খরচ নির্ধারণ করা হয়। কর্মসূচির আওতায় একটি শিশু সারা জীবনে সর্বোচ্চ ৭২০ ঘণ্টা অ্যাপ্লায়েড বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস বা এবিএ থেরাপি পাওয়ার যোগ্য। অটিজমের চিকিৎসায় এই পদ্ধতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সেবাদানকারীরা। গত দুই বছরে কর্মসূচিটির পেছনে অঙ্গরাজ্য সরকার ১ কোটি ৩৭ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। চলতি বছর কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো হয়েছিল। বয়সসীমা বাড়িয়ে ২১ বছর পর্যন্ত করা হয় এবং বছরে থেরাপি নেওয়ার ঘণ্টার নির্ধারিত সীমাও তুলে দেওয়া হয়। ২০২৬ অর্থবছরে এই কর্মসূচির অর্থায়নে ৫৮৩টি শিশু চিকিৎসা পেয়েছে। কিন্তু সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যজুড়ে আরও অন্তত এক হাজার শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। টেক্সাসের অটিজম সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক জ্যাকুই বেনেস্তান্তে বলেছেন, বাজেট প্রস্তাবে কর্মসূচিটির জন্য বরাদ্দের জায়গাটি ফাঁকা দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর মতে, অর্থায়ন ধরে রাখতে আগে থেকেই লড়াই করতে হয়েছে, কিন্তু একটি চলমান কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল করার প্রস্তাব তাঁদের জন্য বড় ধাক্কা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অঙ্গরাজ্যের বাজেট কমানোর উদ্যোগ। গত জুলাইয়ে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট, লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক এবং প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ডাস্টিন বারোজ পরবর্তী দুই বছরের জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, আপিল আদালত ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যয় ৩ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশনও সেই নির্দেশনার আওতায় ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা করেছে। কর্মসূচিটি বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কমিশনের কর্মকর্তারা ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের নথিতে বলা হয়েছে, সেবাগ্রহীতাদের ওপর সরাসরি প্রভাব যতটা সম্ভব কম রাখা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে প্রভাব এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একই বাজেট প্রস্তাবে কমিশন স্বীকার করেছে, অটিজম থেরাপির চাহিদা যোগ্য সেবাদানকারীদের সক্ষমতার চেয়ে বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা পাওয়া কঠিন। অটিজম চিকিৎসার ক্ষেত্রে মেডিকেইডের আওতা বাড়লেও সব পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত হয়নি। ২০২২ সালে ২০ বছর বা তার কম বয়সীদের জন্য মেডিকেইডের আওতায় এবিএ থেরাপির সুবিধা যুক্ত হয়। ফলে অঙ্গরাজ্যের আলাদা কর্মসূচিটি অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে অনেক পরিবার এখনো এই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। যেসব পরিবারের বিমা নেই কিংবা যাদের বিমা নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত পরিকল্পনার আওতায়, তাদের ক্ষেত্রে এবিএ থেরাপির খরচ বিমা থেকে নাও পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, মেডিকেইডে সুবিধা থাকলেও কম অর্থ পরিশোধের কারণে অনেক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এই বিমার আওতাভুক্ত রোগীদের নিতে আগ্রহী হয় না। ফলে সরকারি কর্মসূচিটি এমন পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প পথ তৈরি করেছে, যারা অন্য কোনোভাবে থেরাপি পাচ্ছে না। টেক্সানস উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ জোটের অ্যাডভোকেসি পরিচালক জোলিন পোলের মতে, কর্মসূচি বন্ধ না করে বরং অর্থায়ন বাড়িয়ে অপেক্ষমাণ শিশুদের সেবা দেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে ভবিষ্যতে পরিবার ও অঙ্গরাজ্য—উভয়ের ওপরই বেশি চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী লিলা রদ্রিগেজের মা এমিলি পেনারও। মেডিকেইড থাকলেও মেয়ের জন্য থেরাপি প্রদানকারী খুঁজে পেতে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন–ক্লিয়ার লেকের অটিজম কেন্দ্রে কর্মসূচিটির আওতায় সেবা পাওয়ার সুযোগ খুঁজে পান। লিলা যখন প্রথম অটিজম শনাক্ত হয়, তখন সে কথা বলতে পারত না এবং প্রি-কে শ্রেণিতেও সমস্যায় পড়ত। থেরাপির মাধ্যমে ইতিবাচক আচরণকে উৎসাহিত করা হয়। যেমন, ট্যাবলেট ব্যবহারের সময় শেষ হলে লিলা ভেঙে পড়ত। তখন থেরাপিস্টরা স্লাইমের মতো পছন্দের জিনিস ব্যবহার করে তাকে অন্য কাজে মনোযোগী করতেন, যাতে একটি কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তার কাছে ইতিবাচক হয়। জুনে কর্মসূচি থেকে সেবা শেষ করার আগে লিলা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সেখানে থেরাপি নিত। পেনার মতে, এই সহায়তা তাঁর মেয়েকে তুলনামূলক স্বাভাবিক শৈশব কাটানোর সুযোগ দিয়েছে। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে শিশুদের মধ্যে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শনাক্তের হার ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে থেরাপির চাহিদাও বাড়ছে। টেক্সাসে এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত সেবার জন্য অপেক্ষা করতে হয় সপ্তাহ নয়, বরং বছরের পর বছর। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন–ক্লিয়ার লেকের অটিজম কেন্দ্রটি ২০০৮ সালে কর্মসূচি চালুর পর থেকেই এর আওতায় সেবা দিয়ে আসছে। কেন্দ্রটির পরিচালক ডরোথিয়া লারম্যান জানান, গত বছর কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ৪১টি পরিবারকে থেরাপি দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ২০০ পরিবার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। তাঁর ভাষায়, কর্মসূচি বন্ধ হলে এসব পরিবারের বড় অংশের জন্য অন্য কোনো সেবার ব্যবস্থা থাকবে না। এতে শিশুদের পাশাপাশি পুরো পরিবারের দৈনন্দিন জীবনেও বড় প্রভাব পড়তে পারে—দোকানে যাওয়া, রেস্তোরাঁয় খাওয়া কিংবা সরকারি স্কুলে মানিয়ে নেওয়ার মতো কাজও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তিন বছর বয়সী মাইকা অর্টিজের মা হেইলি জনসনের অভিজ্ঞতাও একই রকম। ১৮ মাস বয়সে মাইকার অটিজম শনাক্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির আওতায় কয়েক মাস থেরাপি নেওয়ার পর তার যোগাযোগের দক্ষতা বেড়েছে এবং অতিরিক্ত রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণ কমেছে বলে জানান জনসন। বর্তমানে মাইকা আবারও সেবা পাওয়ার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। কর্মসূচিটি বন্ধের প্রস্তাবে হতাশ জনসন বলেন, অটিজম থাকা শিশুদের পরিবার এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ সীমিত হওয়ায় এই কর্মসূচি তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে বর্তমান কর্মসূচির আওতায় থাকা শিশুরা ২০২৭ সালের আগস্টের শেষ পর্যন্ত সেবা পাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশন। এর মধ্যে বিকল্প অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে তাদের কর্মসূচি বন্ধ করতে হতে পারে। ফলে টেক্সাসের বহু পরিবারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বর্তমান সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে সন্তানদের প্রয়োজনীয় থেরাপি কোথা থেকে পাওয়া যাবে।
মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে ফের ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি, তবে আছে শর্ত!
‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণে চাই ৫৩ লাখ ডলার! আপনার আয় কি সেই পথে হাঁটছে?
মেডিকেল স্কুলে না পড়েও হাসপাতালে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন ৩০ বছর বয়সী নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানোর আইনি ঝুঁকিতে পড়েছেন শিকাগোর এক অভিবাসী। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় নিজের আগের পরিচয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের পাশাপাশি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। গত ৭ অক্টোবর ইলিনয়ের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় মার্কিন সরকার দাবি করেছে, আকিনকুনমি আইনসম্মতভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেননি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং কিছু তথ্য গোপন করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। মামলার নথি অনুযায়ী, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন মার্কিন নাগরিক হিসেবে শপথ নেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব লাভ করেন। কিন্তু তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ইতিহাস নিয়ে সরকারের অভিযোগ আরও পুরোনো। মামলায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে তিনি ভিন্ন একটি পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। সেই পরিচয় ছিল ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো। সরকারের অভিযোগ, ১৯৯৩ সালে ওই পরিচয়ে তিনি নিজের গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে মার্কিন অভিবাসন আপিল বোর্ডও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এর পর আকিনকুনমি নতুন পরিচয়ে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি দাবি করেছিলেন, অন্য কোনো নাম ব্যবহার করেননি এবং এর আগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। সরকারের দাবি, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ২০০০ সালে তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি নাকি আগের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তাঁকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল কিংবা বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন তথ্যও তিনি অস্বীকার করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের বক্তব্য, আকিনকুনমি কখনোই আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করেননি। বরং প্রতারণা অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি অভিবাসন সুবিধা ও নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অক্টোবরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ ৪০ জন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। সরকারের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি অবৈধভাবে অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ভুয়া বিয়ে, অভিবাসনসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং পরিচয় গোপনের মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের বয়স ২৬ থেকে ৭৬ বছরের মধ্যে এবং তাঁরা ২০টি দেশের নাগরিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। অতীতে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার বছরে গড়ে প্রায় ১১টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা শুরু করেছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, এই সংখ্যা বেড়ে বছরে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও সরকারের ক্ষমতার ওপর সীমা আরোপ করেছেন। ২০১৭ সালের মাসলেনিয়াক বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলায় আদালত বলেন, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ, আবেদনে কোনো ভুল বা বেআইনি আচরণ পাওয়া গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না; নাগরিকত্ব অর্জনে সেই আচরণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আকিনকুনমির মামলাতেও অভিযোগের সত্যতা, তথ্য গোপনের গুরুত্ব এবং নাগরিকত্ব অর্জনের সঙ্গে সেসব তথ্যের সম্পর্ক আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম তালিকাভুক্ত ছিল না। মামলায় মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীর কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দই ভেবে প্রায় আধা লিটার রং খেলেন নিউইয়র্কের ৯০ বছরের বৃদ্ধ
১৫ বছর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, হতে পারে বহিষ্কারও