যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল এন্ট্রিতে ২২ দেশের নাগরিকদের সুযোগ, নেই কোনো আফ্রিকান দেশ
যুক্তরাষ্ট্র তার গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রামের জন্য যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করেছে। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপির পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় আগাম যাচাই করা কম-ঝুঁকির ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তুলনামূলক দ্রুত কাস্টমস ও সীমান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরাও আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু কোনো দেশের নাগরিক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্যপদ পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের সিবিপির নির্ধারিত যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২২টি দেশের তালিকায় রয়েছে—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্য।
গ্লোবাল এন্ট্রি মূলত নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রবেশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পান।
তবে এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। সিবিপির নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয় এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, তালিকায় কোনো আফ্রিকান দেশ নেই। ফলে নাইজেরিয়া, ঘানা, কেনিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরা এই তালিকার ভিত্তিতে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদের জন্য যোগ্য নন।
গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত সুবিধা ব্যবহার করা যায়। লস এঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক, মায়ামি, শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকোসহ একাধিক বিমানবন্দরে এ সুবিধা রয়েছে।
তবে যোগ্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সদস্যপদ নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীকে সিবিপির যাচাই প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হতে হবে এবং গ্লোবাল এন্ট্রির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় যাওয়ার সময় প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ সঙ্গে নিলে ইংরেজিতে প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, সিবিপি। ওষুধ মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রবেশের সময় কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানানোও জরুরি। তবে শুধু প্রেসক্রিপশন থাকলেই সব ধরনের ওষুধ আমেরিকায় নেওয়া যায় না। নিউইয়র্কের জেএফকেসহ আমেরিকার যেকোনো প্রবেশপথে ওষুধ বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম প্রযোজ্য। সিবিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, সঙ্গে থাকা ওষুধ নিজের চিকিৎসায় কেন প্রয়োজন, তা বোঝাতে ইংরেজিতে বৈধ প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখা উচিত। ওষুধ মূল প্যাকেটে না থাকলে প্রেসক্রিপশনের কপি অথবা রোগ ও চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা ডাক্তারের চিঠি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম, ওষুধের জেনেরিক নাম, ডোজ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা স্পষ্ট থাকলে ওষুধ শনাক্ত করা সহজ হয়। মূল কাগজের পাশাপাশি ফটোকপি রাখা এবং ফোনে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা বাড়তি প্রস্তুতি হিসেবে কাজে আসতে পারে। ওষুধ মূল লেবেলযুক্ত প্যাকেট বা বোতলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিবিপি। সম্ভব হলে প্যাকেটে ডাক্তারের ব্যবহারের নির্দেশনাও থাকতে হবে। এতে কাস্টমস পরীক্ষার সময় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা সহজ হয়। পরিমাণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশনা হলো, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া এবং সাধারণভাবে ৯০ দিনের সরবরাহের বেশি সঙ্গে না রাখা। তবে এই নির্দেশনাকে সব যাত্রীর জন্য সব ধরনের ওষুধ নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এফডিএ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে আমেরিকায় আসা বিদেশি নাগরিকেরা ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য ৯০ দিনের ওষুধ আনতে পারেন। এ নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিক বলতে আমেরিকার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ফলে আমেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের একই সুবিধা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে অনুমোদিত কোনো ওষুধ আমেরিকায় অনুমোদিত না হলে সেটি আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বিবেচনা করা হলেও তা শর্তসাপেক্ষ। বাংলাদেশে ওষুধটি সহজে পাওয়া যায় কিংবা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রয়েছে, এই কারণেই আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না। বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত উপাদানযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে। কিছু ঘুমের, ব্যথার বা অন্য চিকিৎসার ওষুধ এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। এসব ওষুধের ক্ষেত্রে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিইএর নিয়মও মানতে হয়। তাই ভ্রমণের আগে ওষুধের জেনেরিক নাম ও উপাদান অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। আমেরিকায় দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে আনা ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ভালো। প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তারের কাছে আগের প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে গেলে চলমান চিকিৎসা মূল্যায়নে সহায়তা হবে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পরবর্তী ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চিকিৎসক ও ফার্মেসির সঙ্গে নিশ্চিত করা উচিত। ভ্রমণের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো ওষুধের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নেওয়া এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে ওষুধের কথা জানানো। নিজের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান এবং ওষুধের ধরন অনুযায়ী এফডিএ, সিবিপি ও প্রয়োজনে ডিইএর নির্দেশনা মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।
গ্রাহক কত টাকা দিতে রাজি, তা হিসাব করে খাবারের দাম ঠিক করছে ম্যাকডোনাল্ডসের এআই
পকেটের নোটেই লুকিয়ে থাকতে পারে হাজার ডলার, দেখে নিন সিরিয়াল নম্বর
ডালাসে নিখোঁজের পর বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলীর মৃ ত দে হ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্র তার গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রামের জন্য যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করেছে। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপির পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় আগাম যাচাই করা কম-ঝুঁকির ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তুলনামূলক দ্রুত কাস্টমস ও সীমান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরাও আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু কোনো দেশের নাগরিক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্যপদ পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের সিবিপির নির্ধারিত যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২২টি দেশের তালিকায় রয়েছে—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্য। গ্লোবাল এন্ট্রি মূলত নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রবেশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পান। তবে এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। সিবিপির নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয় এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, তালিকায় কোনো আফ্রিকান দেশ নেই। ফলে নাইজেরিয়া, ঘানা, কেনিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরা এই তালিকার ভিত্তিতে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদের জন্য যোগ্য নন। গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত সুবিধা ব্যবহার করা যায়। লস এঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক, মায়ামি, শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকোসহ একাধিক বিমানবন্দরে এ সুবিধা রয়েছে। তবে যোগ্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সদস্যপদ নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীকে সিবিপির যাচাই প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হতে হবে এবং গ্লোবাল এন্ট্রির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, শেষ হলো ১২ বছরের সামরিক মিশন
তিন দিনের ভ্রমণে মা, বাসায় একা পড়ে ছিল ২ মাসের শিশুসহ ৪ সন্তান
১৯১৩ সালে নেওয়া তিন সিদ্ধান্ত যেভাবে বদলে দেয় পুরো আমেরিকাকে
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও তাদের জন্য নির্মিত আবাসনের সরবরাহ সেই হারে বাড়ছে না। বিশেষ করে ৮০ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন সিনিয়র আবাসন নির্মাণ না হওয়ায় আগামী বছরগুলোতে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সেন্টার ফর সিনিয়র হাউজিং অ্যান্ড কেয়ারের তথ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এনআইসি ম্যাপের ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান নির্মাণের গতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার সিনিয়র আবাসন ইউনিটের প্রয়োজন হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই প্রয়োজন ১০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ঘাটতি সাধারণ আবাসিক বাড়ির হিসাব নয়। এখানে মূলত বয়স্ক মানুষের জন্য তৈরি সিনিয়র আবাসনের অতিরিক্ত প্রয়োজনের কথা বলা হচ্ছে। এনআইসি ম্যাপের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান সরবরাহের প্রাপ্যতা প্রায় ৯০ শতাংশ দখলদারির হার ধরে রাখতে হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখের বেশি অতিরিক্ত ইউনিট প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বয়স্ক মানুষের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন আবাসন না বাড়লে বিদ্যমান সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়বে। এর পেছনে বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার বয়স কাঠামোয় দ্রুত পরিবর্তন। প্রথম দিকের বেবি বুমার প্রজন্ম ২০২৬ সালে ৮০ বছরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এনআইসি ম্যাপের পূর্বাভাস বলছে, দেশটির ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়তে পারে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এই সময়ে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৫০ লাখ এবং আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বাড়তে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। চাহিদা বাড়ার বিপরীতে নতুন সিনিয়র আবাসন নির্মাণের গতি কমেছে। এনআইসি ম্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে সিনিয়র আবাসনের নির্মাণ শুরুর পরিমাণ প্রায় ৬৭ শতাংশ কমেছে। ২০২১ সালে যেখানে ৩০ হাজারের বেশি ইউনিট নির্মাণাধীন ছিল, ২০২৫ সালে তা কমে প্রায় ১০ হাজার ইউনিটে দাঁড়ায়। নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়া এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ ব্যয় এবং শ্রমিকসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাও নতুন প্রকল্পের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। এদিকে বিদ্যমান সিনিয়র আবাসনগুলোতে চাহিদার চাপ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র আবাসনের গড় দখলদারির হার ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এনআইসি জানিয়েছে, এটি টানা ২০তম প্রান্তিক, যখন সিনিয়র আবাসনের দখলদারির হার বেড়েছে। ৩১টি প্রধান বাজারের মধ্যে ১৫টিতে দখলদারির হার ৯০ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। একই সময়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে নির্মাণাধীন মোট সিনিয়র আবাসন ইউনিটের সংখ্যা ১৬ হাজারের নিচে ছিল। ওই প্রান্তিকে দখলকৃত ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৭০০ বেড়ে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫০টিতে পৌঁছায়। এক বছরে মোট সরবরাহ বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ বিদ্যমান আবাসনগুলোতে মানুষের বসবাস বাড়লেও নতুন ইউনিট যোগ হওয়ার গতি তুলনামূলকভাবে ধীর রয়েছে। এনআইসি ম্যাপের হিসাবে, আগামী কয়েক বছরে প্রয়োজনীয় নতুন ইউনিটের সংখ্যা বর্তমান নির্মাণের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। ২০২৭ সালে বছরে প্রয়োজন ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি নতুন ইউনিটে পৌঁছাতে পারে। এরপরও পরবর্তী এক দশকের বড় একটি সময়ে বছরে প্রায় ১ লাখ ইউনিটের প্রয়োজন থাকবে। এর বিপরীতে বর্তমান নির্মাণের গতি প্রায় ১০ হাজার ইউনিটের কাছাকাছি। ফলে প্রতি বছর চাহিদা ও নতুন সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান জমতে থাকবে। শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই এই ঘাটতি পূরণ হবে না বলেও গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সিনিয়র আবাসনের ৪০ শতাংশের বেশি ইউনিটের বয়স ২৫ বছরের বেশি। তাই নতুন নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার, পুনর্বিন্যাস, সম্প্রসারণ এবং অন্য ধরনের পুনঃবিনিয়োগও প্রয়োজন হবে। এই পুরো চাহিদা পূরণ করতে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এনআইসি ম্যাপের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান মাত্রার সিনিয়র আবাসন সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের প্রয়োজন ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এই অর্থ শুধু নতুন ভবন তৈরিতে নয়, বিদ্যমান আবাসন আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বাড়াতেও প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সময়েই সিনিয়র আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এনআইসি ম্যাপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান নির্মাণের ধারা বদলানো না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার ইউনিট এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখের বেশি ইউনিটের প্রয়োজন তৈরি হতে পারে। এখানে ১০ লাখ ইউনিটের বিষয়টি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ঘাটতি নয়, বরং বর্তমান উন্নয়নগতির ভিত্তিতে করা একটি পূর্বাভাস।
লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের পর স্বামীর চিকিৎসার নল খুলতে চেয়েছিলেন স্ত্রী, নিহত নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের ছয় অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্স বছরে ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে