হজযাত্রীদের সেবায় গাফিলতি করলে ক্ষমা নেই, মক্কা থেকে ফেরত পাঠানো হবে: ধর্মমন্ত্রী
হজযাত্রীদের প্রকৃত ‘খাদেম’ হিসেবে সেবা দেওয়ার জন্য হজ টিমের সদস্যদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হজযাত্রীদের সেবার পরিবর্তে অন্য কোনো কাজে সময় ব্যয় করা বা দায়িত্ব অবহেলা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ভালো কাজ করবেন না, তাদের মক্কা থেকেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করতে যাচ্ছেন, এটি একটি মহা সৌভাগ্যের বিষয়। হাজিদের সঙ্গে যারা এদিক-সেদিক করবেন বা সেবায় গাফিলতি করবেন, তাদের কোনো ক্ষমা নেই।” তিনি আরও জানান, হাজিরা যাদের সেবায় সন্তুষ্ট থাকবেন, তাদের আগামী বছরও এই সুযোগ দেওয়া হবে। মন্ত্রীর এই আহ্বানে উপস্থিত হজ টিমের সদস্যরা হাত তুলে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। হজ টিমের সদস্যদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে আপনাদের কোনো আচরণের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়।” ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreতিন বছর আগে পুকুরে ডুবে মারা গিয়েছিল একমাত্র ছেলে। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল পরিবারের বাকি দুই সন্তানও। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই বোনের মৃত্যুর পর এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কৃষ্ণ কাহার ও তাঁর স্ত্রী। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিন সন্তানকে হারিয়ে এখন নিঃসন্তান এই দম্পতি। একই পরিবারের তিন শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু স্বর্ণা রানী কাহার (৭) ও রূপা রানী কাহার (৫)। তারা স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ কাহারের মেয়ে। স্বর্ণা স্থানীয় চর আমানউল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুই মেয়েকে হারানোর পর তাঁদের বাবা-মা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিশু দুটির মা পিংকী রানী বাথরুমে ছিলেন। এ সুযোগে দুই বোন বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর মা বাইরে এসে মেয়েদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রথমে আশপাশের বাড়িতে খুঁজেও তাদের সন্ধান পাননি তিনি। পরে বাড়িতে ফিরে পুকুরের পানিতে বুদবুদ উঠতে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। সন্দেহ হওয়ামাত্র পিংকী রানী পুকুরে নেমে মেয়েদের খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পানির নিচ থেকে দুই মেয়েকে উদ্ধার করেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যে দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটিতে নেমে আসে গভীর শোক। খবর পেয়ে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এদিকে দুই শিশুর মৃত্যুর পর পরিবারের অতীতের আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা সামনে এসেছে। চরজব্বর থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় তিন বছর আগে এই দম্পতির বড় ছেলেও পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। ওই দুর্ঘটনার পর দুই মেয়েকে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু রোববারের ঘটনায় শেষ দুই সন্তানকেও হারালেন কৃষ্ণ কাহার ও তাঁর স্ত্রী। তিন সন্তানের মৃত্যুই পানিতে ডুবে হওয়ায় পরিবারটির শোক আরও গভীর হয়েছে। উপপরিদর্শক আশরাফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘটনায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। বাংলাদেশে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু দীর্ঘদিনের একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর ১৪ হাজারের বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণও পানিতে ডুবে যাওয়া। সংস্থা দুটি শিশুদের পানির কাছাকাছি একা না রাখা, নিরাপদ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা এবং বয়স অনুযায়ী সাঁতার শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। নোয়াখালীর এই ঘটনা আবারও বাড়ির আশপাশের পুকুর ও জলাশয়ের কাছে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। সূত্র: ইত্তেফাক
পিএসসির সদস্য হলেন জুলাইয়ে শেখ হাসিনার ছবি সরানো জাবি অধ্যাপক শামীমা
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন! গোপনে গার্ড অফ অনার
পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ছয়টি প্রশ্নের জবাব চেয়ে দেশটির সরকারের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, কীভাবে বিচার হয়েছে এবং দ ণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে ঢাকা। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশের দুই নাগরিক নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে দ ণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় চিঠিটি পাঠানো হয়। বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সৌদি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল-সেহরির কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে ছয়টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, দুই বাংলাদেশি ঠিক কী অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, অপরাধ সংঘটনের সময় ও স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। তৃতীয়ত, তাঁদের গ্রেপ্তারের তারিখ। চতুর্থত, আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি। পঞ্চমত, কী পদ্ধতিতে মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—তলোয়ার দিয়ে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ষষ্ঠত, দ ণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে বা কী করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি তালিকায় দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কিছু তথ্য উল্লেখ ছিল। সেখানে একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচার এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের কথা বলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ওই তালিকায় তাঁদের জন্য কী ধরনের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য ছিল না। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পবিত্র স্থানের মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। আগের তালিকায় থাকা তথ্যের সঙ্গে পরবর্তী বিবৃতির বিষয়বস্তুর পার্থক্য এবং দ ণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য না জানানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। দ ণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে পাঠানো চিঠির জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং দ ণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
ফেসবুক পোস্টের বিরোধে প্রাণ গেল বৃদ্ধের! কমলনগরে যুবকের ঘুষিতে মৃ ত্যুর অভিযোগ
মহাসড়কে বাস-ট্রাকের ভ য়াবহ সংঘর্ষ, মুহূর্তেই নিভে গেল দুটি প্রাণ, পরিবারে কান্নার রোল
মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় রুমির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো নাশতার পরিমাণ নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের অভিযোগ ওঠার নয় দিন পর মারা গেছেন অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন নুর (২২)। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, শাশুড়ি ও দুই ননদ তাঁকে মারধর করেছেন। এ ঘটনায় করা মামলায় শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। সিফাতুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের মেয়ে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। সিফাতুন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিয়ের পর থেকেই তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলেও তাঁদের অভিযোগ। পরিবারের ভাষ্য, মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি পিঠাসহ বিভিন্ন খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন সিফাতুনের মা। এসব খাবারের পরিমাণ কম হয়েছে বলে আপত্তি তোলেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। এ নিয়ে বিরোধের পর ১৪ অক্টোবর সিফাতুনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই রাতেই তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা চললেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। সিফাতুনের বাবা অভিযোগ করেছেন, মারধরের ঘটনাটি আড়াল করে মৃত্যুর বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হকের বক্তব্য অনুযায়ী, মারধরের অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পটিয়া থানার উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, শাশুড়ি ও দুই ননদকে আসামি করা হয়েছে। সিফাতুনের মৃত্যুর পর শুক্রবার শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার দিন কী হয়েছিল এবং কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত দুই ননদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে। সূত্র: প্রথম আলো
সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে গুগলের ডেটা সেন্টারে যোগ দিলেন মোস্তাফিজুর
বাবা তার কন্যাকে পশু থেকে রক্ষা করতে মেগাটনের থাপ্পড় মারার ক্ষমতা রাখে : মাহবুব কবির মিলন