ইরানে হামলার নতুন কারণ জানালেন ট্রাম্প, পাঠানো হচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা
ইরানে চলমান সংঘাতের পেছনে এতদিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকানোকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন একটি কারণ সামনে এনেছেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরিরও সম্পর্ক ছিল।
শুক্রবার টেক্সাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে বলেন, সেখানে পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক নিয়েও কাজ চলছিল। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই মাদক-সংক্রান্ত দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট স্থাপনের তথ্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প এর আগে মূলত দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টিই সামনে এনেছিলেন।
ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত নাবিক ও মেরিন পাঠাচ্ছে। এই বহরে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ রয়েছে। এই মোতায়েনের ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।
এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের হামলা চালানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো নির্ধারিত নয়। এর আগে ইরানের একটি সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাবকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথা জানান। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।
ইরানও সম্ভাব্য নতুন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরু করলে তেহরান আরও কঠোর সামরিক জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো শর্ত নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে একটি সাম্প্রতিক বিমানঘটনা। বুধবার একটি ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজে সহকারী পাইলট তার ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। ট্রাম্প বলেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে ওই ঘটনার যোগসূত্র নিশ্চিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন এবং ইরানকে ঘিরে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অবশ্য জানিয়েছেন, তার দেশ নিজেদের রক্ষা করতে থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হুমকি বাড়ছে, অন্যদিকে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালু রয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরির অভিযোগও যুক্ত হলো। তবে নতুন এই দাবির বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একই সময়ে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর ঘটনা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইরানে চলমান সংঘাতের পেছনে এতদিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকানোকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন একটি কারণ সামনে এনেছেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরিরও সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার টেক্সাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে বলেন, সেখানে পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক নিয়েও কাজ চলছিল। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই মাদক-সংক্রান্ত দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট স্থাপনের তথ্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প এর আগে মূলত দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টিই সামনে এনেছিলেন। ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত নাবিক ও মেরিন পাঠাচ্ছে। এই বহরে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ রয়েছে। এই মোতায়েনের ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের হামলা চালানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো নির্ধারিত নয়। এর আগে ইরানের একটি সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাবকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথা জানান। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে। ইরানও সম্ভাব্য নতুন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরু করলে তেহরান আরও কঠোর সামরিক জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো শর্ত নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে একটি সাম্প্রতিক বিমানঘটনা। বুধবার একটি ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজে সহকারী পাইলট তার ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। ট্রাম্প বলেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে ওই ঘটনার যোগসূত্র নিশ্চিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন এবং ইরানকে ঘিরে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অবশ্য জানিয়েছেন, তার দেশ নিজেদের রক্ষা করতে থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হুমকি বাড়ছে, অন্যদিকে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালু রয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরির অভিযোগও যুক্ত হলো। তবে নতুন এই দাবির বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একই সময়ে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর ঘটনা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স
যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই ইরানি নাগরিক
হাতি ও গন্ধগোকুলের মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম দামি কফি
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড
মাঝ আকাশে সহকারী পাইলটের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত। কিন্তু এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও নিজের অসীম সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার জোরে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছা। দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটা এই রোমহর্ষক ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বন্দিত হচ্ছেন এই সাহসী পাইলট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—সবাই তাঁকে ‘বাস্তবের নায়ক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা দেয় ফ্লাইদুবাইয়ের ওই যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি। বিমানটি ওমানের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই ককপিটের ভেতর ক্যাপ্টেন স্মিথের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরই এক সহকারী পাইলট। ধারণা করা হচ্ছে, মাঝ আকাশে যাত্রীবোঝাই বিমানটিকে বিধ্বস্ত করার ভয়ংকর উদ্দেশ্য নিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার পরও দমে যাননি স্মিথ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দেওয়া তথ্যমতে, স্মিথ রক্তাক্ত অবস্থাতেই হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে ওই হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন। হামলাকারীকে প্রতিহত করার পর চরম সংকটাপন্ন অবস্থাতেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন ক্যাপ্টেন স্মিথ। তিনি দ্রুত বিমানের গতিপথ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং তাবুক শহরের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির সফল জরুরি অবতরণ করান। তাঁর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী সিদ্ধান্তে মাঝ আকাশে একটি নিশ্চিত বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পান ফ্লাইটের সব যাত্রী ও ক্রু। পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের যাত্রীদের সৌদি আরব থেকে নিরাপদে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পেশাগত জীবনে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যাপ্টেন স্মিথ ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে সবসময়ই ‘নিরাপত্তার প্রতি গভীর মনোযোগ’ দেওয়ার কথা নিজের পেশাগত বিবরণীতে উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যা তিনি বাস্তবে প্রমাণ করে দেখালেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার ইস্ট এলাকায় বসবাসরত স্মিথের পরিবারও এই দুঃসংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরেই সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচানো এই পাইলটের বীরত্ব এখন গোটা বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত, বেসামরিক প্রাণহানিরও অভিযোগ
নিকট ভবিষ্যতেই তীব্র হতে পারে খাদ্য সংকট, দায়ী এল নিনো ও দুই যু দ্ধ
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভারতীয় নাগরিক ও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় তিনি হামলাকারীকে ঠেকানোর পাশাপাশি ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সুযোগ করে দেন, যাতে বিমানের যাত্রী ও অন্য সদস্যরা ভেতরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করান। ভারতীয় ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্মিত মাচ্ছারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা থাকা এই পাইলট ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা স্পাইসজেটে প্রায় ১১ বছর কাজ করেছেন। মঙ্গলবারের ঘটনার পর তার ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনার সময় বিমানটি ইসরায়েলের উদ্দেশে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের একপর্যায়ে সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এতে তিনি একাধিকবার আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও অন্যরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে জানান, আহত অবস্থায় মাচ্ছার তার অবশিষ্ট শক্তি ব্যবহার করে ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী তখন বিমানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের সামনে অবস্থান করছিলেন এবং সেটিতে আঘাত করছিলেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই সময় বিমানটির নিয়ন্ত্রণে গুরুতর সমস্যা তৈরির আশঙ্কা ছিল। ঘটনার পর বিমানে থাকা দুই দায়িত্বের বাইরে থাকা পাইলট ককপিটে গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের পর আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলাকারীও আহত হয়েছেন এবং তাকেও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে। ঘটনার পর বিমানের ভেতরের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাচ্ছারকে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় আহত অবস্থায় দেখা যায়। যাত্রীদের কয়েকজনও রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দৃশ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফ্লাইটের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র ১২ মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। তীব্রভাবে উচ্চতা কমে যাওয়ার সময় বিমানের রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পর্যায়ে এই ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। হামলার ঘটনায় সহ-পাইলটকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ওমানের নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এক বছরেরও কম সময় আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন বলে জেরুজালেম পোস্টকে সূত্র জানিয়েছে। তবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে এবং হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার দিক থেকেও তদন্ত করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হামলার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার আঘাত কতটা গুরুতর এবং বর্তমানে তিনি কেমন আছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। বিমানটিতে মোট ১৮০ জন ছিলেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ককপিটে হামলার পর যাত্রীদের কয়েকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তাদের ভূমিকার পাশাপাশি দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলটের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিমানে এমন ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে ককপিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্রুদের প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীদের জরুরি ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনার তদন্তে হামলার সঠিক কারণ, ককপিটে কীভাবে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তিন সন্তানকে রেখে চিরবিদায় নিলেন মা
সিডনি সুইনির খোলামেলা বিজ্ঞাপনের পর স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মের মূল্য বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার