কান্নায় ঘুমের ব্যাঘাত, ১৪ দিনের নবজাতককে পানির ড্রামে ফেলে হত্যা করল মা
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অতিরিক্ত কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর কারণে ১৪ দিন বয়সী নিজের নবজাতক ছেলেকে বৃষ্টির পানি রাখার প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৯ বছর বয়সী এক মায়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট শিশুটির বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে শিশুটির মা ফাতেমা বেগমকে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার ১৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়িতে। রাত প্রায় ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের ভেতরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা ফাতেমার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে আবার বলেন, শিশুটিকে ‘জিন’ নিয়ে গেছে। তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় এবং তারা ঘরে ও আশপাশে খোঁজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে রাখা বৃষ্টির পানির ড্রামে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাতেমাকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, ফাতেমা পুলিশকে বলেছেন শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, ঘুমাত না এবং তাকে ঘুমাতে দিত না। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শিশুটিকে পানির ড্রামে ফেলেছেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিশুটিকে ড্রামে ফেলার পর সেটির মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে শিশুটির বাবা থানায় হত্যা মামলা করলে ফাতেমাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নিহত নবজাতক সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগম দম্পতির ছেলে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্ম হয়েছিল ৪ আগস্ট।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌরভ ও ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এই পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।
নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ফাতেমাকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার পুরো পরিস্থিতি, শিশুটির মৃত্যুর সময় এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীভোগান্তির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ফেসবুক লাইভে তুলে ধরে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন দন্ত চিকিৎসক ও ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং শুক্রবার পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁদের বহনকারী বিমানটি সকাল ৯টা বাজার প্রায় পাঁচ মিনিট আগে ঢাকায় অবতরণ করে। এরপর ট্রলি সংগ্রহের জন্য তাঁকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। ট্রলি পাওয়ার পরও লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লাগেজ হাতে পান তাঁরা। লাইভে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ক্লেইম এলাকায় দীর্ঘ সারির চিত্রও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কোথাও কোথাও সারি ৫০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যে বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অন্যান্য যাত্রীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওমরাহ শেষে ফেরার কারণে জমজমের পানি নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই চিকিৎসক। তাঁর অভিযোগ, যাত্রীরা জমজমের পানি না পাওয়ার পর সেটি কখন আসবে বা কেন আসেনি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি। একই সময়ের বিমানবন্দর পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদনেও জমজমের পানি ও লাগেজ সরবরাহ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। বিমানবন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁর বক্তব্যে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে তাঁর বক্তব্যগুলো তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে যথাযথ। তাঁর ভিডিওটি আলোচনায় আসার সময়ই শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে আরও নানা ঘটনা সংবাদে আসে। লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার একটি পৃথক ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে একই সময়ে বিমানবন্দরের সেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের ঘটনাটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এ কারণে যে, তিনি কোনো দূরবর্তী ঘটনা নিয়ে মন্তব্য না করে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ক্যামেরায় ধারণ করে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। একজন যাত্রী হিসেবে তিনি যে সমস্যাগুলো দেখেছেন, সেগুলো অন্য যাত্রীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও কতটা মিলে যায়, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে নাগরিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দ্রুত বৃহত্তর আলোচনায় পরিণত হতে পারে। ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের লাইভও তার একটি উদাহরণ। তবে কোনো অভিযোগ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্য সামনে আনা জরুরি। তাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাটি শুধু ক্ষোভ প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে যাত্রীসেবার বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। শাহজালাল বিমানবন্দরের ওই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত যে ব্যাপক মানুষের নজরে এসেছেন, তা এখন স্পষ্ট। তাঁর ভিডিও নতুন করে সামনে এনেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক প্রশ্ন—দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন যাত্রী যেন নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ ও সম্মানজনক সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।
জমজমের পানি দিতে দেরি, বিমানের দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
সাইবার অপরাধ তদন্তে স্বতন্ত্র ইউনিট চালু, জনবল কাঠামোয় ৪ হাজার ৫৯২ পদ
মেট্রোরেলের আট প্যাকেজে ৫৮ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার কাজ অনুমোদন
রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান আজ শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিশেষ কার্গো বিমানে করে চালানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটের এই জ্বালানি চালানটি এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে বিমানটির রুটে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ পর নতুন করে চালানের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কয়েকটি চালানে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সড়কপথে ঈশ্বরদীর প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে। এদিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমেও অগ্রগতি হয়েছে। বুধবার প্রথম ইউনিটের প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। তাই আজকের চালানটি মূলত দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি চালান।
‘বসতভিটা না থাকায়’ সুপারিশ পেয়েও সহকারী শিক্ষক পদে বাদ ইবির সাবেক শিক্ষার্থী
গুদামে মদ মজুতের অভিযোগ, সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চার গুদাম সিলগালা
নারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন, সামনে আসছে বিমানবন্দরে হয়রানির অভিজ্ঞতা
কংগ্রেসের নির্বাচনে প্রথম চেষ্টা সফল হয়নি। তবে দুই বছর পর জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ ইসলাম পার্কস। ২০২২ সালে ডিস্ট্রিক্ট ৭ থেকে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট ছিলেন জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী। তাঁর বেড়ে ওঠা বাংলাদেশ থেকে আসা এক শ্রমজীবী অভিবাসী পরিবারে। নাবিলাহ নরক্রস ও লরেন্সভিলে বড় হয়েছেন। বাবা-মাকে দীর্ঘ সময় কাজ করে সংসার চালাতে দেখেছেন তিনি। জর্জিয়া সিনেটের সরকারি জীবনীতে বলা হয়েছে, একাধিক চাকরি করেও তাঁর পরিবারকে অনেক সময় দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। পরিবারের সেই অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে প্রভাব ফেলেছে। জর্জিয়া উইন লিস্টের প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, নাবিলাহ হাইস্কুলে পড়ার সময় তাঁর মা ওয়্যারহাউজে কাজ করতে গিয়ে আহত হন। পরিবারের চিকিৎসাসংক্রান্ত সংকট কাছ থেকে দেখার পর হেলথ কেয়ার সহজলভ্য করা ও মেডিকেইড সম্প্রসারণের পক্ষে কাজ শুরু করেন তিনি। গুইনেট কাউন্টির পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা শেষে নাবিলাহ জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় ডিগ্রি অর্জন করেন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। ২০২০ সালে জর্জিয়ার সপ্তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি তিনি। এরপর ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যের সপ্তম সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের আসন ও স্টেট সিনেটের আসন দুটি আলাদা নির্বাচনী পদ। তবে নাবিলাহ বর্তমানে স্টেট সিনেটর নন। লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে নির্বাচনী প্রচারে পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ সিনেট থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ফক্স ফাইভ আটলান্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর প্রতিনিধিত্ব করা এলাকার মধ্যে ডুলুথ ও পিচট্রি কর্নার্স ছিল। পরে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির রানঅফে অংশ নেন নাবিলাহ। ১৬ জুনের সেই নির্বাচনে তাঁকে হারিয়ে দলের মনোনয়ন পান জশ ম্যাকলরিন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো ২০২২ সালের ঐতিহাসিক সিনেট জয়, যার পর তিনি অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আরও বড় পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
শিক্ষায় অবদান রাখা গুণীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের
জামায়াত আর আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা