নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে দক্ষিণ এশিয়ার মিলনমেলা, উদযাপিত হলো ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড ২০২৬’। ‘এক অঞ্চল, এক সংস্কৃতি, এক ভবিষ্যৎ’ (One Region, One Culture, One Future) স্লোগানকে সামনে রেখে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই এই বর্ণাঢ্য প্যারেডের আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির অনুমোদিত পারমিট অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসের ৩৭তম অ্যাভিনিউ ধরে ৬৯তম স্ট্রিট থেকে ৮৭তম স্ট্রিট পর্যন্ত মূল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট রুটটিতে সাধারণ যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আয়োজক সংগঠন ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড ইনকরপোরেটেড’ জানিয়েছে, নিউইয়র্কে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সংগীত, নৃত্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে মেলবন্ধন তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এবারের প্যারেডে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রস্তুতিপর্বেই বাংলাদেশকে এই আয়োজনের ‘হোস্ট কান্ট্রি’ এবং বাংলাদেশ সোসাইটিকে হোস্ট সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। প্যারেডে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নিজস্ব সংস্কৃতি বিশেষভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও সমানভাবে উদযাপিত হয়েছে।
আয়োজকদের ‘ফ্ল্যাগস অব ইউনিটি’ বা ঐক্যের পতাকা প্রদর্শনীতে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের পতাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় বজায় রেখেই নিউইয়র্কে দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির ঐক্যের বার্তা তুলে ধরাই ছিল এর লক্ষ্য। এই আয়োজনে আয়োজক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ নওয়াজ এবং প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন শাহ শহিদুল হক। এছাড়াও সহসভাপতি হিসেবে রানু আমেনা নেওয়াজ ও ড. আবু জুবায়ের দারা এবং কনভেনার হিসেবে মহিউদ্দিন দেওয়ান যুক্ত ছিলেন।
জ্যাকসন হাইটস এলাকাটি নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে প্যারেডের জন্য এই স্থানটিকে বেছে নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ঠিক কতজন সাধারণ মানুষ বা দর্শনার্থী এই প্যারেডে অংশ নিয়েছেন এবং কোন কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, সে সম্পর্কে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ভাষা, জাতীয়তা ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই প্যারেড একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের এভারেট শহরে দুই নির্মাণ শ্রমিককে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি আটক করে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও ধারণকারী বাড়ির মালিক জেনিফার গর্ডনের দাবি, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ঘটনাটি সোমবার সকালে নর্থ এভারেটের একটি আবাসিক এলাকায় ঘটে। গর্ডনের বাড়িতে কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি নির্মাণকাজ চলছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের হয়ে সেখানে কাজ করছিলেন। প্রয়োজনীয় কিছু মাপ নেওয়ার পর তারা নির্মাণসামগ্রী আনতে বাইরে যান। পরে ফিরে আসার সময় কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাদের আটক করেন। গর্ডনের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি দুই শ্রমিককে আটক করার চেষ্টা করছেন। ভিডিওতে একজনকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে এবং একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। গর্ডন তাদের পরিচয় জানতে চান এবং বিচারকের স্বাক্ষর করা ওয়ারেন্ট আছে কি না, সেটিও জানতে চান। ভিডিওতে একজন আটককারীকে ওয়ারেন্ট দেখানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে শোনা যায়। গর্ডনের দাবি, মুখোশধারী ব্যক্তিরা নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাদের নিজ দেশে অপরাধের অভিযোগ থাকার কথা জানান। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। আইসিইও কেআইআরও ৭-কে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। ঘটনার সময় সেখানে থাকা এক প্রতিবেশী কেআইআরও ৭-কে জানান, তিনি প্রায় ছয় থেকে আটজন এজেন্টকে ওই শ্রমিককে আটক করতে দেখেছেন। ওই প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে একজন এজেন্ট তাকে জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজ দেশে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তবে আইসিই এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এভারেট পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা ওই অভিযানে জড়িত ছিলেন না। কেআইআরও ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পোশাকে ‘পুলিশ’ লেখা ভেস্ট ছিল। একইসঙ্গে গর্ডন জানিয়েছেন, তারা নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় বা অভিযানের পুরো আইনি বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। দ্য হেরাল্ডের প্রতিবেদনেও নর্থ এভারেটে একজনকে মুখোশধারী ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা আটক করার দৃশ্যের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি ভিডিও করেন এবং আটকের পদ্ধতি ও কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গর্ডনের ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের একজনকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখা যায়। পরে একজন ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে গর্ডন জানিয়েছেন। অন্য ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গর্ডন বলেন, তিনি একজন স্বাস্থ্যকর্মী ও নেভি ভেটেরান হিসেবে ঘটনাটি ভিডিও করার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য, অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখে তিনি এ ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয় সে সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলেন। এদিকে কেআইআরও ৭ জানিয়েছে, তারা আইসিইর কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। সংস্থাটি আটক ব্যক্তিদের নাম ছাড়া অতিরিক্ত তথ্য দিতে রাজি হয়নি এবং গোপনীয়তার কারণ দেখিয়েছে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান টমি বিল্ডার্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ভিডিওতে আটকের দৃশ্য স্পষ্ট হলেও, আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনি অবস্থা এবং অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সরকারি পরিচয় সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। এ কারণে ঘটনাটিকে আইসিইর অভিযান হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে ননসিটিজেন ভোটার খুঁজতে ভোটার তালিকা দ্রুত যাচাইয়ের নির্দেশ হোয়াইট হাউসের
নিউইয়র্কে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
নিউইয়র্কে মামদানির সঙ্গে সাবওয়ে ট্রেনে ঘুরলেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা সতর্কবার্তার পর নিউইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর একই দিন ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থান কয়েক ঘণ্টায় সীমিত থাকছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর বরাত দিয়ে ডন ও আনাদোলু জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি নিরাপত্তা বৈঠকে নেতানিয়াহুর কাছে গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দীর্ঘায়িত না করার পরামর্শ দেন। তবে কী ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং পরে রাতযাপন না করেই ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হবেন। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান প্রায় ছয় ঘণ্টা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর সফরের আগে নিউইয়র্কে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভেরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েল সরকারের নীতির প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে। তবে এসব বিক্ষোভই সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তাকেই সফর সংক্ষিপ্ত করার প্রধান কারণ হিসেবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সূচিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও নেই। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে আগ্রহ থাকলেও বর্তমানে এমন কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। একই সফরে টেক্সাসে ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি বৈঠকের পরিকল্পনাও বাতিল হয়েছে। নেতানিয়াহুর বিমান নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউ জার্সির কোনো বিমানবন্দর বা সামরিক ঘাঁটিতে নামতে পারে—এমন খবরও এর আগে প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এর পেছনে নিরাপত্তা, লজিস্টিকস ও সম্ভাব্য বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছিল। সূত্র: আনাদোলু
১৬৭ মিলিয়ন ডলার লটারি জিতেও বদলাল না ভাগ্য, পঞ্চমবারের মতো ঘুমন্ত অবস্থায় জয়ী গ্রেপ্তার
নিউইয়র্কে গৃহহীন শিবির নিয়ে মমদানির নতুন নীতি, পুলিশের ভূমিকা বদল
চিকিৎসকেরা বলেছিলেন বন্ধ্যা, ওজেম্পিক নেওয়ার পর দুই বছরে তৃতীয় সন্তানের মা
নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও বিভিন্ন খাতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী, হোম হেলথ এইড, খুচরা বিক্রি ও গ্রাহকসেবা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ট্যাক্সি ও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন, রেস্টুরেন্ট এবং দাপ্তরিক কাজের মতো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যায়। তবে এসব চাকরি নিশ্চিত নয় এবং পদভেদে কাজের অনুমতি, প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ও নিয়োগকর্তার শর্ত পূরণ করতে হয়। নতুন অভিবাসীদের জন্য নিরাপত্তাকর্মীর কাজ একটি সম্ভাব্য প্রবেশপর্যায়ের পেশা। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিবন্ধনের আগে ৮ ঘণ্টার প্রি-অ্যাসাইনমেন্ট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টও দিতে হয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে আরও ১৬ ঘণ্টার অন-দ্য-জব প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তীতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীর প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। হোম কেয়ার খাতেও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হোম হেলথ এইড হিসেবে কাজ করতে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কমপক্ষে ৭৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়। পার্সোনাল কেয়ার এইডের জন্যও অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বয়স্ক, অসুস্থ বা দৈনন্দিন কাজে সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের বাড়িতে গিয়ে এসব কর্মী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকেন। দোকান, সুপারমার্কেট, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খুচরা বিক্রি এবং গ্রাহকসেবার কাজেও চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি সবসময় প্রয়োজন হয় না। এসব পদের যোগ্যতা সাধারণত নিয়োগকর্তা নির্ধারণ করেন। বাংলাভাষী গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এমন কিছু কর্মক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা কাজে লাগতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভাষা জানলেই চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন কোনো সরকারি নিশ্চয়তা নেই। নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতেও বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে। নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের মূলধনী পরিকল্পনার আকার প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার। এতে রেললাইন, স্টেশন, সংকেত ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো আধুনিকায়নের জন্য বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ থাকলেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি পদের জন্য আলাদা যোগ্যতা ও নিয়োগের শর্ত থাকে। ট্যাক্সি ও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজেও ডিগ্রির বদলে নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশনের লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীদের নির্ধারিত ড্রাইভার শিক্ষা কোর্স, যাত্রী সহায়তা ও হুইলচেয়ার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা এবং ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ড্রাগ টেস্টসহ আরও কিছু যাচাই প্রক্রিয়াও রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না করলে শুধু গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলেই ট্যাক্সি বা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজে যোগ দেওয়া যায় না। রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও হোটেলেও রান্নাঘর, খাবার প্রস্তুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশন ও হাউসকিপিংসহ বিভিন্ন প্রবেশপর্যায়ের পদ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭ ডলার। তবে টিপস পাওয়া কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে মজুরি হিসাবের আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। খাদ্যসেবা খাতে কাজের ধরন অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সনদের প্রয়োজনীয়তাও থাকতে পারে। অফিস সহকারী, দাপ্তরিক কাজ এবং কিছু সরকারি চাকরিও ডিগ্রিবিহীন প্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে। তবে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিটি পদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির ৫৫-এ কর্মসূচিকেও নতুন অভিবাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ সুযোগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এই কর্মসূচি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য। নিউইয়র্ক সিটির জবস্ এনওয়াইসি কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চাকরি মেলা ও নিয়োগ আয়োজনও করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুযোগও দেওয়া হয়। তবে কোনো চাকরি মেলা বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সরকারি তথ্য থেকে সময়, স্থান, যোগ্যতা এবং নিবন্ধনের নিয়ম যাচাই করা জরুরি। চাকরি খোঁজার সময় প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার কথা বলে কেউ বড় অঙ্কের টাকা চাইলে আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা সরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ বা সরকারি চাকরির নামে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও একাধিক খাতে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স, অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং নিয়োগকর্তার নির্ধারিত যোগ্যতার ওপর। তাই নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট পদের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম দেখে আবেদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ খোঁজার আগে যে ৫টি বিষয় যাচাই করবেন, জেনে নিন