বিশ্ব

নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের তীব্র বার্তা: ‘সবাই অসন্তুষ্ট, ইহুদিরাও ক্ষুব্ধ’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১:১০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গাজা যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন—এমন চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে একটি নতুন বইয়ে। বইটির তথ্য অনুযায়ী, এক গোপন ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, “সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত।”

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ শিরোনামের এই বইটি লিখেছেন দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বইটি প্রকাশের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

 

বইটির বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ফোনালাপের সময় ট্রাম্পের পাশে উপস্থিত ছিলেন তার জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ—যারা দুজনই ইহুদি। তাদের উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনেই ট্রাম্প মন্তব্যটি করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

 

ঘটনার পটভূমি হিসেবে বইয়ে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গাজা সংকট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একটি ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করে। এর আগে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হলে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সেই ঘটনার পর কুশনার ক্ষোভ প্রকাশ করে নিকটজনদের কাছে ইসরায়েলি সিদ্ধান্তকে ‘অতিরিক্ত আগ্রাসী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

 

পরবর্তীতে কুশনার এই পরিস্থিতিকে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান এবং একটি শান্তি প্রস্তাব তৈরি করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়।

 

বইয়ের দাবি অনুযায়ী, সেই খসড়া পরিকল্পনা নিয়েই ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাকে কড়া ভাষায় জানান, “তুমি এখন আর পিছু হটতে পারবে না। ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু আমি। সবাই তোমার সমালোচনা করছে, কিন্তু আমি তোমার পাশে থেকেছি। এটি ইসরায়েলের জন্য একটি ভালো চুক্তি।”

 

এর মাত্র দুই দিন পর, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে ওই শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরে নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও এই পরিকল্পনাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়।

 

বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে নেতানিয়াহু ইরানে সরকার পরিবর্তনের উপযুক্ত সময় এসেছে বলে মত দেন। তবে পরবর্তী আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই মূল্যায়নকে সরাসরি খারিজ করে দেন বলে দাবি করা হয়েছে।

 

গোপন বৈঠক, সংবেদনশীল নথি এবং ইরান-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ আলোচনা ফাঁস হয়ে বইটিতে প্রকাশ পাওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিশেষ করে সিচুয়েশন রুমের আলোচনার মতো উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা তথ্য প্রকাশ পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের বরাতে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্তরালের টানাপোড়েন এই বইয়ের মাধ্যমে নতুনভাবে সামনে এসেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতা! তিন মাসে নিহত ২৫
ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতা! তিন মাসে নিহত ২৫

ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও উচ্ছেদের ঘটনা বেড়েছে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন। সংগঠনটির ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকারকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে অন্তত ২৫ মুসলিম নিহত হয়েছেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এবং বাকি ১০ জন উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হামলা, গণপিটুনি ও অন্যান্য সহিংস ঘটনায় নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ বছরের একটি শিশু এবং ১৬ বছরের এক কিশোরও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   তবে সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের ওয়েবসাইটে বর্তমানে প্রকাশিত সর্বশেষ ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার সংস্করণটি জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ সময়ের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে প্রথম চার মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত চার মুসলিম নিহত এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতায় অন্তত ১৩ মুসলিম নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটি নিজেই জানিয়েছে, তাদের ট্র্যাকার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয় এবং প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য ও যাচাই করা বিভিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।   মে ও জুন মাসে মুসলিমদের ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভাঙার ঘটনাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাত্র ৪৫ দিনে ভারতের ছয়টি রাজ্যে ২৩টির বেশি মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ জমি দখলমুক্ত করা বা সড়ক সম্প্রসারণের মতো কারণ দেখিয়েছে।   সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্তর প্রদেশ, আসাম ও জম্মু ও কাশ্মীরসহ কয়েকটি এলাকায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আটক, নির্যাতন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনাও একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যে ধর্মীয় মেরুকরণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে বলে সংগঠনটি মনে করছে।   সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন জানিয়েছে, তাদের ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, আইনজীবী এবং মানবাধিকারকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যসহ একাধিক উৎস ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। তবে সংগঠনটির নথিভুক্ত ঘটনাগুলোকে ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সব সহিংসতার পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৩:৫৯
পর্তুগালে ‘অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়

পর্তুগালে ‘অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়’, ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

স্পেনের ভবিষ্যৎ রানি লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ

স্পেনের ভবিষ্যৎ রানি লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ, প্যারাট্রুপার হিসেবে গড়লেন ইতিহাস

১,৫০০ দম্পতির সঙ্গে আবার বিয়ে করলেন বাবা

হামলায় স্ত্রী ও ৬ সন্তানকে হারিয়েছিলেন, এবার ১,৫০০ দম্পতির সঙ্গে আবার বিয়ে করলেন সেই বাবা

কানেকটিকাটে স্ন্যাপ সুবিধা হারানো পরিবারকে ৩০০ ডলারের খাদ্য সহায়তা
কানেকটিকাটে স্ন্যাপ সুবিধা হারানো পরিবারকে ৩০০ ডলারের খাদ্য সহায়তা, প্রিপেইড কার্ডে মিলবে এলাউন্স

কানেকটিকাটে ফেডারেল নিয়ম পরিবর্তনের কারণে স্ন্যাপ সুবিধা হারানো কিছু পরিবারকে এককালীন ৩০০ ডলারের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অঙ্গরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল সার্ভিসেস। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগস্টের মধ্যে এই সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং কারা কীভাবে এটি পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।   এই সহায়তা মূলত তাদের জন্য, যারা স্ন্যাপের যোগ্যতার নিয়মে পরিবর্তনের কারণে আগের খাদ্য সহায়তা হারিয়েছেন। এটি সাধারণ স্ন্যাপ সুবিধার অতিরিক্ত মাসিক পেমেন্ট নয়, বরং একবারের জন্য দেওয়া ৩০০ ডলারের গ্রোসারি কার্ড।   কানেকটিকাটের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্ন্যাপ ও হেলথ কেয়ার সুবিধার নতুন যোগ্যতার নিয়ম অনেক পরিবারের জন্য জটিল হয়ে উঠেছে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরও অনেক মানুষ তাদের আগের সুবিধা ধরে রাখতে পারবেন। কার ওপর নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা বোঝার জন্য রাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল সার্ভিসেস আলাদা প্রাথমিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা করেছে।   এদিকে ২০২৫ সালের নতুন ফেডারেল আইনের পর স্ন্যাপের যোগ্যতার কিছু শর্তে পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে কাজের শর্ত এবং কিছু অ-নাগরিকের স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্যতার পরিবর্তনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্ন্যাপ পেতে আবেদনকারীকে যে অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন, সেখানেই আবেদন করতে হয় এবং আয় ও সম্পদের নির্দিষ্ট সীমা পূরণ করতে হয়।   কানেকটিকাটে শিশুদের জন্য আলাদা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও চালু রয়েছে। ২০২৬ সালের সামার ইবিটি কর্মসূচির আওতায় যোগ্য শিশুদের খাদ্য কেনার জন্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের সামার ইবিটির আবেদন ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা যাবে।   যোগ্যতার ক্ষেত্রে পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের সামার ইবিটি কর্মসূচিতে চার সদস্যের পরিবারের জন্য বার্ষিক আয়ের সীমা ৬১ হাজার ৫০ ডলার এবং মাসিক সীমা ৫ হাজার ৮৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়লে সীমাটিও বাড়ে।   যারা স্ন্যাপ বা অন্যান্য খাদ্য সহায়তা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন, তাদের জন্য কানেকটিকাটে আরও কিছু খাদ্য সহায়তা ব্যবস্থাও রয়েছে। রাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের বাসিন্দারা বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার জন্য ফেডারেল খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতেও যুক্ত হতে পারেন।   তবে ৩০০ ডলারের এই সহায়তা সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। কারা নতুন নিয়মের কারণে স্ন্যাপ হারিয়েছেন এবং কারা এককালীন খাদ্য সহায়তার জন্য যোগ্য, সে বিষয়ে রাজ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ০:৩৩
জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদূদীর নাতনি সোফিয়া

জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদূদীর নাতনি সোফিয়া, পোশাকে ইসরায়েলের প্রতীক! ট্রাম্পপন্থী রাজনীতিতেও সক্রিয়

দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে। ছবি: সংগৃহীত

আড়ালে থাকার পর প্রথমবার ভিডিওতে দেখা গেল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে

নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ মুহূর্তে বাতিল হয় ফ্লাইট। ছবি: সংগৃহীত

সিটবেল্ট না বাঁধায় এক শিশুর কারণে বাতিল পুরো ফ্লাইট, ভোগান্তিতে শতাধিক যাত্রী

ইরান যুদ্ধের পর বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে কমেছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, রাশিয়া-চীনের সম্ভাব্য সুযোগ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের মতো বড় সামরিক শক্তির সঙ্গে সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   রয়টার্সের ৪ আগস্টের প্রতিবেদনে তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মতো দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। একই সময়ে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৩৮ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।    নিউইয়র্ক টাইমসও এ বিষয়ে প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান যুদ্ধের চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার সামরিক মজুত থেকেও অস্ত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে সম্ভাব্য অন্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কম থাকলে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে হিসাব করতে পারে।   সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত টমাহক, থাড ও প্যাট্রিয়টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর লাগতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে, এসব অস্ত্রের কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধপূর্ব মজুত পুনর্গঠনে তিন বছর বা তারও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।    এই পরিস্থিতির কৌশলগত প্রভাব সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে চীন ও রাশিয়াকে ঘিরে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব অস্ত্রের মজুত কমে গেলে একই সময়ে একাধিক সামরিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রতিপক্ষরা নতুন করে হিসাব করতে পারে।    তবে এর অর্থ রাশিয়া বা চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এমন নয়। উদ্বেগটি মূলত সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রের মজুত দীর্ঘ সময় কম থাকলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা মূল্যায়নের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গত মাসে লকহিড মার্টিনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে প্যাট্রিয়ট উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।    তবে উৎপাদন বাড়ালেই দ্রুত ঘাটতি পূরণ হবে না। রাইনমেটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরমিন প্যাপারগার জানিয়েছেন, এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মজুত পুনর্গঠনে দুই বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ৬ আগস্ট বলেছেন, কিছু শক্তিশালী মার্কিন অস্ত্রের সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত থাকলেও কয়েকটি অস্ত্রের ক্ষেত্রে মজুত কমে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াচ্ছে। .   ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয় নয়। দীর্ঘ সংঘাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র কত দ্রুত ব্যবহার হয়ে যেতে পারে এবং সেই মজুত পুনর্গঠনে কত সময় লাগে, সেটিও ওয়াশিংটনের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মজুত দ্রুত পুনর্গঠন করা না গেলে ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা আরও জটিল হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ২১:২৩
পড়াশোনার খরচ জোগাতে ২৮ লাখ মানুষের কাছে মাত্র ১ সেন্ট করে চাইলেন

পড়াশোনার খরচ জোগাতে ২৮ লাখ মানুষের কাছে মাত্র ১ সেন্ট করে চাইলেন, শেষ পর্যন্ত উঠল প্রায় ৩৫ লাখ টাকা!

রুশ তেল কিনে বিপাকে চীন ভারত, ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল পাস মার্কিন সিনেট

রুশ তেল কিনে বিপাকে চীন ভারত, ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল পাস মার্কিন সিনেট

যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

0 Comments