সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বড় সংঘা তের আশঙ্কায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ৯০ দিন স্বনির্ভর রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৬:৫৯
. ৯০ দিনের স্বনির্ভরতার প্রস্তুতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি
. ৯০ দিনের স্বনির্ভরতার প্রস্তুতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

বড় ধরনের যু দ্ধের সম্ভাবনা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে অন্তত ৯০ দিন বাইরের সহায়তা ছাড়াই সচল রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হলেও সামরিক কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যেই ‘ফোর্ট্রেস’ (FORTRESS) উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ৯০ দিনের এই সক্ষমতা সব প্রধান সামরিক ঘাঁটির জন্য চূড়ান্তভাবে বাধ্যতামূলক হয়েছে কি না, তা এখনো প্রকাশ্যে পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের পর্যালোচনা করা নথির বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য বড় সংঘা তে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বেসামরিক পরিষেবা অচল হয়ে পড়লেও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালু রাখাই ফোর্ট্রেস উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রচলিত বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শুধু ঘাঁটির আলো বা যন্ত্রপাতি নয়, সামরিক যোগাযোগ, পানি সরবরাহ, রসদ পরিবহন, উৎপাদনব্যবস্থা এবং কমান্ড পরিচালনাও ব্যাহত হতে পারে।


এ কারণে সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমানোর উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা, মাইক্রোগ্রিড এবং বহনযোগ্য পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহারের সম্ভাবনা। মাইক্রোগ্রিড এমন একটি বিদ্যুৎব্যবস্থা, যা প্রয়োজন হলে মূল বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও নিজস্ব ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখতে পারে।


পরিকল্পনাটি শুধু বিদ্যুতের নিশ্চয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাইরের সহায়তা না পেলেও সামরিক ঘাঁটিগুলো যেন পানি, জ্বালানি ও যোগাযোগের প্রয়োজন মেটাতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। কারণ এসব পরিষেবার কোনো একটি বন্ধ হয়ে গেলে সামরিক যানবাহন চালানো, তথ্য আদান-প্রদান, সরঞ্জাম পরিবহন এবং অন্যান্য জরুরি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।


ফোর্ট্রেস উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামরিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা। সম্ভাব্য সংঘা তে আন্তর্জাতিক সরবরাহপথ বন্ধ হয়ে গেলে যাতে জরুরি সামগ্রী দ্রুত ফুরিয়ে না যায়, সে জন্য গোলাবারুদ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।


কত পরিমাণ উপকরণ মজুত রাখতে হবে, তা নির্ভর করবে সংঘা তের সময় সেগুলো কত দ্রুত ব্যবহার হবে এবং নতুন সরবরাহ পেতে কত সময় লাগবে তার ওপর। অর্থাৎ, শুধু বড় মজুত গড়ে তোলাই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টিও পরিকল্পনার অংশ।


একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপকরণের জন্য একাধিক সরবরাহ ও উৎপাদনের পথ নিশ্চিত করতে চায় পেন্টাগন। কোনো একটি কারখানা, সরবরাহকারী বা উৎপাদনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লেও যাতে বিকল্প উৎস থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা যায়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের ক্ষেত্রে অন্তত দুটি যোগ্য সরবরাহ বা উৎপাদনপথ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।


যু দ্ধকালীন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বেসামরিক কারখানাগুলোকেও প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ‘সিভিল রিজার্ভ ম্যানুফ্যাকচারিং নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে সংকটের সময় কোন বেসরকারি কারখানাগুলো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে, তা চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


এ জন্য আগেই কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই, প্রযুক্তিগত মান নির্ধারণ, সাইবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা, চুক্তির শর্ত এবং উৎপাদন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য যাচাই করতে নিয়মিত পরীক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতির মহড়ার ব্যবস্থাও পরিকল্পনায় রয়েছে।


সামরিক যোগাযোগ, নেভিগেশন ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থার নিরাপত্তাও ফোর্ট্রেস উদ্যোগের আওতায় গুরুত্ব পাচ্ছে। জিপিএস সংকেত বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা মহাকাশভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কীভাবে সামরিক কার্যক্রম চালু রাখা যাবে, সে বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়ার কথা রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিতে এই উদ্যোগের গুরুত্ব হলো, সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী ও বহুমুখী সংঘা তের সময় একসঙ্গে একাধিক সংকট দেখা দিলেও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখার সক্ষমতা তৈরি করা। তবে পরিকল্পনার সব উপাদান বাস্তবায়িত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। আপাতত বিদ্যুৎ, সরবরাহ, উৎপাদন ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিকল্প সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপরই উদ্যোগটির মূল জোর।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি জব্দের ঘটনা বাড়ছে (ছবি: সম্পাদিত)
যুক্তরাষ্ট্রে ঋণদাতাদের বাড়ি দখল বেড়েছে ৪২ শতাংশ, চাপ বাড়লেও আতঙ্কিত হতে মানা বিশেষজ্ঞদের

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ঋণদাতাদের সম্পত্তি দখলে নেওয়ার ঘটনা এক বছরে ৪২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে দেশজুড়ে প্রায় ৫ হাজার ৮০০টি বাড়ি ঋণদাতাদের দখলে গেছে। একই সময়ে হাজার হাজার সম্পত্তিতে ফোরক্লোজার বা বন্ধকী ঋণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নথি জমা পড়েছে। এসব পরিসংখ্যান দেশটির আবাসন বাজারে আর্থিক চাপের ইঙ্গিত দিলেও পরিস্থিতিকে ২০০৮ সালের আবাসন সংকটের সঙ্গে তুলনা করতে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ হাজারের বেশি সম্পত্তিতে ফোরক্লোজার-সংক্রান্ত নথি জমা পড়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। তবে ফোরক্লোজার-সংক্রান্ত নথি জমা পড়া আর বাড়ি চূড়ান্তভাবে ঋণদাতার দখলে চলে যাওয়া এক বিষয় নয়। এই প্রক্রিয়ায় ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার নোটিশ, সম্পত্তি নিলামের উদ্যোগ এবং ঋণদাতার দখল নেওয়ার মতো বিভিন্ন ধাপ থাকতে পারে। ফলে মোট ফোরক্লোজার কার্যক্রমের বৃদ্ধি এবং চূড়ান্তভাবে জব্দ হওয়া বাড়ির সংখ্যা আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি। সোথেবিস ইন্টারন্যাশনাল রিয়েলটির ব্রোকার ও আবাসন বাজার বিশ্লেষক জেনা স্টাফারের মতে, বাড়ি দখলের হার ৪২ শতাংশ বেড়েছে শুনলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মনে হতে পারে। কিন্তু এই বৃদ্ধিকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে আগের বছরের পরিসংখ্যানও বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফোরক্লোজারের হার দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলক নিচু পর্যায়ে ছিল। সেই নিম্ন অবস্থান থেকে সংখ্যা বাড়লে শতকরা হিসাবে বৃদ্ধির হার অনেক বেশি দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ, বাড়ি জব্দের ঘটনা বাড়ছে—এটি বাস্তব উদ্বেগের বিষয়। তবে শুধু এক বছরের বৃদ্ধির হার দিয়ে পুরো আবাসন বাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতিও একই রকম নয়। ২০২৬ সালের আগস্টে দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ফোরক্লোজারের হার ছিল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেখানে প্রতি ১ হাজার ৫৪৭টি আবাসিক ইউনিটের মধ্যে একটিতে ফোরক্লোজার-সংক্রান্ত নথি জমা পড়েছে। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল নেভাডা। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডা, টেক্সাস ও মেরিল্যান্ড। বড় মহানগর এলাকাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কলাম্বিয়ায় ফোরক্লোজারের হার ছিল সর্বোচ্চ। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার পুন্টা গর্দা এবং দক্ষিণ ক্যারোলাইনার স্পার্টানবার্গ। অন্যদিকে, মোট কতটি বাড়ি ঋণদাতাদের দখলে গেছে, সেই হিসাবে টেক্সাস ছিল শীর্ষে। আগস্টে অঙ্গরাজ্যটিতে ১ হাজার ৮০০টির বেশি বাড়ি জব্দ করা হয়েছে। আবাসন বাজারে চাপের আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরিসংখ্যানে। মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসিক বন্ধকী ঋণের ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশের কিস্তি বকেয়া ছিল। অন্যদিকে, একই সময়ে ফোরক্লোজার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা ঋণের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ। গুরুতরভাবে বকেয়া ঋণের হারও বাড়ছে। এই শ্রেণিতে সাধারণত এমন ঋণ অন্তর্ভুক্ত হয়, যেগুলোর কিস্তি অন্তত ৯০ দিন ধরে পরিশোধ করা হয়নি অথবা যেগুলো ফোরক্লোজার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, কিছু বাড়ির মালিক আর্থিক চাপে পড়ছেন। তবে কিস্তি বকেয়া হলেই যে শেষ পর্যন্ত বাড়ি হারাতে হবে, তা নয়। রেট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বন্ধকী ঋণ বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট বেন কোহেন বলেছেন, বর্তমান আবাসন বাজারকে ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পরিস্থিতির সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, বর্তমানে ঋণ দেওয়ার নিয়ম আগের তুলনায় কঠোর। ফলে ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু সুরক্ষা রয়েছে। এ ছাড়া অনেক বাড়ির মালিকের সম্পত্তিতে উল্লেখযোগ্য ইকুইটি রয়েছে। অর্থাৎ, বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য থেকে বকেয়া ঋণ বাদ দিলে যে মূল্য অবশিষ্ট থাকে, সেটিই ইকুইটি। আর্থিক সংকটে পড়লে এই সম্পদ তাঁদের জন্য কিছুটা আর্থিক সুরক্ষা দিতে পারে। তবে সব বাড়ির মালিকের ক্ষেত্রে এই সুবিধা সমান নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা আবাসন বাজারে দাম বেশি থাকার সময় অথবা গত এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাড়ি কিনেছেন, তাঁরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। কারণ, অল্প সময়ে তাঁদের সম্পত্তিতে পর্যাপ্ত ইকুইটি তৈরি হওয়ার সুযোগ কম। পাশাপাশি বাড়ির বিমা, সম্পত্তি কর এবং দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে। কিস্তি পরিশোধে সমস্যার আশঙ্কা দেখা দিলে বাড়ির মালিকদের আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বেন কোহেন। তাঁর মতে, কিস্তি বকেয়া জমতে দেওয়ার আগে ঋণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। এতে ঋণগ্রহীতা নিজের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সম্ভাব্য সমাধান বা বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি জব্দের হার বৃদ্ধি এবং বন্ধকী ঋণের কিস্তি বকেয়া থাকার প্রবণতা নজরে রাখার মতো বিষয়। বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে ফোরক্লোজারের হার বেশি, সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ঋণব্যবস্থা ও বাড়ির মালিকদের সম্পদের অবস্থান ২০০৮ সালের পরিস্থিতি থেকে আলাদা। তাই বাড়ি জব্দের সংখ্যা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখলেও একে আগের মতো বড় আবাসন সংকটের নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৭:৩৯
. ৯০ দিনের স্বনির্ভরতার প্রস্তুতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

বড় সংঘা তের আশঙ্কায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ৯০ দিন স্বনির্ভর রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন

হিউস্টনে সেপ্টেম্বরে কমেছে ৭ হাজার ৩০০ চাকরি

টেক্সাসের হিউস্টনের শ্রমবাজারে হঠাৎ মন্দার সংকেত, এক মাসে কমেছে ৭ হাজার ৩০০ কর্মসংস্থান

নিউইয়র্ক সিটির ৩ হাজার সরকারি গাড়িতে যুক্ত হচ্ছে গতি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি

নিউইয়র্ক সিটির ৩ হাজার সরকারি গাড়িতে বসছে গতি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি, কমবে দ্রুতগতিতে চালানোর প্রবণতা

২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে আবেদন জমা দেওয়া জরুরি
গ্রিন কার্ডের আবেদনে বয়স ২১ হলেই বিপদ, সময়সীমা নিয়ে নতুন সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারী যেসব তরুণের বয়স ২১ বছরের কাছাকাছি, তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারীর ২১তম জন্মদিন শনিবার, রোববার বা সরকারি ছুটির দিনে পড়লেও আবেদনের সময়সীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী কর্মদিবস পর্যন্ত বাড়বে না। ফলে নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার শর্ত পূরণে সামান্য দেরিও অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।   গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নীতিগত নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন নিয়মটি ২৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে আবেদনের সাধারণ সময়সীমা এবং অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের তারিখের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে। এর ফলে সব ধরনের আবেদনের শেষ তারিখ ছুটির দিনে পড়লে বাড়তি সময় পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।   ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আবেদন জরুরি   পরিবারভিত্তিক কিছু অভিবাসন আবেদনে অন্তর্ভুক্ত সন্তান এবং বিশেষ অভিবাসী অপ্রাপ্তবয়স্ক (এসআইজে) শ্রেণিতে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতার শর্ত। বিশেষ করে এসআইজে শ্রেণিতে আবেদনকারীদের ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আবেদন জমা দিতে হয়।   আগের নীতিতে কিছু কাগজে জমা দেওয়া আবেদনের শেষ সময় আবেদনকারীর জন্মদিনে পড়লে এবং দিনটি সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটি হলে পরবর্তী কর্মদিবস পর্যন্ত সময় পাওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন নির্দেশনায় সেই সুবিধা সীমিত করা হয়েছে।   এখন কারও ২১তম জন্মদিন শনিবার, রোববার বা সরকারি ছুটির দিনে পড়লে পরের কর্মদিবসে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যাবে না। তাই যেসব অভিবাসন আবেদনে নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে আবেদন করা বাধ্যতামূলক, সেসব ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ।   তবে বয়সের হিসাব ও যোগ্যতার শর্ত সব ধরনের গ্রিন কার্ড আবেদনে এক নয়। তাই আবেদনকারীর অভিবাসন শ্রেণি এবং সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।   কোন ক্ষেত্রে বাড়তি সময় পাওয়া যেতে পারে   নতুন নিয়মে সব ধরনের সময়সীমার সুবিধা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের মধ্যে কোনো আবেদন বা জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলে এবং সেটি কাগজে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে, শেষ দিন শনিবার, রোববার বা সরকারি ছুটিতে পড়লে পরবর্তী কর্মদিবস পর্যন্ত সময় পাওয়া যেতে পারে।   কিন্তু বয়সের মতো যোগ্যতার শর্ত পূরণের নির্দিষ্ট তারিখকে সাধারণ সময়সীমার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ছুটির দিনের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। কারণ, অনলাইনে ছুটির দিনেও আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব।   এ কারণে আবেদনকারীদের বুঝতে হবে, তাঁদের ক্ষেত্রে সময়সীমাটি নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন গণনা করে নির্ধারণ করা হয়েছে, নাকি কোনো বয়স বা যোগ্যতার শর্তের সঙ্গে যুক্ত। এই পার্থক্যই ঠিক করবে, ছুটির দিনে শেষ তারিখ পড়লে বাড়তি সময় পাওয়ার সুযোগ আছে কি না।   এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্যও সতর্কতা   যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত এইচ-১বি ভিসাধারী এবং তাঁদের নিয়োগদাতাদেরও অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে আই-৯৪ নথিতে উল্লেখিত মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ গুরুত্বপূর্ণ।   এই তারিখ শনিবার, রোববার বা সরকারি ছুটিতে পড়লে পরবর্তী কর্মদিবসে আবেদন করলেই অবস্থানের মেয়াদ যথাযথভাবে বাড়ানো যাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। প্রয়োজনীয় মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে সময়মতো জমা দেওয়া উচিত। দেরিতে আবেদন করার পরিণতি নির্ভর করতে পারে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও অভিবাসন আইনের বিধানের ওপর।   আবেদনকারীদের করণীয়   নতুন নিয়মের কারণে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশী পরিবারগুলোকে বয়সসীমা ও আবেদনের শেষ তারিখ আগেভাগে যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারীর ২১তম জন্মদিন কাছে হলে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া জরুরি।   পাশাপাশি আবেদন অনলাইনে নাকি কাগজে জমা দিতে হবে, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কোন সময়সীমা প্রযোজ্য এবং ছুটির দিনে শেষ তারিখ পড়লে কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা থেকে যাচাই করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নির্দেশনার মূল কথা হলো, ছুটির দিন মানেই আবেদনের জন্য অতিরিক্ত সময় নয়। বিশেষ করে বয়সের ওপর নির্ভরশীল অভিবাসন সুবিধার ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করলে যোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই আবেদনকারীদের আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করা উচিত।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৫:১৩
সোশ্যাল সিকিউরিটির পেমেন্ট, সর্বোচ্চ ৫১৮১ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার আসছে সোশ্যাল সিকিউরিটির পেমেন্ট, সর্বোচ্চ ৫১৮১ ডলার

স্ন্যাপ ও মেডিকেইডের সুবিধা ধরে রাখতে নিউইয়র্ক সিটির নতুন ওয়েবপেজ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

স্ন্যাপ ও মেডিকেইড সুবিধা ধরে রাখতে নিউ ইয়র্ক সিটির নতুন উদ্যোগ, চালু হলো বিশেষ ওয়েবসাইট

উবার চালিয়ে প্রকৃত লাভ নির্ভর করে মোট আয়, কাজের সময় ও গাড়ির খরচের ওপর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্ক নাকি লস অ্যাঞ্জেলেস, উবার চালিয়ে কোথায় বেশি আয় হয়?

ডেট্রয়েটে যোগ্য বাড়ির মালিকদের সম্পত্তি কর শতভাগ পর্যন্ত মওকুফের সুযোগ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মিশিগানের ডেট্রয়েটে বাড়ির মালিকদের ১০০% পর্যন্ত কর মওকুফের সুযোগ, আবেদন শেষ ৬ নভেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে বাড়ির মালিকদের জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স শতভাগ পর্যন্ত মওকুফের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের যেসব পরিবার বাড়ির কর পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের জন্য এই সুবিধা চালু রেখেছে শহর কর্তৃপক্ষ। ডেট্রয়েটের Homeowners Property Exemption (HOPE) কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বাড়ির মালিকেরা আয় ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রপার্টি ট্যাক্স ছাড় পেতে পারেন। ২০২৬ সালের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৬ নভেম্বর, শুক্রবার, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট।   ডেট্রয়েট সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো আর্থিক সমস্যায় থাকা বাড়ির মালিকদের করের চাপ কমানো এবং কর বকেয়ার কারণে বাড়ি হারানোর ঝুঁকি হ্রাস করা। আবেদনকারীর পরিবারের আয়, সম্পদ, বাড়ির মালিকানা এবং বসবাসের তথ্য যাচাই করে কর মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শহরের সব বাড়ির মালিক এই সুবিধা পাবেন না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে হবে।   ২০২৬ সালের নির্ধারিত আয়ের সীমা অনুযায়ী, এক সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ২১ হাজার ৫৯৭ ডলার হলে শতভাগ কর মওকুফের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে এই সীমা ২৬ হাজার ১৫ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের জন্য ৩৩ হাজার ৪৩৬ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের সীমা পরিবর্তিত হয়। তবে শুধু আয়ের শর্ত পূরণ করলেই সুবিধা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীর অন্যান্য আর্থিক তথ্যও যাচাই করা হবে।   এই কর্মসূচির সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে ডেট্রয়েট শহরের বাড়িটির মালিক হতে হবে এবং সেটি তাঁর প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ শুধু বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কেনা কিংবা অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া বাড়ির জন্য সাধারণভাবে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের আয় ও সম্পদের তথ্য জমা দিতে হবে। শহর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সম্পদের সীমাও পূরণ করতে হবে। ফলে আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনের জন্য বাড়ির মালিকানার প্রমাণ, সরকারি ফটো আইডি, পরিবারের আয়ের বিবরণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে। আয়ের প্রমাণ হিসেবে পে-স্টাব, ডব্লিউ-২, সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট বা পেনশনের কাগজপত্র গ্রহণ করা হতে পারে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। যাঁরা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন না, তাঁদের জন্য বিকল্প নথি বা ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা রয়েছে।   আগ্রহী বাড়ির মালিকেরা ডেট্রয়েট সিটির সরকারি HOPE কর্মসূচির মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। সেখানে আবেদনপত্র পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। যাঁদের অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হয়, তাঁরা শহর কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কমিউনিটি সহায়তা কেন্দ্রগুলোর সহযোগিতা নিতে পারেন। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা জরুরি।   শুধু চলতি বছরের কর মওকুফ নয়, পুরোনো বকেয়া প্রপার্টি ট্যাক্সের ক্ষেত্রেও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। HOPE কর্মসূচিতে অনুমোদিত বাড়ির মালিকেরা ওয়েইন কাউন্টির Pay As You Stay (PAYS) কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হতে পারেন। এই কর্মসূচিতে যোগ্য ব্যক্তিদের বকেয়া করের পরিমাণ কমানো এবং নির্দিষ্ট শর্তে সুদমুক্ত পেমেন্ট প্ল্যানের সুবিধা দেওয়া হয়। তবে পুরোনো সব বকেয়া কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ হবে না। এ জন্য আলাদা যোগ্যতা ও অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।   ডেট্রয়েট সিটি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৫ হাজারের বেশি বাড়ির মালিক HOPE কর্মসূচির আওতায় কর ছাড়ের অনুমোদন পেয়েছিলেন। শহরের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে নিজ বাড়িতে বসবাস অব্যাহত রাখতে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে যেসব পরিবার সীমিত আয়ের কারণে নিয়মিত প্রপার্টি ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারছে না, তাদের জন্য এই কর্মসূচি আর্থিক চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে।   তবে শতভাগ প্রপার্টি ট্যাক্স মওকুফের অনুমোদন পেলেও বাড়ির মালিকদের সব ধরনের ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো কিছু নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। পাশাপাশি অধিকাংশ আবেদনকারীকে প্রতিবছর নতুন করে আবেদন করতে হয়। ফলে এক বছর কর মওকুফের সুবিধা পেলেই পরবর্তী বছরগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   মিশিগানের ডেট্রয়েটে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির বাড়ির মালিকদের জন্যও এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে এবং যাঁরা নিজের বাড়িতে বসবাস করছেন, তাঁরা যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন। তবে ডেট্রয়েট শহরের বাইরের বাসিন্দাদের জন্য এই নির্দিষ্ট কর্মসূচি প্রযোজ্য নয়। আগ্রহীদের ৬ নভেম্বর বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের আগেই আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ২৩:১৯
কৃষ্ণাঙ্গদের গ্রেপ্তারে অঘোষিত প্রতিযোগিতা ও বর্ণবাদী চ্যাটের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় ৬ পুলিশ কর্মকর্তার পদত্যাগ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কৃষ্ণাঙ্গদের গ্রেপ্তারের গোপন প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ পুলিশ কর্মকর্তার পদত্যাগ

ফুটবল খেলায় তিন বছরের শিশুর পারদর্শিতা ঘিরে ফ্লোরিডায় বিতর্ক, মাঠে ডাকা হয় পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় ৩ বছরের খুদে ফুটবলারের একের পর এক গোল, বিরোধের জেরে মাঠে ডাকা হলো পুলিশ

ব্রঙ্কসে সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসার লটারি, ভাড়া মাসে ৭৩২ ডলার থেকে শুরু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে মাসে ৭৩২ ডলারে বাসা ভাড়ার সুযোগ, চলছে আবাসন লটারি

0 Comments