টেকসই উন্নয়নে শক্তিশালী ডিজিটাল সংযোগ অপরিহার্য: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা জরুরি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে ডিজিটাল ওয়ালেট চালু এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার বা পিপিআরসি আয়োজিত ‘Financial Inclusion 2.0’ শীর্ষক গ্রুপ ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি একে অপরের পরিপূরক। ডিজিটাল অর্থনীতির গতি বাড়াতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো ছাড়া ডিজিটাল ফাইন্যান্সের সুফল পুরোপুরি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘এক সিটিজেন এক ওয়ালেট’ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ সহজলভ্য হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকেও ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেন।
এ ক্ষেত্রে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক উৎপাদক ও কারিগরদের চিহ্নিত করে তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এর ফলে গ্রামের ছোট উদ্যোক্তা ও উৎপাদকরা সরাসরি ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান।
প্রযুক্তির ব্যবহার সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজ করার বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের জন্য স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ছে। কৃষকরা আবহাওয়া, সারের প্রয়োজনীয়তা এবং কৃষিপণ্যের বাজারদর সম্পর্কেও তথ্য নিতে পারছেন বলে জানান তিনি।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও সহায়তা ডিজিটাল বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড এবং ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
তবে ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলেন আমির খসরু। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে উদ্ভাবন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সাইবার সিকিউরিটি এবং নীতিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন। অর্থাৎ ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপদ অবকাঠামো ও কার্যকর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।
আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নেন। আলোচনায় ডিজিটাল সংযোগ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, গ্রামীণ অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অর্থনীতি
View moreযুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে টানা ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে কাজ খুঁজেও চাকরি পাচ্ছেন না, এমন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে নিউজউইকের প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বলতে সাধারণত এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যাঁরা অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার এবং সক্রিয়ভাবে চাকরি খুঁজছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের হিসাব অনুযায়ী, এই শ্রেণির মানুষদের সাধারণ বেকার জনগোষ্ঠী থেকে আলাদাভাবে গণনা করা হয়। কারণ দীর্ঘ সময় চাকরির বাইরে থাকলে আয় ও সঞ্চয়ের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন চাকরিতে ফিরে আসাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের বৃদ্ধি সাধারণ বেকারত্বের হার থেকে ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে। সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও যাঁরা চাকরি হারাচ্ছেন, তাঁদের একটি অংশ নতুন চাকরি পেতে বেশি সময় নিতে পারেন। ফলে শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে শ্রমবাজারের পুরো পরিস্থিতি বোঝা যায় না। দীর্ঘ সময় চাকরি না থাকলে পরিবারের নিয়মিত খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মর্টগেজ, রেন্ট, গাড়ির কিস্তি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সঞ্চয় সীমিত থাকলে সেই চাপ আরও বাড়ে। চাকরি খোঁজার সময় দীর্ঘ হলে অনেককে পেশা পরিবর্তন কিংবা আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরির কথাও বিবেচনা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারের পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চাকরির বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগের হার এবং বেকারত্বের মেয়াদ গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এসব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে কতটা আগ্রহী এবং চাকরিপ্রার্থীরা কত দ্রুত কাজে ফিরতে পারছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বাড়ার অর্থ এই নয় যে সব খাতে সমানভাবে চাকরির সুযোগ কমেছে। বিভিন্ন শিল্প, পেশা ও অঞ্চলে নিয়োগ পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। একইভাবে বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণ করতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি পরিসংখ্যান বিবেচনা করা প্রয়োজন। নিউজউইকের প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বেকারের সর্বশেষ সংখ্যা, আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধির হার এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই পরিস্থিতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের সাম্প্রতিক প্রবণতা তাই শ্রমবাজারের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস।
যুক্তরাষ্ট্রে সঞ্চয়ের হার চার বছরের সর্বনিম্নে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম
মিশিগানসহ ৪৩টি স্টেটস এ বাড়ির ডাউন পেমেন্টে সুদমুক্ত ঋণ দিবে জিলো
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স গড়ে ১৫ হাজার ডলার, অধিকাংশের সঞ্চয় অনেক কম
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খাবারের খরচ সামলাতে অনেকেই নিয়মিত খাবার খাওয়া বাদ দিচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, খাবারের উচ্চমূল্যের কারণে তাঁরা কখনো কখনো খাবার বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেলফ ফাইন্যানশিয়ালের পরিচালিত ওই জরিপটি করা হয়েছিল গত আগস্টে। এতে প্রায় এক হাজার মানুষ অংশ নেন। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবারের বাজার খরচেই প্রভাব ফেলছে না, মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মুদি দোকানের পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। এ সময়ে গরুর মাংসের কিমার দাম বেড়েছে ৬৭ শতাংশ এবং কফির দাম বেড়েছে ১০৮ শতাংশ। ফলে আগে যে পরিমাণ অর্থে একটি পরিবারের সাপ্তাহিক বাজার করা সম্ভব হতো, এখন একই পণ্য কিনতে তার চেয়ে অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য তাঁদের মানসিক সুস্থতা ও উদ্বেগের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। শারীরিক ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টি এবং ঘুমের ওপর প্রভাবের তুলনায় বাজারের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা তাঁদের কাছে আরও বড় চাপ হয়ে উঠেছে। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি জ্বালানির দামও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর বাজেটে চাপ তৈরি করছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে আগের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি দিন ধরে গড় পেট্রল মূল্য গ্যালনপ্রতি চার ডলার বা তার বেশি পর্যায়ে ছিল বলে মূল্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্য ইঙ্গিত করে। বাড়তি খরচের প্রভাব বিশেষভাবে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর। গোল্ডম্যান স্যাকসের সেপ্টেম্বরের এক গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরে ৫০ হাজার ডলার বা তার কম আয় করা পরিবারের ৬০ শতাংশের কিছু বেশি পরিবার বেতন পাওয়ার পর পরবর্তী বেতন আসা পর্যন্ত দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে অসন্তোষ রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক জরিপে ৬৯ শতাংশ ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। একই জরিপে ৭৩ শতাংশ ভোটার জ্বালানির দাম মোকাবিলায় তাঁর পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন। সিয়েনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ডন লেভির ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ। তবে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের দাম সব বিভাগে একই হারে বাড়ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, বাড়িতে রান্নার জন্য কেনা খাদ্যপণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে রেস্তোরাঁসহ বাইরে খাবার খাওয়ার খরচ বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কম থাকলেও আগের কয়েক বছরের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক পণ্যের দাম এখনো পরিবারের নাগালের বাইরে বলে মনে করছেন ভোক্তারা। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকায় বাজারের তালিকা ছোট করা, কম দামের পণ্য বেছে নেওয়া কিংবা খাবার বাদ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের গড় বয়স ছিল ৩৩ বছর, এখন ৫৬! নতুন ক্রেতার রেকর্ড পতন
আম্বানির শেয়ার কিনতে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড
ফ্রান্সে দাঙ্গা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য ও বৈশ্বিক উদ্বেগে ইউরোর দর কমল, শক্তিশালী ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিস্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপার, নার্স ও দক্ষ কারিগরি পেশায় ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে ছয় মাসের কোর্স করলেই এসব কাজে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৮০ ডলার আয় নিশ্চিত, এমন ধারণা সঠিক নয়। পেশাভেদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, কয়েক বছরের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের বিএলএস প্রকাশিত মে ২০২৫ সালের জাতীয় মধ্যম বেতন ধরে নিচে ১০টি পেশার তুলনা তুলে ধরা হলো। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেতনের ১০ পেশার র্যাঙ্কিং নয়। উচ্চশিক্ষানির্ভর ও কারিগরি কয়েকটি পরিচিত পেশার আয় ও প্রবেশের যোগ্যতা বোঝানোই এই তুলনার উদ্দেশ্য। মধ্যম বেতন বলতে এমন অঙ্ক বোঝায়, যার চেয়ে অর্ধেক কর্মী বেশি এবং অর্ধেক কম আয় করেন। এটি নতুন কর্মীর শুরুর বেতন নয়। এখানে ঘণ্টাপ্রতি তুলনামূলক অঙ্ক বের করতে বার্ষিক মধ্যম বেতনকে বছরে ২ হাজার ৮০ কর্মঘণ্টা দিয়ে ভাগ করা হয়েছে। ফলে অঙ্কগুলো আনুমানিক সমতুল্য হার, প্রত্যেকের বাস্তব ঘণ্টাভিত্তিক মজুরি নয়। ফার্মাসিস্ট ফার্মাসিস্টদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯১০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৬৭ দশমিক ৭৫ ডলার। এই পেশায় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্মেসি শিক্ষা ও লাইসেন্স লাগে। বিদেশে ফার্মেসি পড়লেই সরাসরি মার্কিন লাইসেন্স পাওয়া যায় না। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বোর্ডস অব ফার্মেসির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি স্নাতকদের লাইসেন্স পরীক্ষার আবেদন করার আগে এফপিজিইসি সার্টিফিকেশনের শর্ত পূরণ করতে হয়। সফটওয়্যার ডেভেলপার সফটওয়্যার ডেভেলপারদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৬৫ দশমিক ৩৮ ডলার। এই বেতন সফটওয়্যার ডেভেলপারদের নির্দিষ্ট শ্রেণির তথ্য। সফটওয়্যার টেস্টার বা কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স অ্যানালিস্টদের বেতন আলাদা। স্বল্পমেয়াদি কোর্সকে এই মধ্যম বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার নির্মাণ প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাজেট ও বাস্তবায়ন তদারকিতে নিয়োজিত কনস্ট্রাকশন ম্যানেজারদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৫৫ দশমিক ২৮ ডলার। সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি ও কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। বড় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিগ্রির পাশাপাশি নির্মাণকাজের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেয়। ডেন্টাল হাইজিনিস্ট ডেন্টাল হাইজিনিস্টদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৯৮ হাজার ১০০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৪৭ দশমিক ১৬ ডলার। তাঁরা মুখ ও দাঁতের রোগের লক্ষণ পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক সেবা দেন। সাধারণত ডেন্টাল হাইজিনে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। কোন কাজ কতটুকু তত্ত্বাবধানে করা যাবে, তা রাজ্য ও কর্মস্থলভেদে আলাদা। রেজিস্টার্ড নার্স রেজিস্টার্ড নার্স বা আরএনদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৯৭ হাজার ৫৫০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৪৬ দশমিক ৯০ ডলার। হাসপাতাল, আবাসিক পরিচর্যাকেন্দ্র ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বেতন ভিন্ন হয়। নার্সিং শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া এই পদে কাজ করা যায় না। জাতীয় মধ্যম বেতনের অঙ্ককে শুরুর বেতন বা ওভারটাইমসহ আয় হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও অডিটর অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও অডিটরদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৮৩ হাজার ৬৮০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৪০ দশমিক ২৩ ডলার। সাধারণত অ্যাকাউন্টিং বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। এই পেশাকে বুককিপিংয়ের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। বুককিপিং, অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং ক্লার্কদের পৃথক শ্রেণিতে বার্ষিক মধ্যম বেতন ৫০ হাজার ৬৭০ ডলার, ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৩৬ ডলার। প্লাম্বার, পাইপফিটার ও স্টিমফিটার এই তিন ধরনের কাজের সম্মিলিত শ্রেণিতে বার্ষিক মধ্যম বেতন ৬৩ হাজার ৮০০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৩০ দশমিক ৬৭ ডলার। ফলে এই অঙ্ক শুধু আবাসিক প্লাম্বারদের বেতন হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক হবে না। কাজ ও লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী যোগ্যতা বদলায়। কিছু রাজ্যে প্লাম্বিং কনট্রাক্টরের লাইসেন্স পেতে মাস্টার প্লাম্বারের যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। ইলেকট্রিশিয়ান ইলেকট্রিশিয়ানদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৬৩ হাজার ১৯০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৩০ দশমিক ৩৮ ডলার। বিএলএস অনুযায়ী, অধিকাংশ ইলেকট্রিশিয়ান চার থেকে পাঁচ বছরের অ্যাপ্রেন্টিসশিপের মাধ্যমে কাজ শেখেন। শিক্ষানবিশদের বেতন পুরোপুরি প্রশিক্ষিত কর্মীদের চেয়ে কম থাকে এবং দক্ষতা বাড়ার সঙ্গে তা বাড়ে। এইচভিএসি টেকনিশিয়ান হিটিং, এয়ার কন্ডিশনিং ও রেফ্রিজারেশন যন্ত্র স্থাপন ও মেরামতের কর্মীদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৬১ হাজার ১০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ২৯ দশমিক ৩৩ ডলার। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রম সাধারণত ছয় মাস থেকে দুই বছর মেয়াদি হতে পারে। তবে শিক্ষাক্রম শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় মধ্যম বেতন পাওয়া নিশ্চিত নয়। ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টর ট্রেইলার চালক এই শ্রেণির চালকদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ২৮ দশমিক ১৯ ডলার। এটিকে সব ট্রাকচালকের নির্ধারিত ঘণ্টাভিত্তিক মজুরি হিসেবে ধরা যাবে না। একইভাবে অল্প কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে মাসে ছয় থেকে নয় হাজার ডলার আয় নিশ্চিত বলা জাতীয় মধ্যম বেতনের তথ্য দিয়ে সমর্থন করা যায় না। এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, বেশি আয়ের পেশায় প্রবেশের পথও এক রকম নয়। কোনো পেশায় উচ্চশিক্ষা দরকার, কোনো পেশায় দীর্ঘ শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ, আবার কোনো ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি কোর্স দিয়ে প্রস্তুতি শুরু করা যায়। বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বেতনের পাশাপাশি আগের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা, প্রশিক্ষণের মোট খরচ, লাইসেন্সের শর্ত এবং স্থানীয় চাকরির সুযোগ বিবেচনা করা জরুরি। জাতীয় মধ্যম বেতন ব্যক্তিগত চাকরির অফার নয়। রাজ্য, অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বভেদে প্রকৃত বেতন বদলাবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বে এরিয়ায় চাকরি গেছে ১৪ হাজারের বেশি
ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ