জার্মানিতে ৬ লাখের বেশি চাকরির সুযোগ, কারা পাবেন অপরচুনিটি কার্ড
জার্মানিতে শ্রমবাজারে এখনো বিপুল সংখ্যক চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির হিসাবে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সংস্থাটিতে ৬ লাখ ৫৩ হাজারটি শূন্যপদ নিবন্ধিত ছিল। দক্ষ কর্মীদের জন্য এসব সুযোগের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’।
অপরচুনিটি কার্ড মূলত চাকরি খোঁজার জন্য একটি আবাসন অনুমতি। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের বাইরের দেশের যোগ্য নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে উপযুক্ত কাজ খুঁজতে পারেন। সাধারণত এই কার্ড সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়।
এই সময়ে চাকরিপ্রার্থীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। চাকরি খোঁজার অংশ হিসেবে কোনো নিয়োগকর্তার কাছে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের ট্রায়াল কাজও করার সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া গেলে অপরচুনিটি কার্ডের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য অন্য ধরনের আবাসন অনুমতির আবেদন করা যায়।
অপরচুনিটি কার্ড পাওয়ার প্রধানত দুটি পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি দক্ষ কর্মী হিসেবে সরাসরি এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পয়েন্ট পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না।
দ্বিতীয় পথ হলো পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজ দেশের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি অথবা অন্তত দুই বছরের পেশাগত প্রশিক্ষণের যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি জার্মান ভাষায় অন্তত এ১ অথবা ইংরেজিতে অন্তত বি২ পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন। এরপর বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা, ভাষাজ্ঞান, জার্মানির সঙ্গে পূর্বের সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়া হয়। মোট অন্তত ৬ পয়েন্ট পেলে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য যোগ্যতা অর্জন করা যায়।
তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই হবে না, জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণও দিতে হয়। ২০২৬ সালের হিসাবে ব্লকড ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতি মাসে অন্তত ১ হাজার ৯১ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থ থাকার প্রমাণ দেখানো যায়, অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যভাবে আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়।
জার্মানিতে আগে থেকেই উপযুক্ত চাকরির প্রস্তাব পাওয়া উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্লু কার্ড। এর জন্য সাধারণত জার্মান বা সমমানের স্বীকৃত উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা এবং অন্তত ছয় মাসের উপযুক্ত চাকরির প্রস্তাব প্রয়োজন। ২০২৬ সালে সাধারণ ক্ষেত্রে ব্লু কার্ডের জন্য ন্যূনতম বার্ষিক মোট বেতনের শর্ত ৫০ হাজার ৭০০ ইউরো।
ব্লু কার্ডধারীদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিও তুলনামূলক দ্রুত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ২৭ মাস যোগ্য চাকরিতে কাজ ও পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখার পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করা যায়। জার্মান ভাষায় বি১ পর্যায়ের দক্ষতা থাকলে এই সময় কমে ২১ মাস হতে পারে।
তবে জার্মানির ৬ লাখ ৫৩ হাজার নিবন্ধিত শূন্যপদকে সরাসরি বিদেশি কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত চাকরি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিতে নিবন্ধিত মোট চাকরির চাহিদার সংখ্যা। কোন পেশায় বিদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট চাকরির যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার শর্ত এবং আবেদনকারীর ভিসা ও আবাসন অনুমতির ওপর।
জার্মানিতে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য তাই অপরচুনিটি কার্ড চাকরি খোঁজার একটি সম্ভাব্য পথ হলেও আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি, ভাষাজ্ঞান, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক সক্ষমতার শর্তগুলো যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreকানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় ভারতীয় নাগরিকদের অপসারণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএর সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ২২৭ ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো দেশের নাগরিকের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এর আগে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে ৩ হাজার ৩২৩ ভারতীয়কে অপসারণ করা হয়েছিল। সেই সংখ্যাটিই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু জুলাই ও আগস্টের তথ্য যুক্ত হওয়ার পর সংখ্যা আরও ৯০৪ বেড়ে ৪ হাজার ২২৭-এ পৌঁছেছে। এই আট মাসেই ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। গত বছর কানাডা থেকে ৩ হাজার ৭৭৯ ভারতীয় নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ২ হাজার ৪। অর্থাৎ ২০২৪ সালের পুরো বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই ভারতীয় নাগরিক অপসারণের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির ২ হাজার ২৮২ নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১, কলম্বিয়ার ৫৮০ এবং হাইতির ৫৩৫ নাগরিক রয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, যা চলতি বছরের শীর্ষ ১০ নাগরিকত্বের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে। আরও বড় সংখ্যা রয়েছে এখনো চলমান অপসারণ প্রক্রিয়ায়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডার ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় ১০ হাজার ২৯৫ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। একই তালিকায় বাংলাদেশি রয়েছেন ১ হাজার ৩৬৮ জন। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই সবাই শেষ পর্যন্ত অপসারিত হবেন - এমন নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার অবস্থার ওপর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করতে পারে। কানাডা থেকে কাউকে অপসারণের কারণও এক নয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত না মানা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কাজ বা পড়াশোনা, ভুল তথ্য দেওয়া, অপরাধসংক্রান্ত অগ্রহণযোগ্যতা কিংবা অন্য আইনি কারণে একজন বিদেশি নাগরিক অপসারণের মুখে পড়তে পারেন। প্রত্যাখ্যাত বা অযোগ্য আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিমুভাল অর্ডার কার্যকর হতে পারে। এই বৃদ্ধি এমন সময়ে ঘটছে যখন কানাডা সামগ্রিকভাবে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর নীতি নিয়েছে। সরকারের ২০২৬-২৮ ইমিগ্রেশন পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা আগমনের লক্ষ্য ৩ লাখ ৮৫ হাজারে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং অস্থায়ী কর্মীর লক্ষ্য ২ লাখ ৩০ হাজার। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দেশের মোট জনসংখ্যায় অস্থায়ী বাসিন্দার অংশ ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।
হারানো ব্যাগ অক্ষত ফেরত, এবার বিনা পয়সায় সাইকেল মেরামত - জাপানিদের মানবিকতায় মুগ্ধ ভারতীয় নারী
পুলিশি অভিযানে শতাধিক প্রাণ হা নি র পর গ্যাং ঠেকাতে রিওবাসীর নতুন উদ্যোগ
সৌদিতে অভিযান চলছেই, এক সপ্তাহে ফেরত পাঠানো হলো ১২,৬২৮ জন
জার্মানিতে শ্রমবাজারে এখনো বিপুল সংখ্যক চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির হিসাবে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সংস্থাটিতে ৬ লাখ ৫৩ হাজারটি শূন্যপদ নিবন্ধিত ছিল। দক্ষ কর্মীদের জন্য এসব সুযোগের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’। অপরচুনিটি কার্ড মূলত চাকরি খোঁজার জন্য একটি আবাসন অনুমতি। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের বাইরের দেশের যোগ্য নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে উপযুক্ত কাজ খুঁজতে পারেন। সাধারণত এই কার্ড সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়। এই সময়ে চাকরিপ্রার্থীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। চাকরি খোঁজার অংশ হিসেবে কোনো নিয়োগকর্তার কাছে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের ট্রায়াল কাজও করার সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া গেলে অপরচুনিটি কার্ডের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য অন্য ধরনের আবাসন অনুমতির আবেদন করা যায়। অপরচুনিটি কার্ড পাওয়ার প্রধানত দুটি পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি দক্ষ কর্মী হিসেবে সরাসরি এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পয়েন্ট পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না। দ্বিতীয় পথ হলো পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজ দেশের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি অথবা অন্তত দুই বছরের পেশাগত প্রশিক্ষণের যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি জার্মান ভাষায় অন্তত এ১ অথবা ইংরেজিতে অন্তত বি২ পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন। এরপর বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা, ভাষাজ্ঞান, জার্মানির সঙ্গে পূর্বের সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়া হয়। মোট অন্তত ৬ পয়েন্ট পেলে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য যোগ্যতা অর্জন করা যায়। তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই হবে না, জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণও দিতে হয়। ২০২৬ সালের হিসাবে ব্লকড ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতি মাসে অন্তত ১ হাজার ৯১ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থ থাকার প্রমাণ দেখানো যায়, অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যভাবে আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়। জার্মানিতে আগে থেকেই উপযুক্ত চাকরির প্রস্তাব পাওয়া উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্লু কার্ড। এর জন্য সাধারণত জার্মান বা সমমানের স্বীকৃত উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা এবং অন্তত ছয় মাসের উপযুক্ত চাকরির প্রস্তাব প্রয়োজন। ২০২৬ সালে সাধারণ ক্ষেত্রে ব্লু কার্ডের জন্য ন্যূনতম বার্ষিক মোট বেতনের শর্ত ৫০ হাজার ৭০০ ইউরো। ব্লু কার্ডধারীদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিও তুলনামূলক দ্রুত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ২৭ মাস যোগ্য চাকরিতে কাজ ও পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখার পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করা যায়। জার্মান ভাষায় বি১ পর্যায়ের দক্ষতা থাকলে এই সময় কমে ২১ মাস হতে পারে। তবে জার্মানির ৬ লাখ ৫৩ হাজার নিবন্ধিত শূন্যপদকে সরাসরি বিদেশি কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত চাকরি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিতে নিবন্ধিত মোট চাকরির চাহিদার সংখ্যা। কোন পেশায় বিদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট চাকরির যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার শর্ত এবং আবেদনকারীর ভিসা ও আবাসন অনুমতির ওপর। জার্মানিতে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য তাই অপরচুনিটি কার্ড চাকরি খোঁজার একটি সম্ভাব্য পথ হলেও আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি, ভাষাজ্ঞান, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক সক্ষমতার শর্তগুলো যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ট্যাক্সিচালকের লাইসেন্স আজীবন বাতিল
চকলেট দেয়ার কথা বলে অফিসের সব কর্মীকে চমকে দিয়ে আইফোন উপহার বসের
নামাজের কাতারে অপ্রত্যাশিত দুই অতিথি, শান্তভাবেই সামলালেন মুসল্লিরা
গাজার পরিবার ও শিশুদের জন্য এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বড় মানবিক উদ্যোগ। শনিবার দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে এসব খাদ্যসহায়তার প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়। ‘আহমেদ বিন রাশিদ হিউম্যানিটারিয়ান ব্রিজ’ নামের এই উদ্যোগ আয়োজন করে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস। সহযোগিতায় ছিল গাজায় আমিরাতের চলমান মানবিক কার্যক্রম ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’। প্রয়াত শেখ আহমেদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের স্মরণে উদ্যোগটির নামকরণ করা হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর পর দুবাইয়ে ১০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। জীবদ্দশায় দাতব্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততার প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবারের আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী, সাধারণ মানুষ এবং শেখ আহমেদ বিন রাশিদের শুভানুধ্যায়ীরা একসঙ্গে গাজার জন্য খাবারের প্যাকেজ প্রস্তুত করেন। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এসব খাদ্যসহায়তা গাজার পরিবার ও শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট এবং এমিরেটস এয়ারলাইন অ্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম, শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম এবং মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসের মহাসচিব মোহাম্মদ আল গেরগাওয়িসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। আয়োজকেরা বলছেন, উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু খাদ্য পাঠানো নয়, আমিরাতের মানুষের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবা ও মানবিক কাজে অংশগ্রহণের সংস্কৃতিও আরও শক্তিশালী করা। ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ সালেহ আল শরিফ বলেন, ২০২৩ সালের নভেম্বরে কার্যক্রমটি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যের পাশাপাশি গাজার শীতকালীন পরিস্থিতি সামনে রেখে আরেকটি বড় সহায়তা কার্যক্রমও শুরু করেছে আমিরাত। দেশটি ১০ লাখ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ হাজার শীতকালীন কিট পাঠানো হয়েছে, যাতে ৫০ হাজার জ্যাকেট, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে। দ্য ন্যাশনালের আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’-এর আওতায় গাজার জন্য আমিরাতের সহায়তার পরিমাণ এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহামের বেশি। এর আগেও গাজার জন্য একই ধরনের বড় খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি নিয়েছিল আমিরাত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসের আরেক কর্মসূচিতে ২০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল।
'সে মারাও যেতে পারে', মিসরে আটক ব্রিটিশ নাগরিককে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বামীর আকুতি
ছেলেকে হারানোর পর ২২ বছরের সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন ৫৪ বছরের নারী