সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘কালিমা তাইয়্যেবা’ স্থাপনের উদ্যোগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৯:১৩
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে সংসদ ভবনে কালিমা স্থাপনের দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে সংসদ ভবনে কালিমা স্থাপনের দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘কালিমা তাইয়্যেবা’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

 

ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা স্থাপন করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে সংসদ ভবনের দৃশ্যমান অবয়বে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে।

 

তবে এমন একটি সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সংসদ ভবন স্থাপত্যগত ও ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা।

 

এ কারণে কে এই স্থাপনার অনুমোদন দিয়েছেন, কোথায় কালিমা তাইয়্যেবা স্থাপন করা হচ্ছে, এটি স্থায়ী নাকি সাময়িক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন।

 

কালিমা তাইয়্যেবা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ঘোষণা। এর অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল।

 

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে কালিমা তাইয়্যেবা স্থাপনের বিষয়টি এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

জাতীয়

View more
রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ব্রিফিং
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারিতে নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট

বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট। সাইবার অপরাধ দমন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য যাচাই এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের তদন্ত আরও শক্তিশালী করতে এই ইউনিট গঠন করা হয়েছে।   ১ অক্টোবর রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নতুন ইউনিটটির উদ্বোধন করেন। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, সাইবার পুলিশ ইউনিটে মোট ৪ হাজার ৫৯২টি পদ থাকবে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এর কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। থানাপর্যায়েও সাইবার-সংক্রান্ত সেবা ও তদন্তের জন্য আলাদা সদস্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।   নতুন ইউনিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য, উসকানিমূলক প্রচার এবং সম্ভাব্য সাইবার হুমকি শনাক্ত করার জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা থাকবে।   ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামোতে ‘তথ্য যাচাই ও পাল্টা বক্তব্য’ কার্যক্রমও রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে যাচাইহীন বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে তা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক তথ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কোন ধরনের বিষয়কে তথ্য যাচাই বা পাল্টা বক্তব্যের আওতায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত মানদণ্ড এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সাইবার পুলিশ ইউনিট শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় চুরি, অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, অর্থনৈতিক অপরাধ, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা, ভুয়া বার্তার মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য অপরাধ তদন্ত করবে।   এ ছাড়া ডার্ক ওয়েব, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ক্ষতিকর সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ বিশ্লেষণের জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সাইবার অপরাধের ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণে একটি আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারও স্থাপন করা হচ্ছে।   কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ, আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ, ডার্ক ওয়েব, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সময়ে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার মাধ্যমে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করতেই এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে।   নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।   বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কতটা বাড়াতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৭:৫৯
(কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার নয়, সৃজনশীলতা ধরে রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে এক টেবিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে পিএইচডি গবেষণা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

আমার পিএইচডি রিসার্চের টপিক ঠিক করে দিয়েছিলেন তারেক রহমান, বললেন শিক্ষামন্ত্রী

বাস ছবি:সংগৃহীত
জ্বালানির দাম বাড়তেই বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক, ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে বাস মালিক, শ্রমিক ও পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।    বৈঠকে মূলত জ্বালানি তেলের নতুন দামের কারণে বাস পরিচালন ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং সেই ব্যয় যাত্রীভাড়ার সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহমেদ খোকন জানিয়েছেন, মালিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব বিআরটিএর কাছে তুলে ধরেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।    মালিকপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বর্তমানে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা করার প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।   পরিবহন মালিকদের যুক্তি হচ্ছে, জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়লে বাসভাড়া কিলোমিটারে এক পয়সা বাড়ানোর একটি হিসাব তারা প্রস্তাব করেছেন। সেই হিসাবে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সরকারি ভাড়া নয়, বরং মালিকপক্ষের প্রস্তাব।   সরকার রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা করা হয়েছে। নতুন মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।    গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। দেশের বিপুলসংখ্যক বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ডিজেলচালিত হওয়ায় লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন মালিকদের জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। মালিকপক্ষ বলছে, শুধু জ্বালানি নয়, পরিবহন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য ও সেবার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   এর আগে গত এপ্রিলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছিল। তখন আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসভাড়াও কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারিত হয়েছিল কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৩ পয়সা।    এদিকে নতুন সরকারি ভাড়া ঘোষণার আগেই কিছু পরিবহনে বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাজধানীর অধিকাংশ গণপরিবহন পুরোনো ভাড়ায় চললেও কিছু বাসে স্টপেজপ্রতি পাঁচ টাকা বেশি চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অনেক চালক ও পরিবহনকর্মী জানিয়েছেন, নতুন ভাড়ার তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আগের ভাড়াই নিচ্ছেন।    পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের আগে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তারা দেয়নি। ফলে বিআরটিএ ও সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মালিকপক্ষের কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে চূড়ান্ত ভাড়া হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।    এখন বিআরটিএর সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিকরা। নতুন ভাড়া অনুমোদিত হলে কোন শ্রেণির বাসে কিলোমিটারপ্রতি কত টাকা দিতে হবে এবং সর্বনিম্ন ভাড়ায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—সেটিও সরকারি ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:৪২
রাষ্ট্রপতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

বেকারত্বের লাগাম টানতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শহিদ মুগ্ধর পরিবার

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শহিদ মুগ্ধর পরিবার, তুলে ধরলেন জুলাই শহিদ-আহতদের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এনএসডিএ সভায়। ছবি:সংগৃহীত

দক্ষ জনশক্তি গড়তে এনএসডিএ গভর্নিং বোর্ডের সভায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়েছে অ্যামচ্যাম। ছবি: সংগৃহীত
৫ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনতে চায় অ্যামচ্যাম

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনতে কাজ করতে চায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিদ্যমান সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সম্ভাব্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে এই অতিরিক্ত বিনিয়োগ সক্রিয় করতে সহায়তা করবে। ফলে ৫ বিলিয়ন ডলার এখনই বিনিয়োগ হয়ে যাচ্ছে না, বরং এটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য অ্যামচ্যামের নির্ধারিত লক্ষ্য।   গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অ্যামচ্যামের নেতারা এই বিনিয়োগ লক্ষ্য তুলে ধরেন। বৈঠকে তারা বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আনার জন্য সরকারের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন বাধা দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।   অ্যামচ্যামের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্য কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। আগামী পাঁচ বছরে বিদ্যমান সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মার্কিন কোম্পানিগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে চায় সংগঠনটি।   এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছে অ্যামচ্যাম। সংগঠনটি সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়া, একক জানালা ব্যবস্থা কার্যকর করা, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, ব্যবসা পরিচালনার নিয়ম মেনে চলার ব্যয় কমানো এবং মূলধন ও মুনাফা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার মতো সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে।   একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে অ্যামচ্যাম। সংগঠনটির মতে, বিনিয়োগকারীরা বড় প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থিতিশীল নীতি, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সরকারি সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেন। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রেও কাজ করছে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন এবং আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।   বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসা করা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত সরকারের কাছে তুলে ধরার বিষয়েও অ্যামচ্যাম কাজ করছে। সংগঠনটি মনে করে, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কার্যকর পরিবর্তন আনা গেলে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।   প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অ্যামচ্যাম আরও জানিয়েছিল, তাদের সদস্য কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে এরই মধ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রেখে নতুন মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আনতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংগঠনটি।   সব মিলিয়ে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার বিষয়টি বর্তমানে একটি লক্ষ্য ও উদ্যোগ হিসেবে রয়েছে। অর্থাৎ এই অর্থ নিশ্চিতভাবে বিনিয়োগের ঘোষণা নয়; বরং অ্যামচ্যাম বিদ্যমান ও সম্ভাব্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সক্রিয় করতে সরকারের সহযোগিতায় কাজ করতে চায়।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১২:৪৯
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে ঋণ দেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে মার্কিন দূতাবাসের অভিনন্দন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে সংসদ ভবনে কালিমা স্থাপনের দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘কালিমা তাইয়্যেবা’ স্থাপনের উদ্যোগ

0 Comments