কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা
সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামে এক সক্রিয় বিএনপি কর্মী। তিনি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৩১ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন সাদ্দাম। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম হাওলাদার বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজেও দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি সৌদি প্রবাসী হওয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান।
তিনি লেখেন, “আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ নামক সকল রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম।” একই সঙ্গে পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার ঘোষণা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সাদ্দাম আরও বলেন, বিএনপির প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং দলের নেত্রী ও নেতাদের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
রাজনীতি ছাড়লেও মানুষের সেবা থেকে সরে যাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরে থেকেও মানবসেবা করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে থাকার চেষ্টা করবেন।
সাদ্দামের এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হঠাৎ করে তার রাজনীতি ছাড়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreকুষ্টিয়ার আমলা-সদরপুরের ছেলে মো. নাসিম আল আওয়াল কবি। ছোটবেলায় প্রযুক্তির প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সেই আগ্রহ পূরণ করা সহজ ছিল না। ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি মোবাইল ফোন কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে একসময় সংসারের একটি ছাগল বিক্রি করে দেন তাঁর মা মোছা. নাজমা। সেই টাকায় কেনা মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু হয় নাসিমের প্রযুক্তি শেখার নতুন অধ্যায়। নানা বাধা, বিদেশের কঠিন জীবন আর একের পর এক প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে আজ তিনি জাপানে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত। নাসিমের গল্পের শুরু অবশ্য আরও আগে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। যাওয়ার আগে ড্রয়ারে রেখে গিয়েছিলেন একটি চিরকুট। তাতে লেখা ছিল, ‘মানুষের মতো মানুষ হয়েই তবে আমি বাড়ি ফিরব।’ সেদিনের সেই কিশোর হয়তো জানতেন না, তাঁর জীবনের পথ তাঁকে একদিন বাংলাদেশের গ্রাম থেকে জাপানের বড় একটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাবে। নাসিমের ডাকনাম কবি। গ্রামের আর দশটা শিশুর মতো মাঠে খেলাধুলা, পুকুরে ঝাঁপ দেওয়া, গরু-ছাগলের জন্য ঘাস কাটা আর বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি করেই কাটত তাঁর শৈশব। তবে ছোটবেলা থেকেই অন্যের চেয়ে আলাদা ছিল তাঁর একটি আগ্রহ। এলাকার কারও মোবাইল ফোন, টেলিভিশন কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র নষ্ট হলে সেটি খুলে দেখার চেষ্টা করতেন। যন্ত্র কীভাবে কাজ করে, কোথায় সমস্যা হয়—এসব জানার আগ্রহই তাঁকে প্রযুক্তির দিকে টেনে নেয়। নাসিমের বাবা মো. রবি সততার প্রশ্নে আপস করতে চাইতেন না। ১৯৯৬ সালে পাবনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো পদে চাকরি করার সময় দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন বলে পরিবারের বর্ণনায় উঠে এসেছে। পরে মুদির দোকানসহ বিভিন্ন কাজ করেও সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে পারেননি। ২০০৩ সালে শুরু করেন দলিল লেখার কাজ। পরিবারের অভাব নাসিমের জীবনে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি করলেও বাবার সততার শিক্ষা তাঁর মনে গেঁথে যায়। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সৎ থাকার বিষয়টিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অষ্টম শ্রেণিতে বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার সেই ঘটনাও ছিল কৈশোরের এক দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা। রেললাইন ধরে দীর্ঘ পথ হাঁটা, পায়ে ফোসকা পড়া, রাজশাহী স্টেশনে রাত কাটানো—সবই ঘটেছিল সেই যাত্রায়। দুই কিশোরের পরিকল্পনা ছিল ট্রেনে বই বিক্রি করার। শেষ পর্যন্ত বাড়ির টানেই ফিরে আসেন নাসিম। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে তোলার যে জেদ তাঁর মধ্যে ছিল, তা হারিয়ে যায়নি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় কুষ্টিয়ার আমলা স্কুলে ডিনেটের কম্পিউটার লিটারেসি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। কম্পিউটার শেখার জন্য ভোরে বাড়ি থেকে বের হতেন। কুয়াশা, ঝড়বৃষ্টি আর মাঠের আইল পেরিয়ে স্কুলে যাওয়ার সেই দিনগুলো তাঁর প্রযুক্তি শেখার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রযুক্তি বিভাগে ভর্তি হন নাসিম। কিন্তু কম্পিউটার প্রযুক্তি শেখার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি ডিভাইস প্রয়োজন ছিল। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় সেটি কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন ছেলের পাশে দাঁড়ান তাঁর মা। সংসারের একটি ছাগল বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে ছেলেকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। সেই ফোনটিই হয়ে ওঠে নাসিমের শেখার প্রধান মাধ্যম। ফোনটিকে মডেম হিসেবে ব্যবহার করে ইন্টারনেটে যুক্ত হতেন। অনলাইনে ভিডিও দেখে বিভিন্ন বিষয় শিখতেন, প্রযুক্তিবিষয়ক ফোরামে প্রশ্ন করতেন এবং নিজের সমস্যার সমাধান খুঁজতেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরে এভাবেই নিজের উদ্যোগে দক্ষতা অর্জন করতে থাকেন তিনি। যে ডিনেটের কর্মসূচিতে একসময় শিক্ষার্থী হিসেবে কম্পিউটার শিখেছিলেন, ২০১২ সালে সেই প্রতিষ্ঠানেই প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি পান নাসিম। পরে প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট এবং সহকারী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রায় ৩৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একসময় যে প্রতিষ্ঠানে নিজে শিখেছিলেন, পরে সেখানেই অন্যদের শেখানোর দায়িত্ব পান নাসিম। তাঁর কর্মজীবনের এই অভিজ্ঞতা প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও শক্ত করে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে জাপানে পাড়ি জমান তিনি। বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে ব্যাংকঋণ, ধার করা টাকা এবং পরিচিতজনদের সহযোগিতা নিতে হয়েছিল। জাপানে পৌঁছে প্রথমে নাগোয়ার একটি গাড়ি কারখানার উৎপাদন লাইনে কাজ শুরু করেন। নতুন ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি করতে হয়েছে শারীরিক পরিশ্রমের কাজও। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে কাজ করার স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। ২০২০ সালের মে মাসে জাপানের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এনটিটি কমিউনিকেশনে নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন নাসিম। সেখানে সাবমেরিন কেবলের সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। পাঁচ বছর আট মাসের অভিজ্ঞতায় নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে তাঁর দক্ষতা আরও বাড়ে। চাকরির পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টাও চালিয়ে যান তিনি। অনলাইনে ৪০টির বেশি কোর্স ও সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেন। সিনেমা, গান ও বিভিন্ন অনলাইন উপকরণ ব্যবহার করে ইংরেজি শেখেন। টোয়েক পরীক্ষায় ৮৭৫ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি জাপানি ভাষার এন৪ পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। তবে বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন নাসিম। অ্যামাজন, গুগল, অ্যাপল, ওরাকল ও আইবিএমের মতো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও সফল হননি। ২০২২ সালে মাইক্রোসফটে আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবার ব্যর্থ হওয়ার পর থেমে না গিয়ে নিজের ঘাটতি খুঁজেছেন। কোন দক্ষতা আরও বাড়ানো দরকার, কী শিখলে পরবর্তী সুযোগের জন্য প্রস্তুত হওয়া যাবে—সেদিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মাইক্রোসফট জাপানে যোগ দেন নাসিম। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড অপারেশনস অ্যান্ড ইনোভেশনস (CO+I) দলের সঙ্গে কাজ করছেন। এই দল মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারের অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। অ্যাজুর ও মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর মতো ক্লাউড সেবা সচল রাখতে এসব ডেটা সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের যাত্রা সম্পর্কে নাসিমের বক্তব্য, তিনি কখনো অসাধারণ ছাত্র ছিলেন না, কিন্তু হাল ছাড়েননি। প্রতিটি প্রত্যাখ্যানকে শেষ হিসেবে না দেখে নতুন একটি প্রশ্ন হিসেবে নিয়েছেন, যার উত্তর তাঁকে খুঁজে বের করতে হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও রয়েছে তাঁর পরামর্শ। নাসিম মনে করেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট অর্জন করলেই হবে না; হাতে-কলমে কাজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন, সাইবার নিরাপত্তার মৌলিক বিষয়গুলো শেখা এবং অনলাইনে থাকা শিক্ষার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করতে চান নাসিম। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তাঁদের শেখার পথ সহজ করা এবং নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। একসময় বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে চিরকুটে নিজের জীবনের লক্ষ্য লিখে রাখা সেই কিশোরের পথচলা আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। কারণ, নাসিমের গল্প শুধু মাইক্রোসফটে চাকরি পাওয়ার গল্প নয়; এটি সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শেখার চেষ্টা, মায়ের আত্মত্যাগ এবং বারবার ব্যর্থ হয়েও নতুন করে শুরু করার গল্প। মায়ের বিক্রি করা একটি ছাগলের টাকায় কেনা মোবাইল ফোন থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে জাপানের প্রযুক্তি খাতে নতুন এক অধ্যায়ে।
নারীর হাতে আর্থিক সহায়তা, তালাক বন্ধ করেছে ফ্যামিলি কার্ড চিফ হুইপ
শিশু হাসপাতালে ২৩ দিনের নবজাতকের বিরল টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা
‘আমার তিন বোনের পাঁচ–ছেলে মেয়ে মা রা গেছে, ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল’
চট্টগ্রাম কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারসি রহমান সুইডিশ ইনস্টিটিউটের বৃত্তিতে সুইডেনে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত পরিচিতিমূলক লেখায় জানানো হয়েছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, তিনি ব্লেকিঙ্গে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবিলিটি’ প্রোগ্রামে পড়বেন। তবে তাঁর বৃত্তি পাওয়ার শিক্ষাবর্ষ ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের নথি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফারসির শিক্ষাজীবন ও কাজের অভিজ্ঞতার বিবরণ অনুযায়ী, পরিসংখ্যান পড়ার পাশাপাশি তিনি স্বেচ্ছাসেবা ও ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং ২০১৯ সাল থেকে পোশাক ও প্রিন্টিং ব্যবসার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই বিবরণে রোটার্যাক্ট ও ভিএসও আইসিএসের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং একটি ফ্যাশন ব্যবসার সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করার তথ্য রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে টেকসই উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিষয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে লেখাটিতে জানানো হয়। ব্লেকিঙ্গে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামটি এক বছরের এবং ৬০ ক্রেডিটের। এতে প্রতিষ্ঠান ও সমাজে টেকসই পরিবর্তন আনতে কৌশলগত পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে ফারসিকে নিয়ে প্রচারিত লেখায় এই প্রোগ্রামকে দুই বছরের বলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যের সঙ্গে তা মেলে না। সুইডিশ ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল প্রফেশনালস বৃত্তি সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন এক বা দুই বছরের স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীর বৃত্তির মেয়াদ ও সুবিধা তাঁর নির্বাচিত প্রোগ্রাম এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের শর্তের ওপর নির্ভর করে। ফারসিকে নিয়ে দেওয়া লেখায় টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, ভ্রমণ অনুদান ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধার কথা বলা হয়েছে। তবে তাঁর বৃত্তির অনুমোদনপত্র পাওয়া না যাওয়ায় নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ ও ব্যক্তিগতভাবে প্রযোজ্য সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা যায়নি। বিশেষ করে দুই বছরের টিউশন ফির ভিত্তিতে উল্লেখ করা টাকার অঙ্ক এক বছরের এই প্রোগ্রামের নিশ্চিত ব্যয় হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়। সূত্র: Chattogram update
‘বাচ্চা গর্ভে নিয়ে আমি রিটেন পরীক্ষা দিয়েছি, জীবনের রিস্ক নিয়ে ছুটেছি, আমার গেজেটটা দিল না’
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মৃত ৬ জনের নাম-পরিচয় প্রকাশ,উদ্ধারকাজ চলছে
কক্সবাজারের ইনানীতে কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ আ গু ন, চারজনের মৃ ত্যু, নিখোঁজ আরও সাত পর্যটক
লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে প্রায় ৭১০ কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনার সম্ভাবনা রয়েছে। সুপারি সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। গাছ থেকে সুপারি পাড়ার কাজে কোনো কোনো শ্রমিক দিনে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দৈনিক ভোরের খবরের প্রতিবেদনে কৃষি বিভাগের হিসাবের বরাতে বলা হয়েছে, মৌসুমে জেলায় সুপারির সম্ভাব্য বেচাকেনার পরিমাণ প্রায় ৭১০ কোটি টাকা। এটি পুরো মৌসুমের সম্ভাব্য লেনদেনের হিসাব, ইতিমধ্যে বিক্রি হওয়া সুপারির পরিমাণ নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনীসহ স্থানীয় বাজারগুলোতে সুপারি কেনাবেচা চলছে। প্রতি পণ পাকা সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়। প্রতি কাউনের দাম পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা। গাছ থেকে সুপারি পাড়ার জন্য শ্রমিকেরা প্রতিটি গাছে ১০ টাকা মজুরি পান। দিনে ২৫০ থেকে ৩০০টি গাছের সুপারি সংগ্রহ করতে পারলে তাঁদের আয় দাঁড়ায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। তবে এই আয় নির্ভর করে দৈনিক কাজের পরিমাণের ওপর। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। উৎপাদিত সুপারির প্রায় ৬০ শতাংশ পানিতে ভিজিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। বাকি অংশ কাঁচা অবস্থায় কিংবা রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়। সুপারি পাড়া ছাড়াও বাছাই, পরিবহন, বিক্রি ও সংরক্ষণের কাজে মৌসুমি কর্মসংস্থান তৈরি হয়। ফলে এই ফসলের বেচাকেনার সঙ্গে বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের আয়ও যুক্ত রয়েছে। সূত্র: মাছরাঙা টিভি
হিলারী ক্লিনটন তো অনেক বোকা, আবার ড. ইউনূসকে পুরষ্কৃত করেছে: আসিফ নজরুল
জবিতে পশু জ বা ইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের পাশে গরু জ বা ই