বিশ্ব

আপাতত বিভাগীয় ৫ সেন্টারে মিলবে ভারতীয় ভিসা, পরে বাড়বে সেবার পরিধি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৬:১৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করেছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্র (আইভ্যাক) থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ভিসাকেন্দ্রেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন।

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানান, প্রথম ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর আইভ্যাক থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ ও ভিসা প্রদান করা হবে। পরিস্থিতি এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কেন্দ্রেও এই সেবা চালু করা হবে।

 

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও ভ্রমণ সহজ করতে ভারত সরকার ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য জরুরি ভিসার পাশাপাশি সাধারণ ভ্রমণকারীরাও আবার ভারতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

 

এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। একই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারও হামলার মুখে পড়ে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং হাইকমিশন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন ভিসা কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে ভ্রমণ করে থাকেন। তাদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর ভিসা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম চালু রাখা হয়।

 

ভারতীয় হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ট্যুরিস্ট ভিসা ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের ভিসা প্রতিদিন ইস্যু করা হচ্ছে। প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি ভিসা প্রদান করা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত
মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত, একই দিনে নদীতে নৌকায় আঘাতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে বজ্রপাতে এক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   নিহত সদস্যের নাম বিনীত কুমার দুবে (৪৬)। তিনি বিএসএফের ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের হেড কনস্টেবল ছিলেন। তার বাড়ি উত্তর প্রদেশের কান্নৌজ জেলায়।   বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার বাবুরা ঘাট সীমান্ত চৌকিতে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই সময় এলাকায় প্রবল বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছিল। মিঠিপুর এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন জিরো লাইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে টহল দেওয়ার সময় হঠাৎ বজ্রপাত তার ওপর আঘাত হানে।   ঘটনার পরপরই সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিঠিপুর ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   এদিকে একই দিনে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায় বজ্রপাতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গঙ্গা নদী পারাপারের সময় নৌকায় থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে তারা প্রাণ হারান। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বর্ষা মৌসুমে বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে গ্রামীণ ও নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং জলাশয় বা নদীতে অবস্থান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা ও নদীপথে চলাচলকারী মানুষদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।   ঘটনাগুলোতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কলকাতা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৭:২৫
কলকাতার তারাতলায় নির্মাণাধীন গুদাম ধস

কলকাতার তারাতলায় নির্মাণাধীন গুদাম ধস: নিহত বেড়ে ১০, ধ্বংসস্তূপে এখনও অনুসন্ধান চলছে

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কাশ্মীরে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ সেনাবাহিনীর

মিসরের সেনাবাহিনীর একটি দল। ছবি: এএফপি

মিসরের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগে ইসরায়েল

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ছবি: আল-জাজিরা
সুইজারল্যান্ডে আসিম মুনিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল মোসাদ, দাবি ব্রাজিলীয় সাংবাদিকের

সুইজারল্যান্ডে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে লক্ষ্য করে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ একটি গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে দাবি করেছেন ব্রাজিলীয় সাংবাদিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবার। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেবানিজ-অস্ট্রেলীয় উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার মারিও নাওফালের সঙ্গে এক আলোচনায় এ দাবি করেন এসকোবার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিলেন আসিম মুনির এবং সম্ভবত সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরাও।   এসকোবার দাবি করেন, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে এ পরিকল্পনার তথ্য পায়। এরপর তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসরাইলের কাছে একটি কঠোর বার্তা পাঠায়।   তিনি বলেন, “পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দারা নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছিল যে, নেতানিয়াহুর নির্দেশে মোসাদ সুইজারল্যান্ডে যাওয়া আসিম মুনির এবং সম্ভবত পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা করছে। এরপর পাকিস্তান তাদের নিয়মিত মধ্যস্থতাকারী ওমানের মাধ্যমে ইসরাইলকে একটি বার্তা পাঠায়। বার্তায় বলা হয়, ‘যদি আপনারা আমাদের প্রতিনিধিদলকে স্পর্শ করেন, তবে আমরা আপনাদের মানচিত্র থেকে মুছে দেব।’ আমি আমার সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটি বলছি।”   এসকোবারের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইসরাইল ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি প্রকাশ্যে যেভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।   তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইল বা পাকিস্তানের কোনো সরকারি কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করেননি। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও সম্মেলন চলাকালে এমন কোনো হুমকি বা নিরাপত্তা সতর্কতার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি প্রচেষ্টাসংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অবস্থান করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য ছাড়া পেপে এসকোবারের এই দাবি আপাতত একটি অপ্রমাণিত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।   সূত্র: এনডিটিভি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৬:৪১
ছবি: সংগৃহীত

আপাতত বিভাগীয় ৫ সেন্টারে মিলবে ভারতীয় ভিসা, পরে বাড়বে সেবার পরিধি

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানের হয়ে যুদ্ধে নামতো চীন-রাশিয়া-তুরস্ক, আমি থামিয়েছি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় বুধবারের শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাস এবং অন্যান্য শহর-গ্রামের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধারকাজ চলছে । ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প: নিহত ৩২, আহত অন্তত ৭০০

ভেনেজুয়েলায় ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ জানান, এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও অন্তত ৭০০ জনকে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি কম্পনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। এ অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার রয়েছে।   ভূমিকম্পের পরপরই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। কয়েকটি ভিডিওতে পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত একাধিক ভবন ধসে পড়তে দেখা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা গেছে। অনেকেই নিজেদের পরিবারের সদস্য ও পোষা প্রাণী নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। বুধবার দেশটিতে সরকারি ছুটির দিন ছিল। প্রতি বছর ২৪ জুন সেইন্ট জন ব্যাপটিস্টের জন্মদিবস এবং জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভেনেজুয়ায় সরকারি ছুটি পালন করা হয়। ছুটির কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরে বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন, ফলে ভূমিকম্পের সময় অনেকেই ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।   ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, এই দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক এবং পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও অনেক ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।   এদিকে ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৩:৩৯
কারাগার থেকে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলাবাসীর পাশে থাকার আহ্বান মাদুরোর

কারাগার থেকে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলাবাসীর পাশে থাকার আহ্বান মাদুরোর

নিহত ৩২, আহত শতাধিক; ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে

ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত ৩২, আহত শতাধিক; ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপছে ভেনেজুয়েলা, ‘নতুন বন্ধু’ নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

0 Comments