বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সরাসরি প্রশিক্ষণ এলাকায় উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটালেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার প্রশিক্ষণ এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে পরিচালিত ৮ বীর ইউনিটের গ্রীষ্মকালীন এই মহড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা তিনি পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ফার্ম বেস’ এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কৌশলগত প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। মহড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি অভিযানের মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল প্রয়োগ, সমরাস্ত্র ব্যবহারের কৌশলসহ বিভিন্ন বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তিনি ঘুরে ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশ নেওয়া অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চান। এমনকি ছদ্মবেশে অবস্থান নেওয়া সদস্যদের কাছেও গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ জোগান। একপর্যায়ে তিনি মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন। সরকারপ্রধানকে কাছে পেয়ে সেনাসদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি উপস্থিতি সেনাসদস্যদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনশক্তি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনশক্তি খাতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার এবং দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সৌজন্য সাক্ষাতে উভয় পক্ষ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেখানে চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তরুণরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে সরকার অস্বীকার করছে না। তবে এই সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট চাপ দেশের মানুষও উপলব্ধি করেছে। এমন ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত প্রায় নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অর্থনীতিকে সীমিত গোষ্ঠীর হাত থেকে বের করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে উন্নয়ন ব্যয় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে তিন লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণের চেয়ে মানুষের জীবনে তার প্রভাব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক কৌশলের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর শেষ ধাপে উদ্ভাবননির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনশীল অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কেবল মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায়। তিনি জানান, ঋণনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে উৎপাদন ও বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বন্ধ বা দুর্বল শিল্পকারখানার পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সব মিলিয়ে, তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি টেকসই, রপ্তানিমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের অর্থনৈতিক অঞ্চল, তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা এবং সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নয়াদিল্লিতে বাড়ছে উদ্বেগ। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও চীন চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জমি আগে ভারতের জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে ২০২৫ সালে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। এর ফলে মোংলাকে ঘিরে চীনের বিনিয়োগ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বেইজিংয়ের কৌশলগত উপস্থিতি আরও জোরদার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া টুডে এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে—ভারতের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প হারানোর বিষয় নয়, বরং ভারতের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি চীনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে। এদিকে তিস্তা নদী প্রকল্পও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চীন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তা চান। দ্য হিন্দু জানিয়েছে, তিস্তা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেও বর্তমান সরকার অপেক্ষা না করে নিজস্ব পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চায়। দ্য প্রিন্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তিস্তা প্রকল্প ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ এই নদী সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং এর অবস্থান শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছাকাছি—যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডোর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হওয়ায় সেখানে চীনের যেকোনো সম্পৃক্ততা নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও নদী ব্যবস্থাপনা—বিভিন্ন খাতে এসব চুক্তি হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ। এছাড়া চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা আগের বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) করিডোরের একটি বিকল্প রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ২৪টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে এই মডেলের দ্বিতীয় বিদেশি ব্যবহারকারী। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যার মাধ্যমে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে নিয়মিত যোগাযোগ জোরদার হতে পারে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছে। আউটলুক ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের উদ্বেগ মূলত অর্থনৈতিক নয়; বরং ভূগোল ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত। মোংলা বন্দর, তিস্তা প্রকল্প এবং সম্ভাব্য লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে চীনের সম্পৃক্ততা ভারতের জন্য নতুন কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তবে ভারতও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পর্যটক ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। একদিকে চীনের অর্থনৈতিক সহায়তা গ্রহণ, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক বজায় রাখা—এই দ্বিমুখী কৌশলই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, ভারতীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের এই সফরকে কেবল দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড ট্রেনে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান চীনা কর্মকর্তারা। এসময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, যিনিও একই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। সংবর্ধনা শেষে সেখান থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। বেইজিং সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা সেখানেই অবস্থান করবেন। এর আগে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে সকালে দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ নামে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়া ও চীন সফর তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবার জন্য সমানভাবে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে সবাই সহজে ব্যবসা করতে পারবেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পতনের পর দেশের অর্থনীতি দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি বলেন, আসন্ন বাজেট প্রণয়নে ব্যবসায়ীদের সুবিধা বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা—সবাই যেন স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই বাজেট সাজানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুত নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ প্রণয়নের কাজ চলছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। এ ছাড়া রপ্তানিমুখী আমদানিতে অশুল্ক বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ডেড ও নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) ভিত্তিতে আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণের কাজ চলছে। আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করতে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতিও সহজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সব আমদানিকারকের জন্য নির্দিষ্ট সীমা ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে এলসি ছাড়াই আমদানির সুযোগ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী বাণিজ্য প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাড়বে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিশুদের জন্য হামের টিকা বিদেশ থেকে আনা হয়নি বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সংসদের অধিবেশনে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে দেশের সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু সেই সময়ের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও কয়েক বছর ধরে শিশুদের জন্য হামের টিকা আমদানি করা হয়নি, যা বর্তমান সমস্যার অন্যতম কারণ। তারেক রহমান জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউনিসেফ বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে এবং দ্রুত হামের টিকা সরবরাহ করেছে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা সম্ভব হবে। হাম শনাক্তে ব্যবহৃত টেস্ট কিটের কিছু ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ সমস্যা সমাধানে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু কিট দেশে পৌঁছেছে এবং আরও কিছু কিট বিমানবন্দরের কাস্টমসে রয়েছে, যা দ্রুত ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাসী এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট- এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমাদের সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।” মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন নোয়াবের নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ জানান, প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। প্রেস সচিব আরও বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন ও টেলিভিশন দেখেন উল্লেখ করে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়ে থাকেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম বৈঠক। বৈঠকে নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাজ্জেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর।
নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানিয়েছেন, বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকরা অংশ নেন। সভায় নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, দৈনিক সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ, দৈনিক বণিক বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক দেওয়ান হানিফসহ বিভিন্ন পত্রিকার শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে মক্কার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশকোনা হজ ক্যাম্পে আল্লাহর ঘরের মেহমানরা তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট সাড়ে ৭৮ হাজার মুসল্লি হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। হজ যাত্রীদের যাতায়াতে এ বছর মোট ২০৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আগামী ২১ মে সৌদি আরবের উদ্দেশে সর্বশেষ হজ ফ্লাইটটি যাত্রা করবে। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে হজ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ (PayPal)-এর কার্যক্রম শুরু করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর আধুনিকায়ন এবং পেপালের কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং আইটি খাতের পেশাজীবীদের সহজ ও দ্রুত আন্তর্জাতিক লেনদেন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেপালের সিঙ্গাপুরভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া টিমের সঙ্গে বাংলাদেশের আইসিটি বিভাগের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার এই সেবাটি বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, বিগত সরকারগুলোর সময় একাধিকবার পেপাল আসার গুঞ্জন শোনা গেলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সংসদে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়ায় আইটি খাতে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হজযাত্রীদের প্রকৃত ‘খাদেম’ হিসেবে সেবা দেওয়ার জন্য হজ টিমের সদস্যদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হজযাত্রীদের সেবার পরিবর্তে অন্য কোনো কাজে সময় ব্যয় করা বা দায়িত্ব অবহেলা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ভালো কাজ করবেন না, তাদের মক্কা থেকেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করতে যাচ্ছেন, এটি একটি মহা সৌভাগ্যের বিষয়। হাজিদের সঙ্গে যারা এদিক-সেদিক করবেন বা সেবায় গাফিলতি করবেন, তাদের কোনো ক্ষমা নেই।” তিনি আরও জানান, হাজিরা যাদের সেবায় সন্তুষ্ট থাকবেন, তাদের আগামী বছরও এই সুযোগ দেওয়া হবে। মন্ত্রীর এই আহ্বানে উপস্থিত হজ টিমের সদস্যরা হাত তুলে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। হজ টিমের সদস্যদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে আপনাদের কোনো আচরণের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়।” ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে শ্রমবাজারে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে সরকার—এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত জবাবে তিনি বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন শ্রমবাজার খোঁজার জন্য সরকার ইতোমধ্যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সার্বিয়া, গ্রীস, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল এবং রাশিয়া উল্লেখযোগ্য। এসব দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমেও সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে সম্ভাব্য শ্রমবাজার যাচাই এবং পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ বা লবিস্ট নিয়োগের কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে কাজ চলছে এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে নতুন করে কর্মী নিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বাড়ায় সেখানে জনবল পাঠানোর প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে এবং দেশের ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভাষা শিক্ষা চালু রয়েছে। পাশাপাশি রুশ, আরবি, জার্মান ও ইতালীয় ভাষার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সম্প্রতি শেরপুর ও বগুড়ার একটি আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন পত্রিকা পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, কোথাও গুরুতর অপ্রীতিকর ঘটনার খবর প্রকাশ পায়নি; কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু ছোটখাটো ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যেখানে নির্বাচন হয়েছে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বায়তুল মোকাররম এলাকায় অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে, কিন্তু তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে জনমুখী কর্মসূচিগুলো ব্যাহত না হয়।” অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নানা সময় বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই দেশই আমাদের সবার চূড়ান্ত ঠিকানা। এখানে জন্মেছি, এখানেই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই দেশ গড়ার দায়িত্বও আমাদের সবার।” তিনি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে তিনি সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, নীরবতা পালন, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দিনের শুরুতে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের দিনক্ষণ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি প্রথম কোন দেশ সফর করবেন, সেটিও এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে এক বার্তায় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আতিকুর রহমান জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে দাবি করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন। এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।" অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের বিষয়ে সরকারি সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা যথাসময়ে গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে অবহিত করা হবে। এর আগ পর্যন্ত কয়েকটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কাজ চললেও প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের গন্তব্য নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তাই দেশবাসীকে এসব ভিত্তিহীন সংবাদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সমিতির নেতারা প্রস্তাব করেছেন যে, প্রয়োজনে তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টায় দোকান খুলতে রাজি আছেন, তবে বন্ধের সময় যেন সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা করা হয়। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও আড়াই কোটি কর্মচারীর জীবিকার কথা বিবেচনা করে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা হয়। একই বৈঠকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সারা দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল আজ (৩ এপ্রিল) থেকেই সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর আগে গতকাল মালিক সমিতি রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের ঘোষণা দিলেও সরকারের নতুন নির্দেশনায় সময় আরও কমিয়ে আনা হয়। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সন্ধ্যা ৬টায় দোকান বন্ধ করে দিলে খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। তাই সকালের সময় কমিয়ে রাতে বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় বরাদ্দের জন্য তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হঠাৎ সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে নিজ কার্যালয়ের নিচে পৌঁছান তিনি। সেখানে থেকে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে ৬ নম্বর ভবনে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা খোঁজ নেন। এরপর ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন। সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে ফিরে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি কৃষক কার্ডের ডেমো প্রদর্শনী সভায় অংশ নেন।
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকারি দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, অসাধু চক্রের তৎপরতা ও সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই; ইতিমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টনের জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং সমপরিমাণ তেল আসার পথে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন ও বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই সাক্ষাৎকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা মূলত দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা বিষয়ক বিষয়ে কেন্দ্রিত ছিল।
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সচিবালয়। ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসেই সকাল থেকে দাপ্তরিক কাজে সক্রিয় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সকাল ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকা-এর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এরপর দুপুরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। বিকেলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা এবং পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচি রয়েছে। উল্লেখ্য, টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ থেকে সচিবালয়সহ দেশের সব সরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলেছে। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ এখনও বজায় রয়েছে—তারা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে উৎসবের আমেজ ভাগাভাগি করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।