আমেরিকা

চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বাবার, পুলিশকে ফোন করে নিজেই জানালেন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৩:১৭
কানসাসের উইনফিল্ডে চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত
কানসাসের উইনফিল্ডে চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইনফিল্ডে চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন ৫৩ বছর বয়সী এক বাবা। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ওই ব্যক্তি নিজেই জরুরি নম্বরে ফোন করে পরিবারের সবাইকে হত্যার কথা জানান এবং এরপর নিজেকে হত্যা করতে যাচ্ছেন বলে জানান। পরে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে ওই ব্যক্তি, তার স্ত্রী এবং চার সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে জরুরি নম্বরে ফোনটি আসে। ফোনে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি তার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছেন এবং এখন নিজেকেও হত্যা করতে যাচ্ছেন। ওই সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত বাড়িটির দিকে রওনা হন।

 

পুলিশ বাড়ির কাছে পৌঁছানোর সময় একটি গুলির শব্দ শোনে। এরপর কর্মকর্তারা নিরাপদ অবস্থানে সরে গিয়ে বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন। ঘটনাটিকে তখন ব্যারিকেড পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে সকাল ১১টার কিছু আগে পুলিশ বাড়ির সামনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ছয়জনের মরদেহ দেখতে পায়।

 

কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত নারী হলেন ৪৪ বছর বয়সী কেলি জর্জ। তার চার সন্তান হলেন ৯ বছর বয়সী ক্যারল উইলিয়ামস, ৭ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস জুনিয়র, ৫ বছর বয়সী সারাহ উইলিয়ামস এবং ৩ বছর বয়সী কেলি ম্যাগি উইলিয়ামস। সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে শিশুদের বাবা ৫৩ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়রকে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই বাড়িতে শুধু এই ছয়জন পরিবারের সদস্যই থাকতেন। পুলিশ বলেছে, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এটি বিচ্ছিন্ন একটি পারিবারিক ঘটনা। বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো চলমান হুমকি নেই বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের বিশেষ এজেন্ট জেসন দিয়াজ বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি জরুরি নম্বরে ফোন করে যে তথ্য দিয়েছিলেন, সেটি সঠিক ছিল বলেই তিনি মনে করছেন। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর যে শেষ গুলির শব্দ শুনেছিলেন, সেটি ওই ব্যক্তির নিজের গুলিতে আত্মহত্যার ঘটনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ঘটনার আগে ওই পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। পুলিশ প্রধান রব্বি ডিলং জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে রোনাল্ড উইলিয়ামসকে ঘিরে কয়েকটি অভিযোগ পুলিশ পেয়েছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ, মানুষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি এবং চিৎকার করার মতো ঘটনাও ছিল।

 

তবে পুলিশ প্রধান বলেছেন, আগের ওই ঘটনাগুলো থেকে মঙ্গলবারের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে, এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত তারা পাননি। দুই দশকের বেশি সময়ের পুলিশি কর্মজীবনে তিনি এমন ঘটনা দেখেননি বলেও জানিয়েছেন। পরিবারটির ছয় সদস্যের মৃত্যুতে উইনফিল্ডে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে
ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কুমিরের ভয়াবহ হামলায় হাত হারিয়েছেন ডিনা স্প্যান (৫৮) নামের এক নারী। শনিবার ম্যারিয়ন কাউন্টির সিলভার রিভারে ভাসার সময় একটি বিশাল কুমির তাকে আক্রমণ করে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য অতিরিক্ত পর্যটক এবং সস্তা জনপ্রিয়তালোভী টিকটকারদের দায়ী করেছেন তার ছেলে জ্যাক গুয়েরিনা। তার দাবি, পর্যটকরা নদীর ধারে কুমিরকে খাবার দিচ্ছেন এবং তাদের গায়ে হাত বুলিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন। এতে করে এসব হিংস্র প্রাণী মানুষের প্রতি ভয় হারিয়ে ফেলছে এবং মানুষের আশেপাশে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।   জ্যাক জানান, তিনি নিজে এই নদীতে শত শত বার সাঁতার কেটেছেন, কিন্তু কখনোই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। তিনি বলেন, ফ্লোরিডায় নতুন আসা অনেকেই আগে কখনো কুমির দেখেনি। টিকটকে কুমিরের সাথে মানুষের অতি-ঘনিষ্ঠতার ভিডিও দেখে তারা এসব প্রাণীর কাছে যাওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ঘটনার দিন ডিনা স্প্যান একটি নিষিদ্ধ এলাকায় সাঁতার কাটছিলেন। কুমিরের হামলায় তার ডান হাত কনুইয়ের নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হয় এবং বাম হাতের অন্তত একটি আঙুল কাটা পড়ে। জ্যাকের আশঙ্কা, মানুষ এভাবে কুমিরকে খাবার দেওয়া অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ আরও ঘটবে।   সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লোরিডায় কুমিরের হামলার বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ জুন সেমিনোল কাউন্টির একনলক্যাচি নদীতে ১৩ ফুট লম্বা একটি কুমিরের হামলায় ব্রিটানি ক্লার্ক (৩১) নামের এক নারী নিহত হন। এর একদিন আগে, ২৭ জুন ম্যারিয়ন কাউন্টিতে বাবার সাথে মাছ ধরার সময় ১১ বছর বয়সী কিশোর ব্রোডি টেরি কুমিরের হামলায় তার এক হাত হারায়। জ্যাক গুয়েরিনা মনে করেন, ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের (এফডব্লিউসি) উচিত কুমির শিকারের আরও বেশি অনুমতি দেওয়া, কারণ সেখানে কুমিরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এদিকে, রোববারের ঘটনার পর সিলভার রিভার থেকে ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা একটি কুমির ধরে সরিয়ে নিয়েছেন বন বিভাগের কর্মীরা, যার ফলে নদীটি ফের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।   পেশায় কাঠমিস্ত্রি জ্যাক তার মাকে একজন 'হিপি সোল' বা মুক্তমনা মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি প্রাণীদের ভালোবাসেন এবং বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। সম্প্রতি আফ্রিকা সফর থেকে ফ্লোরিডায় ফিরেছিলেন তিনি। জ্যাক জানান, এত বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিজের একটি হাত হারিয়েও তার মা মানসিকভাবে যথেষ্ট দৃঢ় ও শান্ত রয়েছেন।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৩:৫২
কানসাসের উইনফিল্ডে চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত

চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বাবার, পুলিশকে ফোন করে নিজেই জানালেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: ‘বাইডেনের জন্য আমার খারাপ লাগে না, সহানুভূতির দরকার নেই’

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত

মামদানির রেন্ট ফ্রিজ ও নতুন করের শঙ্কার মধ্যে ম্যানহাটনে বাড়িভাড়ার রেকর্ড! মাসে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার

কলোরাডোতে পাঁচ কিশোর নিহত হওয়ার পর পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
কলোরাডোয় খাড়া পাহাড়ে রাস্তা থেকে গাড়ি ছিটকে নিহত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাড়া পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গেলে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোর নিহত হয়েছে। গ্র্যান্ড জংশন শহরের লুকআউট লেন এলাকায় শনিবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।   গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ এবং মেসা কাউন্টি করোনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে থাকা পাঁচজনই গ্র্যান্ড জংশনের বাসিন্দা এবং তাদের সবার বয়স ১৭ বছর। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গাড়িটি লুকআউট লেন ধরে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে সেটি রাস্তা থেকে ছিটকে খাড়া পাহাড়ি ঢালের নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।   মেসা কাউন্টি করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে, পাঁচ কিশোরের মধ্যে তিনজন সিটবেল্ট পরেছিল। তাদের মধ্যে গাড়ির চালক ও সামনের আসনের যাত্রীও ছিল। পেছনের আসনে থাকা দুই কিশোর সিটবেল্ট না পরায় দুর্ঘটনার সময় গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যায়।   ময়নাতদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়ি দুর্ঘটনায় পাওয়া আঘাতের কারণেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সরকারি কর্তৃপক্ষ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।   তবে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বরাতে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিহতদের ব্রেডেন টেইলর, ট্রিস্টান টাকার, টাইটাস গোল্ড, উইলিয়াম সিমস ও টাইলার মার্টিনেজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল বলে জানানো হয়েছে।   একসঙ্গে পাঁচ কিশোরের মৃত্যুতে গ্র্যান্ড জংশন কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে। পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে তাদের স্মরণে বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। কয়েকটি পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।   গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ জানিয়েছে, এমন ঘটনায় শুধু নিহতদের পরিবার নয়, বন্ধু, সহপাঠী এবং পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে এবং বিশেষ করে গাড়ির গতি কত ছিল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১১:৫৫
মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস এবং মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

'মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে আমাদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হবে'

নিহত মেলিনা গ্যালানিস ফ্রাটোলিন এবং হত্যায় দোষী সাব্যস্ত বাবা লুসিয়ানো ফ্রাটোলিন। ছবি: সংগৃহীত

৯ বছরের মেয়েকে হত্যা করে, লাশ লুকিয়ে রেখে ‘অপহরণের’ গল্প সাজিয়েছিলেন বাবা!

অভিবাসীদের ওপর জরিমানা আরোপ করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

দেশ ছাড়ুন, না হলে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ডলার জরিমানা' মিশিগানের অভিবাসীর সামনে ট্রাম্পের কঠিন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত
স্কুল খোলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড, ৩৫ বছরের সংক্রমণ সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৪৬৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের আট মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আক্রান্তের সংখ্যা পুরো ২০২৫ সালের মোট সংক্রমণকেও ছাড়িয়ে গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির ৬ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছিল। বিপরীতে চলতি বছর ৬ আগস্টের মধ্যেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৬৫ জনে।   সিডিসির হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি জুরিসডিকশন থেকে হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়াশিংটন ডিসিকে আলাদা জুরিসডিকশন হিসেবে গণনা করা হয়। ফলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আক্রান্ত অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য দেখা গেলেও সিডিসির সর্বশেষ হিসাবে সংক্রমণের বিস্তার আগের তুলনায় অনেক বড়।   এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৮টি পৃথক হাম প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করেছে সিডিসি। মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশই এসব প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি রোগীর পরিবর্তে নির্দিষ্ট কমিউনিটিতে একসঙ্গে বহু মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে।   এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ শিশু স্কুলে ফিরছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, স্কুলে একই শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য ইনডোর জায়গায় দীর্ঘ সময় কাছাকাছি থাকার কারণে টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।   সিডিসির তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের এমএমআর টিকা গ্রহণের হার কয়েক বছর ধরে কমছে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এই হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তা নেমে এসেছে ৯২ দশমিক ৫ শতাংশে। ওই শিক্ষাবর্ষেই আনুমানিক ২ লাখ ৮৬ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থী হাম থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই ছিল।   হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে একটি কমিউনিটিতে সাধারণত ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষের টিকার সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সিডিসি। জাতীয় গড় এর নিচে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু এলাকায় টিকা নেওয়ার হার আরও কম। ফলে সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।   বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উটাহর মতো অঙ্গরাজ্যে। উটাহর স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরাসরি স্কুলে যাওয়া কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের প্রায় ১২ শতাংশের এমএমআর টিকার ক্ষেত্রে ছাড় ছিল অথবা তাদের টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি। অঙ্গরাজ্যটিতে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেও স্কুলের বাধ্যতামূলক টিকা থেকে ছাড় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   স্কুলভেদে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। কোনো কোনো কমিউনিটিতে টিকা গ্রহণের হার এতটাই কম যে, সেখানে একটি হাম আক্রান্ত শিশুর উপস্থিতিই দ্রুত বড় আকারের সংক্রমণ তৈরি করতে পারে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।   হাম বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি চলে যাওয়ার পরও একটি ঘরে অবস্থান করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।   সিডিসির হিসাবে, এমএমআর টিকার দুই ডোজ হাম প্রতিরোধে প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। এক ডোজের কার্যকারিতা প্রায় ৯৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিদেশ থেকে সংক্রমণ নিয়ে আসা ব্যক্তির মাধ্যমে টিকা না নেওয়া কমিউনিটিতে ভাইরাস ঢুকে পড়লে আবারও বড় প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।   শিশুদের ক্ষেত্রে হাম বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব শিশু বয়সের কারণে এখনো নিয়মিত এমএমআর টিকা নেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি অথবা চিকিৎসাগত কারণে টিকা নিতে পারে না, তাদের সুরক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে আশপাশের মানুষের টিকা নেওয়ার ওপর।   স্কুলগুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় তাই জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নজর এখন টিকা গ্রহণের হার কম থাকা এলাকাগুলোর দিকে। সিডিসি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাম থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমএমআর টিকা এবং পরিবারগুলোকে নিজেদের ও শিশুদের টিকার অবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১০:৪৪
দারুল উলূম মিশিগানের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন ও সম্মাননা প্রদান। ছবি: সংগৃহীত

দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

মার্থা ম্যাককে ও তাকে হত্যাকারী ট্রাভিস লুইস। ছবি: সংগৃহীত

মায়ের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন চাকরি, ২৩ বছর পর তার হাতেই প্রাণ গেল মেয়ের

ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বড় ব্যবধানে জয়ী কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। ছবি: সংগৃহীত

আবারো মিনেসোটায় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ভূমিধস জয় ইলহান ওমরের

0 Comments