শত্রুর যেকোনো হামলা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৩৮০০ প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন করেছে ইরান
নিজস্ব আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে এবং শত্রুপক্ষের যেকোনো সম্ভাব্য হামলা রুখে দিতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইরান। এই লক্ষ্যে দেশের তিন হাজার আটশটিরও বেশি স্থানে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার খাতাম আল-আনবিয়া এয়ার ডিফেন্স বেস প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেঘিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, ইরানের এই সুবিশাল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ, সার্বক্ষণিক নজরদারি, অনুপ্রবেশে বাধা প্রদান এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে থাকে। জেনারেল সাদেঘিয়ান জানান, দেশের আকাশসীমা এবং এর বাইরেও যেকোনো উড়ন্ত বস্তুকে দ্রুততম সময়ে শনাক্ত করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় যুদ্ধবিমান বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইরানি বাহিনী। শত্রুপক্ষের যেকোনো বিমানকে তাদের মিশন সম্পন্ন করতে না দেওয়াই এই ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির পাশাপাশি শান্তিকালেও ইরানের এই আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আকাশসীমায় প্রবেশকারী সব ধরনের যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক বিমান, অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারের গতিবিধি সরাসরি এই কর্তৃপক্ষের সমন্বয় ও অনুমতির আওতায় পরিচালিত হয়। দেশের মরুভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলেও এই বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। উন্নত রাডার নেটওয়ার্ক, আধুনিক ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল প্রযুক্তি এবং নজরদারি ইউনিটগুলোর মাধ্যমে ইরানের আকাশসীমা ও এর বাইরের আকাশপথ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুরক্ষিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreনেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে গেছে ভারতীয় ব্যবসায়ী অশোক কুমার চৌরাসিয়ার দুই দশকের গড়ে তোলা ব্যবসা ও বসতবাড়ি। উত্তর প্রদেশের বলিয়া জেলার এই ব্যবসায়ী নুওয়াকোটের ত্রিশুলি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পোশাকের ব্যবসা করছিলেন। ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যায় তার বাড়ি, দোকান ও গুদাম পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবে উঁচু স্থানে গিয়ে প্রাণে বাঁচলেও তাদের হাতে অবশিষ্ট ছিল প্রায় শুধু পরনের কাপড়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অশোক ও তার ভাই পান্না লাল প্রায় চার দশক ধরে নেপালে পোশাকের ব্যবসা করছিলেন। ত্রিশুলি এলাকায় তাদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। বন্যার সময় অশোক তার মেয়েকে ফোন করে পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা জানান। এরপর প্রায় ২৪ ঘণ্টা তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, বন্যার পানিতে অশোকের বাড়ি, দোকান ও গুদাম ভেসে গেছে। শুধু ব্যবসা ও সম্পদ নয়, দুর্যোগের পর খাবার ও নিরাপদ পানীয় জলের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তাও সংকটে পড়ে পরিবারটি। অশোকের মেয়ে জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত বাবার খোঁজ পাওয়া সম্ভব হয়। অশোকের পরিবারের আরও সদস্যও বন্যায় বিপদে পড়েন। তার ভাই পান্না লাল ও তার পরিবারও ত্রিশুলিতে বসবাস করতেন। বন্যার পর পরিবারের কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেলেও অশোকের ভাইয়ের স্ত্রী উষা দেবী এবং তার ছেলে রাহুলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে ২৯ আগস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টিভিকে অশোক জানিয়েছেন, ত্রিশুলি বাজারে তার সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং পরিবারের দুই সদস্য পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমনকি বন্যার পর তিনি যে পোশাকটি পরেছিলেন, সেটিও অন্যের কাছ থেকে ধার করা। প্রতিবেদনে তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৫ কোটি ভারতীয় রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অঙ্কের স্বাধীন সরকারি যাচাই পাওয়া যায়নি। নিশ্চিতভাবে যা জানা গেছে, তা হলো কয়েক দশকের ব্যবসা, বাড়ি ও গুদাম হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। নেপালের এই বন্যা শুধু অবকাঠামো ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই ধ্বংস করেনি, বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও জীবিকার ভিত্তিও মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিয়েছে। অশোক চৌরাসিয়ার ঘটনা সেই ক্ষয়ক্ষতিরই একটি করুণ উদাহরণ।
শত্রুর যেকোনো হামলা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৩৮০০ প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন করেছে ইরান
‘আন্তর্জাতিক আদালতে পাত্তাই পেল না ভারত!’ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের সুযোগ নেই
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪৪৯, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ আরও হাজারো
নেপালে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার পর ৩৯টি দেশের অন্তত ৫৯০ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। তিব্বতে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার পর নেপালেও এর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পর থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকরা ৩৯টি দেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে মোট অন্তত ৫৯০ জনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। বন্যার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে কোন দেশের কতজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ভয়াবহ বন্যার পর নেপালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধান এবং তাদের অবস্থান শনাক্ত করতেও কাজ চলছে।
ভারতে ইসলামের প্রশংসা, হজ পালনের ইচ্ছা জানিয়ে বিতর্কে মন্ত্রী
মুরগির মাংসের টুকরো বেশি খাওয়ায় কে কেন্দ্র করে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বন্যার ধ্বংসস্তূপে ছোট বোনকে আগলে ভাই, নেপালের দৃশ্য মনে করাল ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’
রাশিয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর আগে কিছু নারী সৈনিকদের দ্রুত বিয়ে করে পরে তাদের মৃত্যুর পর সরকারি ক্ষতিপূরণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ার গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন নারীদের ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোকে ঘিরে একাধিক পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি সের্গেই খানদোঝকোর। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ৪০ বছর বয়সী এই রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরের দিন এলেনা সোকোলোভাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে যান এবং কয়েক মাস পর নিহত হন। পরে তার স্ত্রী সামরিক মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন। খানদোঝকোর পরিবারের সদস্যরা ওই বিয়ের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিয়েটি প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং স্বামীর মৃত্যু বা আহত হওয়ার পর সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে রায় দেওয়া হয়। পরে বিয়েটি বাতিল করা হয়। তবে ওই নারী আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ায় যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অর্থ কয়েক মিলিয়ন রুবল থেকে ১০০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে। ফলে যুদ্ধকবলিত দরিদ্র অঞ্চলে এসব অর্থকে ঘিরে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিযোগের ধরনও প্রায় একই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুদ্ধের জন্য চুক্তিতে সই করার পরপরই সৈনিকরা অল্প পরিচিত কোনো নারীকে বিয়ে করছেন। এরপর তারা যুদ্ধক্ষেত্রে গেলে ওই নারী আইনগত স্ত্রী হিসেবে মৃত্যুকালীন সুবিধা পাওয়ার দাবি করছেন। কিছু ঘটনায় নিহত সৈনিকের পরিবার দাবি করেছে, তারা ওই বিয়ের কথাই আগে জানত না। ২০২৬ সালের একটি তদন্তে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের একাধিক কথিত বিয়ের ঘটনা এবং আদালতের মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কিছু ঘটনায় সরকারি ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে এবং পরিবারগুলো আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বাতিলের চেষ্টা করেছে। তবে এই ধরনের ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা কত, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, বিয়ের আইন এবং নিহত সেনাদের পরিবারের অধিকার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধের সময় দ্রুত বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ এবং বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতারণার সুযোগ তৈরি করছে কি না।
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সের হাসপাতালে শিশুমৃত্যু, ১ হাজারের বেশি ঘটনা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিশন
ইরানের লারাক দ্বীপে হা মলার প্রতিশোধে জর্ডানে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হা মলা