সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
তথ্যপ্রযুক্তি

স্টারলিংক চালুতে ভারতে বাধা, ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে দায়ী করলেন ইলন মাস্ক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৬:৪৪
ভারতে স্টারলিংক চালু নিয়ে ইলন মাস্কের অভিযোগ
ভারতে স্টারলিংক চালু নিয়ে ইলন মাস্কের অভিযোগ

ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। দেশটির কিছু ‘ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠী’ নিজেদের একচেটিয়া প্রভাব ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি মাস্ক।

 

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার স্বার্থে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী স্টারলিংককে আটকে দিচ্ছে। তিনি লেখেন, কারা এর সঙ্গে জড়িত তা সহজেই অনুমান করা যায়। একই পোস্টে তিনি এই বাধাকে ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে ‘অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেন।

 

মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পেলেও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দসহ পরবর্তী ধাপের অনুমোদন শেষ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে স্টারলিংকের ভারতীয় কার্যক্রম।

 

ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে বর্তমানে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের মতো বড় কোম্পানির শক্ত অবস্থান রয়েছে। মাস্কের বক্তব্যে কারও নাম না থাকলেও তাঁর মন্তব্যকে দেশটির বড় টেলিযোগাযোগ ব্যবসায়ীদের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো মাস্কের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

মাস্কের অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার ভারতের সরকার এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামো সবার জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যহীন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য লাইসেন্স পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানকেই একই ধরনের নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।

 

সরকার জানিয়েছে, ভারতে বর্তমানে তিনটি বৈশ্বিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। তিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে এবং তারা বর্তমানে মোটামুটি একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

 

ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে। তাই নিয়ন্ত্রক কাঠামো কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে লক্ষ্য করে তৈরি বা প্রয়োগ করা হচ্ছে—এমন দাবি ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।

 

অন্যদিকে, স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার সম্প্রতি জানান, ভারতীয় বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কোম্পানিটি বিনিয়োগ করেছে এবং সরকারি অনুমোদন পেলেই সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

 

ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে নিরাপত্তা, স্পেকট্রাম এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্ক কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলবে, তা নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

 

ভারতের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টারলিংকও দাবি করে আসছে, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার অবকাঠামো পৌঁছানো কঠিন এমন এলাকাগুলোতে তাদের সেবা ইন্টারনেট সংযোগ বাড়াতে পারে।

 

তবে ভারতের বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাও জড়িত। রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল ইতোমধ্যে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। একই সময়ে তারাও স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

ফলে ইলন মাস্কের অভিযোগ এবং ভারতের সরকারের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে দেশটির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে মাস্ক দ্রুত স্টারলিংক চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে ভারত সরকার বলছে, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করেই সব প্রতিষ্ঠানকে সেবা চালুর সুযোগ দেওয়া হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
ভারতে স্টারলিংক চালু নিয়ে ইলন মাস্কের অভিযোগ
স্টারলিংক চালুতে ভারতে বাধা, ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে দায়ী করলেন ইলন মাস্ক

ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। দেশটির কিছু ‘ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠী’ নিজেদের একচেটিয়া প্রভাব ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি মাস্ক।   বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার স্বার্থে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী স্টারলিংককে আটকে দিচ্ছে। তিনি লেখেন, কারা এর সঙ্গে জড়িত তা সহজেই অনুমান করা যায়। একই পোস্টে তিনি এই বাধাকে ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে ‘অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেন।   মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পেলেও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দসহ পরবর্তী ধাপের অনুমোদন শেষ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে স্টারলিংকের ভারতীয় কার্যক্রম।   ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে বর্তমানে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের মতো বড় কোম্পানির শক্ত অবস্থান রয়েছে। মাস্কের বক্তব্যে কারও নাম না থাকলেও তাঁর মন্তব্যকে দেশটির বড় টেলিযোগাযোগ ব্যবসায়ীদের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো মাস্কের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   মাস্কের অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার ভারতের সরকার এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামো সবার জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যহীন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য লাইসেন্স পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানকেই একই ধরনের নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।   সরকার জানিয়েছে, ভারতে বর্তমানে তিনটি বৈশ্বিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। তিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে এবং তারা বর্তমানে মোটামুটি একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।   ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে। তাই নিয়ন্ত্রক কাঠামো কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে লক্ষ্য করে তৈরি বা প্রয়োগ করা হচ্ছে—এমন দাবি ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।   অন্যদিকে, স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার সম্প্রতি জানান, ভারতীয় বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কোম্পানিটি বিনিয়োগ করেছে এবং সরকারি অনুমোদন পেলেই সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।   ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে নিরাপত্তা, স্পেকট্রাম এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্ক কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলবে, তা নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   ভারতের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টারলিংকও দাবি করে আসছে, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার অবকাঠামো পৌঁছানো কঠিন এমন এলাকাগুলোতে তাদের সেবা ইন্টারনেট সংযোগ বাড়াতে পারে।   তবে ভারতের বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাও জড়িত। রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল ইতোমধ্যে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। একই সময়ে তারাও স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ফলে ইলন মাস্কের অভিযোগ এবং ভারতের সরকারের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে দেশটির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে মাস্ক দ্রুত স্টারলিংক চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে ভারত সরকার বলছে, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করেই সব প্রতিষ্ঠানকে সেবা চালুর সুযোগ দেওয়া হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৬:৪৪
২৫ বছর বয়সী আমান সাঙ্গারের এআই প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করেছে স্পেসএক্স

২৫ বছরেই বিলিয়নিয়ার ভারতীয় তরুণ! তার ৬ হাজার কোটি ডলারের এআই প্রতিষ্ঠান কিনল স্পেসএক্স

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে এটিঅ্যান্ডটি সংযোগ সমস্যা

আইফোনের নতুন মডেল কিনেছেন, কিন্তু শিগগিরই বদলাতে হতে পারে ফোন!

ফোনে অচেনা মেসেজ? এক ক্লিকেই বিপদ—সতর্ক থাকুন, অন্যকেও সতর্ক করুন

ফোনে এই মেসেজ এলেই সাবধান! মুহূর্তেই ফাঁ দে ফেলছে প্র তা রকরা

দীর্ঘ ২১৭ বছর পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পাঠোদ্ধার হওয়া নেপোলিয়ন বোনাপার্টের লেখা সেই সাংকেতিক চিঠি। ছবি: সংগৃহীত
২১৭ বছর পর নেপোলিয়নের রহস্যময় চিঠির গোপন সংকেত উন্মোচন করল এআই

দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রহস্য হয়ে থাকা ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি সাংকেতিক চিঠির পাঠোদ্ধার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়। ১৮০৯ সালে লেখা চিঠিটির মূল বার্তা ২১৭ বছর পর উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের প্রকৌশলী কার্টার চার্চ।   চিঠিটি লেখা হয়েছিল ইউরোপে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার যুদ্ধের সময়। ১৮০৯ সালের মার্চে নেপোলিয়নের সৎপুত্র ও তৎকালীন ইতালির ভাইসরয় ইউজিন দ্য বোহারনে ফরাসি জেনারেল অগুস্ত দ্য মারমোঁকে চিঠিটি পাঠান। সে সময় মারমোঁর সেনারা অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের অপর পারে ডালমাটিয়া অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন এবং অন্যান্য ফরাসি ও মিত্রবাহিনী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন।   চিঠিটির প্রথম লাইন ছিল স্বাভাবিক ফরাসি ভাষায়। এরপরের ২৪টি লাইনে দেখা যায় অক্ষর, সংখ্যা ও হাতে আঁকা বিভিন্ন প্রতীকের জটিল সমন্বয়। ধারণা করা হয়, তৎকালীন সময়ে এই সংকেত পড়ার জন্য একটি আলাদা চাবি বা নিয়মাবলি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পদ্ধতি হারিয়ে যায়। ফলে চিঠির বাকি অংশ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অপাঠ্য থেকে যায়।   কার্টার চার্চ সম্প্রতি চিঠিটির একটি ছবি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পুরো সংকেত বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেন। তার দাবি, এআইয়ের সহায়তায় পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, কাজটির সবচেয়ে কঠিন অংশ শুধু সংকেত ভাঙা ছিল না। বরং ছবির প্রতীকগুলো শনাক্ত করা, একই প্রতীকের ভিন্ন হাতের লেখার ধরন মিলিয়ে দেখা, সেগুলো তালিকাভুক্ত করা এবং পরে অনুবাদ করে অর্থ বের করাও ছিল বড় কাজ।   চার্চের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত ছবিটির আকার ছিল ১ হাজার ২০২ বাই ১ হাজার ৮৩৬ পিক্সেল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রথমে ছবিটিকে সারিতে ভাগ করে প্রতীকগুলো শনাক্ত করে। এরপর হাতে আঁকা প্রায় ১৭৫টি আলাদা চিহ্নের মধ্যে কোনগুলো একই প্রতীকের ভিন্ন রূপ, তা নির্ধারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মূল সংকেত পাঠোদ্ধারের কাজ। পাঠোদ্ধারের পর জানা যায়, চিঠিতে মূলত যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছিল। নেপোলিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে থাকা ফরাসি ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে মারমোঁকে জানাচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে থাকা মারমোঁকে মনোবল না হারানোর এবং সীমিতসংখ্যক শত্রুসেনা দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।   চিঠিতে নেপোলিয়ন লিখেছিলেন, রুশ বাহিনী অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছে এবং ফ্রিউলি অঞ্চলে ফরাসি বাহিনীর সংখ্যা তখন প্রায় ৮০ হাজার। ডালমাটিয়ায় থাকা সেনাদের সঙ্গে পেছনের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত রিজার্ভ বাহিনী যোগ করলে অস্ট্রিয়া একসঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণের মুখে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়া পরাজয়ের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। মারমোঁকে নেপোলিয়ন আরও নির্দেশ দেন, অগ্রসর হওয়ার আদেশ পাওয়ার পর যেন তিনি কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সেনাদল বা অনিয়মিতভাবে জড়ো হওয়া লোকজনের কারণে ভীত না হন। চিঠির শেষদিকে তিনি মারমোঁর কাছ থেকে খবর পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান।   চিঠিটির সামরিক প্রেক্ষাপটও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৮০৯ সালের মে মাসে ভিয়েনার কাছে অ্যাসপার্ন-এসলিংয়ের যুদ্ধে নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। যুদ্ধটিতে উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি হয় এবং প্রায় ২৩ হাজার ফরাসি সেনা নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য ঐতিহাসিক নথিতে পাওয়া যায়। তবে পরাজয়ের পর নেপোলিয়ন দ্রুত সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। একই বছরের জুলাইয়ে ওয়াগ্রামের যুদ্ধে তিনি আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীকে পরাজিত করেন। ওই বিজয়ের পর অস্ট্রিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে যেতে বাধ্য হয় এবং ফ্রান্সবিরোধী পঞ্চম জোট কার্যত ভেঙে পড়ে।   চিঠির সংকেত পাঠোদ্ধারকারী কার্টার চার্চ অবশ্য মনে করেন, সংকেতটি নিজে খুব জটিল ছিল না। তার মতে, পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম পেলে পেশাদার সংকেত বিশ্লেষকেরাও এটি সমাধান করতে পারতেন। তবে পুরো কাজটির জন্য ইতিহাস, পুরোনো হাতের লেখা শনাক্তকরণ, প্রতীক বিশ্লেষণ, ভাষা ও সংকেতবিদ্যার মতো একাধিক ক্ষেত্রের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই বহুমাত্রিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পেরেছে বলেই তার দাবি।   এই ঘটনা ইতিহাসের পুরোনো নথি পাঠোদ্ধারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে এমন নথি, যেখানে পুরোনো হাতের লেখা, অস্পষ্ট প্রতীক ও হারিয়ে যাওয়া সংকেত পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণে এ ধরনের প্রযুক্তি গবেষকদের সময় কমিয়ে দিতে পারে। তবে ঐতিহাসিক নথির ক্ষেত্রে এআইয়ের পাঠোদ্ধারকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞদের যাচাই প্রয়োজন বলেও মনে করেন গবেষকেরা।   কার্টার চার্চের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের কাজের বড় সম্ভাবনা রয়েছে এমন অনেক ঐতিহাসিক সমস্যার ক্ষেত্রে, যেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও জনবল সাধারণত গবেষকদের হাতে থাকে না। নেপোলিয়নের এই চিঠির পাঠোদ্ধার সেই সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।   সূত্র: কার্টার চার্চের গবেষণা প্রতিবেদন, নিউইয়র্ক পোস্ট।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ২১:২৪
বাংলাদেশের মোবাইলের গ্রাহক ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।

২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বন্ধ হতে পারে ২জি, বদলে যাবে মোবাইল ব্যবহারের চিত্র

গিটারকে পেছনের যাত্রী ভেবে ৫০০ রুপির চালান দিল এআই ক্যামেরা

গিটারকে যাত্রী ভেবে বাইকারকে জরিমানা, এআই ক্যামেরার কাণ্ডে হতবাক যুবক

অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

রাতে ফোন চার্জে রাখলে সবচেয়ে বড় যে ভুলটি এড়িয়ে চলতে হবে

চ্যাটজিপিটির নতুন প্ল্যান মাসে ৫০০ ডলার, বদলাচ্ছে ২০০ ডলারের সুবিধাও
চ্যাটজিপিটির নতুন প্ল্যান মাসে ৫০০ ডলার, বদলাচ্ছে ২০০ ডলারের সুবিধাও

চ্যাটজিপিটির সবচেয়ে বেশি ব্যবহারসীমার নতুন প্ল্যান ‘প্রো ৫০০’ চালু করেছে ওপেনএআই। মাসে ৫০০ ডলারের এই প্ল্যানে চ্যাটজিপিটি প্লাসের তুলনায় ২৫ গুণ ব্যবহারসীমা এবং ‘আলট্রাফাস্ট’ সুবিধা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে মাসে ২০০ ডলারের প্রো প্ল্যানে নতুন গ্রাহক নেওয়া আবার শুরু হয়েছে, তবে তাঁদের জন্য আগের তুলনায় কম ব্যবহারসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ডেভডে সম্মেলনে নতুন প্ল্যানের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।   ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গ্রাহকদের জন্য এখন মাসে ১০০, ২০০ ও ৫০০ ডলারের তিনটি প্রো প্ল্যান রয়েছে। তিনটিতেই প্রো মডেল, কোডেক্স, ডিপ রিসার্চ, ছবি তৈরি ও ফাইল আপলোডের মতো সুবিধা আছে। তবে সবচেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্ত ব্যবহারসীমা প্রো ৫০০-তে। ব্যক্তিগত প্রো প্ল্যানগুলোর মধ্যে আলট্রাফাস্টও শুধু এটিতেই পাওয়া যাচ্ছে।    আলট্রাফাস্ট দিয়ে জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক ও কোডেক্সে ব্যবহার করা যায়। কোডেক্সে এই মোডে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৩০০ টোকেন তৈরি হতে পারে বলে ওপেনএআইয়ের দাবি, যা সাধারণ মোডের তুলনায় সর্বোচ্চ আট গুণ দ্রুত। টোকেন হলো এআইয়ের লেখা প্রক্রিয়া ও তৈরির একক। এই গতি সব ধরনের কাজ আট গুণ আগে শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নয়। পাশাপাশি আলট্রাফাস্ট চালালে প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত ব্যবহারসীমাও সাধারণ মোডের তুলনায় আট গুণ হারে খরচ হয়।    নতুন প্ল্যানের পাশাপাশি ২০০ ডলারের গ্রাহকদের জন্য পরিবর্তনটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিজনেস ইনসাইডারের হিসাবে, নতুন প্রো ২০০ প্ল্যানে ওয়ার্ক ও কোডেক্সের ব্যবহারসীমা প্লাসের ২০ গুণ থেকে কমে ১০ গুণ হচ্ছে। চ্যাটে জিপিটি-৬ প্রো ব্যবহারের সীমা সপ্তাহে ২০০ বার থেকে ১০০ বার হবে। ওপেনএআই তার সহায়তা পাতায় কম ব্যবহারসীমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে মাসিক মূল্য ২০০ ডলারই রেখেছে।    যোগ্য পুরোনো প্রো ২০০ গ্রাহকেরা তাঁদের আগের ব্যবহারসীমা ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবেন। এরপর নতুন সীমা কার্যকর হবে; যাঁদের ওপর পরিবর্তনটি প্রযোজ্য, তাঁদের ইমেইলে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। পুরোনো সীমা সাময়িকভাবে বহাল থাকলেও তাঁরা আলট্রাফাস্ট পাবেন না। প্রো ১০০ বা প্রো ২০০ গ্রাহকেরা অতিরিক্ত ক্রেডিট কিনেও আপাতত ওই সুবিধা চালু করতে পারবেন না।    বেশি খরচের প্ল্যানটির লক্ষ্য মূলত নিয়মিত বড় গবেষণা, বিশ্লেষণ ও কোডিংয়ের কাজে ওয়ার্ক ও কোডেক্স ব্যবহারকারীরা। তবে ৫০০ ডলার দিলেই সব সুবিধা সীমাহীন হয়ে যায় না। কাজের ধরন, ব্যবহৃত মডেল ও সেটিংস অনুযায়ী ব্যবহারসীমা কত দ্রুত শেষ হবে, তা বদলায়। গ্রাহকেরা অ্যাকাউন্টের ‘ইউসেজ’ অংশে অবশিষ্ট সীমা ও তা পুনরায় চালু হওয়ার সময় দেখতে পারবেন। 

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২১:৫৫
কেনার কয়েক সপ্তাহেই রং বদলাচ্ছে ১,১৯৯ ডলারের নতুন আইফোন

কেনার কয়েক সপ্তাহেই রং বদলাচ্ছে ১,১৯৯ ডলারের নতুন আইফোন, টাকা ফেরত চাইছেন ক্রেতারা

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ডেটায় এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় জবাবদিহির মুখে স্যাম অল্টম্যান

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ডেটায় এআই এজেন্টের অনুপ্রবেশ, জবাব দিতে সিনেটে স্যাম অল্টম্যান

সান ফ্রান্সিসকোতে ঘর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হিউম্যানয়েড রোবট

কল্পনা এখন বাস্তব, সান ফ্রান্সিসকোতে ঘর পরিষ্কারে এবার রোবটের নতুন সেবা

0 Comments