সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

দুই মন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৪:৪৫
দুই মন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ
দুই মন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সাংবিধানিকভাবে শপথ গ্রহণের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া।

 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

 

আইনজীবী আসলাম মিয়া জানান, নোটিশের বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেলে তিনি হাইকোর্টে রিটসহ আইনগত প্রতিকার চাইবেন।

 

নোটিশে সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে দুই মন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা, নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও শপথের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

 

এতে বিশেষভাবে দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, অভিবাসন এবং নাগরিকত্ব গ্রহণ বা ত্যাগের রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

 

নোটিশে সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে সংসদ সদস্য হিসেবে তার যোগ্যতার বিষয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ৬৬(২এ)-এর বিধানও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

 

ড. খলিলুর রহমানের ক্ষেত্রে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিক কি না, কখনো বিদেশি নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট নিয়েছেন কি না এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছেন কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। একইভাবে হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব ও বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিও যাচাই করতে বলা হয়েছে।

 

তবে আইনি নোটিশটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ বা আদালতের সিদ্ধান্ত নয়। নোটিশদাতার পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই চাওয়া হয়েছে।

 

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর কোনো অযোগ্যতা না থাকলে দুই মন্ত্রীর নিয়োগ ও দায়িত্বে বহাল থাকার সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট করতে হবে।

 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হলে হাইকোর্টসহ উপযুক্ত বিচারিক ফোরামে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী আসলাম মিয়া।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা
কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা

সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামে এক সক্রিয় বিএনপি কর্মী। তিনি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   গত ৩১ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন সাদ্দাম। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি।   ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম হাওলাদার বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজেও দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি সৌদি প্রবাসী হওয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান।   তিনি লেখেন, “আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ নামক সকল রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম।” একই সঙ্গে পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার ঘোষণা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।   সাদ্দাম আরও বলেন, বিএনপির প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং দলের নেত্রী ও নেতাদের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।   রাজনীতি ছাড়লেও মানুষের সেবা থেকে সরে যাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরে থেকেও মানবসেবা করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে থাকার চেষ্টা করবেন।   সাদ্দামের এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হঠাৎ করে তার রাজনীতি ছাড়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৫:৪
দুই মন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

দুই মন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

থার্ড টার্মিনালের র‍্যাম্পে দুর্ঘটনা

থার্ড টার্মিনালে দায়িত্ব পালনকালে বিমানবাহিনীর পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৩

সাগর শেখ (২৮), অ্যাম্বুলেন্সচালক. আরটিভি

গৃহবধূর মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টা, হাতেনাতে ধরা অ্যাম্বুলেন্সচালক!

ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭)
"আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে" মৃত্যুর আগে স্পেনপ্রবাসী আলিফ

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় আরগানসুয়েলা এলাকার একটি গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে কাজের অনুমতি পেয়েছিলেন আলিফ।    গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুনের ছেলে আলিফ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় গত জুনে স্পেনে যান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন আগে তিনি ওয়ার্ক পারমিট পান। এরপর ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে নতুন করে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।  রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটের দিকে ফুড ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত সাইকেল নিতে মাদ্রিদের পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে ক্যানারিয়াস সড়কের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে যান আলিফ। সেখানে থাকা একটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।  আগুনের সঙ্গে গ্যারেজের ভেতর ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে আলিফসহ তার দুই সহকর্মী আটকা পড়েন। মৃত্যুর আগে সহকর্মীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি আকুতি জানিয়েছিলেন, “আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।”    খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গ্যারেজে জমে থাকা গ্যাস বের করে দেওয়া হয় এবং নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সেখানে থাকা অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেল সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে আলিফকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  অগ্নিকাণ্ডে আহত আলিফের দুই সহকর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণ অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।    আলিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্পেনের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও গাজীপুরের কালীগঞ্জে শোক নেমে এসেছে। তাঁর মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৫:১০
রাজবাড়ীতে পুলিশের উপস্থিতিতেই নারী ব্যবসায়ীকে হকার্স গ্রুপের লাথি-ঘুষি, ভাইরাল ভিডিও

রাজবাড়ীতে পুলিশের উপস্থিতিতেই নারী ব্যবসায়ীকে হকার্স গ্রুপের লাথি-ঘুষি, ভাইরাল ভিডিও

পাইকগাছায় রান্নার সময় মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার পর ল্যাব পরীক্ষায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মেলেনি। ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে খুলনার সেই ‘সবুজ মাংস’ রহস্যের অবসান, ল্যাব রিপোর্টে মিলল কারণ

অভিযুক্ত বাবা মো. মারুফ

আইফোন কিনতে শিশুসন্তানকে লাখ টাকায় 'বিক্রি করলেন বাবা'

ছবি: মহিলা রিক্সা, কালবেলা
ঢাকার সড়কে পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’ ফিরে এলো যেন সেকালের ঢাকা

ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে আয়োজিত বর্ণিল শোভাযাত্রায় বিশেষ নজর কেড়েছে পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’। দেখতে অনেকটা পুরোনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেই বাহনের মতো এই রিকশার পাশাপাশি শোভাযাত্রায় উঠে এসেছে স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকির মতো হারিয়ে যেতে বসা নানা যাতায়াতের মাধ্যম। ‘ঢাকা দিবস ২০২৬, হৃদয়ে ঢাকা’ ও ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে শুক্রবার ২৮ আগস্ট বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা বের করা হয়। লক্ষ্মীবাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন।   শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ সময় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় ট্রাকে করে তুলে ধরা হয় ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার প্রতিকৃতি। এর মধ্যে ছিল আহসান মঞ্জিল, ঢাকেশ্বরী মন্দির, তারা মসজিদ, আর্মেনিয়ান গির্জা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও লালবাগ কেল্লা। বড় ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, লালকুঠি, বৌদ্ধ মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকা গেটের চিত্রও। শুধু স্থাপনা নয়, ঢাকার পত্তন ও বিকাশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদেরও প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের কেউ রানী ভিক্টোরিয়া, কেউ নবাব খাজা আহসানউল্লাহ, লীলা নাগ, নিকোলাস পোগোজ, জিন্নাবাই ও পরিবিবির আদলে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।   পুরান ঢাকার খাবারের ঐতিহ্যও ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। বাকরখানি, নান্না বিরিয়ানি ও বিউটি লাচ্ছির প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয় শোভাযাত্রায়। পাশাপাশি স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি, পালকি ও পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’ যেন পুরোনো ঢাকার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট লক্ষ্মীবাজার থেকে নগর ভবন পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকিসহ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নগরবাসী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এসব প্রতীকী উপস্থাপনা উপভোগ করেন। পুরো আয়োজনেই পুরোনো ঢাকার জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বর্তমান নগরজীবনের সঙ্গে মিলিয়ে ধরার চেষ্টা ছিল।   ৪১৬ বছরের ঢাকা দিবসের এই আয়োজন তাই শুধু শহরের বয়স উদ্‌যাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুরোনো ঢাকার হারিয়ে যেতে বসা বাহন, স্থাপনা, খাবার ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিগুলোও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছে এই বর্ণিল শোভাযাত্রা। সূত্র: কালবেলা   

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৫:৫৩
ছবি: এনটিভি

মাইক্রোসফটের সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলেন নীলফামারীর সোহান

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

ফ্যামিলি কার্ডে নতুন হিসাব: ৪১ লাখ কার্ড বানাতেই ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা!

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির | ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের পর কীভাবে নিশ্চিত হয় নাগরিকত্ব আর নেই

0 Comments