সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পুলিশ, শেরিফ নাকি সেনাবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বেতন ও সুবিধা বেশি?

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ২৩:১২
যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক চাকরিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বেতন ও অবসর সুবিধা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক চাকরিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বেতন ও অবসর সুবিধা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে চাকরির সুযোগ অনেক। সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, শেরিফের অফিস, স্টেট ট্রুপার, ইউনিভার্সিটি পুলিশ, কারেকশন অফিসার থেকে শুরু করে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা সংস্থা এবং আর্মি, নেভি, এয়ার ফোর্স, মেরিন কর্পস ও কোস্ট গার্ড, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে আলাদা বেতন কাঠামো, অবসর সুবিধা ও অন্যান্য বেনিফিট। কোন চাকরিতে বেতন বেশি, আর কোনটিতে দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা বেশি, সেটি নির্ভর করে সংস্থা, অঙ্গরাজ্য, পদ ও অভিজ্ঞতার ওপর।

 

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ও ডিটেকটিভ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৭৭ হাজার ৩১০ ডলার। পুলিশ ও শেরিফের পেট্রোল অফিসারদের মধ্যম বেতন ছিল ৭৬ হাজার ২১০ ডলার। ডিটেকটিভ ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটরদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৯৩ হাজার ৭৯০ ডলার। এই পেশায় পেইড ওভারটাইমও বেশ সাধারণ।

 

সিটি পুলিশ অফিসারদের বেতন সংশ্লিষ্ট শহর ও পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ওপর নির্ভর করে। বড় শহরে বেস বেতনের সঙ্গে ওভারটাইম, নাইট শিফট, হলিডে পে ও বিশেষ দায়িত্বের অর্থ যোগ হয়ে মোট আয় বাড়তে পারে। শেরিফের অফিসও পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে আলাদা। শেরিফ সাধারণত কাউন্টি পর্যায়ে কাজ করেন এবং তাঁর অধীনে ডেপুটি শেরিফরা পেট্রোলিং, তদন্ত, কোর্ট সিকিউরিটি ও জেল পরিচালনার মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এসব চাকরির পেনশন ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সও কাউন্টি বা শহরভেদে আলাদা।

 

স্টেট ট্রুপার বা স্টেট পুলিশ অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে আইন প্রয়োগ করেন। হাইওয়ে প্যাট্রোল, ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট, দুর্ঘটনা তদন্তসহ বিভিন্ন দায়িত্ব তাদের রয়েছে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি পুলিশ মূলত ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয়-সম্পত্তির নিরাপত্তায় কাজ করে। কারেকশন অফিসারদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৫৮ হাজার ৯৪০ ডলার। ফেডারেল সরকারের অধীনে এই পেশায় মধ্যম বেতন ছিল ৭৪ হাজার ৬৩০ ডলার।

 

ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা চাকরিতে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ অবসর সুবিধা রয়েছে। প্রথম ২০ বছরের কভার্ড সার্ভিসে হাই-৩ গড় বেতনের প্রতি বছরের জন্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ হারে অবসর সুবিধা হিসাব করা হয়। কিছু ফেডারেল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটর আবার যোগ্যতা পূরণ করলে বেসিক পের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অ্যাভেইলেবিলিটি পে পেতে পারেন। তবে এসব সুবিধা সব ফেডারেল কর্মীর জন্য প্রযোজ্য নয়।

 

সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে শুধু বেসিক পে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। আর্মি, নেভি, এয়ার ফোর্স, মেরিন কর্পস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের বেসিক পের পাশাপাশি বিএএইচ বা হাউজিং অ্যালাউন্স এবং বিএএস বা খাবার ভাতা রয়েছে। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, অবসর সুবিধা এবং যোগ্য সদস্যদের জন্য পোস্ট-৯/১১ জিআই বিলের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুবিধাও রয়েছে। সামরিক বাহিনীর ব্লেন্ডেড রিটায়ারমেন্ট সিস্টেমে পেনশনের পাশাপাশি থ্রিফট সেভিংস প্ল্যানে সরকারি অবদান ও ম্যাচিং কনট্রিবিউশনের সুযোগ রয়েছে। যোগ্য ভেটেরান ও সার্ভিস মেম্বারদের জন্য জিআই বিলের মাধ্যমে কলেজের টিউশন, হাউজিং অ্যালাউন্স এবং বই-সরঞ্জামের সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে।

 

তাই যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বা সামরিক চাকরি বেছে নেওয়ার সময় শুধু বেতন নয়, ওভারটাইম, অ্যালাউন্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, পেনশন, রিটায়ারমেন্ট সেভিংস, ছুটি এবং পরিবারের জন্য সুবিধাগুলোও হিসাব করতে হয়। পুলিশ ও শেরিফের চাকরিতে স্থানীয় পেনশন ও ওভারটাইম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, ফেডারেল চাকরিতে বিশেষ অবসর ও অতিরিক্ত পে গুরুত্বপূর্ণ, আর সামরিক বাহিনীতে বেতন, হাউজিং ও খাবার ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা, অবসর ও শিক্ষাসুবিধা মিলিয়ে পুরো প্যাকেজটি বিবেচনা করতে হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে ফেডারেল আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পর স্বস্তিতে পরিবেশবাদীরা। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ সাময়িকভাবে আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত দেয়াল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবারের এই আদেশের ফলে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় নতুন করে মাটি খননসহ সীমান্ত অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চালাতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। আদেশটি জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোন।   আদালতের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা অবকাঠামো সম্প্রসারণের বড় কর্মসূচি চালাচ্ছে। পুরো দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচির আওতায় ৩০ ফুট উচ্চতার ইস্পাত দেয়াল, যানবাহন ঠেকানোর প্রতিবন্ধক, সড়ক ও নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিগ বেন্ড অঞ্চলেও কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিচারক কার্ডোন তার আদেশে বলেন, মামলাকারীরা অন্তত একটি দাবিতে আইনি লড়াইয়ে সফল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখাতে পেরেছেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা না দিলে তাদের গুরুতর ও অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্বার্থ ও জনস্বার্থও নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রাখার পক্ষে রয়েছে। ফলে মামলার মূল বিষয়গুলো আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মামলাটি করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে কাজ করা ফ্রেন্ডস অব দ্য রুইডোসা চার্চ এবং বিগ বেন্ড এলাকার এক নদীভ্রমণ গাইড ও জমির মালিক। মামলাকারীদের অভিযোগ, সীমান্ত অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের জন্য প্রশাসন পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিধান থেকে ব্যাপক ছাড় নিয়েছে। তাদের দাবি, এভাবে নিয়ম শিথিল করে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।   বিগ বেন্ড অঞ্চলের সবচেয়ে আলোচিত অংশ বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্ক। এর বিস্তৃত মরুভূমি, চুনাপাথরের পাহাড়, গভীর গিরিখাত এবং দূষণমুক্ত রাতের আকাশের জন্য এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও পর্যটন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। পার্কের ভেতরে সীমান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন, ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।   আগস্টে পার্কের ভেতরে নির্মাণযন্ত্র দিয়ে জমি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এরপর ১৭ আগস্ট ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি পার্কের ভেতরের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। সেই বিরতি ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে আদালতের নতুন নিষেধাজ্ঞায় বিগ বেন্ড অঞ্চলে নির্মাণকাজ আবারও আইনি বাধার মুখে পড়ল।   এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিগ বেন্ড অঞ্চলের পার্কের বাইরে হাডস্পেথ কাউন্টিতে ৪৭ মাইল দীর্ঘ একটি এলাকায় ৩০ ফুট উচ্চতার ইস্পাতের সীমান্ত দেয়ালের প্রথম অংশ বসানোর কাজ শুরু করে প্রশাসন। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর সীমান্ত অবকাঠামো কর্মসূচির অংশ। তবে পার্ক ও আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত সড়ক, যানবাহন ঠেকানোর প্রতিবন্ধক এবং অন্যান্য অবকাঠামো নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা অব্যাহত ছিল।   বিগ বেন্ডের সীমান্ত প্রকল্প নিয়ে বিরোধিতা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্থানীয় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতা, জমির মালিক, ব্যবসায়ী এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের একটি অংশ নির্মাণকাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মূল বক্তব্য, এই অঞ্চলের দুর্গম ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি নিজেই সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দেয়াল ও সড়ক নির্মাণে প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীর প্রবেশাধিকার এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তারা তুলে ধরেছে।   অন্যদিকে, প্রশাসনের অবস্থান হলো সীমান্তের দুর্গম এলাকাতেও অবকাঠামো প্রয়োজন, যাতে সীমান্তে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। সিবিপি বলেছে, তারা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে। আদালতের আদেশের পর সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে।   বিগ বেন্ড অঞ্চলে নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবারের আদেশটি মামলার চূড়ান্ত রায় নয়, বরং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত অবকাঠামো প্রকল্পের বৈধতা ও পরিবেশগত বিধি থেকে নেওয়া ছাড়ের বিষয়টি এখন আদালতে আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনা হবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ০:৭
শিশু লুনার মৃত্যুর পর তদন্ত শুরু করে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৪ মাস বয়সী শিশুর মরদেহ, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ও কুইন্স এলাকায় নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে তিন দিনের অভিযানে নিখোঁজ ৩৪ শিশু-কিশোর উদ্ধার

ক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বজনদের পুনর্মিলনে দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হয় অনেককে। ছবি: সংগৃহীত

ভাই-বোন আমেরিকার নাগরিক, তবু কেন যেতে পারছি না যুক্তরাষ্ট্রে? আসল কারণ জানলে অবাক হবেন

যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক চাকরিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বেতন ও অবসর সুবিধা। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ, শেরিফ নাকি সেনাবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বেতন ও সুবিধা বেশি?

যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে চাকরির সুযোগ অনেক। সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, শেরিফের অফিস, স্টেট ট্রুপার, ইউনিভার্সিটি পুলিশ, কারেকশন অফিসার থেকে শুরু করে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা সংস্থা এবং আর্মি, নেভি, এয়ার ফোর্স, মেরিন কর্পস ও কোস্ট গার্ড, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে আলাদা বেতন কাঠামো, অবসর সুবিধা ও অন্যান্য বেনিফিট। কোন চাকরিতে বেতন বেশি, আর কোনটিতে দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা বেশি, সেটি নির্ভর করে সংস্থা, অঙ্গরাজ্য, পদ ও অভিজ্ঞতার ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ও ডিটেকটিভ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৭৭ হাজার ৩১০ ডলার। পুলিশ ও শেরিফের পেট্রোল অফিসারদের মধ্যম বেতন ছিল ৭৬ হাজার ২১০ ডলার। ডিটেকটিভ ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটরদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৯৩ হাজার ৭৯০ ডলার। এই পেশায় পেইড ওভারটাইমও বেশ সাধারণ।   সিটি পুলিশ অফিসারদের বেতন সংশ্লিষ্ট শহর ও পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ওপর নির্ভর করে। বড় শহরে বেস বেতনের সঙ্গে ওভারটাইম, নাইট শিফট, হলিডে পে ও বিশেষ দায়িত্বের অর্থ যোগ হয়ে মোট আয় বাড়তে পারে। শেরিফের অফিসও পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে আলাদা। শেরিফ সাধারণত কাউন্টি পর্যায়ে কাজ করেন এবং তাঁর অধীনে ডেপুটি শেরিফরা পেট্রোলিং, তদন্ত, কোর্ট সিকিউরিটি ও জেল পরিচালনার মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এসব চাকরির পেনশন ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সও কাউন্টি বা শহরভেদে আলাদা।   স্টেট ট্রুপার বা স্টেট পুলিশ অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে আইন প্রয়োগ করেন। হাইওয়ে প্যাট্রোল, ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট, দুর্ঘটনা তদন্তসহ বিভিন্ন দায়িত্ব তাদের রয়েছে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি পুলিশ মূলত ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয়-সম্পত্তির নিরাপত্তায় কাজ করে। কারেকশন অফিসারদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৫৮ হাজার ৯৪০ ডলার। ফেডারেল সরকারের অধীনে এই পেশায় মধ্যম বেতন ছিল ৭৪ হাজার ৬৩০ ডলার।   ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা চাকরিতে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ অবসর সুবিধা রয়েছে। প্রথম ২০ বছরের কভার্ড সার্ভিসে হাই-৩ গড় বেতনের প্রতি বছরের জন্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ হারে অবসর সুবিধা হিসাব করা হয়। কিছু ফেডারেল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটর আবার যোগ্যতা পূরণ করলে বেসিক পের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অ্যাভেইলেবিলিটি পে পেতে পারেন। তবে এসব সুবিধা সব ফেডারেল কর্মীর জন্য প্রযোজ্য নয়।   সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে শুধু বেসিক পে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। আর্মি, নেভি, এয়ার ফোর্স, মেরিন কর্পস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের বেসিক পের পাশাপাশি বিএএইচ বা হাউজিং অ্যালাউন্স এবং বিএএস বা খাবার ভাতা রয়েছে। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, অবসর সুবিধা এবং যোগ্য সদস্যদের জন্য পোস্ট-৯/১১ জিআই বিলের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুবিধাও রয়েছে। সামরিক বাহিনীর ব্লেন্ডেড রিটায়ারমেন্ট সিস্টেমে পেনশনের পাশাপাশি থ্রিফট সেভিংস প্ল্যানে সরকারি অবদান ও ম্যাচিং কনট্রিবিউশনের সুযোগ রয়েছে। যোগ্য ভেটেরান ও সার্ভিস মেম্বারদের জন্য জিআই বিলের মাধ্যমে কলেজের টিউশন, হাউজিং অ্যালাউন্স এবং বই-সরঞ্জামের সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে।   তাই যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বা সামরিক চাকরি বেছে নেওয়ার সময় শুধু বেতন নয়, ওভারটাইম, অ্যালাউন্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, পেনশন, রিটায়ারমেন্ট সেভিংস, ছুটি এবং পরিবারের জন্য সুবিধাগুলোও হিসাব করতে হয়। পুলিশ ও শেরিফের চাকরিতে স্থানীয় পেনশন ও ওভারটাইম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, ফেডারেল চাকরিতে বিশেষ অবসর ও অতিরিক্ত পে গুরুত্বপূর্ণ, আর সামরিক বাহিনীতে বেতন, হাউজিং ও খাবার ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা, অবসর ও শিক্ষাসুবিধা মিলিয়ে পুরো প্যাকেজটি বিবেচনা করতে হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ২৩:১২
দুটি বৈদ্যুতিক স্কুটারের ওপর সোফা বসিয়ে সড়কে চলছিলেন দুই ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

রাস্তায় গাড়ির বদলে সোফা চালাচ্ছিলেন দুই ব্যক্তি, থামাল পুলিশ

নতুন অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ ও কাট-অফ ডেট ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ, অক্টোবরেই কার্যকর হচ্ছে যেসব নিয়ম

সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়া মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের চেয়েও ব্যয়বহুল সান ফ্রান্সিসকোর দুই বেডরুমের বাসা, ভাড়া ৬,৩৪০ ডলার

জীবন বাঁচানো পুলিশ সদস্যদের জড়িয়ে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন শিশু ঝাইলারের মা জেনিবেল। ছবি: সংগৃহীত
দমবন্ধ হয়ে আসা ১১ মাসের শিশুকে বাঁচালেন নিউইয়র্কের দুই পুলিশ কর্মকর্তা, মায়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

দুই এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ১১ মাসের এক শিশুকে শ্বাসরোধের পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করার পর তাদের ধন্যবাদ জানাতে মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটের স্টেশনে হাজির হয় শিশুটি। শুক্রবারের ওই সাক্ষাতে পরিবার ও দুই কর্মকর্তার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউজ ১২ ব্রঙ্কসের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ২৬ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৬৮তম স্ট্রিট ও গ্র্যান্ড কনকোর্স এলাকার কাছে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা জুলিও আরিয়াস ও ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া। তারা একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়িতে করে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক পথচারী তাদের থামিয়ে দেন। তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় থাকা ২১ বছর বয়সী জ্যানিবেল মন্টানোর দিকে ইঙ্গিত করেন। তার কোলে তখন অচেতন অবস্থায় ছিল ১১ মাসের ছেলে জাইহলার মন্টানো।   পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত শিশুটিকে কোলে তুলে নেন আরিয়াস। শিশুটিকে উপুড় করে ধরে তার পিঠে একের পর এক চাপড় দিতে থাকেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি তখন ডাইনোসরের পোশাক পরা ছিল এবং তার এক পায়ে ডোরাকাটা মোজা ছিল। কয়েকবার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর হঠাৎ শিশুটি কেঁদে ওঠে।   শিশুটির কান্নার শব্দ শুনেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পান আরিয়াস। ভিডিওতে তাকে শিশুটিকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, সে ঠিক আছে কি না। পরে সাংবাদিকদের কাছে আরিয়াস বলেন, শিশুটির কান্না শোনার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে সে ঠিক আছে। তার সঙ্গী আব্রেউ-গার্সিয়া এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রেডিওতে যোগাযোগ করছিলেন।   আব্রেউ-গার্সিয়া বলেন, শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তার মনে হয় যেন তিনি আবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন। পুরো ঘটনাটিতে দ্রুত সমন্বয় করে একজন কর্মকর্তা শিশুটিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার দিকে মন দেন, আর অন্যজন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করেন।   শুক্রবার ৪৪তম প্রিসিন্কটে গিয়ে জ্যানিবেল মন্টানো দুই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেন কর্মকর্তারা এবং পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জ্যানিবেল বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং একই সঙ্গে তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এমন পরিস্থিতিতে দুই কর্মকর্তাকে কীভাবে যথেষ্ট ধন্যবাদ জানাবেন, তা তিনি জানেন না বলেও জানান।   আরিয়াস বলেন, শিশুটিকে বাঁচানোর সময় তার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর শিশুটি কিছু বের করে দেয়, যার সামান্য অংশ তার জুতায়ও লাগে। তবে তখন এসবের দিকে তার কোনো মনোযোগ ছিল না। শিশুটি ঠিক আছে কি না, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে তিনি শিশুটিকে এত জোরে পিঠে চাপড় দিতে হয়েছে বলে দুঃখও প্রকাশ করেন।   দুই সন্তানের বাবা আরিয়াস জানান, পুলিশি প্রশিক্ষণ তাকে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করেছে। নিজের দুই মাস বয়সী সন্তান থাকার বিষয়টিও ওই মুহূর্তে তাকে পরিস্থিতিটি আরও দ্রুত বুঝতে সহায়তা করেছে বলে তিনি মনে করেন।   জুলিও আরিয়াস ২০২২ সালে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিন্কটের আওতায় ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম, গ্র্যান্ড কনকোর্স ও হাইব্রিজ এলাকার বড় একটি অংশ রয়েছে। ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া ২০২১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং তিনিও একই প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন।   শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনার পর ধারণ করা শরীরে পরা ক্যামেরার ভিডিও এবং পরিবারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের পরবর্তী সাক্ষাতের ছবি ঘটনাটিকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। শুক্রবারের সাক্ষাতে ছোট্ট জাইহলারকে কোলে নিয়ে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিলন সেই উদ্ধার অভিযানের একটি মানবিক পরিণতি হয়ে ওঠে।   সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ২০:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে  প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে সহায়তা দেওয়া মা-বাবার ৬৪ শতাংশ আর্থিক চাপে

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে সহায়তা দেওয়া মা-বাবার ৬৪ শতাংশ আর্থিক চাপে

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এস ইসলাম।

নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম

লস অ্যাঞ্জেলেসে শিক্ষার্থীর চারতলা থেকে পড়ে  মৃত্যু

লস অ্যাঞ্জেলেসে শিক্ষার্থীর চারতলা থেকে পড়ে মৃত্যুর পর বুলিংয়ের অভিযোগ এনেছে পরিবার

0 Comments