কানাডায় মুখের ওপর বাদুড় বসায় জলাতঙ্কে ১১ বছরের শিশুর করুণ মৃত্যু
কানাডার ওন্টারিওতে মুখের ওপর সামান্য সময়ের জন্য একটি বাদুড় এসে বসার পর জলাতঙ্কে (রেবিস) আক্রান্ত হয়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। অতি সম্প্রতি ‘কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল’ (CMAJ)-এ এই দুঃখজনক ঘটনার বিস্তারিত কেস স্টাডি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শরীরে কোনো কামড় বা আঁচড়ের দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকলেও বাদুড়ের সংস্পর্শে আসার সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা না নেওয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
মেডিকেল জার্নালটির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বিগত ২০২৪ সালের হলেও সম্প্রতি এর গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। ওন্টারিওর উত্তর অঞ্চলের একটি কটেজে পরিবারের সাথে বেড়াতে গিয়েছিল সম্পূর্ণ সুস্থ ওই শিশুটি। এক রাতে ঘুমানোর সময় হঠাৎ সে জেগে দেখে, একটি বাদুড় তার নাক ও মুখের ওপর বসে আছে। সকালে উঠে শরীরে বা মুখে কোনো ধরনের কামড় কিংবা আঁচড়ের দাগ না পাওয়ায় পরিবারটি তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি এবং কোনো চিকিৎসকের কাছে যায়নি।
এই ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর শিশুটির মুখ অবশ হয়ে যাওয়া, খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া এবং বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে থাকে। প্রথমে চিকিৎসকেরা তাকে ‘বেলস পালসি’ এবং পরবর্তীতে ‘হারপিস’ রোগে আক্রান্ত মনে করে চিকিৎসা শুরু করেন। তবে শেষ পর্যায়ে এসে চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন যে শিশুটি মূলত জলাতঙ্কে আক্রান্ত। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তির ১৭ দিন পর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, ওন্টারিওতে ১৯৬৭ সালের পর এটিই স্থানীয়ভাবে বাদুড় থেকে মানুষের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ঘটনা। কানাডায় মানুষের জলাতঙ্ক হওয়া অত্যন্ত বিরল, ১৯২৪ সালের পর দেশটিতে মাত্র ২৮ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর আমেরিকায় মানুষের জলাতঙ্ক ছড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাদুড়। বাদুড়ের কামড় বা আঁচড় এত সূক্ষ্ম ও ছোট হয় যে তা খালি চোখে দেখা যায় না এবং মানুষ বুঝতেও পারে না।
চিকিৎসকেরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, বাদুড়ের সাথে যে কোনো ধরনের সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ বা টাচ হওয়ার সাথে সাথেই অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে এবং ‘পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস’ (PEP) বা জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা নিতে হবে। লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগে এই টিকা নিলে ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। তবে একবার লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে গেলে এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় শতভাগ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreচীনের চাং’ই-৮ অভিযানের সঙ্গে ২০২৯ সালে নিজেদের প্রথম চন্দ্র রোভার ‘জিন্নাহ-১’ চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে পাকিস্তান। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো গত ১৩ আগস্ট রোভারটির নাম ঘোষণার সময় এই সময়সূচি জানায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে। পাকিস্তানে তৈরি রোভারটিতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিভিন্ন যন্ত্র থাকবে। এগুলোর মাধ্যমে চাঁদের প্লাজমা ও বিকিরণ পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, ভূপ্রকৃতির মানচিত্র তৈরি এবং ভবিষ্যৎ চন্দ্র গবেষণার জন্য পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির প্রস্তুতিতে এসব গবেষণা সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সুপারকো। রোভারটির নাম নির্ধারণে দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। চার হাজারের বেশি প্রস্তাব থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামে ‘জিন্নাহ-১’ নামটি বেছে নেওয়া হয়। সাতজন অংশগ্রহণকারী একই নাম প্রস্তাব করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে বাহাওয়ালনগরের ১৭ বছর বয়সী তাইয়াব করিম খানকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। নাম ঘোষণার অনুষ্ঠানে সুপারকোর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ খান একে পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের চন্দ্র অনুসন্ধানে সহযোগিতা আগে থেকেই রয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে চাং’ই-৬ অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ‘আইকিউব-কামার’ স্যাটেলাইট চন্দ্রকক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল। এবার জিন্নাহ-১-এর মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠে গবেষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। সুপারকোর ওয়েবসাইটে থাকা আগের কর্মসূচির বিবরণে ২০২৮ সালের উল্লেখ থাকলেও ১৩ আগস্টের নাম ঘোষণায় উৎক্ষেপণের পরিকল্পিত বছর বলা হয়েছে ২০২৯। সেই ঘোষণা অনুযায়ী জিন্নাহ-১ এখন ভবিষ্যৎ অভিযানের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে।
মাদুরোকে ধরার আগে এআইয়ের সহযোগীতা নিলেন ট্রাম্প, ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ফাঁস!
চীনের বাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা, ছয় মাসে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার
চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ ডাকছেন ৭৭ বছরের ভারতীয় ব্যবসায়ী, মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল তাঁর কাণ্ড
ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ডে সড়ক থেকে গাড়ি ওয়্যার নদীতে পড়ে দুই কিশোর ও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওয়্যারমাউথ ব্রিজের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নর্থামব্রিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন জ্যাকসন ডিউক, ১৭, লুক এথারিজ, ১৬, ও জারা শ, ১৬। গাড়িতে থাকা আরেক কিশোর নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার কিছু আগে প্যানস ব্যাংক এলাকায় একটি কালো অডি এ৩ সড়ক থেকে নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর আসে। বড় পরিসরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর রাতে তিনজনের মরদেহ পানি থেকে উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যাওয়া ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার আঘাত গুরুতর ছিল না। বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ হওয়ার সন্দেহে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্ত চলাকালে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে আইটিভি নিউজ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার সময় কে গাড়ি চালাচ্ছিল, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে অন্য কোনো গাড়ি জড়িত ছিল বলে মনে করছে না পুলিশ। জ্যাকসন ও লুক সান্ডারল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা। জারা হাউটন লি স্প্রিং এলাকার বাসিন্দা ছিল। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকতে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা কাজ করছেন। জারার পরিবার এক বিবৃতিতে মেয়ের প্রাণবন্ত স্বভাব, হাসি এবং পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা স্মরণ করেছে। এই কঠিন সময়ে সহমর্মিতা জানানো সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের যত্নের কথাও উল্লেখ করেছে পরিবার। দুর্ঘটনার পরদিন পুলিশ ডুবুরিরা গাড়িটিতে উদ্ধার সরঞ্জাম সংযুক্ত করেন। পরে ক্রেন দিয়ে সেটি নদী থেকে তোলা হয়। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে বা স্থানীয়ভাবে অনুমাননির্ভর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
পেশাগত অসদাচরণ, চিকিৎসাসেবায় ঘাটতি ও তথ্য গোপনের দায়ে বৃটেনে ডা. নাজিবের নিবন্ধন বাতিল
ভারতের নিহতের দাবি চ্যালেঞ্জ, সাবেক সেনাকে সংবাদ সম্মেলনে আনল পাকিস্তান
শিক্ষা ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে চিলিতে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
সৌদি আরবের মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে চালানো ওই হামলায় কেন্দ্রটির একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্কে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে জোট। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি জানান, হামলাটি মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১১ মিনিটে ঘটে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, সামরিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হুতিদের হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রটি একটি বেসামরিক স্থাপনা এবং মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সচল ছিল। ফলে মদিনার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে জোট জানিয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতি পক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের পরিচালিত সাবা বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে হুতিদের একটি সামরিক সূত্র মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে। ওই সূত্রের বক্তব্য, মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে সৌদি পক্ষের ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন এই অভিযোগ আনা হয়েছে। মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনাকে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি বলেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থাপনা এবং সেখানে আসা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে। তিনি হামলাটিকে দুই পবিত্র মসজিদকে লক্ষ্য করার হুতিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। ঘটনার পর সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়েছে কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত হামলার নিন্দা জানিয়েছে। জর্ডানও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদও মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘটনায় সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের দাবি ছিল, নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। হুতি পক্ষ তখনও মক্কা কিংবা অন্য কোনো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। মদিনার এই ঘটনার ক্ষেত্রেও হামলার দায় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তদন্ত ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষার ভিত্তিতে হুতিদের দায়ী করেছে। অন্যদিকে হুতি পক্ষ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই হামলার দায়ের বিষয়টি বর্তমানে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ এবং হুতিদের অস্বীকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরীর সঙ্গে অনলাইন প্রেম, আসল বয়স-পরিচয় লুকিয়ে ভারত থেকে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবক
মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের