গরুর মাংসের দাম কমাতে বিদেশি মাংস আমদানি, ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতায় খামারি ও রিপাবলিকানরা
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম কমাতে আগামী ৯০ দিনের জন্য বিদেশ থেকে অতিরিক্ত মাংস আমদানির পরিকল্পনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর বদলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশটির গরু খামারি ও পশুপালকেরা। এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছেন।
ট্রাম্প শুক্রবার জানান, আগামী ৯০ দিনে সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা যাবে। এই পরিমাণ মাংস নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রমের পর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তা ছাড়াই আমদানির সুযোগ পাবে। ট্রাম্পের দাবি, আমদানি করা এই মাংস বর্তমান বাজারদরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম দামে মার্কিন ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি মাংস রপ্তানিকারকদের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং তাঁরা ২৫ শতাংশ কম দামে মাংস সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। তবে কোন কোন দেশ এই মাংস সরবরাহ করবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করার পরিকল্পনা করছে।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। দেশটির গরুর পাল ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের খরা, খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মেক্সিকো থেকে গবাদিপশু আমদানিতে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহ কমেছে। একই সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে গরুর মাংসের চাহিদা শক্তিশালী থাকায় দাম আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে গরু ও বাছুরের মাংসের দাম এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মাটির গরুর মাংসের গড় দামও প্রতি পাউন্ডে প্রায় ৬ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মার্কিন পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় থাকা এই পণ্যটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল।
তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্লিন টনসর বলেছেন, ৩ লাখ মেট্রিক টন আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে বছরে খাওয়া গরুর মাংসের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশের সমান। ফলে এই পরিমাণ আমদানি বাজারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক ডেভিড অ্যান্ডারসনও প্রশ্ন তুলেছেন, এত অল্প সময়ে বিদেশি দেশগুলো আদৌ এত বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত মাংস যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পারবে কি না।
অন্যদিকে, দেশটির গরু খামারিরা আশঙ্কা করছেন, সস্তা বিদেশি মাংস বাজারে ঢুকলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর দাম কমে যাবে। এতে বর্তমানে লাভজনক অবস্থায় থাকা খামারিরা নতুন করে গরুর পাল বাড়ানোর উৎসাহ হারাতে পারেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হিসেবে গরুর সংখ্যা বাড়ানোই বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটলম্যানস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাস্টিন টাপার বলেন, আমেরিকান খামারিদের পেছনে রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না। তাঁর অভিযোগ, এই উদ্যোগ স্থানীয় বাজারকে দুর্বল করতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
ন্যাশনাল ক্যাটলম্যানস বিফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কলিন উডালও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও আপত্তি দেখা গেছে। নেব্রাস্কার সিনেটর ডেব ফিশার বলেছেন, সবাই বাজারে কম দাম চান, কিন্তু তার জন্য মার্কিন পশুপালকদের ক্ষতির মুখে ফেলা উচিত নয়। তাঁর মতে, বিদেশি গরুর মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় পশুপালন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
মন্টানার রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহিও ট্রাম্পের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য সঠিক হলেও বিদেশি মাংস আমদানির এই উদ্যোগ মার্কিন খামারিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
নেব্রাস্কার আরেক রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসও সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় কৃষক ও পশুপালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে কম মানের মাংস বাজারে ঢোকার আশঙ্কা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খামারিদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন। তবে তাঁর মতে, গরুর মাংসের দাম কমাতে সাময়িকভাবে কিছু সহায়তা প্রয়োজন। প্রশাসন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গরুর পাল বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানি বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সময় পর্যন্ত বাজারে সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ। আমদানি করা মাংস মূলত গরুর মাংসের কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের অংশ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ট্রাম্প প্রশাসন কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন গরুর মাংস আমদানির জন্য শুল্কমুক্ত সীমা সাময়িকভাবে বাড়িয়েছিল। এবার ৯০ দিনের জন্য আরও বড় পরিসরে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর চাপও প্রশাসনের ওপর রয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম কমানোর স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কতটা স্বস্তি দেবে এবং স্থানীয় খামারিদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, ফক্স বিজনেস ও এবিসি নিউজ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবহু প্রতীক্ষিত বিদেশ ভ্রমণের আগে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও কেবল পাসপোর্টের একটি ছোট ভুলের কারণে ভেস্তে যেতে পারে আপনার পুরো পরিকল্পনা। অনেকেই মনে করেন, মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট পুরোপুরি বৈধ। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কখনো পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করেন এবং পরবর্তীতে সেটি খুঁজেও পান, তবুও সেই পাসপোর্ট দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। আইভিসা-এর কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স ডিরেক্টর ভিক্টর জিমেনেজ জানান, একবার সিস্টেমে হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করা হলে পাসপোর্টটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যায়। তাই আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বৈধ মনে হওয়া পাসপোর্টও বিমানবন্দরে বা ইমিগ্রেশনে বড় ধরনের বিপত্তির কারণ হতে পারে। পাসপোর্টের মেয়াদের ক্ষেত্রে একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ ফেরার সম্ভাব্য তারিখের পর অন্তত তিন মাস থাকতে হয় এবং পাসপোর্টটি অবশ্যই গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যুকৃত হতে হয়। আবার অনেক দেশ পৌঁছানোর পর থেকে পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ দাবি করে। শুধু মেয়াদই নয়, পাসপোর্টের ফাঁকা পাতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন বা ভারতের মতো দেশগুলো ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পের জন্য অন্তত দুটি ফাঁকা পাতা দাবি করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে আবার নিয়ম আরেকটু কড়া; সেখানে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে পরপর দুটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পাতা থাকা বাধ্যতামূলক। তাই ভ্রমণের আগে গন্তব্য দেশের এই ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও অনেক সময় অভিভাবকরা ভুল করে থাকেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশেই শিশুদের পাসপোর্টের মেয়াদ প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ১০ বছর হয় না, বরং তা ৫ বছর হয়ে থাকে। তাই শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের আগে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করার পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন বা আইনি সম্পর্কের প্রমাণপত্র সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, এমনকি পদবি এক হলেও। অন্যদিকে, নববিবাহিতদের ক্ষেত্রে প্রায়ই নাম বিভ্রাটের সমস্যা দেখা যায়। অনেকেই বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করলেও পাসপোর্টে তা আপডেট করতে ভুলে যান এবং নতুন নামে ফ্লাইটের টিকিট বুক করেন। পাসপোর্ট ও টিকিটের নামের এই অমিলের কারণে বিমানবন্দরে বোর্ডিং থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। পাসপোর্টের বাহ্যিক অবস্থাও আপনার ভ্রমণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পানি লেগে নষ্ট হওয়া, ল্যামিনেশন উঠে যাওয়া, পাতা আটকে থাকা বা ছিঁড়ে যাওয়াকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। পাসপোর্টের বায়োগ্রাফিক্যাল পাতায় (যেখানে ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য থাকে) কোনো ধরনের অননুমোদিত দাগ, স্টিকার বা শিশুদের আঁকিবুঁকি থাকলে সেটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। তবে স্বাভাবিক ব্যবহারের কারণে মলাটে সামান্য দাগ পড়লে বা পাতা কিছুটা বাঁকা হলে সাধারণত সমস্যা হয় না। মূল বিষয় হলো, পাসপোর্টের তথ্যগুলো যাতে মেশিন রিডেবল বা স্ক্যান করার মতো অবস্থায় থাকে। অনেক গন্তব্যস্থল ‘ভিসা-মুক্ত’ হলেও এর অর্থ এই নয় যে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে যাওয়া যাবে। যুক্তরাজ্য বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে ভিসা না লাগলেও যাত্রার আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, আপনি যদি নতুন পাসপোর্ট তৈরি করেন, তবে পুরোনো পাসপোর্টের ইটিএ বা কিছু ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুনটিতে স্থানান্তরিত হয় না। কারণ, নতুন পাসপোর্টের নম্বর ভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে অনেক দেশ পুরোনো ও নতুন দুটি পাসপোর্টই সাথে রাখার পরামর্শ দেয়, আবার কিছু দেশ নতুন করে ইটিএ বা ভিসার আবেদন করতে বলে। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের নিয়মকানুন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ফ্লাইট বুকিংয়ের আগে এবং ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে গন্তব্য দেশের সরকারি ওয়েবসাইট ও এয়ারলাইন্সের নিয়মাবলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
মূলধনের অভাবে থেমে যাবে না স্বপ্ন, তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক ডিগ্রির তালিকায় ইউসিএলএর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং
নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীকে হ ত্যার পর সামনে এলো স্ত্রীর ভয়াবহ নি র্যাতনের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে ১০০ ফুট ওপর থেকে পড়ে যান ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। তবে বিস্ময়করভাবে পাহাড়ের গা ও একটি বিশাল পাথরের খাঁজের মাঝখানে আটকে গিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অবিশ্বাস্যভাবে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ভোরে আয়রন কাউন্টির রেড হোলো ট্রেইলহেডে সূর্যোদয় দেখার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর এই ভয়ানক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় শেরিফ অফিস এবং সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, অন্ধকারের মধ্যেই পাহাড় থেকে ছিটকে পড়ার পর তরুণীটি পাথরের খাঁজে আটকা পড়েন। শেরিফ অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তার মাথায় বেশ গুরুতর আঘাত লাগে। উদ্ধারের সময় তার জ্ঞান থাকলেও দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি মানসিকভাবে বেশ বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। এছাড়া তার পা ও হাতে চিড় ধরেছে, পিঠ ও পাঁজরে আঘাত লেগেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র যন্ত্রণায় কাতর ওই তরুণীকে পাথরের সংকীর্ণ খাঁজ থেকে বের করতে উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেন। উদ্ধার অভিযানের শুরুতে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে ওই তরুণীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার পর তাকে একটি রেসকিউ বাস্কেটে নিরাপদে আটকে রাখা হয়। এরপর খুব সাবধানে তাকে পাহাড় থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। দ্রুত চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি হেলিকপ্টারে করে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তার শারীরিক অবস্থার সবশেষ বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। এদিকে, আয়রন কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে রেড হোলো এলাকায় সূর্যোদয় দেখতে যাওয়া দর্শনার্থীদের চরম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্ধকার বা কম আলোতে খাড়া পাহাড়ের আশেপাশে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি নিয়োগের অভিযোগ, মাইক্রোসফট-অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার চীনা গুপ্তচর, অভিযানের আগেই চীনে পালালেন সন্দেহভাজন সহযোগী
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ কোটি শিশুর নামে খুলল বিনিয়োগ হিসাব, অভিভাবকদের এখন যা করতে হবে
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মাইক্রোসফটকে বিদেশি কর্মীদের জন্য স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে। এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রম বিভাগের স্থায়ী শ্রম অনুমোদন কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারে। কর্মসূচিটি স্থগিত হওয়ায় মাইক্রোসফটের জন্য বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে রাখার প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মাইক্রোসফটের সব বিদেশি কর্মীর এইচ-১বি ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে গেছে। নতুন সিদ্ধান্তটি মূলত স্থায়ী বসবাসের পথ বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করেছে। ফলে বর্তমানে বৈধ এইচ-১বি অবস্থানে থাকা কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি বা ভিসা হারাচ্ছেন—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাইক্রোসফট বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের কর্মী ছাঁটাই ও বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই অভিযোগ করেছেন। তবে মাইক্রোসফট মার্কিন কর্মীদের বদলে বিদেশি কর্মী বসিয়েছে—এমন অভিযোগের সব দাবির স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করতে ভিসা ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। মাইক্রোসফট বহু বছর ধরে বিদেশি প্রযুক্তি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান। ২০২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক দশকে সংখ্যাটি ৫৩ হাজারের বেশি বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। এর ফলে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে বিষয়টি বিশেষ আগ্রহের কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য দক্ষ কর্মীদের একটি বড় অংশ এইচ-১বি ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। একই দিনে প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশাসন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহারের বিষয়েও তদন্তের কথা জানিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং পরে চাকরির মাধ্যমে দেশটিতে থাকার পরিকল্পনা করা তরুণদের জন্য অভিবাসন নীতির পরিবর্তন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে নেওয়া বর্তমান পদক্ষেপের মেয়াদ কতদিন থাকবে এবং কোম্পানিটি কীভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ নিয়ে মাইক্রোসফট ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্ত শুধু মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার ওপর একই ধরনের চাপ তৈরি হবে।
নিউ জার্সিতে কর সহায়তার টাকা পাঠানো শুরু, যোগ্য বাসিন্দাদের ব্যাংক হিসাব দেখার পরামর্শ
যুক্তরাষ্ট্রে ৬৬০ কর্মী ছাঁটাই করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট, চাপে চাকরির বাজার