নিষিদ্ধ বইয়ে প্রেমের শুরু, বহু বাধা পেরিয়ে বিয়ে চীনা মুসলিম দম্পতির
চীনের শিনচিয়াং অঞ্চলে নিষিদ্ধ একটি উপন্যাস হাতে পাওয়ার পর দুই কিশোর-কিশোরীর মধ্যে প্রেমের শুরু হয়। সেই প্রেম নানা বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ায়। ২০০৯ সালে ১৬ বছর বয়সী ইয়ালকুন উলুইওল আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে একটি সাত খণ্ডের নিষিদ্ধ উইঘুর উপন্যাস খুঁজে পান। পরে সেই বইটি সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাবিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। বই নিয়ে হাতে লেখা চিঠি আদান-প্রদানের মধ্য দিয়েই তাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমে রূপ নেয়।
ঘটনাটি ২০০৯ সালের এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যার। চীনের শিনচিয়াং অঞ্চলের কুমুলে বাবার সঙ্গে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন ইয়ালকুন। সেখানে বড়দের গল্প ও আড্ডার মধ্যে বসে থাকতে তার ভালো লাগছিল না। তাই বাড়ির একটি পড়ার ঘরে যাওয়ার অনুমতি নেন তিনি। ঘরটিতে শত শত বই ছিল। সেখানেই একটি কোণে রাখা সাত খণ্ডের একটি উইঘুর উপন্যাস তার নজরে আসে।
বইটির নাম ছিল ‘লেইঘান বুলাক’, যার অর্থ কর্দমাক্ত ঝরনা। বইটির লেখক ছিলেন পরিচিত উইঘুর ঔপন্যাসিক জালালিদিন বাহরাম। বাড়ির মালিক ইয়ালকুনকে জানান, বইটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নৃশংসতা নিয়ে লেখা এবং সরকার এটি নিষিদ্ধ করেছে। তাকে বইটি কাউকে না দেখাতে, স্কুলে না নিতে এবং পড়া শেষ হলে ফেরত দিতে বলা হয়। কিন্তু কৌতূহলী ইয়ালকুন বাড়ি ফিরে মধ্যরাতের পর বইটির প্রথম খণ্ড পড়া শুরু করেন। এরপর তিনি বইটির চরিত্র ও কাহিনিতে গভীরভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
উপন্যাসটিতে নিজ দেশের একটি গ্রামীণ এলাকার শিক্ষকদের জীবন, জোরপূর্বক শ্রম, আত্মীকরণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছিল। একই সঙ্গে তিন তরুণ দম্পতির গল্পের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছিল। বইটির এই বিষয়গুলো ইয়ালকুনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পরে তিনি বইটি তার সহপাঠী রাবিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রাবিয়া ছিলেন ইয়ালকুনের পড়াশোনার প্রতিদ্বন্দ্বী এবং গোপন বন্ধু। রক্ষণশীল মুসলিম শহরে ছেলে ও মেয়ের বন্ধুত্বকে স্বাভাবিকভাবে দেখা হতো না। তাই তারা বই নিয়ে হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে কথা বলতেন। রাবিয়া স্কুলে ইয়ালকুনকে এড়িয়ে চললেও তাদের লেখা খাতাগুলো তাদের জন্য একটি ব্যক্তিগত জগত তৈরি করেছিল। ইয়ালকুন নিষেধ অমান্য করে বইটি স্কুলে নিয়ে গিয়ে রাবিয়ার ব্যাগে তার খাতার সঙ্গে রেখে দেন। বইটির বন্ধুত্বের গল্প তাদের নিজেদের সম্পর্কের সঙ্গেও মিল খুঁজে পেতে শুরু করে।
একপর্যায়ে বইয়ের চরিত্রদের কথা বলতে বলতে তাদের নিজেদের অনুভূতিও সেই আলোচনায় মিশে যায়। ইয়ালকুন বইয়ের প্রধান চরিত্রদের উল্লেখ করে রাবিয়াকে জানান, তারও তার প্রতি অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সেই সময় থেকেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়। প্রায় এক বছর পর ইয়ালকুন উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে চলে যান। দূরত্ব তৈরি হলেও ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক টিকে থাকে।
তবে একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে তাদের সামনে বড় বাধা তৈরি হয়। রাবিয়ার পাসপোর্ট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ শিনচিয়াং কর্তৃপক্ষ উইঘুরদের পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ করত। এর মধ্যে মাথায় ওড়না পরার কারণে রাবিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। পরে তিনি ভাষা শেখার জন্য বেইজিংয়ে চলে যান। এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের শহরের কঠোর পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।
ইয়ালকুন বাড়ি ছাড়ার চার বছর পর ২০১৪ সালে রাবিয়া তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে তখন ইয়ালকুন পড়াশোনা করছিলেন। পরে ২০২০ সালে তারা বিয়ে করেন। তবে বিয়েতে রাবিয়ার বাবা-মা ও ভাই-বোনসহ ইয়ালকুনের বাবাও উপস্থিত থাকতে পারেননি। এরপরও তারা একসঙ্গে জীবন শুরু করেন। কিন্তু নিজ দেশে চলমান পরিস্থিতির কারণে তাদের শেষ পর্যন্ত দেশত্যাগ করে নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়।
চীনা কর্তৃপক্ষের অভিযানের কারণে তাদের পরিবারের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়। ইয়ালকুনের বাবাসহ বিপুলসংখ্যক উইঘুরকে কোনো ধরনের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক করা হয়েছিল বলে ইয়ালকুন জানান। বিদেশে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে চীনা সরকারের শাস্তির আশঙ্কায় তারা পরিবারের সঙ্গে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোও ভাগ করে নিতে পারতেন না।
২০২৩ সালের নভেম্বরে তাদের দুই বছর বয়সী মেয়ে দুরারোগ্য অসুস্থতায় মারা যায়। ইস্তাম্বুলের একটি কবরস্থানে মেয়েটিকে দাফন করেন তারা। মেয়েটির জীবনের সঙ্গে তার নিজ দেশের দাদা-দাদিসহ পরিবারের সদস্যদের যে স্মৃতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটিও আর সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাও তাদের জীবনে গভীর শোকের স্মৃতি হয়ে থাকে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে ইয়ালকুন ও রাবিয়া লন্ডনে চলে যান। সেখানে নতুন জীবন শুরু করার সময় তারা পুরোনো স্কুলের খাতাগুলো বের করেন। এক ডজনের বেশি খাতায় একসময় গোপনে লেখা তাদের পুরোনো চিঠিগুলো পড়তে গিয়ে তারা নিজেদের দীর্ঘ পথচলার কথা আবার মনে করেন। যে নিষিদ্ধ বই তাদের কৈশোরের বন্ধুত্বকে প্রেমে পরিণত করেছিল, সেই বইয়ের মতোই তাদের জীবনেও ছিল বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, কঠিন সময় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের আসামের গুয়াহাটিতে একটি হোমস্টেতে অবস্থানের পর গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নিমিশা ঠাকুরিয়ার রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ২৬ বছর বয়সী আসিফ আলী ওরফে আশিক আলীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। মৃ ত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত না হলেও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি সম্ভাব্য হ ত্যা কা ণ্ড হিসেবেও তদন্ত করছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে গুয়াহাটির আজারা এলাকার গারালের একটি হোমস্টেতে নিমিশা ও আসিফ অবস্থান করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অচেতন অবস্থায় নিমিশাকে গারাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাকে গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা মৃ ত ঘোষণা করেন। নিমিশার বয়স ২১ বছর। আসিফ পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, নিমিশা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁ স দিয়ে আ ত্ম হ ত্যা করেছেন। তবে গুয়াহাটি পশ্চিমের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ বলিন দেওরি জানিয়েছেন, পুলিশ ওই বক্তব্য সরাসরি গ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ঘটনাটি হ ত্যা কা ণ্ড হতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়েছে নিমিশার শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন। তবে এসব আঘাত কীভাবে হয়েছে এবং মৃ ত্যুর সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ম য় না ত দ ন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃ ত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার আগে পরিবারের সঙ্গে নিমিশার শেষ ফোনালাপও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার বাবা দীপ ঠাকুরিয়ার দাবি, রাত প্রায় ২টার দিকে নিমিশা তার মাকে ফোন করে জানান, তাকে মা র ধ র করা হচ্ছে এবং বুকে আঘাত করা হয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে আর ঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি। অন্য একটি বর্ণনায় পরিবারের ঘনিষ্ঠজনের বরাতে নিমিশার শেষ কথাগুলোর মধ্যে ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নিমিশার বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরিবারের অভিযোগের বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশ হোমস্টেটিও সিল করে দিয়েছে। অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণে অনিয়ম পাওয়ার অভিযোগে হোমস্টের রেজিস্টারসহ বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিমিশার মোবাইল ফোনও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোমস্টের মালিক ও কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। ঘটনার পর আজারা ও ধরাপুর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় মহাসড়ক ১৭ অবরোধ করে এবং ঘটনাটিকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদ্দেশ্য বা ধর্মীয় যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার কথা জানায়নি এবং মৃ ত্যুর সব সম্ভাব্য দিক তদন্ত করা হচ্ছে। এনডিটিভি উল্লেখ করেছে, ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি ভারতের কিছু হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত একটি বিতর্কিত ধারণা, যেখানে মুসলিম পুরুষরা ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে হিন্দু নারীদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ান বলে দাবি করা হয়। নিমিশার ঘটনায় এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তার প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি পুলিশ। সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য উইক, দ্য স্টেটসম্যান, এএনআই
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের
জাপানের ধনী পরিবারগুলো দত্তক নিচ্ছে ঘরজামাই, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও
দুবাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত ২ বছরের শিশুর চিকিৎসায় এক সপ্তাহে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা প্লাকায় সন্দেহভাজন গ্যাস বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে অ্যাক্রোপোলিস সংলগ্ন এলাকায় তিনতলা ওই ভবনটিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এথেন্সের মেয়র হ্যারিস ডুকাস জানিয়েছেন, সম্ভবত গ্যাস লিকেজ থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজন মার্কিন পর্যটক রয়েছেন, যাঁরা একটি পরিবারের সদস্য। বাকি দুজন হলেন দ্বিতীয় তলায় বসবাসরত এক বয়স্ক ব্রিটিশ নাগরিক ও তাঁর গ্রিক স্ত্রী। জানা গেছে, নিহত ওই মার্কিন পরিবারটি প্রথম তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন এবং শুক্রবার কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ফ্লাইট ছিল। বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রস্তুতিকালেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুরো আবাসিক ভবনটি ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, আশপাশের সম্পত্তি এবং রাস্তায় পার্ক করে রাখা একাধিক গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, লিসিক্রাটাস স্ট্রিটের পাশের একটি ভবন থেকে অন্তত দুজন নারী আহত হয়েছেন। শনিবার ঘটনাস্থলে এএফপির সাংবাদিকদের থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখতে পাওয়া যায়। এথেন্সের মেয়র ডুকাস পুরো ঘটনাটিকে একটি ‘অবিশ্বাস্য বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণের কারণে পার্শ্ববর্তী দুটি ভবনও চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব নাকি ভেঙে ফেলতে হবে, তা নির্ধারণে বর্তমানে নিবিড় পরিদর্শন চলছে। গ্রিক দৈনিক কাথিমেরিনির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্লাকা এলাকার বাসিন্দারা প্রায় এক বছর আগেই সম্ভাব্য গ্যাস লিকেজ বা শর্টসার্কিটের ঝুঁকি নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্থানীয় এক নাগরিক গ্রুপ জানায় যে, বিস্ফোরণের আগে এক বাসিন্দা গ্যাসের তীব্র গন্ধ পেয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দিয়েছিলেন। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ অ্যাক্রোপোলিসের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এই এলাকাটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়, যেখানে গত বছর প্রায় ৪৬ লাখ দর্শনার্থী ভ্রমণ করেছেন।
বর্জ্য কুড়িয়ে সন্তানকে পড়িয়েছেন মা, ছেলে গৌতম এখন বন কর্মকর্তা
বাসায় ফেরার দিনই বিস্ফোরণ! এথেন্সে ভবন ধসে মার্কিন দম্পতির মৃত্যু
মাকে বাঁচাতে জ্ব ল ন্ত বাসে রয়ে গেলেন ছেলে, আ গু নে দুজনেরই মৃ ত্যু
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার নিউইয়র্কে দেওয়া এই ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার পবিত্রতার প্রতি যেকোনো হুমকি এমন এক 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা, যা কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়। রিয়াদের দাবি অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের এই হামলায় বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও হুথিরা বরাবরই রিয়াদের এই অভিযোগকে 'জঘন্য মিথ্যা' বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এর আগে গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক যৌথভাবে 'মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট' নামে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো এক সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে। শুক্রবার রিয়াদে এই তিন দেশের সেনাপ্রধানরা বৈঠক করে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তির অধীনে রিয়াদকে ঠিক কী ধরনের সহায়তা দেবে তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন গণমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান জানিয়েছেন যে, হুমকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিকস, গোলাবারুদ কিংবা আরও বিস্তৃত সামরিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে। জাতিসংঘের এই ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি সচল রাখতে হরমোজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদাব জলপথ মুক্ত ও নিরাপদ রাখার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যামূলক এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করেন। নিজ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে শাহবাজ শরিফ ভারতের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যৌথভাবে পরিচালিত সিন্ধু নদের পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনেন। পাকিস্তানের পানির ন্যায্য হিস্যা আটকানোর যেকোনো চেষ্টাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এছাড়া কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে জোর দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, জনমিতি পরিবর্তনের মাধ্যমে কাশ্মীরের আইনি মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, তেহরিক-ই-তালিবানের (টিটিপি) হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান।
যুক্তরাজ্য থেকে ৪০ হাজার চুরি হওয়া ফোন পাচার: ২ আফগান ও ১ ভারতীয় নাগরিকের কারাদণ্ড
গাজায় ইসরায়েলি হা মলা থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা মার্কিন চিকিৎসকের আবারও ফেরার ঘোষণা