আন্তর্জাতিক

মুম্বাইয়ে অতিভারী বৃষ্টির রেড অ্যালার্ট জারি করে নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ১২:৪২
মুম্বাইয়ের মাটুঙ্গায় ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধ সড়কে পথচারীদের দুর্ভোগ | ছবি: পিটিআই
মুম্বাইয়ের মাটুঙ্গায় ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধ সড়কে পথচারীদের দুর্ভোগ | ছবি: পিটিআই

ভারতের বাণিজ্যনগরী মুম্বাই ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে রাতভর রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাতের পর আবহাওয়া অধিদপ্তর রবিবার সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা বা রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। আজ কিছুটা স্বস্তি মিললেও আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে অতিভারী থেকে চরম বিপর্যয়কর বৃষ্টিপাত হতে পারে।

 

এই চরম আবহাওয়ার পূর্বাভাস মাথায় রেখে বৃহন্মুম্বাই পৌর কর্পোরেশন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সেই সাথে শহর ও শহরতলিতে ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

 

রবিবার সকাল থেকে বাস এবং মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও শহরের প্রধান গণপরিবহন লোকাল ট্রেনগুলো বেশ দেরিতে চলাচল করছে। নিচু এলাকা এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। কারণ রবিবার বিকেলে এবং সোমবার ভোরে সমুদ্রের জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উঁচুতে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বিগত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ২০০ মিলিমিটার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শহরের প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি বেশ কিছু আবাসিক এলাকাও এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে।

 

এর আগে শনিবারের প্রলয়ংকরী বৃষ্টিতে মুম্বাইয়ের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়, যার ফলে সড়ক ধস, গাছ উপড়ে পড়া এবং বাড়ি ভেঙে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে। রেললাইন পানিতে ডুবে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুম্বাইয়ের পাশাপাশি থানে, পালঘর এবং পুনে অঞ্চলেও ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের কারণে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘একক নিয়ন্ত্রণের’ কৌশল মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক মহল

কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের ‘একক নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের এই প্রধান ধমনীতে তেহরান এমন এক ‘নতুন স্বাভাবিকতা’ (নিউ নরমাল) দাঁড় করাতে চাইছে, যা ভবিষ্যতে তাদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব নিশ্চিত করবে। তবে সামরিক ও সামুদ্রিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যান্য দেশ ইরানের এই একাধিপত্য বিস্তারের কৌশল কোনোভাবেই মেনে নেবে না।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক ও সামুদ্রিক বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রো হুদিস্তানু বিষয়টি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ইরান নিজেকে হরমুজ প্রণালির প্রধান তদারককারী বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে জাহির করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা এই সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় এবং তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো বর্তমান যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা দ্রুত কাটিয়ে উঠে বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা।   মূলত এই অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এক ধরনের ভূ-রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চলমান সমঝোতা স্মারকগুলোর সফল বাস্তবায়ন এবং একটি স্থায়ী চুক্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং জ্বালানি বাজারকে স্বাভাবিক করতে এ ধরনের চুক্তির কোনো বিকল্প নেই।   হুদিস্তানু আরও উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মুক্ত বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটলে পরিস্থিতি ঠিক কী রূপ নেবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ‘একক নিয়ন্ত্রণ’ প্রদর্শনের পেছনে ইরানের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল লুকিয়ে আছে।   যুদ্ধ বা সংঘাত শেষে তেহরান যদি প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে এই প্রণালির যাবতীয় বাণিজ্যিক যাতায়াত তাদের একক নিয়ন্ত্রণেই ছিল, তবে ভবিষ্যতে এই জলপথে নিজেদের স্থায়ী কর্তৃত্ব ও আইনি আধিপত্য বজায় রাখতে তারা এটিকে একটি অত্যন্ত জোরালো যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ১৩:২২
করাচিতে এসে পৌঁছানো চীনের তৈরি পাকিস্তানের প্রথম হ্যাঙ্গর-ক্লাসের সাবমেরিন | ছবি: ডিজিপিআর, পাক নৌবাহিনী

চীন ও পাকিস্তানের সাবমেরিন রুখতে সমুদ্রে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বসাচ্ছে ভারত

দোহার এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল-থানির সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর | ছবি: এক্স/ড. এস জয়শঙ্কর

দোহার মাটিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

মুম্বাইয়ের মাটুঙ্গায় ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধ সড়কে পথচারীদের দুর্ভোগ | ছবি: পিটিআই

মুম্বাইয়ে অতিভারী বৃষ্টির রেড অ্যালার্ট জারি করে নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ

ইরানের হরমুজগান প্রদেশের রাজধানী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | ছবি: আমেরিকা বাংলা
ইরানের বন্দর আব্বাস বিমানবন্দর চার মাস পর ফের চালু হলো

দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর দক্ষিণ ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। এই বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু হওয়ায় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।   ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার বিকেলে মাশহাদ শহর থেকে ছেড়ে আসা প্রথম যাত্রীবাহী বিমানটি এই বিমানবন্দরে সফলভাবে অবতরণ করে। এর মাধ্যমেই বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের নতুন অধ্যায় শুরু হলো।   হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত বন্দর আব্বাস ইরানের হরমুজগান প্রদেশের রাজধানী, যা তেহরান থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় বিমানবন্দরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।   হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এর ব্যাপক পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের জন্যই দীর্ঘ চার মাস বিমানবন্দরটিতে সব ধরনের বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। জরুরি সংস্কার কাজ শেষ করে রানওয়েসহ পুরো বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী দিনগুলোতে তেহরান, শিরাজ এবং ইয়াজদ শহরের সঙ্গেও এই বিমানবন্দর থেকে পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে। ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা আগের মতোই যাতায়াত করতে পারবেন।   সূত্র: আল-জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ১২:৩৬
পূর্ব চীনের চিংদাও উপকূলে শুরু হতে যাওয়া চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া | ছবি: এপি

চীন ও রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া সোমবার শুরু হচ্ছে পূর্ব চীন সাগরে

ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে মেটাকে ভারত সরকারের আইনি নোটিশ | ছবি: শাটারস্টক

ইনস্টাগ্রাম থেকে শিশুদের যৌন নিপীড়নের কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দিল ভারত

ডাচ সেনাপ্রধানের মতে, ইউরোপে মার্কিন সেনা কমলে ন্যাটোর ভরসা তুরস্ক | ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকা সেনা কমালে ন্যাটোতে তুরস্কের ক্ষমতা বাড়বে, বললেন নেদারল্যান্ডসের সেনাপ্রধান

সুইডেনের পূর্ব উপকূলের গোটল্যান্ড দ্বীপে একটি প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন নতুন রিক্রুটরা | ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
রাশিয়ার হামলার আশঙ্কায় যুদ্ধের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সুইডেনের এক দ্বীপ

রাশিয়া যেকোনো সময় মরিয়া হয়ে ন্যাটোর শক্তি পরীক্ষা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে বাল্টিক সাগরে অবস্থিত নিজেদের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোটল্যান্ড দ্বীপে ব্যাপক সামরিক ও বেসামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে সুইডেন। পুতিনের সম্ভাব্য আকস্মিক হামলা প্রতিহত করতে এই দ্বীপে শত শত তরুণ-তরুণীকে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সী তরুণী এলা আদমানসহ অনেক নতুন রিক্রুট এখন সেখানে দিনরাত কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।   সুইডিশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক ছিটমহল কালিনিনগ্রাদ থেকে মাত্র ২৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটির ওপর আকস্মিক আকাশ বা নৌ হামলা হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গোটল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে, সে পুরো বাল্টিক সাগরের আকাশ ও নৌপথের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে। ২০০৫ সালে এই দ্বীপ থেকে সামরিক রেজিমেন্ট পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ক্রাইমিয়া ও ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর ২০১৮ সাল থেকে এখানে নজিরবিহীন গতিতে পুনরায় সামরিক ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ শুরু হয়।   গোটল্যান্ডের সামরিক প্রধান কর্নেল আন্দ্রেয়াস গুস্তাফসন জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপের সব দেশ সামরিক সরঞ্জাম কিনতে শুরু করায় ভারী অস্ত্র বা কামান পেতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে যেকোনো মূল্যে গোটল্যান্ডকে রক্ষা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেনের সাথে কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি হলে রাশিয়া দ্রুত তাদের সেনাদের ফিনল্যান্ড বা বাল্টিক দেশগুলোর দিকে নিয়োজিত করতে পারে। তাই তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না।   প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সামরিক শক্তির পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদেরও স্বনির্ভর করার জন্য 'স্টার্ক সকেন' নামক একটি বিশেষ সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসকেরা নিজেদের উদ্যোগে বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন। কোনো কারণে দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও যেন সাধারণ মানুষ অন্তত দুই সপ্তাহ স্বনির্ভর থাকতে পারে, সেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।   সুইডেনের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির ডিরেক্টর জেনারেল মিকেল ফ্রিসেল জানান, গোটল্যান্ডকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে একটি শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি একটি স্থিতিস্থাপক বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এই দ্বীপের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা সফল হলে তা পুরো ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় অবদান রাখবে। এই বছরই দ্বীপে একটি জরুরি বেসামরিক স্থানান্তর মহড়াও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ৯:৫৭
খামেনিকে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানরা সম্মাননা জানানোর সময় ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

খামেনির জানাজায় ৭০ দেশের প্রতিনিধি, হরমুজ প্রণালিতে বন্ধু রাষ্ট্রকে ছাড়ের ঘোষণা ইরানের

মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

রাখাইনের পরিস্থিতিতে কড়াকড়ি সীমান্ত নজরদারি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন উদ্যোগ

খামেনির জানাজা থেকে ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

খামেনির জানাজা নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ময়, নতুন হুমকিতেও বাড়ল উত্তেজনা

0 Comments