ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে টেক্সাসে গিয়েও স্বস্তিতে নেই ইলন মাস্ক, ক্ষমতায় ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ও নীতিগত বিরোধিতা এড়াতে ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে টেক্সাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার সেই টেক্সাসেই ক্ষমতায় আসছেন ডেমোক্র্যাট নেতা জিনা হিনোজোসা। শুধু তাই নয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে প্রায় ৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি মাস্ক।
গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাসের গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসা। এর মধ্য দিয়ে তিন দশকের বেশি সময় পর টেক্সাসের গভর্নরের দায়িত্বে ফিরছে ডেমোক্র্যাটরা। একই নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসনে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো। মাস্কের সমর্থন ও বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও দুই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
মাস্কের টেক্সাসে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কারণ ছিল। ২০২১ সালে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে নিজের আবাসস্থল সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি টেসলার প্রধান কার্যালয়ও সেখানে স্থানান্তর করেন তিনি। পরে ২০২৪ সালে স্পেসএক্স ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের প্রধান কার্যালয়ও টেক্সাসে নেওয়ার ঘোষণা দেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করে তিনি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, টেক্সাসে ব্যক্তিগত আয়করের রাজ্যভিত্তিক কোনো ব্যবস্থা নেই, যা ব্যবসায়ী ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কাছে রাজ্যটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
টেক্সাসে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছ থেকেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা পেয়েছে মাস্কের প্রতিষ্ঠানগুলো। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিনোজোসার নির্বাচনী প্রচারশিবিরের দাবি, স্পেসএক্স ৩ কোটি ডলারের রাজ্য অনুদান পেয়েছে। এ ছাড়া টেরাফ্যাব নামের সেমিকন্ডাক্টর কারখানা নির্মাণের জন্য টেসলার প্রকল্পে প্রায় ১৬৬ কোটি ডলারের করছাড় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। হিনোজোসার অভিযোগ, মাস্কের সঙ্গে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর অ্যাবটের দপ্তর ও মাস্কের মধ্যে আদান-প্রদান করা ই-মেইলসহ বিভিন্ন নথি প্রকাশের আবেদনও করেন তিনি।
নির্বাচনের আগে থেকেই মাস্ক ও টেক্সাসের রিপাবলিকান রাজনীতিকদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সখ্য ছিল। রিপাবলিকানদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি প্যাক্সটনকে সিনেট নির্বাচনে জয়ী করতেও সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেন মাস্ক। তবে তাঁর এই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। জেমস তালারিকোর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গেছেন প্যাক্সটন।
মাস্কের নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণও ছিল নজরকাড়া। ফেডারেল নির্বাচনী অর্থায়নের নথি ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তায় তিনি প্রায় ৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন। তবে এই হিসাব ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত জমা পড়া নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে চূড়ান্ত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং টেক্সাসের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলোতেও পরাজিত হয়েছে।
এদিকে, ওয়াশিংটনেও মাস্কের জন্য নতুন রাজনৈতিক ও আইনি চাপ তৈরি হতে পারে। নির্বাচনের আগে থেকেই প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা মাস্কের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, সরকারি চুক্তি এবং সাবেক সরকারি দক্ষতা বিভাগে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্তের কথা বিবেচনা করছিলেন। নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এ ধরনের তদন্তের প্রস্তুতি আরও জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য তদন্তের মুখে মাস্ক ও তাঁর সহযোগীদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
গত সোমবার এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা তদন্ত শুরু করলে মাস্ক ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের আগাম ক্ষমা করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মাস্ককে ঘিরে সম্ভাব্য তদন্ত নিয়ে হোয়াইট হাউসের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে টেক্সাসে ব্যবসা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের যে কৌশল নিয়েছিলেন মাস্ক, নির্বাচনের ফলাফল তাঁর সেই অবস্থানকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন, অ্যাক্সিওস।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের জন্য নতুন ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্স ব্র্যাকেট ঘোষণা করেছে ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস বা আইআরএস। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে সাতটি ট্যাক্স ব্র্যাকেটের আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ও চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের পরিমাণ। তবে ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্সের হার অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালে অর্জিত আয়ের ওপর এই করসীমা প্রযোজ্য হবে এবং সেই আয়ের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে ২০২৮ সালে। শনিবার (৭ নভেম্বর) প্রকাশিত ইয়াহু ফাইন্যান্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরএস প্রতিবছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্যাক্স ব্র্যাকেটের আয়সীমা পরিবর্তন করে। এর ফলে শুধু মূল্যস্ফীতির কারণে বেতন বা আয় বাড়লে করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়। এবারের ঘোষণায় ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্সের সাতটি হার আগের মতোই ১০, ১২, ২২, ২৪, ৩২, ৩৫ ও ৩৭ শতাংশ রাখা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অবিবাহিত করদাতাদের প্রথম ১২ হাজার ৮০০ ডলার করযোগ্য আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। এরপর ৫২ হাজার ২৫ ডলার পর্যন্ত আয়ের পরবর্তী অংশে ১২ শতাংশ এবং ১ লাখ ৯ হাজার ১২৫ ডলার পর্যন্ত আয়ের অংশে ২২ শতাংশ কর দিতে হবে। সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের অংশে। অন্যদিকে বিবাহিত দম্পতিরা যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিলে প্রথম ২৫ হাজার ৬০০ ডলার করযোগ্য আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। এরপর ১ লাখ ৪ হাজার ৫০ ডলার পর্যন্ত আয়ের অংশে ১২ শতাংশ এবং ২ লাখ ১৮ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত আয়ের অংশে ২২ শতাংশ কর দিতে হবে। যৌথভাবে রিটার্ন জমা দেওয়া দম্পতিদের ক্ষেত্রে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫০ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের অংশে সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে। করদাতাদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বৃদ্ধি। ২০২৭ করবর্ষে অবিবাহিত করদাতাদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৬০০ ডলার। বিবাহিত দম্পতিরা যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিলে এই সুবিধা পাবেন ৩৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে হেড অব হাউসহোল্ড হিসেবে রিটার্ন জমা দেওয়া করদাতাদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন হবে ২৪ হাজার ৯২৫ ডলার। স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন হলো আয়কর হিসাব করার আগে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ বাদ দেওয়ার সুবিধা। অর্থাৎ একজন যোগ্য করদাতা তাঁর আয় থেকে নির্ধারিত অর্থ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট করযোগ্য আয়ের ওপর ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্স হিসাব করতে পারেন। ফলে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়লে অনেক করদাতার করযোগ্য আয়ের পরিমাণ কমতে পারে। সন্তান থাকা পরিবারগুলোর জন্যও নতুন ঘোষণায় পরিবর্তন রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যোগ্য প্রতিটি সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ ডলার চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৭ সালে এই পরিমাণ বেড়ে হবে ২ হাজার ৩০০ ডলার। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ ডলার হবে। তবে চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানের বয়স, পরিবারের আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। সাধারণত ১৭ বছরের কম বয়সী যোগ্য সন্তানের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হয়। সব পরিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ পাবে না। নতুন ট্যাক্স ব্র্যাকেট নিয়ে করদাতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা প্রয়োজন। কারও আয় বেড়ে উচ্চ করের স্তরে পৌঁছালেই তাঁর সম্পূর্ণ আয়ের ওপর সেই উচ্চ হারে কর দিতে হয় না। বরং আয়ের বিভিন্ন অংশের ওপর আলাদা হারে কর হিসাব করা হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৭ সালে কোনো অবিবাহিত করদাতার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনসহ অন্যান্য প্রযোজ্য ছাড় বাদ দেওয়ার পর করযোগ্য আয় ৪০ হাজার ডলার হলে প্রথম ১২ হাজার ৮০০ ডলারের ওপর ১০ শতাংশ এবং পরবর্তী ২৭ হাজার ২০০ ডলারের ওপর ১২ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে। এতে তাঁর মোট ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্স দাঁড়াবে ৪ হাজার ৫৪৪ ডলার। অর্থাৎ সর্বোচ্চ প্রযোজ্য করের হার ১২ শতাংশ হলেও কার্যকর করের হার হবে প্রায় ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এদিকে করযোগ্য আয় কমানোর জন্য যোগ্য করদাতারা অবসরকালীন সঞ্চয় কর্মসূচি, নির্দিষ্ট আইআরএ অবদান, স্টুডেন্ট লোনের সুদ এবং হেলথ সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো করসুবিধা বিবেচনা করতে পারেন। তবে প্রতিটি সুবিধার জন্য আলাদা যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবার, চাকরিজীবী, স্বনির্ভর কর্মী এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ট্যাক্স ব্র্যাকেট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন, সন্তানসংক্রান্ত করসুবিধা পান কিংবা অবসরকালীন সঞ্চয়ে অর্থ জমা রাখেন, তাঁদের জন্য নতুন আয়সীমা ও ডিডাকশনের পরিবর্তন প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে ২০২৭ সালের নতুন ট্যাক্স ব্র্যাকেট ২০২৬ সালের আয়ের ওপর প্রযোজ্য হবে না। ২০২৬ সালের আয়ের ট্যাক্স রিটার্ন সাধারণত ২০২৭ সালে জমা দিতে হবে। অন্যদিকে নতুন ঘোষিত আয়সীমা কার্যকর হবে ২০২৭ সালে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে, যার রিটার্ন জমা দেওয়া হবে ২০২৮ সালে। সূত্র: ইয়াহু ফাইন্যান্স
ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে টেক্সাসে গিয়েও স্বস্তিতে নেই ইলন মাস্ক, ক্ষমতায় ডেমোক্র্যাটরা
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির অভিযোগে হোয়াইট হাউসের কাছে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার অভিবাসী
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পেছনে ভোট না দেওয়া মার্কিনিদেরও দায় মন্তব্য রিহানার
ক্ষমতা ছাড়ার আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৪৮ বন্দির সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ডে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে এসব বন্দিকে প্যারোল বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তির সুযোগ ছাড়াই বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক ইতিহাসে একসঙ্গে এতসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তনের উদ্যোগ এটিই সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে আট বছরের দায়িত্ব শেষ করে আগামী জানুয়ারিতে বিদায় নেওয়ার কথা নিউসমের। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। এবার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে রাজ্যের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সব বন্দির সাজা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেন তিনি। তাঁর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ৫৪৮ বন্দির মধ্যে ৫২৯ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী। তবে নিউসমের ঘোষণার অর্থ এই নয় যে, সব বন্দির সাজা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, একাধিক অপরাধে দণ্ডিত বন্দিদের সাজা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন। নিউসমের কার্যালয়ের হিসাবে, মোট ৫৪৮ বন্দির মধ্যে ৩৮২ জনের সাজা পরিবর্তনে আদালতের সম্মতি নিতে হবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আইনি অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা বন্দির সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। তবে এতে সংশ্লিষ্ট বন্দিদের কারামুক্তির কোনো সুযোগ তৈরি হবে না। তাঁদের প্যারোল ছাড়াই আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে। একই সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের বিধানও বাতিল হচ্ছে না। ভবিষ্যতে নতুন মামলায় আদালত চাইলে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবেন। রাজ্যটিতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ২০০৬ সালে। নিউসমের এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। সংগঠনটির মতে, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে বর্ণগত বৈষম্য এবং ভুল রায়ে নিরপরাধ ব্যক্তির সাজা পাওয়ার ঝুঁকি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডে স্বজন হারানো পরিবারের একাংশ এবং মৃত্যুদণ্ডের সমর্থকেরা সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের সাজা পরিবর্তন করলে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিউসম তাঁর ঘোষণায় বলেছেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কাউকে হত্যা করা ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি বিচারব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা, ভুল বিচারের ঝুঁকি এবং অপরাধের শিকার পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দেশটিতে মতভেদ দীর্ঘদিনের। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের কার্যালয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী আফগান বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট আয়েশা ওয়াহাব
যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণের ৫০০ দিন পর ভিডিও গেমের সাহায্যে উদ্ধার পেলেন কিশোরী
নিউ ইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৪৫ ডলার আয়ের সুযোগ, নিয়োগ চলছে
অভিযোগের বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি কিম্বার্লি ইয়ে। ফক্স ১০ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। নর্টন দাবি করেছেন, কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারেন। তবে তাঁদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। মামলার আনুষ্ঠানিক নথি জমা দেওয়ার আগে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণও জনসমক্ষে আসেনি। এটি নর্টনের প্রথম মানহানির মামলা নয়। ২০২২ সালে অ্যারিজোনার প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রাইমারিতে কংগ্রেসম্যান ডেভিড শোয়েইকার্টের কাছে পরাজিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করেছিলেন নর্টন। সে সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, শোয়েইকার্টের সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ওই মামলার শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয় এবং নর্টনের দাবি অনুযায়ী, শোয়েইকার্ট তাঁকে অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। এবারের মামলায় কোনো সমঝোতায় যেতে চান না বলে জানিয়েছেন নর্টন। তাঁর ভাষায়, রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং নীতি, কর্মপরিকল্পনা ও কাজের রেকর্ড নিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এবার মামলাটি বিচার পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান। নির্বাচনী রাজনীতি থেকে আপাতত সরে গিয়ে নিজের ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট নিক ম্যানসুরের প্রতি সৌজন্য দেখিয়েছেন নর্টন। পরাজয় স্বীকার করার পর তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং একসঙ্গে পানীয় পান করার আমন্ত্রণও দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে কিম্বার্লি ইয়ে ভবিষ্যতে আবার কোনো নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁর বিরোধিতা করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নর্টন। ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে অ্যারিজোনার মারিকোপা কাউন্টিতে মামলাটি দায়ের করার কথা রয়েছে। তবে মামলা দায়েরের আগে পর্যন্ত নর্টনের অভিযোগগুলো তাঁর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কিম্বার্লি ইয়ের বিরুদ্ধে আনা দাবিগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স, অ্যারিজোনার নির্বাচনী ফলাফল।
যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার ইউসি বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
নির্বাচনে জয়ের এক দিন পরই গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অ্যান্থনি ইলি