প্রবাসী আয়ে সুবাতাস, ১১ দিনে এলো ১৪ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স প্রবাহে সুবাতাস বইছে। গেল মাসে (মার্চ) দেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সেই ধারা চলতি মাসেও (এপ্রিল) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১২১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ হাজার ৮৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।এর মধ্যে গত তিন দিনে (বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার) রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি মাসের প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে দুই হাজার ৭৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ২৮১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২০ দশমিক ২০ শতাংশ।
বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন প্রবাসীরা।তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে শক্তিশালী ভিত গড়ে দেশের অর্থনীতি। রীতিমতো ঝলক দেখাচ্ছে প্রবাসী আয়।
রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন কৌশলগত নীতিমালা ও কঠোর তদারকির ফলে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় দেশে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অর্থনীতি
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। বাড়ির আকাশছোঁয়া দাম, উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং ডাউন পেমেন্টের অর্থ জোগাড়ের চাপে পিছিয়ে পড়ছেন তরুণ ক্রেতারা। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের সর্বশেষ বার্ষিক জরিপ অনুযায়ী, দেশটিতে প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মধ্যম বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বছরে। ১৯৮১ সালে এই বয়স ছিল মাত্র ২৯ বছর। সংস্থাটির জরিপের ইতিহাসে প্রথমবার বাড়ি কেনার বয়স এত বেশি হওয়ার নজির নেই। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে মোট বাড়ি ক্রেতার মাত্র ২১ শতাংশ প্রথমবার বাড়ি কিনেছেন। এটিও সংস্থাটির রেকর্ডে সর্বনিম্ন হার। ২০০৮ সালের আগে এই হার সাধারণত ৪০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। জরিপটি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ি কেনাবেচার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির দামের পরিবর্তনেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়েছে। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার ডলার। অথচ ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, সব ধরনের পুরোনো বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ ডলারে। অর্থাৎ দুই দশকে বাড়ির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। শুধু বাড়ির দাম নয়, মর্টগেজ রেটও নতুন ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাকের ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হার ছিল ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক বছর আগে একই সময়ে এই হার ছিল ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। ফলে একই দামের বাড়ি কিনলেও আগের তুলনায় মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট বেশি হতে পারে। অন্যদিকে যাঁরা আগে থেকেই বাড়ির মালিক, তাঁদের অবস্থান তুলনামূলক সুবিধাজনক। জরিপ অনুযায়ী, দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী সময়ে বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মধ্যম বয়স এখন ৬২ বছর। তাঁদের মধ্যে ৩০ শতাংশ কোনো মর্টগেজ ছাড়াই পুরো অর্থ নগদে পরিশোধ করেছেন। এসব ক্রেতার মধ্যম ডাউন পেমেন্ট ছিল ২৩ শতাংশ। দীর্ঘদিন আগে কেনা বাড়ির মূল্যবৃদ্ধির ফলে অনেকেই সেই সম্পদের ইকুইটি ব্যবহার করে নতুন বাড়ি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। তাঁদের মধ্যম ডাউন পেমেন্ট ১০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৮৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমান। জরিপে অংশ নেওয়া নতুন ক্রেতাদের ৫৯ শতাংশ ব্যক্তিগত সঞ্চয় ব্যবহার করেছেন। আবার ২২ শতাংশ পরিবার বা বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার কিংবা ঋণের মাধ্যমে ডাউন পেমেন্টের অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রেন্ট, স্টুডেন্ট লোন, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ এবং গাড়ির লোন নতুন প্রজন্মের সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়ির দাম ও মর্টগেজ রেট বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই চাকরি শুরু করার পরও দীর্ঘ সময় বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব এলাকায় বাড়ির দাম সমান নয়। সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, মিডওয়েস্ট অঞ্চলে পুরোনো বাড়ির মধ্যম দাম ছিল ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ ডলার। বিপরীতে নর্থইস্ট অঞ্চলে এই দাম ৫ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ ডলার। ফলে অপেক্ষাকৃত কম দামের শহর বা এলাকায় বাড়ি খোঁজা নতুন ক্রেতাদের জন্য একটি বিকল্প হতে পারে। আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ছোট আকারের স্টার্টার হোম, যোগ্যতা অনুযায়ী কম ডাউন পেমেন্টের মর্টগেজ এবং স্থানীয় হোমবায়ার অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বিবেচনা করতে পারেন। তবে বাড়ির মূল্য ছাড়াও ক্লোজিং কস্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ হিসাব করা প্রয়োজন। আবাসন বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাড়ি কেনা এখন শুধু বয়স বা চাকরির ওপর নির্ভর করছে না। পর্যাপ্ত সঞ্চয়, ক্রেডিট স্কোর, আয়, ঋণের পরিমাণ এবং সঠিক লোকেশন নির্বাচনের গুরুত্ব বেড়েছে। ফলে ৩০ বছরের মধ্যে বাড়ি কিনতে না পারলেও সেটিকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী আগেভাগে পরিকল্পনা করাই এখন বাড়ির মালিক হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আম্বানির শেয়ার কিনতে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড
ফ্রান্সে দাঙ্গা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য ও বৈশ্বিক উদ্বেগে ইউরোর দর কমল, শক্তিশালী ডলার
আমেরিকায় কোন পেশায় আয় বেশি? জেনে নিন, ঘণ্টাপ্রতি বেতনসহ ১০টি কাজের তালিকা
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের বড় একটি অংশকে ছাঁটাই করছে নতুন মালিক বেন্ডিং স্পুনস। গত ১২ অক্টোবর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ইতালীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির প্রোডাক্ট লিডার ফেদেরিকো সিমিওনাতো। কতজন চাকরি হারাচ্ছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। ছোট দল দিয়ে আরও কার্যকরভাবে কাজ পরিচালনার যুক্তি দিয়েছে কোম্পানিটি। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সে দেওয়া ঘোষণায় সিমিওনাতো বলেছেন, কর্মীদের কাজের মানের কারণে এই ছাঁটাই হচ্ছে না। বরং ছোট দল আরও বেশি ও ভালো কাজ করতে পারে, প্রতিষ্ঠানের এই বিশ্বাস থেকেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। বিদায়ী কর্মীদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁদের নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। এয়ারটেবল অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার প্রায় এক মাস পর এই ঘোষণা এসেছে। বেন্ডিং স্পুনসের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি কেনার চুক্তি হয়। এতে এয়ারটেবলের এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু নির্ধারণ করা হয় ১২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয় ৪ সেপ্টেম্বর। এয়ারটেবল মূলত তথ্য সংগঠিত করা, দলগত কাজ পরিচালনা ও কাজের প্রক্রিয়া সহজ করার সফটওয়্যার সরবরাহ করে। নতুন মালিকানায় প্রতিষ্ঠানটিকে ছোট দল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধাকে কেন্দ্র করে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজনেস ইনসাইডার জানিয়েছে। তবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দিতে রাজি হননি কোম্পানির মুখপাত্র। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বে এরিয়া নিউজ গ্রুপের হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার প্রযুক্তি খাতে ২০২৬ সালে ইতিমধ্যে ১৪ হাজারের বেশি চাকরি ছাঁটাই হয়েছে। এই সংখ্যা পুরো ২০২৫ সালের মোট ছাঁটাইকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি ওই অঞ্চলের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত হিসাব, শুধু এয়ারটেবলের ছাঁটাইয়ের সংখ্যা নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়ার্কডে আগামী ৩০ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার প্লেজ্যান্টনে তাদের প্রধান কার্যালয়ের ১৪২ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই অঞ্চলে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী কমানোর মধ্যেই এয়ারটেবলের নতুন ঘোষণা এল। তবে এয়ারটেবলের ক্ষেত্রে কোন বিভাগে কত পদ বাদ যাচ্ছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন
ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়ম আবার মাসিক পদ্ধতিতে ফেরাতে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে একবারের পরিবর্তে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এর অর্থ, আবার প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ খসড়াটি উপস্থাপন করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম গতিশীল করতে ভ্যাট আইনের ৬৪ ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের অর্থ আইনে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমার বিধান রাখা হয়। নতুন খসড়ায় সেই বিধান বদলে প্রতিটি কর মেয়াদের জন্য আলাদা রিটার্ন জমার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সময়সীমার ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দিতে পারবে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে মন্ত্রিসভার আগের দিনের সিদ্ধান্তটি প্রকাশ করেছে। এখনো অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদনের খবরই পাওয়া গেছে; নতুন নিয়ম কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ: ববি হাজ্জাজ
বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান