ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে, জানালেন আলবার্টার প্রিমিয়ার
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কানাডায় পড়াশোনার জন্য দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসা একটি সাময়িক অনুমতি। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা কানাডায় থাকার অন্য বৈধ মর্যাদা অর্জন করতে না পারলে তাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
স্মিথের এই মন্তব্য এসেছে আলবার্টায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে পোর্টেজ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতি না পাওয়ায় প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের অনেকেই দাবি করছেন, কানাডায় পড়াশোনার সময় তাঁরা ভবিষ্যতে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা করেছিলেন।
১২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে স্মিথ বলেন, শিক্ষার্থী ভিসা কানাডায় পড়াশোনার জন্য দেওয়া একটি সাময়িক নথি। আলবার্টার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত প্রদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ থাকলে তার শর্তও স্পষ্ট—শিক্ষা শেষ করা এবং এরপর সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিজ দেশে জীবন গড়ে তোলা।
এর আগে ২৯ জুলাই রেড ডিয়ারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনেও স্মিথ একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেউ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এসে শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পান, তাহলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে।
স্মিথের বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমানে আলবার্টায় আলোচিত পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কলেজটির কিছু সাবেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্নাতক হওয়ার পর স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের একটি অংশের অভিযোগ, পড়াশোনায় ভর্তি হওয়ার সময় তাঁরা যে তথ্য পেয়েছিলেন, পরে অভিবাসন-সংক্রান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সেটির মিল পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্টেজ কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রায় দুই বছর ধরে পড়াশোনা করে এবং প্রায় ৩২ হাজার কানাডীয় ডলার পর্যন্ত টিউশন ফি দেওয়ার পর জানতে পারেন যে তাঁদের কর্মসূচি স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতির জন্য যোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং কয়েকজন অনশন কর্মসূচিও পালন করেছেন।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবির একটি হলো পড়াশোনা শেষ করার পর কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাওয়া। তবে প্রিমিয়ার স্মিথের বক্তব্য অনুযায়ী, কানাডায় পড়াশোনার অনুমতি পাওয়া মানেই পরবর্তী সময়ে কাজের অনুমতি বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার নিশ্চিত হওয়া নয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কানাডায় আসার আগে তাঁদের কর্মসূচি এবং পরবর্তী অভিবাসন সুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট বা পিজিডব্লিউপি। কানাডায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর এই অনুমতির মাধ্যমে দেশটিতে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সব কর্মসূচি কিংবা সব শিক্ষার্থী এই সুবিধার জন্য যোগ্য নন। ফলে শুধু কানাডার কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কিংবা ডিগ্রি সম্পন্ন করলেই পিজিডব্লিউপি নিশ্চিত হয় না।
পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে কারণ তাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে তাঁদের কাছে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তীতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করার ক্ষমতা তাদের নেই। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ এবং আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশ এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার দুটি আলাদা বিষয়। কোনো শিক্ষার্থী বৈধভাবে পড়াশোনা শেষ করলেও পরবর্তী সময়ে তাকে কানাডায় থাকতে হলে নতুন কোনো বৈধ অনুমতি বা অভিবাসন মর্যাদা প্রয়োজন হতে পারে। তাই শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার তৈরি হয় না।
একই সঙ্গে ড্যানিয়েল স্মিথের বক্তব্যকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করাও ঠিক হবে না যে কানাডায় থাকা সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভিসা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাধ্যতামূলকভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মূল বক্তব্য হলো, বৈধ থাকার অনুমতি শেষ হয়ে গেলে এবং স্থায়ী বসবাস বা অন্য কোনো বৈধ মর্যাদা না থাকলে কানাডায় থাকার অধিকার থাকে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হতে পারে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কানাডার সামগ্রিক অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের কারণে। দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার মান নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে পড়াশোনা থেকে কাজ এবং পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসে যাওয়ার পথ আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও শর্তনির্ভর হয়ে উঠেছে।
স্মিথ একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কানাডায় আসার আগে অভিবাসনের ভবিষ্যৎ পথ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরামর্শদাতা যদি পড়াশোনার সঙ্গে স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সেটি যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কানাডায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোন কর্মসূচি পিজিডব্লিউপির জন্য যোগ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও যোগ্যতার আওতায় রয়েছে কি না, পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির শর্ত কী এবং স্থায়ী বসবাসের জন্য আলাদা কী যোগ্যতা প্রয়োজন এসব আগে থেকেই যাচাই করা।
আলবার্টার প্রিমিয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্য তাই শুধু পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়; এটি কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে পড়াশোনা শেষে কানাডায় থেকে কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় প্রবেশ করা স্থায়ীভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা নয় এবং বৈধ থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreফ্রান্সের কালেতে মানব পাচারকারীদের নিয়ে প্রতিবেদন করার পর প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন সাংবাদিক প্যাট্রিক ক্রিস্টিস। হুমকির মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে, লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে গভীর রাতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এমিলি কারভারকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তাদের জানানো হয়, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ক্রিস্টিসের বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। সে সময় তাঁর স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ক্রিস্টিস জিবি নিউজের একটি সাময়িক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। গত বছরের জুলাইয়ে তিনি উত্তর ফ্রান্সের কালেতে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের ব্রিটেনে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত পাচারকারীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পাচারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যক্রমের প্রচার করত। যোগাযোগের স্থান, সময় ও অর্থের পরিমাণ নিয়েও সেখানে তথ্য আদান-প্রদান করা হতো। বিষয়টি জানার পর তিনি কর্তৃপক্ষকে তথ্য জানানোর পাশাপাশি সরাসরি পাচারকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ক্রিস্টিস একটি ক্যামেরা দল নিয়ে কালেতে যান। সেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তিনজন পাচারকারীর মুখোমুখি হন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে ফিরে তিনি টেলিভিশনে সরাসরি অনুষ্ঠান করছিলেন। অনুষ্ঠানের বিরতির সময় তাঁর স্ত্রী ফোন করে জানান, পুলিশ বাড়িতে এসেছে এবং কেউ তাকে হত্যা করতে চায় বলে সতর্ক করেছে। ২৫ জুলাই মধ্যরাতের কিছু পর ক্রিস্টিস বাড়িতে ফেরেন। পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিক প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে জানায়। কর্মকর্তারা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন। নিজের গাড়ি ব্যবহার না করে ভাড়ার গাড়িতে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। পুলিশ আশঙ্কা করেছিল, তাঁর গাড়িতে বিপজ্জনক কিছু রাখা হয়ে থাকতে পারে। ২৬ জুলাই তাঁর বাড়িতে একটি জরুরি সতর্কসংকেত ব্যবস্থা বসানো হয়। কয়েক দিন পর তাকে ও তাঁর স্ত্রীকে বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপরও ক্রিস্টিসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। কর্মস্থলে যাওয়া ও ফেরার সময় তাকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু হয়। বাইরে বের হলে পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মবেশ ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল বলেও তিনি জানান। হুমকির কয়েক সপ্তাহ পর তাঁর ছেলে জর্জের জন্ম হয়। তখনও পরিবারটি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিল। সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময়ও ক্রিস্টিস নতুন এক ঘটনার মুখোমুখি হন। তাঁর দাবি, কালেতে যাদের মধ্যে একজনকে তিনি প্রকাশ্যে এনেছিলেন, তাদের একজনকে হাসপাতালের কাছে দেখতে পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একটি পাচারকারী দলের হয়ে কাজ করতেন এবং তার হাতে বিশেষ নকশার একটি আংটি ছিল। হাসপাতালের বাইরে তিনি একই ধরনের আংটি পরা একজনকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখেন। লোকটি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকার পর চলে যায়। ক্রিস্টিসের ধারণা, ওই ব্যক্তি কালেতে দেখা একই ব্যক্তি ছিলেন। এর কয়েক সপ্তাহ পর বাড়িতে থাকা জরুরি সতর্কসংকেত নিয়েও নতুন সমস্যা তৈরি হয়। পুলিশ সেটি সরিয়ে নিতে চেয়েছিল। ক্রিস্টিস জানান, তিনি সেটি রেখে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। পরে জানতে পারেন, পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় সতর্কসংকেতটি প্রায় ১০ দিন আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তাদের আগে জানানো হয়নি বলেও তিনি জানান। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্রিস্টিসের প্রাণনাশের আশঙ্কার বিষয়ে যে সতর্কতা দিয়েছিল, তা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে কে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল এবং কীভাবে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। মেট্রোপলিটন পুলিশও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। হুমকির কারণে পরিবারটির জীবনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ক্রিস্টিস কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা পান। তাদের বসবাসের এলাকার রাস্তায় রাতে নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে এসব নিরাপত্তার মধ্যেও তিনি মানব পাচারকারীদের নিয়ে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ক্রিস্টিসের দাবি, মানব পাচারকারী চক্রগুলো ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেও সক্রিয়। তিনি জানান, যাদের নিয়ে তিনি প্রতিবেদন করেছিলেন, তাদের একজনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে দুটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দেখা গিয়েছিল। তাঁর মতে, এসব চক্রের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রাণনাশের হুমকি সত্ত্বেও সাংবাদিকতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা নেই ক্রিস্টিসের। তিনি জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার উত্তর ফ্রান্সে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর বক্তব্য, হুমকি দিয়ে তাকে নীরব করা যাবে না এবং মানব পাচার নিয়ে প্রতিবেদন চালিয়ে যাবেন।
ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে, জানালেন আলবার্টার প্রিমিয়ার
গাজায় দুই ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল ২১ ফিলিস্তিনির কঙ্কাল, খোঁজ নেই আরও ৪০ জনের
কাতারে ৬ মাস ধরে বন্দি ইরানের ৩ সামরিক পাইলট, রেডক্রসের সহায়তা চাইল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ছয় মাসের যুদ্ধে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে ‘হাঁটু গেড়ে বসতে’ বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ভাহিদি। শনিবার প্রকাশিত এক বার্তায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই সামরিক কার্যক্রম প্রমাণ করেছে যে বিশ্বকে শাসন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা ইসলামের রয়েছে। আইআরজিসির পাশাপাশি ইরানের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বাসিজ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি আরও দাবি করেন, তাদের এই সামরিক প্রতিরোধ বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের সামনে ‘বিদ্রোহের দরজা’ খুলে দিয়েছে। তবে আইআরজিসি প্রধানের এই দম্ভোক্তির সঙ্গে মার্কিন সামরিক মূল্যায়নের বিস্তর ফারাক রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতে ইরানের নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র এবং এর উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছিল বলেও মার্কিন মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে। তবে এত বড় ধাক্কার পরও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পানিপথ কৌশলগত হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশাল নৌবহর মোতায়েন রেখেছে। ফলে সংঘাতের শুরু থেকেই এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহমাদ ভাহিদির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই যুদ্ধকে নিজেদের প্রতিরোধের বিরাট সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তব সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতার বিষয়টি দুই পক্ষের দাবির মধ্যে থাকা বড় ধরনের বৈপরীত্যকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
অরুণাচল ইস্যুতে চীনের অবস্থান আরও জোরালো, ২৭ স্থানের নাম বদলে নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি
অস্কারে যাচ্ছে গাজার যু দ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’
বয়স্ক পুরুষদের বিয়ে করে হত্যা, সম্পদ হাতিয়ে নিতেন; দুই দশকে ১০-এর বেশি হত্যাকাণ্ডে একাধিক মৃত্যুদণ্ড
স্কটল্যান্ডে মাত্র তিন মাস বয়সী মেয়েকে দীর্ঘ সময় হেয়ারড্রায়ারের তীব্র তাপে রেখে মৃত্যুর কারণ হওয়ার দায়ে ২৮ বছর বয়সী এক মাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যাবারডিনশায়ারের পিটারহেডে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কোর্টনি গার্টশোরকে গত জুলাইয়ে ‘কালপেবল হোমিসাইড’ বা গুরুতর অবহেলায় মৃত্যুর জন্য দায়ী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। শুক্রবার এডিনবরার হাইকোর্টে তার সাজা ঘোষণা করা হয়। স্কটিশ জুডিশিয়ারির প্রকাশিত সাজা ঘোষণার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত শিশুটির নাম ডালিয়া রোজ। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উঠে আসে, মেয়ের মৃত্যুর আগের সন্ধ্যায় গার্টশোর বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটান এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অ্যালকোহল পান করেন। পুরো সময়ই ডালিয়া রোজ তার সঙ্গে ছিল এবং শিশুটির একমাত্র দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ভোর প্রায় চারটার দিকে তিনি বাড়ি ফেরেন। বিচারে আদালত জানতে পারে, ভোর চারটা থেকে সকাল নয়টার মধ্যে কোনো এক সময় হেয়ারড্রায়ার চালু করে শিশুটির মাথা ও শরীর দীর্ঘ সময় তীব্র তাপের মধ্যে রাখা হয়। পরে হেয়ারড্রায়ারটি গার্টশোরের বিছানার পাশের দেয়ালের সকেটে লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। কেন বা ঠিক কীভাবে শিশুটিকে হেয়ারড্রায়ারের তাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল, তার নিশ্চিত ব্যাখ্যা আদালত পায়নি। গার্টশোরও ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, হেয়ারড্রায়ারের তাপে ডালিয়া রোজের শরীরের প্রায় ১৮ শতাংশ গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। বিশেষ করে মাথা, মুখ, ঘাড়, শরীরের ওপরের অংশ এবং ডান হাতে মারাত্মক দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্যে বলা হয়, শুধু পোড়ার আঘাতগুলো প্রাণঘাতী হওয়ার কথা ছিল না। প্রসিকিউশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুটির মৃত্যুর সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ ছিল শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং হিটস্ট্রোক। বিচারে প্রতিরক্ষা পক্ষ দাবি করেছিল, অন্য কোনো আকস্মিক ও অজানা কারণে শিশুটি আগেই মারা গিয়ে থাকতে পারে এবং এরপর তার শরীরে হেয়ারড্রায়ারের তাপ লাগে। কিন্তু জুরি সর্বসম্মতভাবে সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তারা নিশ্চিত হন, হেয়ারড্রায়ারের তাপের কারণেই ডালিয়া রোজের মৃত্যু হয়েছে। সাজা ঘোষণার সময় বিচারক সাইমন কলিন্স মামলাটিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক, উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক বলে বর্ণনা করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, গার্টশোর ইচ্ছাকৃতভাবে মেয়েকে হত্যা বা আঘাত করতে চেয়েছিলেন, এমনটি প্রসিকিউশনের মামলা ছিল না। বরং অত্যন্ত গুরুতর অসতর্কতা ও বেপরোয়া আচরণের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। বিচারক বলেন, প্রমাণ অনুযায়ী হেয়ারড্রায়ারটি অন্তত ২০ মিনিট এবং সম্ভবত এক ঘণ্টা পর্যন্ত চালু ছিল। এত দীর্ঘ সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর পোড়া সৃষ্টি হওয়া এবং তীব্র যন্ত্রণার বিষয়টি একজন অভিভাবকের কাছে স্পষ্ট হওয়ার কথা ছিল। আদালত আরও উল্লেখ করেন, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতনের পরিণতি ছিল না। শিশুটির প্রতি গার্টশোরের আগের যত্ন মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর রাতের ঘটনাকে তিনি একজন মায়ের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব, সন্তানকে নিরাপদ রাখার কর্তব্যের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। সাজা নির্ধারণে আদালত আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেয়। ঘটনার সময় গার্টশোর অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন। শিশুটির মৃত্যুর পর তিনি মরদেহ বেডরুম থেকে সরিয়ে ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে নিয়ে যান এবং কীভাবে শিশুটি দগ্ধ হয়েছে তা জানেন না বলে দাবি করেন। বিচারকের মতে, এসব আচরণ নিজের সম্পৃক্ততা আড়াল করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে গার্টশোরের আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তার মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, একক মা হিসেবে সীমিত সহায়তা এবং অতীতের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোও সাজা নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হয়। সব দিক বিবেচনা করে বিচারক তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। সাজাটি ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণনা হবে, যেদিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে প্রথম কারাগারে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্কটিশ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর খবর দিলে তদন্ত শুরু হয়। ডালিয়া রোজকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর ওই বছরের নভেম্বরে কোর্টনি গার্টশোরকে গ্রেফতার ও অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর জেমস ক্যালান্ডার বলেন, শিশুরা অসহায় এবং তাদের রক্ষা করা প্রাপ্তবয়স্কদের দায়িত্ব। কোনো শিশুর মৃত্যু সবসময়ই অত্যন্ত বেদনাদায়ক, আর সেই মৃত্যু যখন একজন অভিভাবকের কর্মকাণ্ডের কারণে ঘটে, তখন তা আরও গভীরভাবে নাড়া দেয়।
কারাগারে সারা শরিফের বাবার ওপর হামলা, দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
যুদ্ধের সাফল্য প্রমাণ করেছে, ইসলাম বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে: ইরানের শীর্ষ কমান্ডার