সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী বাস উল্টে ১২ জন নি হত, আ হত ৩৭

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৩:৪৯
সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী বাস উল্টে ১২ জন নিহত, আহত ৩৭ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী বাস উল্টে ১২ জন নিহত, আহত ৩৭ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

হাঙ্গেরির পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে মেজোকোভেসদ শহরের কাছে এম-৩ মহাসড়কে সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ডগামী একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে গেলে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

 

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমটিআই-এর দেওয়া তথ্যমতে, পোল্যান্ডে নিবন্ধিত ওই বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুজন চালক ছিলেন। মহাসড়ক দিয়ে নিয়েরেজহাজা শহরের দিকে যাওয়ার সময় সোজা রাস্তা থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসটি একপাশে কাত হয়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের জানালা ভেঙে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ধারণা, চলন্ত অবস্থায় চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে চালককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী এবং পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি এক বার্তায় জানিয়েছেন, হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে এবং জরুরি কনস্যুলার সেবা চালু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে শিওফোকে ট্রেনের ধাক্কায় একটি জার্মান পর্যটকবাহী বাসে ৩৩ জন নিহত হওয়ার পর, এটিই হাঙ্গেরির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
দিল্লিতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন, ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হলেন রুবিও
দিল্লিতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন, ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হলেন রুবিও

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ১১টি দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং মিশনপ্রধানদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘অ্যাম্বাসেডরস রিজিওনাল কনফারেন্স’ শীর্ষক এই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর।   এই সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এই সম্মেলনে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   এক্সে দেওয়া ওই পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং মিশনপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলার এক চমৎকার সুযোগ হয়েছে তাঁর।   তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতেরা দেশটিকে আরও বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধশালী করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে, নয়াদিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নিতে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন গত সোমবার রাতেই ভারতে পৌঁছান।   অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে উজবেকিস্তান সফরে যেতে পারেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে সঙ্গী হিসেবে শতাধিক মার্কিন কোম্পানির প্রতিনিধিদের একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী দল থাকার কথা রয়েছে।   মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার করাই তাঁর এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। উল্লেখ্য, গত এক দশকে উজবেকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য হারে গভীর হয়েছে এবং দেশটি বর্তমানে মধ্য এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৯:৫৩
ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় নিজের মামলা নিজেই পরিচালনা করেছেন ক্রেইগ টিচেনার। ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পেলেন দমকলকর্মী

উড়োজাহাজে পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা’ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের চেষ্টা, পাইলট গ্রেপ্তার, দাবি ইসরায়েলের

জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে ব্যঙ্গ করে মিম প্রকাশ করেছে ঘানায় ইরানের দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের ভাষণের পর নেতানিয়াহুকে ভলডেমর্টের সাথে তুলনা করল ইরানি দূতাবাস

জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় প্রতিনিধিদের সভাকক্ষ ত্যাগের ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে একটি মিম প্রকাশ করেছে ঘানায় ইরানের দূতাবাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ছবিতে জাতিসংঘের বক্তৃতামঞ্চে হ্যারি পটার সিরিজের খলচরিত্র লর্ড ভলডেমর্টকে দেখানো হয়। রয়া নিউজ জানিয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণকে কেন্দ্র করে পোস্টটি প্রকাশ করা হয়।    ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ভলডেমর্টের নৈতিকতার পাঠ দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়। প্রতিনিধিদের বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সেখানে ভলডেমর্টের অনুসারী ‘ডেথ ইটার্স’দের কথাও উল্লেখ করা হয়।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার সময় কয়েক ডজন প্রতিনিধি সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাঁদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, অন্য কেউ একই মনোভাব পোষণ করলে তাঁরাও চলে যেতে পারেন।    রয়া নিউজ জানিয়েছে, গাজা ও বৃহত্তর অঞ্চলে ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রতিবাদে প্রতিনিধিরা ভাষণ বর্জন করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইরানি দূতাবাসের পোস্টে নেতানিয়াহুকে হ্যারি পটারের খলচরিত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়।   পরে আরেকটি পোস্টে দূতাবাস ব্যাখ্যা দেয়, ‘ডেথ ইটার্স’ বলতে তারা নেতানিয়াহুর কিছু মিত্রকে বোঝাতে চেয়েছে। সভাকক্ষ ত্যাগ করা সব দেশের প্রতিনিধিকে ওই নামে অভিহিত করা হয়নি বলেও জানায় দূতাবাস। তবে নেতানিয়াহুর মিত্রদের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দূতাবাসের নিজস্ব দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছে রয়া নিউজ।   প্রতিবেদনটিতে দূতাবাসের ২৫ সেপ্টেম্বরের আরেকটি পোস্টও তুলে ধরা হয়। সেখানে জানানো হয়, মূল পোস্টটি ভুলবশত মুছে যাওয়ায় ছবিটি আবার প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১০:৫০
সহিংস ঘটনার পর ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, সন্দেহের তীর ওমানি নাগরিকের উপর

কারাগারে বিলাসী কক্ষ

কারাগারে বিলাসী কক্ষ, এসি-টিভি-ফ্রিজ; ইন্দোনেশিয়ায় বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বহুপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে দাবি। ছবি: সংগৃহীত

ইরান নিয়ে গোপন আলোচনা! আমিরাতে নেতানিয়াহুর বৈঠকে ১০ দেশের অংশগ্রহণের দাবি

এফবিআইয়ের টেন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত হয়েছেন গোল্ডি ব্রার
এফবিআইয়ের টেন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় গোল্ডি ব্রার, পুরস্কার ১০ লাখ ডলার

ভারতীয় বংশোদ্ভূত সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে এফবিআইয়ের ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন তদন্ত সংস্থাটি। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এফবিআই লস এঞ্জেলেস থেকে এ ঘোষণা দেয়।   এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী সতিন্দরজিৎ সিং পাঞ্জাবের বাসিন্দা এবং ‘গোল্ডি ব্রার’সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। তাকে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেতৃত্বাধীন কথিত সংঘবদ্ধ অ প রা ধ চক্রের উত্তর আমেরিকায় দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআই বলছে, চক্রটির কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অন্যান্য দেশে বিস্তৃত।   ব্রারের বিরুদ্ধে লস এঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে সংঘবদ্ধ অ প রা ধ পরিচালনার ষড়যন্ত্র, চাঁদাবাজির মাধ্যমে ব্যবসা ও বাণিজ্যে হস্তক্ষেপের ষড়যন্ত্র এবং মাদক বিতরণ ও বিতরণের উদ্দেশ্যে মাদক রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন এবং তিনি পলাতক।   এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, বিষ্ণোই চক্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হ ত্যা, গু লি ব র্ষ ণ, অ প হ র ণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও অ স্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অ প রা ধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় তৈরি করে চাঁদাবাজি চালানোর অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।   মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই ‘অপারেশন হার্ডবল’ নামে দীর্ঘদিনের তদন্তের ফল প্রকাশ করা হয়। ওই অভিযানে ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক অ প রা ধ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন আরও ১০ জন পলাতক ছিলেন।   এই তদন্তে মাদক পাচার ও চক্রটির অর্থায়নের বিষয়ও উঠে আসে। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বিষ্ণোই চক্রের সদস্যরা লস এঞ্জেলেস অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী মাদকচক্রের কাছ থেকে প্রায় ৫২০ কেজি কোকেন চুরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে রেডল্যান্ডসে প্রায় ৪৯ কেজি কোকেন আটক হওয়ার ঘটনাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।   এফবিআই আরও জানিয়েছে, কারাগারে থাকা লরেন্স বিষ্ণোই তার চক্রের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন ও অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করতেন বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। ব্রার ছিলেন তার বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন এবং অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি উত্তর আমেরিকায় চক্রটির কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।   ২০২৩ সালের কানাডায় এক ভারতীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার হ ত্যার ঘটনাও অভিযোগপত্রে এসেছে। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে একটি শিখ মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় গু লি করে হ ত্যা করা হয়। মামলায় বিষ্ণোই ও ব্রারের বিরুদ্ধে ওই হ ত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   এফবিআই বলছে, ব্রার ক্যালিফোর্নিয়া ও কানাডার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেছেন বলে তাদের ধারণা। তাকে স শ স্ত্র ও অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করছে সংস্থাটি। তাই কেউ তাকে দেখতে পেলে সরাসরি যোগাযোগ বা মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাতে বলা হয়েছে।   ব্রার সম্পর্কে তথ্য থাকলে এফবিআইয়ের ১-৮০০-সিএএলএল-এফবিআই নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। স্থানীয় এফবিআই অফিস, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটেও তথ্য দেওয়া যাবে। অনলাইনেও তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, পরিচয় গোপন রেখেও তথ্য দেওয়া যাবে এবং তথ্যদাতার গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।   এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালে তালিকাটি চালুর পর সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার হলেন টেন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত হওয়া ৫৪৩তম ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য এফবিআইয়ের ঘোষণায় নেই; তিনি বর্তমানে পলাতক আসামি হিসেবে খোঁজা হচ্ছেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৮:৪৮
গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি করতে ডাকাতির নাটক সাজানোর ঘটনায় দোষ স্বীকার ভারতীয় ব্যক্তির

ইউ ভিসা পেতে ডাকাতির নাটক, ভারতীয় দোকানকর্মীকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো

ইরানি নারী

হিজাবের আড়ালে রাই/ফেল, ইরানি নারীদের যু/দ্ধ প্রস্তুতি

মাঝ আকাশে এক পাইলটকে ছু রি মারলেন আরেক পাইলট, হাইজ্যাকের আশঙ্কায় আতঙ্কিত যাত্রীরা

মাঝ আকাশে এক পাইলটকে ছু রি মারলেন আরেক পাইলট, হাইজ্যাকের আশঙ্কায় আতঙ্কিত যাত্রীরা

0 Comments